পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ঐ সুশীলকুমার দে, নানা নিবন্ধ, কলিকাতা, ১৯৫৪ খ্ৰী ; মােহিতলাল মজুমদার, আধুনিক বাংলা সাহিত্য, ৮ম সং; সাহিত্য-সাধক-চরিতমালা ৫ , কলিকাতা, ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ ; প্রিয়লাল দাস, এষার কবি, ১৯৩৩ খ্রী। ভবতােষ দত্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০ খ্রী) বিখ্যাত বাঙালী ঐতিহাসিক। ১৮৬১ খ্রীষ্টাব্দের ১ মার্চ নদীয়া জেলার অন্তর্গত সিমল। গ্রামে অক্ষয়কুমারের জন্ম। পিতা মথুরানাথ কুমারখালি ইংরেজী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করিতেন; পরে সরকারি চাকুরিত্রে রাজসাহীবাসী হন। অক্ষয়কুমার বাল্যকালে কুমারখালি ও পরে রাজশাহীতে শিক্ষালাভ করেন। রাজশাহী কলেজ হইতে বি. এল. পাশ করিয়া ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে সেখানেই ওকালতি আরম্ভ করেন এবং আমৃত্যু এই ব্যবসায়ে লিপ্ত থাকিয়া খ্যাতি ও প্রতিপত্তি লাভ করেন। ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি ৭০ বৎসর বয়সে তঁাহার মৃত্যু হয়। বাল্যকাল হইতেই অক্ষয়কুমারের প্রবল সাহিত্যানুরাগ ছিল। রাজশাহীর ‘হিন্দুরঞ্জিকা এবং কুমারখালির ‘গ্রামবার্তা’য় তাহার বাল্যরচনা প্রকাশিত হয়। সংস্কৃত ভাযায় তঁাহার যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি ছিল ; এবং বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের নানা বিভাগে তিনি পাণ্ডিত্যপূর্ণ আললাচনাও করিয়াছেন। কিন্তু বিশেষভাবে ঐতিহাসিক রচনার জন্যই অক্ষয়কুমার বিখ্যাত। সিরাজউদ্দৌলা (১৮৯৮ খ্র) ও ‘মীরকাসিম’ ( ১৯০৬ খ্রী) নামক দুইখানি ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখিয়া তিনি বিদ্বৎসমাজে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। মূল দলিল-দস্তাবেজের সাহায্যে তিনি ইহাদের প্রকৃত ইতিহাস উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং প্রচলিত অনেক ধারণ। ভ্রান্ত বলিয়া প্রতিপন্ন করেন। বাংলা ভাষায় এইরূপ বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে ইতিহাস রচনার তিনিই পথপ্রদর্শক। তাহার পরবর্তী কালের রচনা ‘গৌড়লেখমালা’ (১ম স্তবক, ১৯১২ খ্র) তাহার অপূর্ব পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক। এই গ্রন্থে বাংলার পালরাজগণের তাম্রশাসন ও শিলালিপি বাংলা অনুবাদসহ প্রকাশ করিয়া তিনি বাংলার ইতিহাস সম্বন্ধে গবেষণার পথ সুগম করিয়াছেন। এই তিনখানি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ব্যতীত অক্ষয়কুমার ‘সমরসিংহ (১৮৮৩ খ্ৰী ), সীতারাম রায় ( ১৮৯৮ খ্রী), ও ‘ফিরিঙ্গি বণিক’ (১৯২২ খ্রী) নামক অপর তিনখানি গ্রন্থ এবং ‘পৌণ্ড্রবর্ধন’, ‘রানী ভবানী’, ‘বালি দ্বীপের হিন্দুরাজ্য প্রভৃতি ও গৌড় সম্বন্ধে বহু ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। ‘ভারতী’, ‘প্রদীপ’, ‘বঙ্গদর্শন’, ‘সাহিত্য’, ‘মানসী,