প্রবাস-চিত্র/গুচ্ছপানি
গুচ্ছপানি।
বিজয়াদশমীর দিন ভ্রমণে বাহির হওয়া গেল। দুইটি বন্ধু এবার সঙ্গী। কন্কনে শীত, কিন্তু আমাদের উৎসাহ-বহ্নি সে শীতকে পরাক্রম প্রকাশ করিতে দেয় নাই। বাসা হইতে প্রত্যূষে বাহির হইবার সময়ে সকলেই স্নানের সরঞ্জাম সঙ্গে লইয়াছিলাম। নয়া পল্টনের মধ্য দিয়া আমরা চারি মাইল পথ পদব্রজে গেলাম, শেষে হিমালয় পর্ব্বতের এক ক্ষুদ্র শৃঙ্গে উপস্থিত হওয়া গেল। সহসা একটা প্রকাণ্ড মুক্ত প্রদেশ আমাদের সম্মুখে ফুটিয়া উঠিল। সূর্য্য তখন আকাশের অনেক দূর উঠিয়াছে, কিন্তু তখনও খুব কুয়াশা; কুয়াশায় দূরস্থ হরিৎ বৃক্ষরাজি ও অনুর্ব্বর ধূসর পর্ব্বতকায় এক হইয়া গিয়াছে; সব যেন ছায়ার মত। আমরা আর বেশী ক্ষণ সেখানে অপেক্ষা না করিয়া পর্ব্বতের গা বহিয়া প্রায় পাঁচ শত ফিট নীচে একটি ক্ষুদ্রকায় প্রখর নির্ঝরের কিনারায় আসিয়া উপস্থিত হইলাম। এই নির্ঝরের নাম ‘গুচ্ছপানি’। চারি পাঁচ হাত, প্রশস্ত একটি জলধারা পর্ব্বতগহ্বর হইতে বাহির হইয়া রমণীর কেশগুচ্ছের ন্যায় গিরি অঙ্গে ছড়াইয়া পড়িতেছে। অন্যান্য পর্ব্বতে চারি দিক হইতে পর্ব্বতের গাত্র বহিয়া হুহু করিয়া জল পড়ে, আর তাহাতেই ঝরণার জল বেশী রকম উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠে; ‘গুচ্ছপানি’ কিন্তু সেইরূপ নহে। পর্ব্বতের গাত্র হইতে অতি সামান্য জলই পড়িতেছে, কিন্তু বহুদূরস্থ পর্ব্বতগহ্বর হইতে একটা বৃহৎ জলধারা আসিতেছে। এই নির্ঝরের স্রোতের প্রতিকূলে যাওয়া বিশেষ কষ্টকর নয়; বেশ স্রোত আছে বটে কিন্তু একখানা যষ্টির সাহায্যে, শরীরে কিঞ্চিৎ শক্তি থাকিলে, উজানে যাওয়া যায়; কোথাও গভীর জল নাই। যষ্টির সাহায্যে আমরা একবারে পর্ব্বতের গাত্রে আসিয়া পড়িলাম। সেখানে দেখি, পর্ব্বতের মধ্য হইতে যে স্থান দিয়া জল আসিতেছে, তাহার মধ্যে প্রবেশ করা যায়। আমরা সেই অন্ধকার পথে প্রবেশ করিলাম। কোথাও হাঁটু জল, কোথাও তাহার অপেক্ষাও কম, কোথাও বা একটু বেশী; কিন্তু স্রোত ক্রমেই বেশী বলিয়া বোধ হইতে লাগিল। লাঠির সাহায্যে আমরা অগ্রসর হইতে লাগিলাম; আমাদের জুতা, জামা, গাত্রবস্ত্র, শুষ্কবস্ত্র, সমস্ত বোঁচকা বাধিয়া এক বন্ধু পৃষ্ঠদেশে লইলেন, অপর বন্ধুর হস্তে জলখাবার ও তৈলের শিশি; মস্তকের উপর সহস্র হস্ত উচ্চ পর্ব্বত; কোনও স্থানে মাথা নোয়াইয়া যাইতে হইতেছে, কোথাও বা সোজা