পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অনন্ত কলী গদাধর পণ্ডিতের শিষ্য। পরে বৃন্দাবনে যাইয়া গােবিন্দের সেবাধিকারী হইয়াছিলেন। অনন্তদাস-ভণিতায় পদকল্পতরুতে যে ৩২টি পদ ধৃত হইয়াছে তাহা ইহার রচনা হইতেও পারে, আবার অদ্বৈত প্রভুর শাখাভুক্ত অনন্তদাসের রচনা হওয়াও অসম্ভব নহে। বিমানবিহারী মজুমদার অনন্ত কন্দলী অনন্ত কন্দলী অসমীয়া সাহিত্যের সুপ্রসিদ্ধ কবি। ইনি মহাপুরুষ শংকরদেবের সমসাময়িক ছিলেন। | যােড়শ শতাব্দীর প্রথম দুই দশকের ভিতর (১৫০| ১৫২০ খ্রী) জন্মগ্রহণ করিয়া যােড়শ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন বলিয়া পণ্ডিতেরা অনুমান করেন। বৃত্রাসুর বধ কাব্যে তিনি যে আত্মপরিচয় দিয়াছেন, তাহা হইতে জানা যায়, তাঁহার বাড়ি ছিল আসামের হাজো গ্রামে। তাঁহার পিতা রত্ন পাঠক ভাগবত শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন ও হাজো-র মাধব দেবালয়ের পাঠক ছিলেন। অনন্ত কন্দলীর আদি নাম হরিচরণ। অনন্ত কনলী ছাড়া শ্ৰচন্দ্রভারতী, ভাগবতাচার্য, ভাগবত ভট্টাচার্য, মধুভারতী ইত্যাদি নামেও তাহাকে অভিহিত করা হইত। তর্কশাস্ত্রে সুপণ্ডিত হইলেও তাঁহার পিতার নিকট ভাগবত শ্রবণ করিয়া ও তাঁহার পিতার প্রভাবে ক্রমে ভক্তিতে তাহার মতি হয়। স্ত্রীলােক ও শূদ্রের। যাহাতে ভক্তিরস আস্বাদন করিতে পারে এইজন্য তিনি অসমীয়া ভাষায় | কাব্যাদি রচনা করিতে আরম্ভ করেন। | অনন্ত কন্দলী মহাপুরুষ শংকরদেবের সংস্পর্শে আসেন ও তাহার দ্বারা বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হন। মহাপুরুষ শংকরদেবের উপদেশানুসারেই তিনি ভাগবতের দশম স্কন্ধের মধ্য ও শেষ ভাগ অসমীয়া ভাষায় অনুবাদ করিয়াছিলেন বলিয়া জানা যায়। মহাপুরুষ শংকরদেব নিজে ভাগবতের দশম স্কন্ধের প্রথম ভাগ (দশম) অনুবাদ করিয়াছিলেন। | অনন্ত কন্দলীর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রামায়ণ, ‘কুমর হরণ’, ভাগবতের ষষ্ঠ স্কন্ধ অবলম্বনে লিখিত ‘বৃত্রাসুর বধ’, ভাগবতের দশম স্কন্ধের মধ্য ও শেষ দশম’, ‘মহীরাবণ বধ কাব্য ও ‘সীতার পাতাল প্রবেশ নাটক বিশেষ উল্লেখযােগ্য। এই ‘মধ্য ও শেষ দশম’ অনন্ত কন্দলীর অক্ষয় কীর্তি। দ্র সত্যেন্দ্রনাথ শর্মা, অসমীয়া সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, ৩য় সংস্করণ, গৌহাটি, ১৯৬৩। কৃষ্ণময় ভট্টাচার্য