পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী ‘প্রবাসী প্রভৃতি পত্র-পত্রিকার তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন। ২৪ মার্চ ১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা এশিয়াটিক সােসাইটি হলে ‘অন্ধকূপহত্যার কাহিনী সত্য কিনা বিচার করিবার জন্য ক্যালকাটা হিস্টরিক্যাল সােসাইটির প্রযত্নে যে সভা হয়, উহাতে অক্ষয়কুমার ঐ কাহিনীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করিবার জন্য এক সারগর্ভ বক্তৃতা করেন। তাহার সেই মতই এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে সাধারণভাবে গৃহীত হইতেছে। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে ইতিহাস-চর্চার প্রসারের জন্য অক্ষয়কুমার ১৮৯ খ্ৰীষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের সহায়তায় ঐতিহাসিক চিত্র’ নামক একখানি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদন শুরু করেন। বাংলা ভাষায় এইরূপ চেষ্টা এই প্রথম। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের উপকরণ সংগ্রহ করিবার জন্য দীঘাপতিয়ার কুমার শরৎকুমার রায় ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দে রাজশাহীতে ‘বরেন্দ্রঅনুসন্ধান সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করিলে অক্ষয়কুমার সর্বপ্রকারে তাহাকে সাহায্য করেন। এই সমিতির চিত্রশালার দ্রব্যসংগ্রহ ও আনুষঙ্গিক ব্যাপারে তিনি শরৎকুমারের প্রধান অবলম্বন ছিলেন। ক্রিকেট খেলা, শিল্পকলা ও রেশমশিল্প সম্বন্ধেও তাহার বিশেষ উৎসাহ ছিল। উত্তরবঙ্গ-সাহিত্য-সম্মিলনের প্রথম অধিবেশনে (১৩১৫ | বঙ্গাব্দ) অক্ষয়কুমার সভাপতিত্ব করেন। পাচ বৎসর পরে কলিকাতায় বঙ্গীয়-সাহিত্য-সম্মিলনের সপ্তম অধিবেশনে তিনি ইতিহাস শাখার সভাপতি হন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষং তঁহাকে ১৩১১ বঙ্গাব্দে অন্যতম সহকারী সভাপতি | এবং ১৩১৮ বঙ্গাব্দে বিশিষ্ট সদস্যপদে নির্বাচিত করেন। | সরকার তাহাকে ‘কৈসর-ই-হিন্দ’ সুবর্ণ-পদক (১৯১৫ খ্র) ও ‘সি. আই. ই.' উপাধি দান করেন। কলিকাতা | বিশ্ববিদ্যালয়ও পালরাজগণের ইতিহাস সম্বন্ধে ধারাবাহিক কয়েকটি বক্তৃতার জন্য নিমন্ত্রণ করিয়া তাহার পাণ্ডিত্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিয়াছিলেন। রমেশচন্দ্র মজুমদার অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী (১৮৫০-১৮৯৮ খ্রী) আন্দুলের চৌধুরী বংশে জন্ম। তিনি আইনজীবী অ্যাটর্নি) ছিলেন। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরপরিবারের সহিত তাঁহার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সহপাঠী জ্যোতিরিন্দ্রনাথের তিনি অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। কিশাের রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যচর্চায় তাহার দ্বারা উৎসাহিত হইয়াছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বাল্মীকি-প্রতিভা গীতিনাট্যে অক্ষয়চন্দ্রের কয়েকটি গান আছে। অক্ষয়