পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অনশনব্রত | প্ৰ দিলীপকুমার মুখােপাধ্যায়, বিষ্ণুপুর ঘরানা, ১৯৬৩ খ্রী। দিলীপকুমার মুখােপাধ্যায় অনশন রাজনৈতিক কারণে অনশন দুই উদ্দেশ্যে প্রযুক্ত হইয়াছে। পণ্ডিত রামরক্ষা ও যতীন দাস ম্যাক্সুঈনী কারাগারে অপমানকর অবস্থায় বাঁচা অপেক্ষা অনশনে দেহত্যাগ শ্রেয়ঃ বলিয়া বিবেচনা করেন। ইহা জাপানের হারা-কিরির সহিত তুলনীয়। | সত্যাগ্রহে অনশনের প্রয়ােগ অন্য কারণে হয়। সৎশক্তি সচরাচর সমাজে অসৎ-শক্তি অপেক্ষা দুর্বল। গান্ধীজী সং-শক্তিকে জাগ্রত বা উদ্দীপিত করিবার উদ্দেশ্যে অনশনব্রত গ্রহণ করিতেন। হিন্দু-মুসলমান-বিরােধ (১৯২১, ১৯৪৭ খ্র) ও অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ (১৯৩২ খ্র) ইহার লক্ষ্য ছিল। সমাজের সৎ-শক্তি অগ্রসর হইয়া যদি ইহার নিরাকরণ না করে তবে জীবন ধারণ নিরর্থক- ইহাই তঁাহার যুক্তি ছিল। এইরূপ অনশন মিত্রদের প্রতি প্রেমের বশে প্রযুক্ত হইতে পারে, শত্রুর প্রতি ক্রোধের বশে নহে। নির্মলকুমার বসু অনশনব্রত অনশন অর্থ উপবাস, ভােজন হইতে বিরত থাকা। অনশনব্ৰত আহার পরিত্যাগের সংকল্প। সাধারণতঃ অনশন বলিতে মৃত্যুসংকল্পপূর্বক উপবাস বুঝায়। স্তর ভেদে অনশন ত্রিবিধ স্বল্পানশন, অধানশন ও পূর্ণানশন। স্বল্পানশন ও অর্ধনশন আংশিক অনশন, | পূর্ণানশন নিরঙ্কু উপবাস। | অনশন প্রথা অতি প্রাচীন কাল হইতে প্রচলিত। বর্তমান কালেও সভ্য-অসভ্য সকল জাতির মধ্যেই এই প্রথা অল্পবিস্তর বিদ্যমান রহিয়াছে। অবিচারের প্রতিবাদস্বরূপ প্রাচীনকালেও অনশন করা হইত, বর্তমানেও করা হইয়া থাকে। বর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনে অনশনব্ৰত প্রয়ােগে মৃত্যুবরণের দৃষ্টান্ত যেমন আছে (যতীন দাস), তেমনি বহু ক্ষেত্রে অবিচারের প্রতিকার হইতেও দেখা গিয়াছে। কয়েকটি জাতির মধ্যে প্রতিহিংসা-গ্রহণপ্রবৃত্তি চরিতার্থ না হওয়া পর্যন্ত অনশনের প্রথা বিদ্যমান। অতি প্রাচীন কাল হইতে বিভিন্ন জাতির সামাজিক রীতিনীতিতেও অনশনব্রত পালনের বিধান রহিয়াছে। স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসকেরা আংশিক অনশনের ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। প্রায়শ্চিত্তের জন্য অনশন ও কামনাপূরণের জন্য অনশন করিয়া হত্যা দেওয়ার প্রথাও সুপ্রাচীন। মনু বলেন, প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য উত্তমর্ণগণ অধমর্ণের দ্বারে হত্যা দিয়া থাকেন।