পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অনাক্রম্যতা অনাক্রম্যতা রােগ-বীজাণু শরীরে প্রবেশ করা সত্ত্বেও যদি রােগের আক্রমণ না ঘটে, তবে সেই অবস্থাকে অনাক্রম্যতা বলা হয়। অনাক্রম্যতা দুই রকমের, ১. স্বাভাবিক ২. কৃত্রিম অর্থাৎ অর্জিত। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ স্বাভাবিক অনাক্রম্যতা লইয়াই জন্মগ্রহণ করে। কোনও কোনও লোকের এক বা একাধিক রােগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা থাকে। সংখ্যায় অল্প হইলেও কোনও কোনও ব্যক্তির প্রায় সকল রকম রোগ-বীজাণুর বিরুদ্ধেই অনাক্রম্যতা দেখা যায়। কিন্তু আমাদের জীবৎকালের মধ্যে রােগের আক্রমণের বিরুদ্ধে যদি অনাক্রম্যতা অর্জন করা যায়, | তাহাকে কৃত্রিম বা অর্জিত অনাক্রম্যতা বলে। ইহা বিভিন্ন উপায়ে সম্ভব। বীজাণুঘটিত কোনও রােগে আক্রান্ত হইবার পর কেহ যদি আবােগ্য লাভ করে, তবে ভবিষ্যতে | তাহার সেই রােগে আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা থাকে না। আবার ইজেশন বা টিকার সাহায্যে শরীরের মধ্যে কোনও পদার্থ প্রবেশ করাইয়াও অনাক্রম্যতা লাভ করা যায়। | মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর শরীর এমন ভাবেই গঠিত যে, কোনও বিষাক্ত পদার্থ ভিতরে প্রবেশ করিলেই তাহাকে বিষ-প্রতিরােধক পদার্থ উৎপাদনে উত্তেজিত | করে এবং সেই পদার্থই বহিরাগত বিযকে প্রতিরােধ করে। রােগােৎপাদক বীজাণু কর্তৃক উৎপাদিত বিষকে বলা হয় টক্সিন, আর এই বিষক্রিয়া প্রতিরােধের জন্য শরীরের মধ্যে যে পদার্থ উৎপন্ন হয়, তাহাকে বলে অ্যান্টিটক্সিন। গবেষণার ফলে জানা গিয়াছে বিষের প্রভাব হইতে শরীরকে রক্ষা করিবার জন্য এই সকল পদার্থ রক্তের গ্লোবিউলিন হইতে উৎপন্ন হইয়া থাকে। যেমন- ডিপথেরিয়া টক্সয়েডকে ( বিশুদ্ধীকৃত লবণজলে দ্রবীভূত ডিপথেরিয়া টক্সিন ) সুস্থ শরীরে ইনজেকশন করিলেই অ্যান্টিটক্সিন উৎপন্ন হইতে থাকে এবং ইহাই এই রোগের বিরুদ্ধে শরীরকে অনাক্রম্য করিয়া তোলে। শরীরের মধ্যে ইনজেকশনের সাহায্যে অ্যান্টিটক্সিন বা প্রতিবিষ প্রবেশ করাইয়া যে অনাক্রম্যতার সৃষ্টি করা হয়, তাহা নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ ; কারণ শরীর সেই অ্যান্টিটক্সিনকে নিষ্ক্রিয়ভাবে গ্রহণ করে। অন্যান্য পন্থায় সৃষ্ট অনাক্রম্যতাকে বলা হয় সক্রিয় ; কারণ এই ব্যবস্থায় শরীর নিজেই অ্যান্টিটক্সিন প্রস্তুত করিতে সচেষ্ট হয়। | নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা সাধারণত: এক বৎসরের বেশি স্থায়ী হয় না। সক্রিয় অনাক্রম্যতা দীর্ঘকাল স্থায়ী হইয়া থাকে এমন কি, রােগাক্রান্ত ব্যক্তির রােগমুক্তির পরও