পূর্ব পাকিস্তানে কৃষি
![]()
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
নীচে: বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা হাতে-কলমে কাজ শিখছে।
পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি
পাকিস্তানের অর্থনীতিতে কৃষির প্রাধান্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আমাদের জাতীয় বিশেষ আয়ের অর্ধেকের বেশী পরিমাণ এখনও কৃষি থেকেই আসে। বিশেষ ক'রে পূর্ব-পাকিস্তানের আঞ্চলিক আয়ে কৃষির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই কৃষির উন্নয়ন এই অঞ্চলের সাধারণ উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন।
কৃষির মৌলিক উপাদান হলো জমি। জমিতে শ্রম ও যথোপযোগী পাজি প্রয়োগ করেই কৃষির উন্নয়ন প্রচেষ্টা। জনসংখ্যা ও পল্লী অঞ্চলের অধিবাসীর সংখ্যা থেকেই বুঝা যায় আমাদের চাষীরও অভাব নেই, কৃষির জন্যে শ্রমেরও অভাব নেই। কাজেই জমি ও পাজি সমস্যাই কৃষি উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
১৯৬১ সালের শুমারী থেকে জানা যায়, সারা দেশের ১৫.১ শতাংশ জমি পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্গত; অথচ এই স্বল্প পরিমাণ জমির ওপর নির্ভর করে সারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৪.২ শতাংশ। পূর্ব পাকিস্তানের মোটামুটি ৫৫০০০ বর্গ মাইল আয়তনের ৩,২০৫ মাইল (অর্থাৎ ৫.৮ শতাংশ) নদীর গর্ভে। এ প্রদেশের সাধারণ জনবসতি প্রতি বর্গমাইলে ৯২২; নদীগর্ভস্থ আয়তন বাদ দিলে এই জনবসতি দাঁড়ায় ৯৭৯। ঢাকা জেলা জনবসতিতে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে; এই জেলার সাধারণ জনবসতি প্রতি বর্গমাইলে ১৭৬৯ এবং নদী-গর্ভস্থ আয়তন বাদ দিলে ১৯০৯। প্রদেশের বেশীর ভাগ অঞ্চলই ঘন জনবসতির আওতায় পড়ে। মোট জনসংখ্যার ৭২ শতাংশই প্রতি বর্গমাইলে সহস্রাধিক জনবসতির অঞ্চলগলিতে বাস করে। অথচ নাগরিক অধিবাসীর সংখ্যা খুব বেশী নয়। ১৯৬১ সালের আদম শুমারীতে মোট ৫ কোটি ৮ লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে মাত্র ২৬ লক্ষ অধিবাসীকে (অর্থাৎ ৫.২ শতাংশ) নগরের অধিবাসী বলে হিসাব করা হয়েছে। এ থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে পল্লী অঞ্চলেও জনবসতি অত্যন্ত ঘনীভুত হয়ে গেছে আর তারই ফলে স্বল্প জমির ওপর নির্ভরশীলতার চাপ বেড়েছে।
১৯৬০ সালের কৃষিশুমারীর প্রাথমিক বিবরণ থেকে দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের মোট চাষাবাদে নিযুক্ত জমির পরিমাণ হলো ১ কোটি ৮৯ লক্ষ একর, যদিও চাষাবাদের মোট জমি হলো ২ কোটি ১৮ লক্ষ একর। এই জমি মোট ৬১ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশীসংখ্যক চাষীজমিতে বিভক্ত। কাজেই চাষী-পরিবার-প্রতি গড়পড়তা জমির পরিমাণ চাযোপযোগী মোট জমির হিসাবে ৩.৫ একর, আর কর্ষিত জমির হিসাবে ৩.১ একর।
পূর্ব পাকিস্তানের মাটি
পর্ব পাকিস্তানে চাষাবাদের জমির পরিমাণ কম হলেও জমির উৎপাদিকাশক্তিই এ প্রদেশের মাটিকে 'সোনার জমিন'এ পরিণত করেছে। এই সোনার জমিন সোনার ফসল দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
পূর্ব-পাকিস্তানের মাটিকে মোটামটি ৭টি অঞ্চলে বিভক্ত করা যেতে পারে। এইসব অঞ্চলের প্রত্যেকটির মাটিতে বিশিষ্ট ধরণের গুণাগুণ রয়েছে; যেমন (১) লালমাটি অঞ্চল, (২) বরেন্দ্র অঞ্চল, (৩) গঙ্গার পলিমাটি অঞ্চল, (৪) তিস্তার পলি অঞ্চল, (৫) ব্রহ্মপত্র পলি অঞ্চল, (৬) লোনা বদ্বীপ অঞ্চল ও (৭) পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীয়া অঞ্চল।
পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চার শতেরও অধিক নমুনা সংগ্রহ করে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে যে পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে গড়পড়তা শতকরা ০.১০ ভাগ নাইট্রোজেন, ০.১০ ভাগ ফসফেট, ১.০৩ পটাশ, ১.১৬ ভাগ চূর্ণ ও ৪.৪২ ভাগ জৈব পদার্থ রয়েছে। এই অবস্থাকে পূর্ব পাকিস্তানের মাটির উপাদানের সাধারণ মান বলে ধরা যায়। এই মানের সঙ্গে তুলনা করে কোন বিশিষ্ট স্থানের মাটির উপাদান পরীক্ষা করা যায় এবং বিভিন্ন উপাদানের প্রাচুর্য বা অভাব নির্ণয় করা যায়। সেই ভিত্তিতেই জমিতে সার প্রয়োগ করে' ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। এভাবে মোটামটি বলা চলে যে ঢাকা জেলার মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও চ,ণের অভাব রয়েছে; সিলেট জেলার মাটিতে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন পটাশ ও জৈব পদার্থ আছে কিন্তু ফসফেট ও চূণের অভাব রয়েছে; রাজশাহী ও পাবনা জেলার মাটিতে যথেষ্ট পটাশ, চূর্ণ ও জৈব পদার্থ রয়েছে কিন্তু নাইট্রোজেন ও চূণের অভাব রয়েছে ইত্যাদি।
