বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রেম-পাগলিনী/তৃতীয় পরিচ্ছেদ

​

তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

 যখন আমি থানায় ফিরিয়া আসিলান, তখন রাত্রি দশটা বাজিয়া গিয়াছে। প্রৌঢ়ার মুখে পূর্ব্বেই মহম্মদের ভগ্নীপতির নাম ধাম শুনিয়াছিলাম। কিন্তু সেইরাত্রে বরাহনগরে গিয়া বিবাহ-বাড়ীতে উৎপাত করা যুক্তিসিদ্ধ নহে মনে করিয়া, আমি বিশ্রাম করিতে গেলাম।

 পরদিন প্রত্যূষে প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিয়া একজন কনষ্টেবলকে একখনি গাড়ী ডাকিয়া আনিতে আদেশ করিলাম। গাড়ী আনীত হইলে তাহাতে আরোহণ করিয়া কোচমানকে যথাস্থানে যাইতে বলিলাম।

 বেলা ৯টার কিছু পূর্ব্বে সেখানে গিয়া উপস্থিত হইলাম। মহম্মদের অবস্থা ভাল না হইলেও তাহার ভগ্নীপতিকে ধনকান ​বলিয়া বোধ হইল। তাহার বাড়ীখানি পাকা—নিতান্ত ক্ষুদ্র নহে এবং দ্বিতল। সম্ভবতঃ সেই বিবাহ উপলক্ষে বাড়ীখানি ভাল করিয়া সংস্কার করা হইয়াছিল। দূর হইতে বাড়ীখানিকে দেখিলে একখানি ছবি বলিয়া বোধ হয়।

 বাড়ীর সদর দরজায় দুইজন দরোয়ান উত্তম বেশ-ভূষায় সজ্জিত হইয়া অপেক্ষা করিতেছিল, আমাকে দেখিয়া দুইজনেই সেলাম করিল। প্রতি-নমস্কার করিয়া আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “মুনসী আবদুল সাদেক কোথায় আছেন?”

 আবদুল সাদেকের নামটী উচ্চারিত হইবামাত্র একজন দরোরান শশব্যস্তে আমাকে লইয়া উপরের বৈঠকখানায় প্রবেশ করিল এবং একজন সম্ভ্রান্ত তদ্রলোককে প্রদর্শন করিয়া আমাকে সেই স্থানে উপবেশন করিতে অনুরোধ করতঃ তথা হইতে প্রস্থান করিল।

 আমি দেখিলাম, ঘরটী ক্ষুদ্র হইলেও বাদসাহীধরণে সজ্জিত। ঘরের মধ্যে ঢালা বিছানা। বিছানার চারিপার্শ্বে আটটী মোটাসোটা তাকিয়া। চারিটী দেওয়ালে কতকগুলি দেয়ালগিরি, উপরে তিনটী বড় বেলোয়ারী ঝাড়। ঘরের একপার্শ্বে একখানা বড় আয়না—আয়নার উপরে একটা প্রকাণ্ড ঘড়ী। অপর পার্শ্বে একটা দেরাজ, একটা আলমারি ও গোটাকতক সেল্‌ফ ছিল।

 আমি যখন বৈঠকখানার ভিতর প্রবেশ করিলাম, তখন দুইজন লোক গোপনে কি কথাবার্ত্তা কহিতেছিলেন। কিছুক্ষণ পরে যখন তাহাদের মধ্যে একজন অপরের নিকট বিদায় লইয়া প্রস্থান করিলেন, তখন অপর ব্যক্তি আমার দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহাশয়, এখানে কাহার অন্বেষণে আসিয়াছেন?”

​ পরে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করিয়াই ঈষৎ হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “এ বিবাহ বাড়ী - আমোদ প্রমোদের জায়গা; এখানে আপনি কেন?”

 আমি হাসিয়া বলিলাম, “মুনসী আবদুল সাদেক কোথার আছেন? আমি তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছি।”

 আমার কথা শুনিয়া তিনি আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন। পরে উত্তর করিলেন, “আমারই নাম আবদুল সাদেক। কন্যার বিবাহ দিতে বসিয়াছি —এমন কোন অন্যায় কার্য্য করি নাই, যাহাতে আমার বাড়ীতে আপনাদের মত লোকের শুভাগমন হইতে পারে।

 আ। মলঙ্গায় মহম্মদ নামে আপনার কোন আত্মীয় বাস করেন?

