পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ | ধারণ করেন এবং অস্তিত্ববান বস্তুমাত্রকেই সত্তাদান করিয়া থাকেন। ব্রহ্মের চিদংশের শক্তির নাম সংবিৎ শক্তি। স্বয়ং জ্ঞানস্বরূপ হইয়াও ব্ৰহ্ম এই শক্তিদ্বারা নিজে | জানেন এবং অপরকে জ্ঞানদান করেন। ব্ৰহ্ম আনন্দ স্বরূপ। তিনি তাঁহার চিচ্ছক্তির যে বৃত্তিটির সাহায্যে নিজে | আনন্দ আস্বাদন করেন এবং অপরকে আনন্দ আস্বাদন করান তাহার নাম হলাদিনী শক্তি। শ্রীরাধা ইহারই মূর্ত বিগ্রহ। ব্ৰহ্ম নিজেই নিজের আস্বাদ্য। তঁাহার | প্লাদিনী শক্তির প্রভাবে প্রতি ক্ষণে যে আনন্দবৈচিত্রীর সৃষ্টি হইতেছে তাহাও তিনি আস্বাদন করিতেছেন। | তিনি রসম্বরূপ। রস শব্দের দুইটি অর্থ- (১) আস্বাদনের বিষয় এবং (২) আস্বাদক। উভয় অর্থেই তিনি রস। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ। তঁাহার পূর্ণতম বিকাশের নাম ভগবান্ । ভগবানে ঐশ্বর্য-মাধুর্যাদি বহু গুণের পূর্ণতম বিকাশ থাকিলেও মাধুর্যই ভগবত্তার সার ; ঐশ্বর্য ভগবত্তার সার নহে। ভগবানের এই স্বাভাবিক মাধুর্য সর্বাকর্ষক ; এইজন্য তঁাহাকে কৃষ্ণ নামে অভিহিত করা হয়। স্বকীয় রসবৈচিত্রীর অনুরূপ তাহার বহু মূর্ত রূপ থাকিলেও দ্বিভুজ নররূপই তাহার যথার্থ রূপ। গােপবেশ, বেণুকর, নবকিশোর, নটবর, পীতাম্বর, ঘনশ্যাম বপুতেও তিনি বিভু, সর্বগ ও অনন্ত। তিনি লীলাময়। তাহার ধামাদি ও লীলাপরিকরগণ তাহারই স্বরূপ শক্তিদ্বারা প্রকটিত। কি প্রাকৃত ব্রহ্মাণ্ডে, কি ভগবদ্ধামাদিতে তত্ত্বতঃ তিনি ব্যতীত আর কিছুই নাই। শংকরাচার্য বৃংহ ধাতুর প্রথম অর্থটি গ্রহণ করিয়া ব্ৰহ্মকে শুধু বৃহৎ বলিয়াছেন; তিনি ব্রহ্মের গুণ ও শক্তি স্বীকার করেন নাই, তাহার মতে ব্রহ্ম নির্বিশেষ, নিঃশক্তিক। জ্ঞানমাত্র। বঙ্গীয় বৈষ্ণবগণ বলেন যে, শংকরের নির্বিশেষ ব্ৰহ্ম পরব্রহ্ম নহেন, তিনি পরব্রহ্মের শক্তিবৈচিত্রীর ন্যূনতম অভিব্যক্তি, পরব্রহ্মের অঙ্গের কান্তিমাত্র। শংকর যাহাকে ব্ৰহ্ম বলেন তিনিও নিঃশক্তিক নহেন ; নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করিবার শক্তি এবং স্বরূপগত আনন্দময়ত্ব অনুভব করাইবার শক্তি নির্বিশেষ ব্রহ্মেরও আছে। কিন্তু তাহাতে পরব্রহ্ম বা ভগবানের শক্তির অভিব্যক্তির মাত্রা এত অল্প যে, তাহা প্রায় অনুভবযােগ্য নহে। শক্তিবিকাশের তারতম্যানুসারে পরব্রহ্মের অসংখ্য স্বরূপ অভিব্যক্ত হইয়া থাকে ; ইহাদের মধ্যে যে স্বরূপটিতে শক্তির অভিব্যক্তি ন্যূনতম সেই স্বরূপটিকেই সাধারণতঃ ব্রহ্ম নামে অভিহিত করা হয় এবং যে স্বরূপটিতে শক্তিসমূহের অভিব্যক্তি পূর্ণতম সেই স্বরূপটিকে ভগবান্ আখ্যা দেওয়া হয়। শ্রীকৃষ্ণরূপের মধ্যেই পরব্রহ্মের শক্তি, শক্তিকার্য, গুণ,