পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ | শক্তি তাহার নাই। ইহা হইতে বুঝা যায় যে, জীবের | স্বাতন্ত্র্য সীমাবদ্ধ। নিজের অবাধ স্বাতন্ত্র্য না থাকিলেও | জীব পরমেশ্বর প্রদত্ত অনুস্বাতন্ত্রকে কিয়ৎপরিমাণে যথেচ্ছ ভাবে ব্যবহার করিতে পারে বলিয়া সে তাহার কর্মের জন্য | দায়ী হইয়া থাকে। জীবের দুইটি শ্রেণী আছে। এক শ্রেণীর জীব অনাদিকাল হইতে ভগবদুন্মুখ ; আর-এক শ্রেণীর জীব অনাদিকাল হইতেই ভগবহিমুর্থ। নিত্য ভগবদুন্মুখ জীবগণ অনাদিকাল হইতে পার্ষদরূপে ভগবানের সেবা করিয়া আসিতেছেন। তাহারা নিত্যমুক্ত। তাহাদের | দৃষ্টি ভগবানের স্বরূপ শক্তির দিকে। বহিমু খ জীবগণ অনাদিকাল হইতে মায়াজালে আবদ্ধ হইয়া আছে। | তাহাদের দৃষ্টি মায়া শক্তির বিলাসের দিকে। সুখাভিলাষী বহিমুর্থ জীব সুখস্বরূপ ভগবান্‌কে ভুলিয়া সুখের আশায় স্বেচ্ছায় দেহাত্মবুদ্ধিসম্পন্ন এবং কর্তৃত্বাভিমানী হইয়া মায়াময় সংসার ভােগ করিতে অগ্রসর হয় ; সে তাহার অণুস্বাতন্ত্র্যের অপব্যবহার করে। মায়া কখনও জীবের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাহাকে কবলিত করে না। মায়া ভগবানেরই শক্তি। বহিমুর্থ জীবকে নানাবিধ দুঃখ | প্ৰদান করিয়া ভগবদুন্মুখ করিবার উদ্দেশ্যেই মায়া তাহাকে | মুগ্ধ করিয়া থাকে। মায়া ভগবানের স্বরূপ শক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করিতে পারে না, কিন্তু তটস্থ শক্তিময় | জীবকে মুগ্ধ করিবার সামর্থ্য তাহার আছে। মায়া বিভুচিং ভগবৎস্বরূপকে আবৃত করিতে পারে না, কিন্তু অণুচিৎ জীবকে আবৃত করিতে পারে। নিত্যমুক্ত জীবেরাও তটস্থ শক্তিময় এবং অণুচিং। কিন্তু তাহাদিগকে কবলিত করিবার শক্তি মায়ার নাই, কারণ তাহারা ভগবানের স্বরূপ শক্তিদ্বারা অনুগৃহীত। বহিমুখ জীবগণের মধ্যে স্বরূপ শক্তির অনুগ্রহ নাই বলিয়া মায়া তাহাদিগকে কবলিত করিতে পারে। জীবের কৃষ্ণবহিমুখিতা অনাদি হইলে ও চিরস্থায়ী নহে। কৃষ্ণবহিমুখিতার ফলে যে মায়াবন্ধন ঘটে তাহাও জীবের স্বরূপানুবন্ধী নহে। উহা আগন্তুক ; সুতরাং দূরীভূত হওয়ার যােগ্য। ভগবদবিস্মৃতি দূর করিতে পারিলেই ভগবদ্ভহিমুখিতা দূর হয় ; ভগবদ্‌হিমুখিতা দুর হইলেই মায়াবন্ধন ছিন্ন হয়। ভগবদ্‌বিস্মৃতি দূর করিতে হইলে সর্বদা ভগবানকে স্মরণ করিবার চেষ্টা করিতে হয়; কিন্তু মায়ার প্রভাবে বিক্ষিপ্তচিত্ত জীব ভগবৎস্মৃতি হৃদয়ে স্থায়ী করিয়া রাখিতে পারে না।। | মায়ার প্রভাব হইতে অব্যাহতি লাভ করিবার একমাত্র উপায় শরণাগত হইয়া ভগবানকে ভজন করা। শাস্ত্রে কর্ম, যােগ, জ্ঞান, ভক্তি প্রভৃতি নানা প্রকার সাধনা ও