পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অগ্নি করা হইয়া থাকে। এতদ্ব্যতীত এমন কতকগুলি রাসায়নিক পদার্থ আছে, যেগুলি বাতাসের সংস্পর্শে আসিবামাত্রই জ্বলিয়া ওঠে। সুধাংশুপ্রকাশ চৌধুরী অগ্নি অগ্নি পৃথিবীস্থান দেবতাগণের মধ্যে সর্বপ্রধান। ঋগবেদীয় দেবতাগণের মধ্যে সূক্তসংখ্যার ভিত্তিতে বিচার করিলে ইন্দ্রের পরেই তাহার স্থান। ঋগবেদের অন্যূন ২০০ সূক্তে তিনি মুখ্যভাবে আহূত ও স্তুত হইয়াছেন। এত ব্যতিরিক্ত অন্যান্য দেবগণের সহিত অগ্নির সংস্রবও প্রায়শই লক্ষিত হইয়া থাকে। | অগ্নির আকৃতি সম্পর্কে ঋগবেদে যে সকল বিশেষণ | দৃষ্ট হইয়া থাকে, তন্মধ্যে নিম্নোল্লিখিত কয়েকটি বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। যথা-ঘৃত-নির্ণি’, ‘ঘৃত-কেশ’, ‘ন্ন’, ‘ধূমকেতু’, ‘তমােহন্’, ‘চিত্র-ভানু’, ‘শুক্র-শশাচি, ‘শুচিদ’, ‘কৃষ্ণ-বৰ্ত্তনি’, ‘হিরণ্য-রথ’। অগ্নির বাহনের নাম ‘রােহিং'। | অগ্নির কর্ম প্রধানতঃ যজ্ঞস্থলে দেবতাদের আবাহন ও | দেবগণের উদ্দেশে হবিবহন। তিনি মনুষ্য ও দেবতাগণের দূত-স্বরূপ—‘অগ্নে দূতে বিশামসি’ (ঋ১. ৩৬. ৫)। দেবগণের হবি: বহন করেন বলিয়া তাহার আর এক বিশেষণ ‘হব্য-বাটু’ বা ‘হব্য-বাহন। ঋগবেদে অগ্নিকে ‘হােতা’, ‘পুরােহিত এবং ঋত্বি’ রূপেও নির্দেশ করা হইয়াছে। অগ্নির জন্ম বা উৎপত্তি সম্পর্কেও ঋগবেদে বহুবিধ কল্পনা করা হইয়াছে। কখনও বলা হইয়াছে, মাতরিশ্বা | কর্তৃক দুলােক হইতে তাহাকে আহরণ করা হইয়াছে ; কখনও মেঘদ্বয়ের মধ্য হইতে ইন্দ্র-কর্তৃক তিনি উৎপাদিত | হন—এইরূপ বলা হইয়াছে। কোনও কোনও মন্ত্রে দ্যাবাপৃথিবীকে হার মাতা ও পিতা রূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। আচার্য শাকপূণির মতানুসারে পৃথিবী, অন্তরিক্ষ ও দ্যুলােক—অগ্নি এই ত্রিবিধ স্থানেই আশ্রিত ( নিরুক্ত, ৭ ২৮, : ‘পৃথিব্যাম অন্তরিক্ষে দিবীতি শাকপূণিঃ। পৃথিবীলােক, অন্তরিক্ষলােক এবং দ্যুলােকে —ইহাই আচার্য শাকপূণির মত)। নিরুক্তব্যাখ্যা দুর্গাচার্য এই ত্রি-রূপ অগ্নির বিষয়ে মন্তব্য করিয়াছেন— | ‘পার্থিবােহগ্নিভূ পৃথিব্যাং যং কিঞ্চি অস্তি তদ | বিক্ৰমতে তদধিতিষ্ঠতি। অন্তরিক্ষে বিদ্যুদাত্মনা। দিবি সূৰ্য্যাত্মনা।'—নিরুক্ত, ১২ ১৯। পার্থিব অগ্নিরূপে পৃথিবী | লােকে যাহা কিছু আছে, তাহাতেই তিনি অধিষ্ঠান করেন। অন্তরিক্ষলােকে বিদ্যুৎরূপে এবং দুলােকে সুর্যরূপে। ( নিরুও আথিবীলেকনির মত)