হইয়া চলিতেছি। গহ্বরের মধ্যে যে খুব অন্ধকার, তাহা বলাই বাহুল্য; কিন্তু কিছু দূর অগ্রসর হইয়াই একটু আলো দেখা গেল। অতি সাবধানে অগ্রসর হইতেছিলাম, মাথা ও পা দুইই ঠিক্ রাখিয়া চলা দরকার; মাথা বেঠিক হইলে পাহাড়ে লাগিয়া তাহা চূর্ণ হইবার সম্ভাবনা, আর পা একটু পিছলাইয়া গেলে, স্রোতের টানে পাথরের উপর পড়িলে, শরীর চূর্ণ হইয়া যাইতে পারে। উপরে যে আলোকের কথা বলিয়াছি, তাহা ক্রমেই স্পষ্টতর হইতে লাগিল। শেষ কালে এমন একটি স্থানে পৌঁছান গেল, যেখানে মাথার উপর পর্ব্বতখণ্ড নাই; পর্ব্বত সেখানে কাটিয়া দুইভাগ হইয়া গিয়াছে; উচ্চতা প্রায় হাজার ফিট; ফাটলের বিস্তার মাথার নিকট বোধ হয় চারি পাঁচ হাতের অধিক হইবে না। তখন বেলা প্রায় দশটা, সুতরাং সূর্যকিরণ পশ্চিম দিকের পর্ব্বতের গাত্রে এক হাত আন্দাজ নামিয়াছিল, আর সেই জন্যই আমরা একটু বেশী আলো পাইতেছিলাম। আরও কিয়দ্দূর অগ্রসর হইয়া দেখি, সেখানে ফাঁক অনেক বেশী, কারণ উপর হইতে একখানি প্রকাণ্ড পাথর ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে, এবং তাহার নীচে দিয়া জল আসিতেছে; উপরে মুক্ত সূর্য্যালোক। আমরা বহু কষ্টে সেই ভাঙ্গা পাথরখানির উপরে উঠিলাম। কি সুন্দর স্থান! দুই পার্শ্বে দুইটি পর্ব্বত সরলভাবে দণ্ডায়মান, মধ্যে এক প্রস্তর সিংহাসন, আর তাহার পদধৌত করিয়া নির্ম্মল জলস্রোত ঝরঝর শব্দে প্রবাহিত! আমরা সেই স্থানে একটু বিশ্রাম করিয়া সেই ভগ্ন প্রস্তরখণ্ডের অপর পার্শ্ব দিয়া, আবার উজানে চলিতে লাগিলাম; হস্তে সেই দীর্ঘ যষ্টি। বলা বাহুল্য, আমরা উত্তর মুখেই অগ্রসর হইতেছিলাম। আমাদের পথ এখন ক্রমেই সঙ্কীর্ণ হইতেছিল, দুই জন মানুষ পাশাপাশি যাইতে পারে না; এক জন লোক দুই কনুই বিস্তার করিয়া দাঁড়াইলে কনুই দুই দিকের পাহাড় স্পর্শ করে। এদিকে প্রায় সর্ব্বত্রই এই প্রকার পরিসর। অদৃষ্টকে ধন্যবাদ দিই যে, আমার শরীরের পরিধি আর একটু বেশী বিস্তৃতি লাভ করে নাই, নতুবা এ দৃশ্য আমার নিকট চিরদিনের জন্য অদৃশ্য থাকিয়া যাইত। আরও কিছুদূর অগ্রসর হইয়া দেখি, সম্মুখে একটা জলপ্রপাত, ত্রিশ পঁয়ত্রিশ ফুট উচ্চ হইতে হু হু করিয়া জল পড়িতেছে। সে শব্দের বিরাম নাই; নিস্তব্ধ পর্ব্বতগহ্বরে সে শব্দ কত গম্ভীর, তাহা বচনাতীত। আমার মনে হইল যে, সংসারে দৈনন্দিন কাজ যেন বেশ শৃঙ্খলার সহিত সম্পন্ন হইতেছিল, কোথায়ও