ধান, পাট ও ইক্ষু সাধারণভাবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ফসল। তবু কতক অঞ্চলে কোন কোন বিশেষ ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। মাটির উপযোগিতার জন্যই এই তারতম্য ঘটে।
পূর্ব পাকিস্তানের সোনার মাটিতে সোনার ফসল জন্মে; কিন্তু সনাতনী পন্থায় লাঙ্গল, বলদ, মই, নিড়ানী সবল করে' বীজ ছড়িয়ে আকাশের বৃষ্টির ওপর নির্ভর করেই চলে আসছিল চাষীর চাষ। উন্নত ধরণের যন্ত্রপাতি, কৃত্রিম সার ও সেচের পানি ব্যবহারের রীতি ছিল না এবং এখনও এই ধারার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে খাদ্যের চাহিদা এবং সাধারণ উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কৃষিজাত ফসলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। এই সমস্যার মোকাবিলা করার জন্যে জমির পরিমাণ বাড়ানোর উপায় নেই। কাজেই পাজি ও উন্নত ধরণের চাষাবাদের ওপর নির্ভর করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এই নীতিকেই Intensive farming বা ঘনীভূত চাষাবাদ বলা হয়। পরিকল্পনা মারফতে কৃষি উন্নয়নের কর্মপন্থায় তাই অনাবাদী জমি পনেরদ্ধার ও বেশী পরিমাণ জমিতে সেচপানি সরবরাহের সঙ্গে আবাদী জমির ঘনীভূত চাষাবাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনায় প্রাদেশিক খাতে ২২ কোটি টাকা ব্যয় কৃষি উন্নয়নে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে মোট ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এক বিশেষ অংশও পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিতে নিযুক্ত হয়। সেই তুলনায় দ্বিতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনায় কৃষি পর্যায়ে সরকারী পাজি বিনিয়োগ অনেক বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত দ্বিতীয় পাঁচশালা পরিকল্পনায় সারা দেশের জন্যে কৃষিক্ষেত্রে পাঁজিবিনিয়োগের পরিমাণ (সেচ ব্যবস্থা ছাড়া) ২৫২ কোটি টাকা। এই অংক প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনায় সারাদেশের কৃষি উন্নয়নের ব্যয়ের (৮৫ কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় তিনগুণ। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের খাতে ৯৩ কোটি টাকার পুঁজিবিনিয়োগ পরিকল্পিত হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় খাতে এ প্রদেশের আরো ৫৩ কোটি টাকার অংশ রাখা হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনা করে পরিকল্পনায় কতকগুলি বিশিষ্ট বাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে উৎপাদন সংক্রান্ত লক্ষ্যসমূহ গরুত্বপূর্ণ। নিম্নের তালিকা দৃষ্টে এই গুরুত্বের হদিস পাওয়া যাবে;
দ্বিতীয় পাঁচ-সালা পরিকল্পনায় কৃষি উৎপাদন লক্ষ্য
(১৯৫৯-৬০ সালের তুলনায় ১৯৬৪-৬৫ সালে বৃদ্ধি)
| শস্য | সারাদেশে বৃদ্ধি (শতকরা) |
পূর্ব পাকিস্তানে বৃদ্ধি (শতকরা) |
| চাল | ২২ | ১৭ |
| পাট | ২২ | ২২ |
| চা | ১৮ | ১৮ |
| তামাক | ১৪ | ১৪ |
| ডাল | ১১ | ৩ |
| তৈলবীজ | ৩২ | ৪৫ |
| ফল ও শব্জী | ১২ | ৯ |
| ইক্ষু | ৩৫ | ৪২ |
| মাছ | ২৪ | ১৭ |
| কাঠ | ২৫ | ২৯ |
সামগ্রিকভাবে কৃষি উন্নয়নের কতকগুলি প্রধান লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যেমন—
(ক) কৃষি-নির্ভর জনসংখ্যা ও অসম ভূমি বণ্টন ব্যবস্থা থেকে উদ্ভুত সামাজিক সমস্যার হ্রাস সাধন;
(খ) বিদেশ থেকে খাদ্য শস্য আমদানীর প্রয়োজনীয়তা দূরীভূত করে দেশকে মূল্যবান বিদেশী মুদ্রার অপচয় থেকে রক্ষা করা;
(গ) কৃষির উৎপাদন যথাসম্ভব বৃদ্ধি করে চাষীদের গড় আয় বৃদ্ধি করা— যাতে শহরের অধিবাসী ও পল্লীর অধিবাসীর মধ্যেকার আয়ের ব্যবধান হ্রাস পায়;
(ঘ) সনাতনী অবৈজ্ঞানিক কৃষিপদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক কৃষিপদ্ধতি প্রচলনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান;
(ঙ) পল্লী অঞ্চলে পজিবিনিয়োগ ও উদ্যমকে উৎসাহিত করা;
(চ) সংগঠনী ব্যবস্থার উন্নতি, গবেষণার সংযোগ সবিধা বৃদ্ধি গবেষণাফলের ব্যবহারিক প্রয়োগ, কৃষি উন্নয়নের উপযোগী আধুনিক শিক্ষা, উন্নয়নের সাষ্ঠ, পরিকল্পনা ইত্যাদি ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করা; এবং
(ছ) বিদেশী মদ্রা উপার্জনকারী ফসলের উৎপাদন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেটানোর জন্য কাঁচামাল উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি করা।
উল্লেখিত সকল পর্যায়ে পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যে কতকগুলো লক্ষ্য অনিবার্যভাবেই দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার এবং যথারীতিই সেগুলোর কাজ এগিয়ে চলেছে।
![]()
কৃষি গবেষণাগার, তেজগাঁও।
কৃষি কলেজ, তেজগাঁও।
