পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অজিত কেশকম্বলী পরবর্তীকালে বাঙালী সাহিত্যিক ও পাঠকের মনে আধুনিক পাশ্চাত্ত্য সাহিত্য সম্বন্ধে যে আগ্রহ পরিলক্ষিত হয় মেটারলিঙ্ক, এ, ই, ফ্রান্সিস টমসন, হুইটম্যান প্রভৃতি কবি ও নাট্যকারের বিষয় প্রভূত আলােচনা করিয়া অজিতকুমার তাহার অনুকুল পরিমণ্ডল রচনা করিয়া গিয়াছেন। তাহার এই সকল রচনার কোনও কোনওটি তাঁহার ‘বাতায়ন’ (১৩২২) গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট আছে। অজিতকুমার রচিত ‘মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৬) | বাংলা জীবনীসাহিত্যে প্রধান গ্রন্থ গুলির অন্যতম। | কিশােরবয়স্কদের জন্য রচিত তাহার ‘খ্রীষ্ট’ (১৩১৮) গ্রন্থও উল্লেখযােগ্য। অভিন্নহৃদয় সতীর্থ অকালপরলােকগত কবি সতীশচন্দ্র রায়ের রচনাবলী’ও (১৩১৯ ) তিনি সংকলনপূর্বক গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। অজিতকুমার অভিনয়পটু ছিলেন, রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক | প্রযােজিত কোনও কোনও নাট্যাভিনয়ে তাহার নৈপুণ্য পরিলক্ষিত হইয়াছিল ; তিনি সুকণ্ঠ গায়ক ছিলেন, সেকালে রবীন্দ্রসংগীতচর্চার তিনি অন্যতম বাহক ছিলেন। | মৃত্যুর পূর্বে তিনি ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের উপদেশ-নির্দেশ | লইয়া রামমােহন-চরিত লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন। রামমােহন রায় সম্বন্ধে অজিতকুমারের কয়েকটি রচনা | ‘রাজা রামমােহন (১৯৩৪ ) গ্রন্থে সংকলিত হইয়াছে। | তাহার বহু মূল্যবান রচনা এখনও সাময়িক পত্রে বিক্ষিপ্ত হইয়া আছে। পুলিনবিহারী সেন অজিত কেশকলী গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক যে ছয়জন প্রচারক অপধর্মীয় (heretic ) বলিয়া বৌদ্ধ গ্রন্থসমূহে অপখ্যাত, অজিত কেশকম্বলী বা কেশকম্বল তাহাদের অন্যতম। কেশকম্বলী শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করিয়া বলা হয় যে অজিত ও তঁাহার | সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিগণ চুলের তৈয়ারি কম্বল পরিধান করিতেন ( দীঘনিকায়ের কপ-সীহনাদ সুত্তের অঠকথা দ্র)। বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থাবলীতে বণিত অজিতের মতবাদ সর্বত্র এক নহে, কিন্তু সর্বত্রই তাহা বিরুদ্ধ ও হেয় | মতবাদ এবং প্রধানতঃ তাহা উচ্ছেদবাদ (nihilism ) (দীঘ-নিকায়ের সামঞঞফল ও ব্রহ্মজাল সুত্ত এবং মজুঝিমনিকায়, ১, ও সঞ ঞ ওনিকায়, ৩, হিসাবেই বর্ণিত হইয়াছে- অর্থাৎ অজিত যাহা অস্বীকার করিতেন মূলতঃ | তাহারই বর্ণনা এই সকল গ্রন্থে আছে। দীঘনিকায়এর সামঞঞফল সুত্তে বর্ণিত অজাতশত্রুর প্রশ্নের উত্তরে