কিছুমাত্র অনিয়ম ছিল না, হঠাৎ কোথা হইতে যেন প্রলয়ের ঝটিকা উত্থিত হইয়া জগতের সমস্ত শৃঙ্খলা ভাঙ্গিয়া দিল, যত নিয়ম উল্টাইয়া দিল; তাহার পর গভীর বিক্রমের চিহ্ন ঘূর্ণমান ফেনপুঞ্জে ন্যস্ত করিয়া প্রবলবেগে কোথায় চলিয়া গেল। আমরা কতক ক্ষণ সেই স্থানে অপেক্ষা করিলাম। অগ্রসর হইবার আর কোন পথ আছে কি না, অনুসন্ধান করিতে করিতে জলপ্রপাতের পার্শ্বে পর্ব্বতগাত্রে একটি অপ্রশস্ত পথের রেখা দেখিতে পাইলাম। অতি কষ্টে সেই পথ দিয়া আবার অপর পার্শ্বের জলে অবতরণ করিলাম। একটু যাইয়া আর একটি জলপ্রপাত দেখিলাম; পূর্ব্বোক্ত উপায়ে সেটিও পার হইয়া গেলাম। কিন্তু তাহার পরে যেন অন্ধকার অধিক বলিয়া বোধ হইতে লাগিল; আর এতক্ষন পর্য্যন্ত স্রোতের প্রতিকূলে লম্ফ ঝম্প করিয়া আমরা ক্লান্তও হইয়া পড়িয়াছিলাম; নতুবা আমরা পর্ব্বতের অপর পার্শ্ব দিয়া বাহির হইতে পারিতাম।
যাহা হউক, আমরা কিছু পথ প্রত্যাবর্ত্তন করিয়া বিশ্রামের জন্য একটি সুন্দর স্থান মনোনীত করিলাম। সেই স্থানে শুষ্কবস্ত্র পরিধান করিয়া যৎকিঞ্চিৎ জলযোগ শেষ করা গেল। বন্ধুদ্বয় গল্প আরম্ভ করিয়া দিলেন। আমি সম্মুখে একটি সুন্দর গহ্বর দেখিয়াছিলাম; এখন ধীরে ধীরে সেই গহ্বরে প্রবেশ করিয়া মনের আনন্দে হস্তপদ বিস্তৃত করিয়া বিশ্রাম করিতে লাগিলাম, আর পৃথিবীর সহস্র কথা আমার সেই গহ্বরদ্বারে অবিশ্রান্ত উঁকি ঝুঁকি মারিতে লাগিল। এই প্রকারে প্রায় তিন ঘণ্টা কাটাইয়া বন্ধুদ্বয়ের নিকট ফিরিয়া আসিলাম। শুক বস্ত্র ত্যাগ করিয়া পুনরায় আর্দ্র বস্ত্র পরিধান করা গেল। তখন বেলা অধিক ছিল না। কাপড় জুতা সমস্ত বোঁচ্কা বাঁধিয়া একটি বন্ধু লাঠীর আগায় ঝুলাইয়া লইলেন। আমরা আবার জলে নামিলাম। সে দিনের সেই সুন্দর দৃশ্য এখনও আমার মনে আছে। আমার মনে হইল, যেন দুর্গা ঠাকুরাণী কৈলাসে যাইতেছেন, আর নদী ভৃঙ্গী বোচ্কা লাঠি লইয়া পশ্চাতে পশ্চাতে পর্ব্বতে আরোহণ করিতেছেন। সে দিন বিজয়াদশমী, সেই জন্যই বোধ হয় এই সাদৃশ্যটা হঠাৎ আমার মনে পড়িয়া গেল। সঙ্গে সঙ্গে মনে হইল, বাঙ্গালা দেশের গ্রামে গ্রামে, নগরে নগরে এই শুভ মুহূর্ত্তে কি আনন্দ-উৎসব চলিতেছে! গৃহে গৃহে প্রতিমাবরণের ধুম লাগিয়া গিয়াছে; সমস্ত বৎসরের আনন্দ আজ শেষ হইল, এত হাসি তামাসা, আমোদ আহ্লাদ উদ্যম উৎসাহ, বৎসরের মত অবসিত হইল ভাবিয়া সরলা বঙ্গললনা, আজ অশ্রুপূর্ণলোচনা। মাকে