| তেজগাঁও রিসার্চ ফার্মের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণার কাজ চলছে। | ||||
|
| ||||
|
| ||||
ভূমি-বণ্টন সংস্কার
কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির দিক থেকে ভূমি-ব্যবস্থার সংস্কার অনেককাল থেকেই একটি মৌলিক প্রয়োজন বলে গণ্য ছিল। এই সংস্কার ব্যাপারে পূর্ব পাকিস্তানই অগ্রণী হয়ে ১৯৫১ সালে আইন পাশ করে এবং ১৯৫৬ সালে তা কার্যকরী করে। বিপ্লবী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানেও এই অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার-কার্য সমাধা করেন। পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫১ সালের 'এষ্টেট এ্যাকুইজিশন' আইনটি সংশোধিত করে সর্বোচ্চ মালিকানার পরিমাণ ১১০ একরে আনা হয়। এতে চার লক্ষ একর জমি সরকার উদ্ধার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৬১-৬২ সালের মধ্যে ৩.৩ লক্ষ একর উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য সমস্ত জমির মালিক ও সরকারের মধ্যেকার মধ্যস্বত্ব সরকার নিজের আয়ত্তে এনেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের আইনে জমি একত্রীকরণের (Consolidation of holding) ধারাও আছে। এই ধারার প্রয়োগ দ্বারা জমির ক্ষতিকর খণ্ড বিখণ্ডকরণ প্রক্রিয়ার গতিরোধ করা সম্ভব হবে।
খাদ্য ও কৃষি কমিশন
কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির নানাবিধ সমস্যা সমাধানের পথা নির্দেশের জন্য বিপ্লবী সরকার ১৯৫৯ সালের মাঝামাঝি একটি 'খাদ্য ও কৃষি কমিশন' নিয়োগ করেন। বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংগঠন শাখার একজন বিশেষজ্ঞ এই কমিশনের উপদেষ্টা হিসাবে সাহায্য করেন। ১৯৬০ সালের শেষ দিকে এই কমিশন চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেন। সরকার এই রিপোর্টের অধিকাংশ সুপারিশই গ্রহণ এবং কার্যকরী করেছেন।
এই কমিশন সমস্যাটিকে পাঁচটি আঞ্চলিক ভাগে ভাগ করে বিচার করেছেন; যেমন, বর্তমান আবাদী জমি, নতুন কলোনী গঠনের জমি, গোচারণ জমি, পার্বত্য জমি এবং বিশিষ্ট জমি। পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বর্তমান আবাদী জমির বিবেচনাই সবচেয়ে বেশী বর্তমান আবাদী জমি অঞ্চলের জন্যে কমিশন দুই শ্রেণীর পদ্ধতিসমন্বয় অন,মোদন করেছেন—(ক) যে সব পদ্ধতি বর্তমান ভূমি ব্যবহার ধারাকে অব্যাহত রেখে অবলম্বন করা চলে, এবং (খ) যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ বর্তমান ভূমিব্যবহার ধারার পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। প্রথম শ্রেণীর পদ্ধতিসমন্বয়ে কমিশন পাঁচটি প্রয়োগের উল্লেখ করেছেন—উত্তমবীজ, কৃত্রিম সার, শস্যের প্রতিরক্ষা, উৎকৃষ্ট জমিকর্ষণ এবং স্বল্পমেয়াদী ও মাঝারীমেয়াদী ঋণ। এই পাঁচটি প্রয়োগকে “প্রথম পাঁচ” আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
(১) উত্তমবীজ—উত্তমবীজ প্রয়োগের তাৎপর্য হলো, প্রধানতঃ জমির উপযোগিতা অনসারে উৎকৃষ্ট ধরণের শস্য উৎপাদন।
(২) কৃত্রিম সার—পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্যে কৃত্রিম সারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানেও কয়েক বৎসরের মধ্যে কৃত্রিম সার ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুসন্ধান ও গবেষণায় জানা গেছে যে কৃত্রিম সার যথাযথ মাত্রায় প্রয়োগে ফসল গড়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে।
(৩) ফসল প্রতিরক্ষা (Plant protection)—কেন্দ্রীয় ফসল প্রতিরক্ষা বিভাগের অনসন্ধান ও জরিপ থেকে জানা গিয়েছে যে ফসল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ধান, ইক্ষু, তুলা, আলু ইত্যাদি ফসলের এক বিরাট অংশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। সেজন্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। ১৯৫৪-৫৫ সালে মাত্র দুই লক্ষ একর জমিতে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছিল সেস্থলে ১৯৫৯-৬০ সালে এই প্রতিরক্ষাপ্রাপ্ত জমির পরিমাণ ১৩ লক্ষ একরে দাঁড়ায়।
(৪) উৎকৃষ্ট জমিকর্ষণ—চলিত কৃষি পদ্ধতির অধীনেও উৎকৃষ্ট কর্ষণ ব্যবস্থা অবলম্বন করা যায়। এই ব্যবস্থায় বীজের জন্য জমির প্রস্তুতি, দুই ফসলের মধ্যবর্তী কালের প্রক্রিয়াদি এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সাধারণ কৌশল ও বৈজ্ঞানিক চাষপ্রণালী ধরা যেতে পারে।
(৫) স্বল্প ও মাঝারী ঋণ—আমাদের দেশে অধিকাংশ চাষীই অতি স্বল্প পরিমাণ জমির মালিক এবং সেজন্যই পাজিও তাদের নগণ্য। পাজির অভাবে চাষীরা নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে নতুন ব্যয়ের ঝাঁকি নিতে পারে না। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির পথে পাজির অভাব সেজন্যই একটি প্রধান অন্তরায়। ঋণদানের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
