পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ G. P. Malalasekera : A Dictionary of Pali Proper Names, London, 1937. বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ চৈতন্যদেব-প্রবর্তিত বৈষ্ণবমত গৌড়ীয় বা বঙ্গীয় বৈষ্ণবমত নামে পরিচিত। রূপ, সনাতন, সার্বভৌম, রামানন্দ, স্বরূপদামােদর প্রভৃতি অনুচরগণ তাহার মুখনিঃসৃত বাণী হইতে কৃষ্ণতত্ত্ব, জীবতত্ত্ব, ভক্তিতত্ত্ব ও রসতত্ত্ব সম্বন্ধে তাহার অভিমত অবগত হইয়াছিলেন। জীবগােস্বামী-প্রণীত ‘ভাগবতসন্দর্ভ’-ই বঙ্গীয় বৈষ্ণবদিগের সর্বপ্রধান দার্শনিক গ্রন্থ। সর্বসম্বাদিনী নামে | এই গ্রন্থের একটি অনুব্যাখ্যা আছে। জীবগােস্বামী এই অনুব্যাখ্যায় অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ স্থাপন করিয়াছেন। বঙ্গভাষায় রচিত ‘চৈতন্যচরিতামৃত' গ্রন্থে কৃষ্ণদাস কবিরাজ বঙ্গীয় বৈষ্ণবদর্শনের যাবতীয় তত্ত্বই বিবৃত করিয়াছেন। পরবর্তীকালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ও বলদেব বিদ্যাভূষণ | তাহাদের রচিত গ্রন্থাদি দ্বারা বঙ্গীয় বৈষ্ণবদর্শনের পুষ্টিসাধন করিয়াছিলেন। বৃন্দাবনবাসী গােস্বামীরা ব্ৰহ্মসূত্রের কোনও ধারাবাহিক ভাষ্য প্রণয়ন করেন নাই। বলদেব বিদ্যাভূষণ গােবিন্দভায্য নামে একখানি ভাষ্য রচনা করিয়া অচিন্ত্যভেদাভেদবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করিয়াছিলেন। কেহ কেহ মনে করেন যে, চৈতন্যদেব স্বয়ং মাধ্বসম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন, কারণ তঁাহার দীক্ষাগুরুর (ঈশ্বর পুরীর ) গুরুদেব মাধবেন্দ্র পুরী মাধ্ব-সম্প্রদায়ের শিষ্য ছিলেন। তাঁহাদের মতে পদ্মপুরাণােক্ত শ্ৰী, ব্ৰহ্ম, রুদ্র ও সনক এই চারিটি বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অতিরিক্ত আর কোনও বৈষ্ণব সম্প্রদায় থাকিতে পারে না। রামানুজ শ্ৰ-সম্প্রদায়ের, মধ্ব ব্রহ্ম-সম্প্রদায়ের, বিষ্ণুস্বামী রুদ্র-সম্প্রদায়ের এবং নিম্বার্ক চতুঃসন-সম্প্রদায়ের স্বীকৃত আচার্য। তাহাদের মতে বঙ্গীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায় ব্রহ্ম-সম্প্রদায় বা মাধ্ব-সম্প্রদায়ের একটি শাখামাত্র। কিন্তু এই মত সমর্থনযােগ্য নহে। মাধবেন্দ্র পুরী ও ঈশ্বর পুরীর উপাস্য ছিলেন গােপীজনবল্লভ কৃষ্ণ, তাহাদের লক্ষ্য ব্রজগােপীগণের আনুগত্যে লীলাবিলাসী কৃষ্ণচন্দ্রের প্রেমসেবা; কিন্তু মাধ্বমতাবলম্বীদিগের উপাস্য তত্ত্ব লক্ষ্মীনারায়ণ, লক্ষ্য মুক্তি। মাধ্বমতাবলম্বীরা গােপীগণকে কৃষ্ণের স্বরূপশক্তির মূর্ত বিগ্রহ বলিয়া মনে করেন না ; তাঁহাদের মতে গােপীভাব নিন্দনীয়। মাধবেন্দ্র ও ঈশ্বরানন্দের সন্ন্যাসাশ্রমের উপাধি ‘পুরী’, কিন্তু মাধ্বমতাবলম্বীরা সন্ন্যাসাশ্রমে ‘তীর্থ’ উপাধি গ্রহণ করিয়া থাকেন। যে সকল শ্লোকের উপর নির্ভর করিয়া চারি সম্প্রদায়ের অতিরিক্ত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হইয়াছে