বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রাণোচ্ছ্বাস/বিশ্বনিন্দুকের প্রতি

উইকিসংকলন থেকে

বিশ্বনিন্দুকের প্রতি।

(১)

হে বিশ্বনিন্দুক! বল কি কাজ তোমার
এ সংসারে—মক্ষিকার বৃত্তি ভিন্ন আর?
মক্ষিকা যেমতি ক্ষত স্থান অন্বেষয়ে—
নিরন্তর, তেমতি গো তুমি যথা দিয়ে—

(২)

যাও, কেবল দেখ গো কার কোথা ক্ষত!
কোন্ পরিবারে কোন্ ব্যক্তিতে কি দোষ!
যথা ক্ষত নাই, তথা কর নব ক্ষত—
হুল ফুটাইয়া নিজে, মক্ষিকার মত!

(৩)

পরনিন্দা পরকুৎসা—যে দিন করিতে—
না পাও তুমি, সে দিন হজম না হয়—
অন্ন উদরে তোমার! নানা স্থান হ’তে—
তাই আহর বারতা নিন্দা-কুৎসা-ময়!

(৪)

কীটপুঞ্জ যথা চায় থাকিতে তথায়,
মলমূত্র লোক করে ত্যাগ যেথা, তুমি—
সেইরূপ ভালবাস থাকিতে তথায়,
যেথা পরনিন্দা-কুৎসা করে দুষ্টমতি!’

(৫)

তব হৃদয়-ভাণ্ডার নরক-সমান!
হয় পূরিত বিষেতে—মলমূত্র পূঁজে—
আহৃত করিছ যাহা প্রতি দেহ হ’তে,—
তথা প্রতি পরিবার হ’তে তুমি নিশিদিন!

(৬)

নরকের কীট তুমি অথবা হে কৃমি!
ঘৃণা-ন্যক্কার-জনক আকৃতি তোমার!
প্রকৃতিও ততোধিক! যার গৃহে তুমি—
কর পদার্পণ, নাহি নিস্তার তাহার!

(৭)

বন্ধুভাবে প্রবেশিয়ে, মমতা দেখায়ে
বাহির করিয়া লও, গৃহচ্ছিদ্র তার!
গোপনে রাখিবে বলি প্রতিশ্রুতি দিয়ে—
বাহির হইয়া কর প্রকাশ তাহার!

(৮)

সে গৃহের শন্তিভঙ্গ করিয়া আবার—
ঢোক গৃহান্তরে হায় বধিতে অপরে!
গাঢ় মৈত্রী দেখাইয়া, সকল তাহার—
বাহির করিয়া লও! ক্ষণকাল পরে—

(৯)

বাহির বাজারে কর সে গৃহ-বারতা!
এইরূপে প্রতিদিন ফের ঘরে ঘরে!
মজলিসে বড়ই নাম—সম্ভ্রম বীরতা—
আজ কাল তব, পাছে পাছে সবে ফিরে!

(১০)

কিছুদিন পরে সবে দেখে, গুপ্তকথা—
সকল গৃহের সব বাহিরে প্রকাশ!
কোন্ গৃহ ছিদ্রশূন্য? সর্ব্ব-গৃহ-কথা—
আজ বাজারে কথিত! সকলে হতাশ!

(১১)

প্রতিজনে প্রতিজন দেখে আপনার
প্রতিবিম্ব—অল্পভেদ! নিন্দুক আপন—
মুখ দেখে অন্য-মুখে! কাহারো নিস্তার—
নাহিক কাহারো হাতে! মহা-আন্দোলন—

(১২)

হইতে লাগিল হাটে! কার ছিদ্র বড়—
এই ল’য়ে মহাতর্ক উঠিল তথায়!
মেপে মেপে ঠিক্ করা হ’ল ছোট বড়,
বিশ্ব-নিন্দুকের ছিদ্র হ’ল সর্ব্ব-বড়!

(১৩)

অসতী বড়ই সতী দেখায় নিজকে―
জটিলা কুটিলা তার দৃষ্টান্ত গো হয়!
প্রকৃত সতীর কভু বড়াই না হয়,
প্রমাণ হইবে দেখে সাবিত্রী সীতাকে!

(১৪)

যার গৃহে ছিদ্র বড়, পর ছিদ্র ল’য়ে—
আন্দোলন তার তত! ঢাকিতে আপন—
ছিদ্র, পরচ্ছিদ্র মূঢ় করে অন্বেষণ—
নিরন্তর! বৃথা কার্য্যে বেড়ায় বেড়িয়ে!

(১৫)

দেখায়ে পরের ছিদ্র নিরন্তর ফেরে
দ্বারে দ্বারে, সকলের ঘৃণা পাত্ত্র হ’য়ে!
নিন্দা বটে শুনে সবে প্রফুল্ল অন্তরে,
(কিন্তু) নিন্দুককে ঘৃণা করে নিন্দিতের চেয়ে!

(১৬)

হে বিশ্বনিন্দুক! তাই বলি উপদেশ,
পরচ্ছিদ্র-অন্বেষণে বৃথা কেন ক্লেশ—
করিয়া বেড়াও তুমি হায় অকারণ!
আপন ঘরের ছিদ্র কর সংশোধন।

(১৭)

পাপপুণ্যময় নর, পাপ শূন্য নয়!
পাপের অধিক মাত্রা হইলে তাহায়—
বলে গো সকলে পাপী! মাত্রা কমাইতে,
কর চেষ্টা নিরন্তর! পরের কথাতে—

(১৮)

কি কাজ তোমার? পরনিন্দা মহাপাপ—
কথিত শাস্ত্রেতে! তাই বলি ছাড় তাহা!
সবে মিত্র হবে! ন’লে পাবে মনস্তাপ,
সর্ব্ব-মিত্র হ’লে তুমি পাবে সুখ মহা!