প্রাণোচ্ছ্বাস/বিদায়
বিদায়।
(১)
প্রিয় সহোদর! তব হৃদয়-গগণে—
ছিনু একদিন আমি অকলঙ্ক চাঁদ!
কুটিল কালের গতি বুঝিব কেমনে?
হইনু এখন আমি সকলঙ্ক চাঁদ!
(২)
যা ছিনু তাহাই আছি; তবে কেন হেন
বিপরীত ভাব? কেন স্নেহের অভাব?
ক্ষণিক জগতে সব, জানিয়াও কেন—
সবে পড়ে স্নেহপাশে? অজ্ঞানের ভাব।
(৩)
থাকে স্নেহ যতক্ষণ, রঞ্জিত নয়নে—
দেখে লোকে; যেই সেই স্নেহ চলে যায়,
অরঞ্জিত দেখে সব! সকলি এক্ষণে—
আবৃত আঁধারে! শ্বেতে কৃষ্ণ জ্ঞান হয়!
(৪)
মায়াময় এ জগৎ। মায়ার ছলনে—
স্নেহ ভালবাসা সব! মায়ার অভাবে—
নিজ পর হয়! সেই মায়ার প্রভাবে
পর নিজ হয়! বদ্ধ প্রেমের বন্ধনে!
(৫)
দেখ! পরের দুহিতা প্রেমের বন্ধনে—
হয়, স্বামীর অধীন! প্রেমাভাব হ’লে—
সেই পতিগতপ্রাণা—মরে উদ্বন্ধনে!
প্রেমের অসাধ্য কিছু নাহি পৃথ্বীতলে!
(৬)
যতক্ষণ ভালবাসা, ততক্ষণ সব—
সুন্দর নির্মূল! হয় যেই স্নেহাভাব—
যাহাছিল এক দিন অকলঙ্ক চাঁদ,
দেখে বোধ হয় তাকে সকলঙ্ক চাঁদ!
(৭)
দোষ দিবনা তোমার—দোষ অদৃষ্টের!
দোষ আমার! নাহ’লে জানিয়া নশ্বর—
স্নেহ ভালবাসা—কেন পড়িলাম আমি—
স্নেহপাশে? ইচ্ছা তাঁর যিনি অন্তর্যামী!
(৮)
জেনেছি এখন তিনি বিনা গতি নাই—
তাই সব ছেড়ে করেছি এসঙ্কল্প এবে—
দৃঢ়,—যতদিন দেহে মম প্রাণ রবে,
জগৎ-ঈশ্বরে আমি ডাকিব সদাই!
(৯)
স্নেহ ভক্তি ভালবাসা, যা কিছু আমার—
আছয়ে অন্তরে, সব দিব উপহার—
চরণে তাঁহার; হব বিক্রীত চরণে
তাঁর, দিয়া আত্মবলি; কি ভয় মরণে—
(১০)
তার, যার চিত্ত নহে বদ্ধ মায়াপাশে?
মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা অতি ভার,
কিন্তু ছিঁড়িলে তাহায়, না থাকে কাহার—
মৃত্যুভয়! ধায় মন ঈশ্বর-সকাশে!
(১১)
(তাই) ছিঁড়িয়া বন্ধন এবে হয়েছি স্বাধীন,
ভগবানে চিত্ত মম করেছি অর্পণ;
ধর্ম্ম-পরায়ণ—নহে যমের অধীন—
পরহিতে করে যেই আত্ম-বিসর্জ্জন।
(১২)
দেহ সহোদর! মোরে বিদায় এখন;
যাই চলি যথা নিত্য—নর নারীগণ—
(তথা) পশুপক্ষিগণ করে হরি-গুণ-গান,
যথা—পাব আমি নিত্য—স্নেহ, প্রতিদান!