বৌদ্ধযুগ—ডাক—খৃঃ ৮ম-১২শ শতাব্দী।
৭
গৃহিণী হইয়া রোষে বোলে।
স্বামীর পীড়ি পায় টালে॥
ঘর নাশে অল্প কালে।
ফুট ভাষে ডাক গোয়ালে॥
প্রভাত কালে নিদ্রা যায়।
বাসি শয্যা সূর্য্য পায়॥
উদয় হৈলে ছড়া[১]
সাঁজ হৈলে ভাড়া[২]।
তা গৃহিণীর ধরিয়া মুখ পোড়া॥
যে গৃহিণী আয়ুদড়[৩] মুণ্ডী।
খায় দায় না পালে হাণ্ডী[৪]॥
ফেলায় খায় সব প্রচুর।
বলে ডাক নিকলহ দূর॥
হেন স্ত্রীয়ে যাহার বাস।
খায় দায় উজাড়ে বাস॥
উচিত বলিতে পাড়ে গালি।
পোয়ে ঝিয়ে[৫] হয় বে-আলি[৬]॥
কান্দনা শুনিয়া বাহির হয়।[৭]
নাটে গীতে ধাইয়া যায়॥
|
এ নারীতে যাহার বাস।
তাহার কেন জীবনের আশ॥
অতিথি দেখিয়া কোপ-মনে।
গালি দেয় অতিথ শুনে॥
ভাল দ্রব্য আপনে খায়।
যে গৃহিণী আয় ব্যয় না বুঝে।
বোল বলিতে উত্তর যুজে॥
ভাল বলিতে রোষ করে।
তাহার স্বামী কেন থাকে ঘরে॥
রৌদ্রে রান্ধে কাঠে খড়ে।
বর্ষাকালে চাল আচড়ে॥[৮]
তথা লক্ষ্মী ছাড়েন তখন॥
এক বলিতে দুবোল বলে।
স্বামীর শয্যা পায় টালে॥
কিছু বলিতে পাড়ে গালি।
তাহার স্বামী কেনে
নহে ভিখারী॥
|
- ↑ সূর্য্যোদয়ের পরে ছড়া দেওয়া।
- ↑ ধান ভানা।
- ↑ আয়ুদড়, আউদড়=আলুলায়িত। আয়ুদড় শব্দ হইতে যদি উদ্লা শব্দ আসিয়া থাকে তবে তাহার অর্থ—অনাবৃত।
- ↑ হাণ্ডী পালন না করে অর্থাৎ যত্বপূর্ব্বক হাঁড়ীরক্ষা না করে।
- ↑ পোয়ে ঝিয়ে=পুত্র এবং কন্যার প্রতি।
- ↑ বে-আলি=বিরুদ্ধ।
- ↑ সুশীলা রমণী কান্না শুনিয়া উৎসুকভাবে বাহিরে আসিবেন না।
- ↑ কাঠ খড় রৌদ্রের সময় পোড়াইয়া বর্ষাকালে যে গৃহিণী চালের খড় জ্বালিয়া রাঁধে।