কমিশন বর্তমান ভূমিব্যবহারধারার পরিবর্তনসাপেক্ষ যেসব নতুন পদ্ধতির কথা বলেছেন, তার মধ্যে জমির একত্রীকরণ, উন্নত ধরণের চাষ, যন্ত্রের সাহায্যে চাষাবাদ, পানিসেচব্যবস্থা ইত্যাদি প্রধান।
ইতিপূর্বে আরোও বিশেষজ্ঞ কমিশন ও কমিটি কৃষির উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নানাপ্রকার সাপারিশ করেছিলেন; কিন্তু সংগঠনী ব্যবস্থার অভাবে অনেক সাপারিশই কার্যকরী করা সম্ভব হয়নি। সেজন্যেই এই কমিশন সুপারিশ করেছেন, যাতে দুই প্রদেশে দুটি স্বতন্ত্র কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন স্থাপন করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৬১ সালের নভেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন গঠিত হয়েছে।
ভূমি ব্যবহারধারা ও পরিবর্তন
দ্বিতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিব্যবহারধারা (Land use pattern) এরূপ:
| মোট আয়তন | ৩৫৪ | লক্ষ | একর |
| আবাদী জমি | ২২২ | ” | ” |
| বন | ৫৫ | ” | ” |
| চাষের অপ্রাপ্য জমি | ৫০ | ” | ” |
| অন্য অকর্ষিত জমি (চল্তি জমি ব্যতীত) |
২০ | ” | ” |
পূর্ব পাকিস্তানে এই ভূমিব্যবহারধারার পরিবর্তন করতে হলে অকর্ষিত জমি পুনরুদ্ধার এবং পানিসেচ সাহায্যে নতুন জমি চাষ ও পরোতন জমির উৎকর্ষ বৃদ্ধির ওপর প্রধানতঃ নির্ভর করতে হবে। পরিকল্পনায় দেখানো হয়েছে যে বিভিন্ন বড় সেচ পরিকল্পনার মাধ্যমে ২ লক্ষ ৩০ হাজার একর নতুন জমিতে ও ১১ লক্ষ ২৭ হাজার পুরাতন জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হবে। পরিকল্পনাগুলো সংশোধিত হওয়ার পরে অবশ্য এসব জমির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে।
সংশোধিত দ্বিতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনা ও কৃষি
দ্বিতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনা সংশোধিত হয়ে পুঁজি বিনিয়োগ ১৯০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০০ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে। এই সামগ্রিক বিনিয়োগের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সারাদেশে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এতে অবশ্য পানিসেচ ক্ষেত্রের বিনিয়োগ ধরা হয়নি। পানি ও বিজলী বাবদ আলাদাভাবে যে ৪৩৯ কোটি টাকার বরাদ্দ আছে, তার অধিকাংশই পানিসেচ পরিকল্পনা বাবদ ধরা যেতে পারে। যা হোক, কৃষির ৩৪২ কোটি টাকার ৯০.৫ কোটি বেসরকারী বিনিয়োগ বলে হিসাব করা হয়েছে; অবশিষ্ট ২৫১.৫ কোটি সরকারী বিনিয়োগ। এই সরকারী বিনিয়োগের ১১৬-৩ কোটি টাকা পূর্ব পাকিস্তানের জন্যে বরাদ্দ হয়েছে। প্রাদেশিক সরকার তাঁদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম মাধ্যমে ৯২.৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবেন এবং কেন্দ্রীয় সরকার ২৩.৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এই ২৩.৫ কোটি টাকার অন্তর্গত কতকগুলো পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে প্রদেশে হস্তান্তরিত হয়েছে ও হবে; তাই প্রাদেশিক বরাদ্দ আরোও বাড়বে। পরিকল্পনায় নির্ধারিত বরাদ্দ অনুসারে প্রাদেশিক সরকার যেসব বিভিন্ন ক্ষেত্রে প’জিবিনিয়োগ করবেন, সেগুলো নিম্নের তালিকায় দেওয়া হলো।
[ লক্ষ টাকার হিসাবে ]
১। কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন—
| (ক) কর্পোরেশন সংগঠন | ১০০০.০ | (গ) ফসল প্রতিরক্ষা | ১৮২.২০ |
| (খ) সার | ১৮০০.০ | (ঘ) বীজ প্রজনন ও বিতরণ | ১০০৭.০ |
মোট ৩৯৮৯.০ লক্ষ টাকা
২। সরকারী বিভাগের কার্যক্রম—
| (ক) যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৃষি | ৩৬২.৪ | (ঝ) মাটি সংরক্ষণ | ২৩.৪ |
| (খ) মাটি | ৩৫.০ | (ঞ) খাদ্যশস্যের গুদামব্যবস্থা | ৮২৭.২ |
| (গ) কৃষিগত অর্থ নীতি ও সংখ্যাতত্ত্ব | ১৮.৩ | (ট) কলোনী গঠন | ৫৯.০ |
| (ঘ) কৃষিদ্রব্যের বাজার | ৫.৯ | (ঠ) পশুপালন | ৪১৯.২ |
| (ঙ) কৃষিগবেষণার জমিপ্রয়োগ | ১২৫.৫০ | (ড) বনোন্নয়ন | ৭৪১.৪ |
| (চ) কৃষি গবেষণা | ১৩৯.৩ | (ঢ) মাছ | ২৫৮.২ |
| (ছ) কৃষি শিক্ষা | ১৭.৫ | (ণ) ভূমিব্যবস্থা সংস্কার | ৫২৮.০ |
| (জ) কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় | ৫২১.৬ | (ত) সমবায় ও কৃষি ঋণ | ৭৫.০ |
মোট ৩৬৫.০ লক্ষ টাকা
৩। আঞ্চলিক কার্যক্রম—
| (ক) অনুন্নত অঞ্চল | ১৮.০ | (খ) আদর্শ পরিকল্পনা | ৩৪৭.০ |
মোট ৩৬৫.০ লক্ষ টাকা
৪। নিয়াদী গণতন্ত্রের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়ন—৭৭০.০
সর্বমোট—৯২৮০.৬ লক্ষ টাকা
পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
ট্রক্টর দিয়ে জমি চাষ।
| হিমাগারে আলু সংরক্ষণের দৃশ্য। | |
| সার প্রয়োগে আলুর ফসলের উন্নতি। |
