পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অঙ্গুলি ছাপ প্রাধান্য দেওয়া হইয়াছে। অন্যান্য অঙ্গুলির টিপে অঙ্কিত শঙ্খ, সীপ ও জবা সম্বন্ধেও বিস্তারিতভাবে বলা হইয়াছে। বিষ্ণুপূজা সম্পকীয় নারায়ণ অষ্টক’ গ্রন্থে পদ্ম, চক্র, ধনু, অঙ্কুশ, মৎস্য প্রভৃতি টিপের শ্ৰেণীবাচক বহু শব্দ দেখা যায়। পঞ্চাষ্টক’ গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে ১৩ সংখ্যক শ্লোকে দন্ত, অঙ্কুশ, চাপ, কুলিশ, বজ, শ্রীবাস্তব, মৎস্য প্রভৃতি উপশ্রেণীবাচক শব্দও আছে। চীন দেশে অনুরূপ দুইটি শ্রেণীর নাম পাওয়া যায়- লে। (Lo) এবং কী (Ki)। ইংলণ্ডে ১৬৮৪ খ্রী, ইটালীতে ১৬৮৬ খ্ৰী, জার্মানীতে ১৭৫১ ও ১৭৬৪ খ্ৰীষ্টাব্দে আঙুলের ছাপের সম্বন্ধে বৈজ্ঞানিক উপায়ে আলােচনার সূত্রপাত হয়। | আঙুল বা ত্বকের ছাপের সম্বন্ধে ইহা বলা চলে- এক ব্যক্তির হাতের বা পায়ের ত্বকের চিহ্ন কখনও অন্য কোনও ব্যক্তির ছাপের সহিত হুবহু মিলিয়া যায় না। অর্থাৎ আঙুল বা হাতের ছাপ পাইলে একজন লােককে শনাক্ত করা সম্ভব। বৈজ্ঞানিকেরা আরও বলেন যে এক-একটি জাতির মধ্যে হাের্ল, লুপ এবং আর্চ -এর বিশেষ বিশেষ অনুপাত পাওয়া যায়। সেইজন্য তাহাদের মতে পৃথিবীর দুইটি বিভিন্ন স্থানের অধিবাসীর উক্ত অনুপাত যদি একই প্রকারের হয় তাহা হইলে উভয়ে রক্তসম্পর্কে সম্পর্কিত এরূপ অনুমান করা যাইতে পারে। উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে হুগলী জেলার কালেক্টর লক্ষ্য করেন যে বাংলা দেশের গ্রামে জাল সহি নিবারণের জন্য লােকে স্বাক্ষরের পাশে টিপসহি দিয়া থাকে। তিনি তদনুসারে রাজাধর কোনাই নামক জনৈক বাঙালী ঠিকাদারের নিকট দলিলে টিপসহি গ্রহণ করেন। এই দলিলটি আজিও ঐতিহাসিক দলিলরূপে পরিগণিত হয়। হুগলী জেলার আরও দুইজন রাজপুরুষ রামগতি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উইলিয়াম হাচেল এ বিষয়ে বহু তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই তথ্যের উপরে ভিত্তি করিয়া স্যর ফ্র্যাসিস্ গলট ইংলণ্ডে বসিয়া টিপ বা হাতের ছাপের বিজ্ঞান সম্পর্কে গবেষণা করেন। ১৮৯৩ খ্ৰীষ্টাব্দে ভারতবর্ষে ইংরেজ ও ভারতীয় কর্মচারীদের সাহায্যে অপরাধী নির্ণয় ও শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম আঙুলের ছাপ সংগ্রহের জন্য ফিংগার প্রিন্ট বিউরো (Finger-Print Bureau) স্থাপিত হয়। পরবর্তীকালে বিহারের কর্মচারী খানবাহাদুর আজিজউল হক এবং বাংলায় হেমচন্দ্র বসু এই বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতিসাধন করেন। কলিকাতার টিশালাকে আদর্শ করিয়া ইংলণ্ডের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে ১৯০১ খ্ৰী ও পরে আরও সমগ্রভাবে ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে টিশালা স্থাপিত হয়।