পাতা:Bharatkosh 1st Vol.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


________________

অরাবাদ অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয় থাকিয়া যাইবে । তাহার মতে অজ্ঞেয় অতীন্দ্রিয় পদার্থ দুই প্রকার। উপরি-উক্ত প্রত্যয়গুলি যখন স্বমহিমায় যাবৎ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পদার্থের সমাহার করিয়া ইন্দ্রিয়গ্রাহের এক অপরূপ চরমােৎকর্ষ চিন্তা করে এবং স্বভাবতঃ তাহা বিশ্বাস করে, তখন সেই চরম উৎকৃষ্ট রূপটি জ্ঞানপরিধির বাহিরে থাকে, কারণ ঐ রূপটি ইন্দ্রিয়ের নিকট ধরা পড়িতে পারে না এবং যাহা ইন্দ্রিয়ের নিকট ধরা পড়িতে পারে না, কান্টের মতে তাহা অজ্ঞেয়। আত্মা, ঈশ্বর, জগতের আদি কারণ প্রভৃতি প্রচলিত অতীন্দ্রিয় পদার্থগুলি এই জাতীয়। দ্বিতীয় এক প্রকার অতীন্দ্রিয় পদার্থ আছে, যাহার নাম thing-in-itself। কান্ট মনে করেন যে দেশকালরূপ আকারে আকারিত রূপরসগন্ধস্পশাদি ইন্দ্রিয়ােপাত্ত গুলি আম-নিরপেক্ষ নহে, কারণ তাহার মতে ইন্দ্রিয়ােপাত্ত এবং দেশকালরূপ আকার, উভয়েই আমা-সাপেক্ষ। অথচ আমি বিশ্বাস না করিয়া থাকিতে পারি না যে, যখন আমি বৃক্ষলতাদি বস্তুগুলি দেখি তখন আম-নিরপেক্ষ কিছু-একটা পদার্থ নিশ্চয়ই আছে। যেহেতু স্বরূপে এই পদার্থ আমার ইন্দ্রিয়ের নিকট ধরা পড়ে না এবং যেহেতু স্বরূপে এই পদার্থ দেশকালরূপ আকারে আকারিত হয় না, অতএব উহ। অজ্ঞেয়। ইহাই হইল কান্টের অজ্ঞাবাদ। কান্ট মনে করেন যে অতীন্দ্রিয় পদার্থগুলি জ্ঞানলভ্য না হইলেও আমরা ইহাদের স্বীকার করি এবং ইহাদের কয়েকটি আমরা কর্মমার্গে এবং দুই-একটি রসােপলব্ধিমার্গে ধরিতে পারি। আমাদের দেশেও অনেক বৈষ্ণব দার্শনিক এই জাতীয় কথা বলেন বিশ্বাসে মিলয়ে কৃষ্ণ, তর্কে বহুদূর। হ্যামিল্টন বলেন যে চরমতত্ত্ব (absolute) হইলেন অজ্ঞেয়। জগতের কোনও কিছু জানিতে হইলে উহাকে অন্য বস্তুর সহিত সম্বন্ধযুক্তভাবে জানিতে হয়। কিন্তু চরমতত্ত্ব হইলেন ‘একমেবাদ্বিতীয়, তিনি সকল সম্বন্ধের বন্ধনমুক্ত ; সুতরাং তাহাকে জানার অর্থ তাহাকে আবার বন্ধনযুক্ত করা। যেহেতু ইহা স্ববিরােধী, অতএব বলা যাইতে পারে যে, আমাদের জ্ঞানলাভের সাধারণ পদ্ধতি অনুসারে চরমতত্ত্ব অজ্ঞেয়। হার্বার্ট স্পেন্সার বিজ্ঞানের (science) পূজারী হইয়াও | শেষকালে স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন যে, সমগ্র | বিশ্ব ব্যাপিয়া এক বিরাট শক্তির কার্য চলিতেছে। তবে | তিনি ইহাও বলিলেন, আমরা জানি যে এই শক্তি আছে কিন্তু ইহা কি, তাহা আমরা জানি না ; অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যে শক্তির প্রকাশ সেই শক্তি আমাদের নিকট অজ্ঞেয়। দার্শনিক মতবাদ হিসাবে অজ্ঞাবাদকে সম্পূর্ণরূপে