পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ করিয়া যে লীলা কখনও কখনও লােকনয়নের গােচরীভূত করেন তাহার নাম প্রকটলীলা। ভক্তের প্রেমরসনির্যাস আস্বাদন এবং তার জগতে রাগমার্গের ভক্তি প্রচার করিবার উদ্দেশ্যে তিনি ব্রজলীলা প্রকটিত করেন। প্রকটলীলায় সকল রস অপেক্ষা কান্তারসের বৈচিত্রীই অধিক। স্বকীয়া ও পরকীয়া ভেদে কান্তা দুই প্রকার। পরস্পর | বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ পতি-পত্নীর মধ্যে যে ভাব থাকে তাহার নাম স্বকীয়া কান্তাভাব। বৈধ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নহে, এইরূপ যুবক-যুবতীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ লক্ষিত হয় তাহার নাম পরকীয়া কান্তাভাব। অপ্রকট ব্রজলীলায় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকাদির নিত্য স্বকীয় ভাব। স্বকীয় ভাবের নায়ক-নায়িকার মিলনে গুরুতর বাধাবিঘ্ন কিছু না থাকায় আনন্দচমংকারিতা বর্ধিত হয় না। এইজন্য প্রকটলীলায় কৃষ্ণশক্তি যােগমায়া শ্রীকৃষ্ণের ও শ্রীরাধিকাদির নিত্য সম্বন্ধের জ্ঞান আচ্ছাদিত করিয়া তাহাদের মধ্যে পরকীয়া ভাবের সৃষ্টি করেন। | বঙ্গীয় বৈষ্ণবাচার্যগণ প্রধানতঃ শাস্ত্রোক্তির উপর নির্ভর করিয়া কৃষ্ণের শক্তি ও গুণ, জীবাত্মার স্বরূপ ও স্বাভাবিক ধর্মাদি বিষয়ের আলােচনা করিয়াছেন। শ্রুতিতে জীব ও পরব্রহ্মের ভেদবাচক বাক্য আছে ; আবার উভয়ের অভেদবাচক বাক্যও আছে। সুতরাং জীব ও ব্রহ্মের ভেদ ও অভেদ উভয়ই সত্য। জীব ভেদাভেদসম্বন্ধে ভগবানেরই প্রকাশ। জীবকে পরব্রহ্মের সহিত অভিন্ন বলিবার হেতু এই যে জীব ও পরব্রহ্ম উভয়ই চিস্তু। আবার জীবকে পরব্রহ্ম হইতে ভিন্ন বলিবার হেতু এই যে জীবের স্বরূপগত ধর্ম পরব্রহ্মের স্বরূপগত ধর্ম হইতে পৃথক। উভয়েই চিবস্তু সন্দেহ নাই, কিন্তু জীব অণুচিং, পরব্রহ্ম বিভুচিং। জীব অল্পজ্ঞ, অল্প শক্তিমান ; পরব্রহ্ম সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। জীব মায়ার বশীভূত হওয়ার যােগ্য ; পরব্রহ্ম মায়ার বশীভূত হওয়ার যােগ্য নহেন, তিনি মায়াধীশ। জীবের দেহ মায়িক জগতের উপাদান দ্বারা গঠিত। পরব্রহ্মের বিগ্রহে মায়িক উপাদান নাই। জীব জগতের স্রষ্টা নহে; পরব্রহ্ম মায়াযােগে জগৎ সৃষ্টি করিয়া থাকেন। জীব অংশ, পরব্রহ্ম অংশী। অংশ ও অংশীর মধ্যে ভেদ এবং অভেদ উভয়ই থাকে। ইহারা সর্বতােভাবে ভিন্নও নহে, সর্বতােভাবে অভিন্নও নহে। সুতরাং জীব ও পরব্রহ্মের সম্বন্ধে যুগপৎ ভেদবাচক ও অভেদবাচক শ্রুতির প্রামাণ্য অস্বীকার করা যায় না। বঙ্গীয় বৈষ্ণবাচাৰ্যদিগের মতে জীব-জগদাদি সমস্তই পরব্রহ্মের শক্তি। আমরা যাহাকে জীব বলি, সেই জীব পরব্রহ্মের জীবশক্তির অংশ ব্যতীত আর কিছুই নহে। আমরা