পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অগত্য মৃতদেহ, স্বাস্থ্যহানিকর আবর্জনা। নদীর ধারে গড়িয়া উঠা জনপদ হইতে মলমূত্রাদি হানিকর আবর্জনা নদীতে পড়ে। জলে মিশিয়া থাকা অক্সিজেন আবর্জনার উপাদানের সহিত রাসায়নিক সংযােগে ব্যয় হইয়া যায়। তাহাতে জল দূষিত হইবার ও জলজ প্রাণীর অক্সিজেন অভাবে প্রাণহানির আশঙ্কা হয়। নদীর জলে ঢেউ উঠে। জলের বুকে সূর্যকিরণ পড়ে, বায়ু প্রবাহিত হয়। তাহাতে বায়ুস্থ অক্সিজেনের সহিত জলের ময়লার মিশিবার সুযােগ হয়। এইভাবে তরঙ্গবহুল স্রোতস্বতীর জলে জীবাণু নষ্ট হয়। আজকাল রৌদ্র ও বায়ুর মধ্যে জলের মিহি ধারা উৎক্ষেপ করিয়া সূর্যকিরণ ও অক্সিজেনের সাহায্যে জীবাণু নাশ করিয়া পানীয় জল শােধনের ব্যবস্থা আছে। অক্সিজেন গ্রহণে প্রাণী যেমন বাঁচে তেমনই নিত্য অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসার জন্য ধীরে ধীরে ক্ষয় পায়। ইহার রাসায়নিক কার্যে অগ্নির দাহিকাশক্তি বাড়ে, খাদ্যের উপাদান দহনের ফলে দেহে শক্তি আসে, আবার ইহারই প্রভাবে ধীরে ধীরে নিঃশব্দ পদসঞ্চারে জরা উপনীত হয়, পালন ও হনন একাধারে চলে। রামগােপাল চট্টোপাধ্যায় অগস্ত্য মিত্রাবরুণের পুত্র বিখ্যাত মহর্ষি । কুম্ভমধ্যে জন্মিয়াছিলেন, তজ্জন্য নামান্তর কুম্ভযােনি। পত্নীর নাম লােপামুদ্রা। অগস্ত্য অনেক অসাধ্য সাধন করিয়া খ্যাতিলাভ করিয়াছিলেন। মনে হয় তিনি ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং দাক্ষিণাত্যে আৰ্যসভ্যতা বিস্তার | করিয়াছিলেন। তামিল ভাষার প্রবর্তকরূপেও তিনি প্রসিদ্ধ। তিনি দেশবাসীর বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। নানাস্থানে তাহার পূজার প্রচলন আছে। বাংলাদেশে ভাদ্রমাসের শেষ তিন দিন অগস্ত্যকে অর্ঘ্যদান করিবার ব্যবস্থা আছে। তিনি দক্ষিণদেশস্থ বিন্ধ্যপর্বতকে নতশির এবং বাতাপি ও ইল নামক দুই প্রধান অসুরকে | বধ করিয়া দাক্ষিণাত্য প্রদেশকে নিরুপদ্রব করিয়াছিলেন। দক্ষিণদেশে যাত্রাকালে অগস্ত্য ক্রমবর্ধমান বিন্ধ্যকে বলিয়া| ছিলেন, যে পর্যন্ত আমি ফিরিয়া না আসি সে পর্যন্ত তুমি মস্তক অবনত করিয়া থাক। অগস্ত্য আর না ফেরায় বিন্ধ্য মস্তক উত্তোলিত করিতে পারেন নাই। (মহাভারত বনপর্ব, ১০৪ )। সাধারণ ধারণা, অগস্ত্যযাত্রার দিন | ( মাসের প্রথম দিন ) যাত্রা করিলে অগস্ত্যের মত প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নাই। তাই ঐ দিন যাত্রা করা নিষিদ্ধ। বনবাসকালে রাম অগস্ত্যাশ্রমে গমন করিলে,