বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রাণোচ্ছ্বাস/ধ্যান ও প্রার্থনা

উইকিসংকলন থেকে

ধ্যান ও প্রার্থনা।

(১)

প্রাণের মাঝারে দেখি, অপূর্ব্ব আলোক!
অমৃত-সমান-স্নিগ্ধ, তেজ অলৌকিক!
নয়ন মুদিলে দেখি, মেলিলে আঁধার!
আলোক-কিরণে দেখি সব একাকার!

(২)

একাকার দেখি আমি ভূলোক খলোক!
গলিত-রজত-মাখা এ বিশ্ব-সংসার!
রজত-সাগর-মাঝে বিলীন ত্রিলোক!
আমি নাই, তুমি নাই—আছে সারাৎসার!

(৩)

অদ্বৈত ভাবেতে মন বিগলিত হয়,
নাহি থাকে ভেদাভেদ, ব্যক্তিত্বের জ্ঞান!
আমি তুমি সব এক ব’লে জ্ঞান হয়,
অলৌকিক জ্ঞান আসি নাশয়ে অজ্ঞান।

(৪)

এ বিশ্ব-সংসার যেন এক পরিবার!
এক কর্ত্তা—এক রাজা হয় তথাকার!
আমরা সকলে যেন তাঁর পরিবার,
অভিন্ন তাঁহার সাথে—সব একাকার!

(৫)

ক্ষালিত কল্মুষজাল রজত-চ্ছটায়,
বিধৌত ধমনী সব বিদ্যুৎ-প্রবাহে,
অনন্ত-কালের পাপ তেজে দগ্ধ হয়!
মুকুর-সন্নিভু দেহ! প্রতিবিম্ব যাহে—

(৬)

পড়ে তাঁর যিনি নিত্য শুদ্ধ নিরঞ্জন;
অপূর্ব্ব স্বর্গীয় দেহ নেত্রসুখকর!
যে পেয়েছে সেই ধন্য জগৎ-নন্দন!
প্রণতি চরণে প্রভো! দেহ মোরে বর—

(৭)

ও চরণে রতি যেন সদা থাকে মোর!
সদা যেন ধ্যানে দেখি রজত-চরণ—
তব হে করুণাময়! মিনতি দাসের—
যেন মৃত্যুপরে পাই ও সাদা চরণ।

(৮)

আর কি চাহিব নাথ! কি আছে এমন—
অমূল্য অপূর্ব্ব দ্রব্য ত্রিজগৎ-মাঝে?
তুলনা নাহিক তার, নাহি উপমান,
অনুভবে বিদ্যমান ভক্ত-হৃদি-মাঝে।

(৯)

আর কি চাহিব নাথ?—দিয়াছ সকলি,
দিয়াছ সলিল নাথ! দিয়ছি পবন;
দিয়াছ আলোক দেব! দিয়াছ বিজলী—
জীবের জীবন-রূপ! দিয়াছ অশন—

(১০)

বসন ভূষণ সব, যা কিছু যে চাহে—
শস্য-ক্ষেত্র শস্যপূর্ণ বৃক্ষ ফলে ভরা!
খনি সব রত্নে পূর্ণ, সে পায় যে চাহে—
যাহা, বাঞ্ছাকল্পতরুকাছে প্রাণভরা!

(১১)

কিন্তু দাস নাহি মাগে তাহা, তুচ্ছ ধন!
সব বিনশ্বর, ক্ষণস্থায়ী, অদ্যতন!
শুদ্ধ স্থূল নহে, অতি সূক্ষ্ম ধন,
মাতৃ-স্নেহ পত্নী-প্রেম—তাও অকিঞ্চন—

(১২)

ক্ষণস্থায়ী—স্বার্থ-দিগ্ধ—সহজে ভঙ্গুর!
পুত্ত্র-কন্যা-স্নেহ? তাও কামনা-অঙ্কুর!
তব ও চরণ কিন্তু নিত্য চিরস্থায়ী,
তাই মাগে দাস এই এক ধন স্থায়ী!

সম্পূর্ণ।