কর্পোরেশনের নিজস্ব বীজ প্রজনন ফার্মগুলোতে বীজ উৎপাদনের বার্ষিক লক্ষ্য এরুপঃ আউস ধান—৩৯,২০০ মণ, আমন ধান-৬২,৬০০ মণ, ইক্ষু— ১৮৭,১৭০ মণ, সরিষা—৩,৮৫০ মণ, গম—৫,৯১০ মণ, ডাল-৫,০৩২ মণ, আলু—৩০,২৫০ মণ, চিনাবাদাম-৪,৭৩০ মণ।
রেজেষ্ট্রি করা বীজ উৎপাদক চাষীদের সাহায্যে ১৯৬৩ সালের মধ্যে যে বীজ উৎপাদন আশা করা যায়, তা এইঃ ধান ১৭,৮০০ মণ পাট ৬,৩০০ মণ, কলা চারা ১২,৪৮৭,৫০০টি আনারস চারা ৩,৩৭৫,০০০টি।
১৯৬২ সালের জুলাই মাস থেকে কর্পোরেশনের সরবরাহ শাখা সার সংগ্রহ ও বিতরণের ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। এই চলতি বছর থেকে শুরু করে দ্বিতীয় পরিকল্পনা মেয়াদের অবশিষ্ট বৎসরগুলোতে যে পরিমাণ সার সংগ্রহ ও বিতরণের প্রস্তাব আছে তা নীচের তালিকায় দেওয়া হলো।
বিভিন্ন সার সংগ্রহ ও বিতরণের হিসাব
[টনের হিসাবে]
| বছর | ইউরিয়া | এমোনিয়াম সালফেট | ট্রিপল সুপার ফসফেট | মুরিয়েট অব পটাশ |
| ১৯৬২-৬৩ | ১,২৪,০০০ | ১৫,০০০ | — | — |
| ১৯৬৩-৬৪ | ১১৭,০০০ | ২৫,০০০ | ৩৬,০০০ | ৩৩,০০০ |
| ১৯৬৪-৬৫ | ১১৭,০০০ | ২০,০০০ | ৮০,০০০ | ৪০,০০০ |
ইউরিয়া প্রধানতঃ সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ কারখানা থেকে এবং অন্যান্য সার বিদেশ থেকে আমদানী মারফত সংগ্রহ করা হবে! উল্লিখিত সার বিতরণের সাহায্যে, আশা করা যায়, ১৯৬৪-৬৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন শস্যের নিম্নরূপ পরিমাণ জমি সার প্রয়োগের আওতায় আসবে, যথা—আউস ধান ২,০০৫,০০০ একর, আমন ধান ৩,৮৪১,২০০ একর, ইক্ষু ৪২৬,০০০ একর, বোরো ধান ৪১৮,০০০ একর, আলু ৩৩৪,০০০ একর, পাট ১০০,০০০ একর, তামাক ১৬৭,০০০ একর, চা ২৩৪,০০০ একর, সব্জী (প্রধানতঃ শীতকালের) ১৫৫,০০০ একর, গম ৪২,০০০ একর।
হিসাব করে দেখা গেছে যে তিন বছরের সার প্রয়োগের ফলে বর্ধিত উৎপাদনের মূল্য কমপক্ষে ৫৮ কোটি টাকা হতে পারে; অথচ এই উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার জন্যে সরকারী সাহায্য (Subsidy) সহ মোট ৩২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ সার প্রয়োগের নীট আয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে ১৯৬২-৬৩ সালে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার একর জমির ফসলকে ফসল প্রতি-রক্ষা ব্যবস্থার অধীনে আনা হবে এবং ১৮ লক্ষ ১৬ হাজার একর জমির বীজকে পোকার আক্রমণমুক্ত করা হবে
‘ফিল্ড' শাখা—কর্পোরেশনের 'ফিল্ড' শাখা নির্বাচিত এলাকার উন্নয়ন ও বিশিষ্ট ধরনের পরিকল্পনার কার্যকরীকরণ নিয়ে অগ্রসর হওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নির্বাচিত এলাকাতে ব্যাপক জরীপ ও অনুসন্ধান চালিয়ে সর্বাঙ্গীন কৃষি উন্নয়নের ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। অর্থাৎ কৃষির প্রয়োজনীয় সরবরাহ ছাড়া সক্রিয়ভাবে কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগগুলো যে কাজ করতো সে সবই সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হব এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে বাস্তবভাবে কার্যকরী করতে হবে। এই সব‘পরিকল্পনা অঞ্চলে' (Project areas) কর্পোরেশনের প্রথম কর্তব্য হবে 'প্রথম পাঁচ' পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তোলা; তারপরে পানি সরবরাহের যথাযথ ব্যবহার প্রচলন করা ও সমন্বয়ভুক্ত সার ব্যবহারকে জনপ্রিয় করা। চলতি পতিত ব্যব-স্থার উচ্ছেদ করে' জমিতে দুটি ফসল ও অনেকস্থলে তিনটি ফসল উৎপাদন-ব্যবস্থা কার্যকরী করতে হবে।
বিশিষ্ট ধরনের পরিকল্পনার মধ্যে যান্ত্রিক চাষাবাদ ও বৈদ্যুতিক পাম্প যোগে পানি-সেচ প্রধান। ট্রাক্টর যোগে জমির পুনরুদ্ধার ও যান্ত্রিক চাষ কতক অঞ্চলে বেশ উপযোগী। প্রদেশের বলদশক্তির অপ্রতুলতা ট্রাক্টর ব্যবহারের অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়তনের জমিতে ট্রাক্টব ব্যবহার অত্যন্ত সীমাবদ্ধ; কিন্তু সমবায় সমিতির মার-ফতে সমষ্টিভুক্ত চাষাবাদের জন্যে এর ব্যবহার যথেষ্ট আশাপ্রদ। কুমিল্লার পরীক্ষা এই আশার নির্দেশ দেয়। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশেষ করে পানি সেচের ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে চালু করা যেতে পারে। কর্পোরেশন পূর্বতন কৃষি বিভাগের যান্ত্রিক চাষাবাদ পরি-কল্পনাটি কার্যকরী করে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনার অধীনে ২১৩৬টি বৈদ্যুতিক পাম্প ও ২০০ ট্রাক্টর কর্পোরেশনের হাতে আসে। আরোও ২৮৩০টি পাম্প একই পরিকল্পনার অধীনে ১৯৬৪-৬৫ সালের মধ্যে আসবে বলে আশা করা যায়। তাছাড়া, কর্পোরেশন একটি নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে; তার অধীনে ৫০০০ পাম্প আমদানী করে' চাষীদের কাছে বিতরণ করা হবে এবং প্রয়োজনমত আরো ট্রাক্টরও আনা যেতে পারে। জাপানী পদ্ধতির চাষযন্ত্র (Tiller) আমদানী করে বিতরণ করার পরিকল্পনাও নতুন করে তৈরী হচ্ছে। তেমনি আবার ‘হাওর' অঞ্চলের উন্নয়ন সাধন করার জন্যে বিশেষ পরি-কল্পনা তৈরী করা হচ্ছে।
যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কৃষি উন্নয়নের প্রগতি নীচের তালিকাটি থেকে বোঝা যাবেঃ —
| ১৯৫৯-৬০ | ১৯৬০-৬১ | ১৯৬১-৬২ | |
| সরকার কর্তৃক ব্যবহৃত ট্রাক্টার (সংখ্যা) | ৬৬ | ৯২ | ১২৫ |
| পুনরদ্ধারিত জমি (একর) | ৭,৩০০ | ৯,০০০ | ৮,১০০ |
| ব্যবহৃত পাম্প (সংখ্যা) | ১,১৫০ | ১,৪০০ | ১,৫৩৫ |
| পাম্প পানি সেচ প্রাপ্য জমি (একর) | ৪৭,৪০০ | ৬২,০০০ | ৭৩,৯০০ |
কৃষি উৎপাদন ও পরিকল্পনার লক্ষ্য
পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা ও ঝড়ঝঞ্ঝায় ফসলের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ১৯৬২ সালের জুন-জুলাই মাসের বন্যার ফলে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের হিসাবে প্রায় ৭ লক্ষ টন আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। কতক অঞ্চলে অনাবৃষ্টির জন্যেও ফসলের কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। তাই চলতি ১৯৬২-৬৩ সালে খাদ্যের উৎপাদন পূর্ব পাকিস্তানে কম হয়েছে এবং বাজারে চাউলের মূল্য বৃদ্ধি স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকার সেই পরিস্থিতি মওজুদ চাউল এবং আমদানীকৃত গম বিতরণ করে' আয়ত্তে রেখেছেন। ১৯৬১-৬২ সাল পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উৎপাদন ক্ষেত্রে পরিকল্পনার বাস্তব লক্ষ্যসম,হের দিকে সাফল্যের সঙ্গেই অগ্রসর হচ্ছে। লক্ষ্যগুলোর তুলনায় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি নিম্নের তালিকাটিতে দেখানো হলোঃ
লক্ষ্যগুলোর তুলনায় ফসল
| শস্য | ১৯৫৯-৬০ | ১৯৬১-৬২ | বৃদ্ধি (শতকরা) |
পরিকল্পনা লক্ষ্য (শতকরা) |
| চাউল | ৮৪.৮ লক্ষ টন | ৯৪.৬ লক্ষ টন | ১১.৬ | ১৭ |
| ডাল | ১.৭ লক্ষ” টন” | ২.৩ লক্ষ” টন” | ১৯.৬ | ৩ |
| তৈল বীজ | ১.৮ লক্ষ” টন” | ১৯.৬ লক্ষ” টন” | ৭.৮ | ৪৫ |
| পাট | ৫৩.৬ লক্ষ বেল | ৬৯.৬ লক্ষ বেল | ২৯.৯ | ২২ |
| ইক্ষু | ৩৬.১ লক্ষ টন | ৪৪.২ লক্ষ টন | ২২.৩ | ৪২ |
| চা | ৫.৭ কোটি পাউণ্ড | ৫.৯ কোটি পাউণ্ড | ৩.১ | ১৮ |
| তামাক | ২৭.০ হাজার টন | ৩১.০ হাজার টন | ২২.২ | ১৪ |
বন্যা, অনাবৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে ধানের উৎপাদন কম হওয়ার জন্যে চাউলের মূল্য ১৯৬২ সালের শেষের দিকে বাড়তে শুরু করে; বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১৯৬৩ সালের চলতি সময়ে এই মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এই অবস্থার মোকাবিলার জন্য পূর্ব পাকিস্তান সরকার বিদেশ থেকে ৩৫০,০০০ টন চাউল আমদানীর অনুরোধ জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এই আমদানীর ব্যবস্থা করেছেন। বার্মা সর-কারের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের চুক্তি মোতাবেক ১৯৬২ সালে বার্মা পূর্ব পাকিস্তানে ২ লক্ষ টন চাউল সরবরাহ করে; এই পরিমাণের অতিরিক্ত আরো ৫০,০০০ টন চাউল সরবরাহ করার জন্যে পাকিস্তান সরকার অনুরোধ জানিয়েছেন। পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু অঞ্চল থেকেও ১০,০০০ টন চাউল সরবরাহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানে গমের ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়েছে ও হচ্ছে। খাদ্যরূপে গমের ব্যবহার ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল মাত্র ৩৭,০০০ টন; সে স্থলে ১৯৬১ সালে এই ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ১৪০,০০০ টনে।
কৃষি গবেষণা
কৃষির নানা সমস্যার সমাধানের জন্যে গবেষণার কার্যক্রম যথেষ্ট ব্যাপক। কেন্দ্রীয় সরকারই এই ব্যাপারে অগ্রনী। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যমে পাট, তুলা ও চা সম্পর্কিত গবেষণার প্রতিষ্ঠান পূর্ব পাকিস্তানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে কাজ করে যাচ্ছে।
এসব ছাড়া কীট পতঙ্গ ধ্বংসের পদ্ধতি, রেডিও আইসোটোপ প্রয়োগ, জীবতত্ব-মূলক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি গবেষণা ও নানা প্রকার জরীপ কেন্দ্রীয় সরকার করছেন। কৃষির সমস্যাদি সম্পর্কে অর্থনৈতিক অনুসন্ধান ও অধ্যয়নও কেন্দ্রীয় কৃষি গবেষণা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ![]()
পূর্ব পাকিস্তান ভেটারিনারী কলেজ—তেজগাঁও।
![]()
ইউনিয়ন কাউন্সিল পরিচালিত একটি পশু চিকিৎসালয়।
নীচে : চাঁদপুরে মৎস-শিল্প-গবেষণাগারের একটি দৃশ্য।
নীচে : খুলনার মৎস-সংরক্ষণ-কেন্দ্রে প্যাক করা মাছের বাক্স।
