পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অচিরবতী অগ্নির বহির্দেশেও দাহিকা শক্তি বা তাপ অনুভূত হয় ; দূর হইতেও কস্তুরীর গন্ধ পাওয়া যায়। পরব্রহ্ম প্রত্যক্ষীভূত হইলেও তাহার শক্তির আভাস অনুভূত হয়। সুতরাং শক্তি ও শক্তিমানের ভেদও অস্বীকার করা যায় না, অভেদও অস্বীকার করা যায় না। উহাদের মধ্যে কেবল অভেদ স্বীকার করিলে এক অসমাধেয় সমস্যার উদ্ভব হয়। শক্তি যদি শক্তিমানের সহিত সর্বতােভাবে অভিন্ন হয় তাহা হইলে শক্তিমানের বাহিরে তাহার অনুভূতি হয় কিরূপে? শক্তিমানের সহিত শক্তির ভেদ আছে বলিয়াই শক্তিমানের বাহিরেও কখনও কখনও শক্তি অনুভূত হইয়া থাকে। শক্তিমান ও শক্তির মধ্যে ভেদ আছে সত্য, কিন্তু ইহাকে সম্পূর্ণ ভেদ বা কেবল ভেদ বলা যায় না। পর ব্রহ্ম ও তাহার শক্তি দুইটি পৃথক পদার্থ নহে। দুইটিকে। পৃথক পদার্থ মনে করিলে পরব্রহ্মের অদ্বয়ত্ব রক্ষা করা যায় না। এইজন্য বঙ্গীয় বৈষ্ণবাচার্যগণ পরব্রহ্মের সহিত তাহার শক্তির যুগপৎ ভেদ ও অভেদ স্বীকার করিয়াছেন। কিন্তু ভেদ ও অভেদ কিভাবে যুগপং অবস্থান করে তাহা বুদ্ধিগম্য নহে। জগতের প্রত্যেক বস্তুর সহিত উহার শক্তির এইরূপ ভেদ ও অভেদ সম্বন্ধ বিদ্যমান। বিষ্ণুপুরাণে উক্ত হইয়াছে যে, সমস্ত ভাববস্তুর শক্তিই অচিন্ত্যজ্ঞানগােচর ( বিষ্ণুপুরাণ ১/৩২)। শর্করার মিষ্টত্ব, যবক্ষারের তিক্ততা, অগ্নির উত্তাপ প্রভৃতি অস্বীকার করিবার উপায় নাই। কিন্তু শর্করা মিষ্ট কেন, যবক্ষার তিক্ত কেন, অগ্নি জ্বালাময় কেন, এই সকল প্রশ্নের কোনও সমাধান নাই। বিচার-বুদ্ধি দ্বারা হেতু নির্ণয় করা অসম্ভব হইলেও যাহার অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না, তাহাকেই অচিন্ত্যজ্ঞানগােচর বস্তু বলা হয়। শক্তি ও শক্তিমানের মধ্যে যে যুগপং ভেদাভেদসম্বন্ধ রহিয়াছে তাহাও এইরূপ অচিন্ত্য পদার্থ। উভয়ের ভেদ বা অভেদ কোনওটিই | অস্বীকার করা যায় না, অথচ পরস্পরবিরােধী উভয়ের যুগপং অবস্থান কোনও প্রকার যুক্তিতর্ক দ্বারা প্রমাণ করা যায় না। এইজন্য শক্তি ও শক্তিমানের সম্বন্ধটিকে অচিন্ত্যভেদাভেদসম্বন্ধ বলা হইয়াছে। বঙ্গীয় বৈষ্ণবাচার্যগণ শাস্ত্রানুগতভাবে সমম্বয়ের দৃষ্টি অবলম্বন করিয়া যে অভিনব দার্শনিক তত্ত্বের সন্ধান দিয়াছেন সেই অচিন্ত্যভেদাভেদতত্ত্ব ভারতীয় দর্শনের এক অমূল্য সম্পদ। সুধীন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী অচিরবতী উত্তর প্রদেশের অযােধ্যা অঞ্চলে প্রবাহিত | রাপ্তি নদীর প্রাচীন নাম। কোশল দেশের রাজধানী