পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অদ্বৈতবাদ স্থাপনে সম্পূর্ণ ঐতি-প্রমাণের সাহায্য গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি প্রমাণ করিয়াছেন যে, সমস্ত উপনিষদের উপদেশের তাৎপর্য আত্মেকত্ব। ইহাই উপনিষদবর্ণিত অদ্বৈততত্ত্ব এবং ব্যাসদেব ব্ৰহ্মসূত্ৰতে এই মতই সুশৃঙ্খল দার্শনিক মতবাদরূপে প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। একই আত্মা ভ্রান্তিবশতঃ বহুজীব বলিয়া ও জগৎ বলিয়া প্রতীয়মান হন। প্রকৃত নিরুপাধিক শুদ্ধস্বভাব আত্মা মায়া উপাধিবশতঃ কখনও ঈশ্বর, কখনও জীব, কখনও জড়বস্তু রূপে বিবর্তিত। আত্মার এই বিবর্ত নশ্বর ও মিথ্যা। যাহা কিছু উৎপন্ন ও ক্ষয়ী তৎসৰ্বই অনিত্য ও মিথ্যা। প্রত্যেকটি জাগতিক বস্তুকে বা প্রত্যেক জীবের স্বরূপ পরীক্ষা না করিয়া অদ্বৈতবাদে জগতের মূলতত্ত্ব ও জীবের যথার্থ স্বরূপ অন্বেষণ করা হইয়াছে। সত্য পরমার্থ এবং সেই সত্য বাহিরে না অন্বেষণ করিয়া জীবের অন্তরাত্মাতেই করা উচিত। শ্রুতি বলিয়াছেন, তত্ত্বমসি শ্বেতকেতাে। এই মহাবাক্যে জীবাত্মাকেই নির্বিশেষ পরা সত্য শুদ্ধ চৈতন্যস্বরূপ বলা হইয়াছে। এই উপলব্ধিই পরম দর্শন। কারণ এই অখণ্ড আত্মােপলব্ধি উদ্ভাসিত হইলেই মিথ্যা জগদ্দর্শন নিবৃত্ত হয়। জীবের কর্ম ও কর্মফল মিথ্যা, তাহার ভােগ মিথ্যা ও সংসারবন্ধনও মিথ্যা। এই সমস্তই মায়া বা অবিদ্যার সৃষ্টি। আত্মার স্বরূপেপলব্ধি হইলেই এই অবিদ্যা অবগত হইয়া আত্মাকে মিথ্যা বন্ধন হইতে মুক্তি দেয়, ইহাই মােক্ষ। বাসনা কামনা সম্পূর্ণরূপে তিরােহিত হইয়া মন সম্পূর্ণ শুদ্ধ ও আত্মায় একাগ্ৰধ্যানযুক্ত না হইলে অখণ্ডাকার জ্ঞানের উদ্ভব হয় না। পবিত্র সংযত দেহ-মনে যথার্থ বৈরাগ্যযুক্ত মুমুক্ষু ব্ৰহ্মদর্শী গুরুর সমীপে উপনীত হইয়া ব্ৰহ্মবিদ্যার উপদেশ শ্রবণ করেন। সেই উপদেশ সম্বন্ধে স্বীয় চিত্তের যাবতীয় সন্দেহ তর্কের সাহায্যে অপগত করিয়া বিজ্ঞানানন্দঘন পরম সত্যে চিত্ত নিবিষ্ট করিয়া গভীর ধ্যানের দ্বারা সেই সত্য উপলব্ধি করিয়া কর্তা ভােত্তা প্রভৃতি মায়িক রূপ পরিত্যাগ করেন এবং নির্বিশেষ স্বপ্ৰকাশ চৈতন্যের সহিত অভিন্নস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হন। অবিদ্যাবৃত জীবস্বরূপ বিস্মৃত হইয়া সঞ্চিত কর্মের ফল ভােগ করিতে জন্মগ্রহণ করেন ও নূতন কর্মসঞ্চয় করিয়া মৃত্যুর পরে পুনরায় সেই কর্মফল ভােগার্থে জন্মগ্রহণ করেন। এই ভাবে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে তাহাকে আবর্তিত হইতে হয়। জীবের এই কর্তৃত্বাভিমান দূর না হইলে মুক্তি আসে না। অভিমানই জীবের বন্ধনের প্রথম সােপান। আত্মা যখন অবিদ্যাবশতঃ দেহের সহিত নিজের ঐক্য বােধ করে তখনই কর্তা কর্ম ও কৃত্যাত্মক সংসারযাত্রা শুরু হয়। | জড়দেহের উপর নির্লিপ্ত চৈতন্যের এই অধ্যাসই সমস্ত