অন্যদিকে প্রাদেশিক সরকার বিভিন্ন জিনিষের বাজার জরীপ ও উপযোগী ব্যবস্থা অবলম্বনে মনোনিবেশ করেছেন। এসব জিনিষের মধ্যে মরিচ, তামাক, দুধ, দুধের প্রস্তুত জিনিষ, ডিম, আম, আনারস ও নানা জাতীয় বীজ উল্লেখযোগ্য। চামড়ার গণ বাড়াবার জন্যে ১৯৬১-৬২ সালে পাঁচ হাজারেরও বেশী প্রদর্শনমূলক কাজ চালানো হয়েছে; তেমনি পশম সংগ্রহের পদ্ধতিও প্রদর্শন করা হয়েছে। আবার অসংখ্য কসাই, চামড়া সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক সরকারের ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল ষ্ট্যাটিস্টিকস' ১৬টি জেলায় ১৪০০ গ্রামে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান প্রধান ফসলগুলো সম্পর্কে একটি নমুনা তদন্ত চালায়; এর তথ্য নানাপ্রকার গবেষণা কাজে সাহায্য করবে।
বনজ উৎপাদন
বনজ উন্নয়ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রগতি লাভ সম্ভব হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকে কাষ্ঠ আহরণ প্রতি বছর ২০,০০০ টন পরিমাণ বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির অধিকাংশই এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল থেকে। এ অঞ্চলে বনজ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার চট্টগ্রামে একটি বনজ গবেষণা লেবরেটরী স্থাপন করেছেন। ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার জন্যে অধনা পরিকল্পনাটিকে বিশেষভাবে পরিবর্ধিত করা হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান বনজ শিল্পোন্নয়ন কর্পোরেশন বনজ উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারে পরিকল্পনা ও এর কার্যক্রম ব্যবস্থাদি গ্রহণ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের লেবরেটরীর গবেষণা ফল থেকে কর্পোরেশনের উদ্যম আরোও শক্তিশালী হবে, আশা করা যায়।- ইতিমধ্যে এই কর্পোরেশন পার্বত্য চট্টগ্রামে রবার চাষের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন: আবার সিলেটের নল খাগড়াকে কাগজ তৈরীর কাজে লাগাবার পরিকল্পনাও কার্যকরী করতে যাচ্ছেন।
পশু পালন
পশু পালন ক্ষেত্রে গবাদি পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি ও পশ, সম্পদের উৎকর্ষ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পশরে ব্যাধি দূরীকরণের জন্যে এবং পশ,খাদ্যের উপযোগী গবেষণা ও সরবরাহ ব্যবস্থা করার নানা পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধৃত্ত কৃষিজাত দ্রব্য আমদানীর অন্তর্গত ভূট্টার সাহায্যে গবাদির নতুন পুষ্টিকর খাদ্য তৈরী ও বিতরণ ব্যবস্থা তার মধ্যে অন্যতম। পশম ও চামড়ার ‘গ্রেডিং' ব্যবস্থা পশু পালন ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। জাতিসংঘের 'ইউনিসেফের' (UNICEF) বিশেষজ্ঞ ও অর্থসাহায্যে সরকার প্রধান শহরগুলোতে দুধের ঘাটতি তদন্ত করে' স্থানীয় উদ্ধৃত্ত দুধ সংগ্রহ ও আমদানীকৃত দুধের পাউডার নিয়ে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে বিশুদ্ধ দুধ প্রস্তুত ও সরবরাহের জন্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার পরিকল্পনাটি অনেকদর অগ্রসর হয়েছে; কিছুকাল পরে চট্টগ্রাম শহরের পরিকল্পনা তৈরী হবে। ইতিমধ্যে সাভারের পশ, উন্নয়ন পরিকল্পনাটি দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে; এই পরিকল্পনার অধীনে ১৯৬১-৬২ সালে দুই লক্ষ পাউণ্ডেরও বেশী দুধ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এসব ছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার গবাদি পশুর উন্নয়ন এবং ব্যাধি দূরীকরণ ও ব্যাধি রোধের ক্ষেত্রে নানা প্রকার গবেষণা পরিচালনা ক'রে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছেন।
মাছের চাষ উন্নয়ন
বীজ মাছ উৎপাদন থেকে শুরু করে মাছের উৎপাদন-উৎসের সংস্কার, পরিকল্পিত উৎপাদন, সমবায় পদ্ধতি অনুসরণ, মাছের বাজার, মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও উৎপাদন সম্পর্কে গবেষণা ইত্যাদি নানা স্তরে অনেকগুলো পরিকল্পনা পূর্ব পাকিস্তানে অগ্রসর হচ্ছে। দ্বিতীয় পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম দুই বৎসরে ২২,০০০ একর পরিমাণ মাছ চাষের জলাশয় সংস্কার করা হয়েছে, ১০৫টি প্রদর্শনীকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, ১৭টি মাছ-বীজ প্রজনন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং ১ কোটি ৩০ লক্ষ মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে।