বিদায় দিতে ভক্তের হৃদয় বিদীর্ণপ্রায়, কঠোর কার্য্যক্ষেত্রে আবার সম্বৎসরের পর অশ্রান্ত সংগ্রামে প্রবৃত্ত হইতে হইবে ভাবিয়া বঙ্গযুবকগণ ম্রিয়মাণ। একে একে শ্যামল বঙ্গের নদীতীরে জনকোলাহল ও সহস্র সহস্র কৃষ্ণতার চক্ষুর আগ্রহপূর্ণ দৃষ্টির অবিরাম বর্ষণ মনে পড়িয়া গেল। কত দিন হইল, বিসর্জ্জনের সেই করুণ বাদ্যধ্বনি, সানাইয়ের সেই বিষণ্ণ রাগিণী শুনিয়াছি; আজ তাহারই দূর প্রতিধ্বনি বিস্মৃত স্বপ্নের শেষ আভাষের মত কর্ণে ধ্বনিত হইতে লাগিল।
যাহা হউক, এখন আসল কথা বলি। বিশেষ সাবধানে, অতি সন্তর্পণে, ধীরে ধীরে যষ্টির উপর ভর দিয়া প্রায় ৫টার সময়ে আমরা গুচ্ছপানি হইতে বাহির হইয়া আসিলাম। বাহির হইয়াও কিছু দূর স্রোতের সঙ্গে নিম্নাভিমুখে যাইয়া দেখি, আর এক দিক হইতে একটা ঝরণা আসিতেছে। আমাদের সেই ঝরণা উজাইয়া যাইবার সাধ হইল। সে দিকে মস্তকোপরি পর্ব্বত নাই, পথের পরিসরও বেশী, পঁচিশ ত্রিশ হাতের কম নহে। এক বন্ধু দুই ঝরণার সঙ্গমস্থলে উপবেশন করিলেন, তিনি আর আমাদের সঙ্গে জলে জলে বেড়াইতে সম্মত হইলেন না। আমরা দুই জনে অগ্রসর হইতে লাগিলাম; এ নির্ঝরটি বড়ই ভয়ানক; পরিসর বেশী বটে, কিন্তু জলরাশি বড় বড় প্রস্তরখণ্ডের উপর দিয়া বহিয়া আসিতেছে, সুতরাং ভয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত অধিক। একবার হঠাৎ পা পিছলাইয়া গেলে দশ হাত যাইতে না যাইতেই মস্তক একেবারে চূর্ণ হইয়া যাইতে পারে। যাহা হউক, আমরা অসীম সাহসে অগ্রসর হইতে লাগিলাম। অনেক দূর যাওয়া গেল, অবশেষে অত্যন্ত পরিশ্রান্ত হওয়ার উপরে উঠিয়া উপবেশন করিলাম। তখন সেই জলের মধ্য দিয়া পুনরার ভাটিতে যাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব বলিয়া বোধ হইল। শেষে শুনিয়াছিলাম, অত্যন্ত বলবান পাহাড়ী ব্যতীত অন্য কোন লোক কখনও ঐ রাস্তায় নামিতে সাহস করে নাই। আমরা একে দুর্ব্বল বাঙ্গালী, তাহাতে এই প্রকার পরিশ্রান্ত, এদিকেও বেলা প্রায় শেষ, চতুর্দ্দিকে ভয়ানক জঙ্গল; আমাদের মনে বড়ই ভয়ের সঞ্চার হইল। উপার চিন্তা করিতেছি, সহসা নিকটবর্ত্তী জঙ্গলে খস্ খস্ শব্দ শুনিয়া আমাদের দৃষ্টি সেই দিকে আকৃষ্ট হইল। দেখি, একটি পর্ব্বতীর স্ত্রীলোক জঙ্গল ঠেলিতে ঠেলিতে আমাদিগের দিকে আসিতেছে। আমরা তাহাকে আমাদের বিপদের কথা অবগত করাইলাম, এবং প্রত্যাশান্বিতভাবে অনেকক্ষণ তাহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিলাম; কিন্তু কোন উত্তরই পাওয়া গেল না। আমার বন্ধুটি পুনরার আমাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন; রমণী কোন উত্তর না দিয়া বিড় বিড় করিয়া মনে মনে কি বলিল। আমরা নিরুপায় দেখিয়া হাত পা নাড়িয়া ইসারায় ইঙ্গিতে পথের কথা জিজ্ঞাসা করিলাম। তখন সে অস্ফুটস্বরে জিজ্ঞাসা করিল, “কাঁহাসে আয়া?” “কিস্তেরে আয়া?” আমরা এক নিশ্বাসে সমস্ত বলিয়া ফেলিলাম। তখন সে বিস্ময়ের সঙ্গে বলিল, “বাঃ!” অর্থাৎ এই বীরোচিত অভিযান যেন আমাদের এই ক্ষীণ বাঙ্গালী বীর্য্যের পক্ষে খুব অতিরিক্ত। বলা বাহুল্য, তাহার কথায় আমাদের বিশেষ আনন্দ বোধ হইল; সে আমাদিগকে বলিল, ভাটীতে যাওয়া আমাদের সাধ্য নহে; তবে সে পর্ব্বতের উপর দিয়া একটি অরণ্যপথ দেখাইয়া দিতে পারে, সেই পথ দিয়া চলিয়া গেলে আমরা ঘুরিয়া ঘুরিয়া লোকালয়ে উপস্থিত হইতে পারিব। আমরা বাঙনিষ্পত্তি না করিয়া তাহার পশ্চাৎবর্ত্তী হইলাম; সে দুই হাতে জঙ্গল ঠেলিয়া অনায়াসে পাহাড়ে উঠিতে লাগিল। আমার সঙ্গীটি যদিও বাঙ্গালী, কিন্তু তিনি জন্মকাল হইতেই পাহাড়ে; কোন দিনই তিনি বাঙ্গালাদেশে দেখেন নাই, এমন কি, নৌকা নামক জলচর পদার্থ কোন দিন তাঁহার দৃষ্টিগোচরে আসে নাই। পাহাড় তাঁর আজন্মের পরিচিত স্থান, সুতরাং তিনিও বেশ জোরে চলিতে লাগিলেন। কিন্তু আমার সবে হাতে খড়ি আরম্ভ হইয়াছে। আজ এই কঠোর পরিশ্রমে আমি বেচারী মৃতপ্রায়; তাহার পর সেই জঙ্গল দুই পাশ হইতে গায়ে লাগিতেছে, কণ্টকের আঘাতে শরীর ক্ষত বিক্ষত হইতেছে, দুই এক স্থল হইতে রক্তপাতও হইল। আমার দুরবস্থা দর্শনে পথ-প্রদর্শিকা রমণী আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করিতে লাগিল। পথে চলিতে চলিতে আমার মনে ভারি একটা দার্শনিক তত্ত্বের উদয় হইয়াছিল; আমার মনে হইল, রমণীস্বভাবের কমনীয়তা ও বিশেষত্ব সর্ব্বত্রই প্রায় এক রকম; কোন পুরুষ পথ-প্রদর্শকের হস্তে পড়িলে আমার অবিমৃষ্যকারিতার জন্য আমাকে বেশ দুই চারিটা তিরস্কার সহ্য করিতে হইত, কিন্তু এই স্ত্রীলোকটি একবারও আমার উপর দোষারোপ করিল না, মায়ের মত যত্ন করিয়া আমাকে সঙ্গে লইয়া চলিল, এবং যে নির্ঝরের মুখে আমাদের বন্ধু অপেক্ষা করিতেছিলেন, সেই স্থানে পৌঁছাইয়া দিল। তাহার পর আমরা ধীরে সুস্থে সন্ধ্যার পর বাসায় উপস্থিত হইলাম।