উন্নয়ন ব্যবস্থার জন্যেই দেশের আভ্যন্তরীণ ও সামদ্রিক মাছ উৎপাদন বেড়ে চলেছে। সমবায় পদ্ধতিতে জেলেদের সংগঠনকে পূর্ব পাকিস্তানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারী উদ্যমে সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। এই সময়ে সমিতিগুলোকে জাল, সুতা, নৌকা ধা লঞ্চ ইত্যাদি দিয়ে এবং অর্থ ঋণ দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে। মাছ ধরার জন্যে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। যন্ত্রচালিত নদীযান বা সমুদ্রযান তৈরী ও বিতরণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা-সমূহের অন্যতম। চাঁদপারে একটি মৎস্য-শিল্পের গবেষণাগার স্থাপিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে চট্টগ্রামে সামুদ্রিক মাছের গবেষণাগার স্থাপন করা হচ্ছে।
কৃষি ঋণ
চাষীরা বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ লাভ করে' পাজিরূপে ব্যবহার করে। এসব ঋণ স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী আখ্যা লাভ করে থাকে। এক বছর পর্যন্ত মেয়াদের ঋণকে স্বল্প মেয়াদী, ১৫ মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ঋণকে মধ্যম মেয়াদী এবং পাঁচ বছরের বেশী মেয়াদের ঋণকে দীর্ঘ মেয়াদী বলা হয়। চাষের জন্যে বীজ, সার ও শ্রমিক প্রয়োগ এবং সঙ্গে সঙ্গে চাষীর নিজের ও পরিবার পোষণের ব্যবস্থা না হলে চাষাবাদ সম্ভব হয় না এবং ফসল উৎপন্ন হলে বাজারজাত করে বিক্রয় না করা পর্যন্ত ঋণও শোধ দেওয়া সম্ভব নয়; তাই স্বল্পমেয়াদী ঋণের মারফতে বিপুল সংখ্যক চাষী এসব ব্যবস্থাদি করে থাকে। অন্যদিকে মধ্যমমেয়াদী ঋণের প্রয়োজন হয় উন্নত ধরনের লাঙ্গল, ট্রাকটার, পাম্প, কখনও বা বলদ ইত্যাদি ক্রয় করার জন্যে। দীর্ঘমেয়াদী ঋণের প্রয়োজন হয় দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কাজে প্রয়োগ করার জন্যে; চাষাবাদের ইউনিট যথেষ্ট বড় না হলে এই দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কাজে হাত দেওয়া সম্ভবপর হয় না। কাজেই ক্ষুদ্র জমির মালিক চাষীদের কাছে এই জাতীয় ঋণের তাৎপর্য তেমন কিছু নেই। চা বাগানের মালিকরা সাধারণতঃ এই দীর্ঘমেয়াদী ঋণের সংযোগ গ্রহণ করে' থাকে। ভবিষ্যতে রবার উৎপাদন বেসরকারী উদ্যোগে শুরু হলে এই ঋণের ব্যবহার প্রসারিত হবে। সমবায় সমিতি গঠন মাধ্যমে চাষাবাদের ইউনিট উপযোগী পরিমাণে বাড়াতে পারলেও এই ঋণের চাহিদা বাড়বে। বর্তমানে 'কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক' এবং সমবায় জমি বন্ধকী ব্যাংক দীর্ঘ-মেয়াদী ঋণের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। তবে প্রয়োজনীয় ঋণের খুব সামান্য অংশই এভাবে সরবরাহ হয়ে থাকে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সমবায় পদ্ধতির ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং সমবায় প্রতিষ্ঠান মারফতে ঋণ সরবরাহ ভবিষ্যতে বিশেষভাবে বাড়াবার নীতি অবলম্বন করছেন।
আদর্শ পরিকল্পনা (Cash Programme)
পূর্বে পাকিস্তানের জেলাসমূহের কতকগুলো নির্দিষ্ট মহকুমায় বিশিষ্ট ধরনের কেন্দ্রীভূত প্রচেষ্টা চালিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্যে একটি আদর্শ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ত্বরিত গতিতে বীজ, সার ও উন্নত প্রণালীর কৃষি-ব্যবস্থার প্রয়োগে উল্লেখযোগ্য ফল প্রদর্শন করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। সংকীর্ণ অর্থে কৃষি ছাড়াও পশু, পালন, মাছ চাষ উন্নয়ন ও বনজ উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই আদর্শ পরিকল্পনার অধীনে সরকারী উন্নয়ন প্রচেষ্টা চলে আসছে।
১০টি মহকুমায় ধান ও অন্যান্য খাদ্যশস্য এবং অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে শক্তিশালী অভিযান চালানো হয়। ১৯৬২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ২ লক্ষ ৯৭ হাজার মণ সার এবং প্রায় ৩৪ হাজার মণ বীজ এসব নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিতরণ করা হয়; তাছাড়া ৪০ হাজার একরেরও বেশী জমিকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। অন্য- দিকে এসব অঞ্চলে প্রায় ২২ হাজার প্রদর্শনী জমি ও ৩ হাজারের মতো প্রদর্শনী ফার্ম শহর করা হয়। এসব উদ্যমের ফলে রোপা আমন ধানের গড় উৎপাদন একর প্রতি ৩-৭ মণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিকল্পনাটি প্রথমে দুই বৎসরের জন্যে গৃহীত হয়েছিল। দুই বৎসরের প্রচেষ্টায় সফল দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এমনি ঘনীভূত চেষ্টা আরও কয়েক বৎসর না চালালে পূর্ণ পরিণতির সম্ভাবনা বোঝা যাবে না। তাই পূর্ব পাকিস্তান সরকার পরি-কল্পনাটিকে কিছুটা পরিবর্ধিত ও সংশোধিত আকারে চলতি বছর থেকে আরও দু' বছর কার্যকরী করার ব্যবস্থা অবলম্বন করেছেন। ![]()
ঢাকার সদরঘাটে নানারকম ফলের বাজার।
রিজিওনাল ইনফরমেশন অফিস,
গভর্ণমেণ্ট অব পাকিস্তান, ঢাকা
কর্তৃক প্রকাশিত।
এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।