 আব। আজ্ঞে হাঁ - আমার শ্যালক।

 আ। তাহার অবস্থ। কেমন?

 আব। বড় ভাল নয়।

 আ। কাল তিনি আপনার বাড়ীতে নিমন্ত্রণ রক্ষার্থ আসিয়া ছিলেন কি?

 আব। আজ্ঞে হাঁ—কেন?

 আ। খুব সম্ভর তাঁহার বিষপানে মৃত্যু হইরাছে।

 মুখ হইতে কথাগুলি নির্গত হইবামাত্র আবদুল সাদেক স্তম্ভিত হইলেন। তিনি চীৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “সে কি! কাল বেলা তিনটার সময় তিনি আহারাদি করিয়া বাড়ীর দিকে গিয়াছিলেন। কি রকমে তাঁহার মৃত্যু হইল?

 আ। প্রকৃত ব্যাপার এখনও জানা যায় নাই। তবে বোধ হয়, তিনি বিষপানে মারা পড়িয়াছেন।

​ আব। কে বিষ দিল?

 আ। কেমন করিয়া জানিব? তাহারই সন্ধান করিতেছি। আপনার বাড়ীতে কল্য কত লোক আহার করিয়াছিল?

 আব। প্রায় চারিশত।

 আ। সকলেই কি একই প্রকার খাদ্যদ্রব্য ভোজন করিয়াছিলেন?

 আব। আজ্ঞে হাঁ।

 আ। আপনার পরিচিত আর কোন লোকের কোন প্রকার অসুখের কথা শুনিয়াছেন?

 আব। আজ্ঞে না। ইচ্ছা করেন আপনি স্বয়ং তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিতে পারেন। নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণের মধ্যে প্রায় সিকি লোক আমাদের পল্লীতেই বাস করেন।

 আবদুল সাদেকের কথা শুনিয়া আমি কোন উত্তর করিবার পূর্ব্বেই উপস্থিত কয়েকজন লোক হাসিয়া উঠিলেন। তাহাদের মধ্যে একজন বলিলেন, “বলেন কি মহাশয়! আবদুল ধনবান নহে বটে কিন্তু গতকল্য যে সকল খাদ্য প্রস্তুত হইয়াছিল, তাহা অনেক রাজা মহারাজার বাড়ীতেও হয় কি না সন্দেহ।”

 আর একজন বলিলেন, “এই ত ঘৃত আজ-কাল অত্যন্ত মহার্ঘ্য, কিন্তু তাহা হইলেও ইনি যে ঘত ব্যবহার করিয়াছেন, তাহার মূল্য প্রতি মন ষাইট টাকা। যিনিই বলুন, আজ-কালের বাজারে দেড় টাকা সেরের ঘৃত দিয়া দ্রব্যাদি প্রস্তুত করিতে পারেন না।”

 আর একজন বলিলেন, “আরে রেখে দাও বড়লোক। ধৃতের গন্ধে বাড়ীতে প্রবেশ করা দায়। এ সে জায়গা নয়।”

 শেষোক্ত তিন ব্যক্তি যেরূপ ব্যগ্রতা সহকারে ঐ কথাগুলি ​বলিলেন, তাহাতে আমি স্পষ্টই বুঝিতে পারিলাম যে, তাঁহারাও পূর্ব্বদিন সেইস্থানে নিমন্ত্রিত হইয়াছিলেন এবং নিশ্চয়ই পরম পরিতৃপ্তির সহিত আহার করিয়াছেন। কিন্তু তাহা হইলেও জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনারাও ত সেই সকল দ্রব্য ভোজন করিয়াছেন?”

 প্রথমোক্ত ব্যক্তি হাসিতে হাসিতে উত্তর করিলেন, “সে কথা কি আর জিজ্ঞাসা করিতে হয়? যখন খাবারের এত সুখ্যাতি করিতেছি, তখন আমরা যে নিমন্ত্রিত হইয়াছিলাম এবং পরিতোষ সহকারে ভক্ষণ করিয়াছি, তাহা বলা বাহুল্যমাত্র।”

 আমি বলিলাম, “হাসি তামাসার কথা নয়। বাস্তবিকই মহম্মদের মৃত্যু হইয়াছে এবং আমি তাহারই তদ্বির করিতে আসিয়াছি।”

 আমার কথায় সকলেই মলিন হইয়া গেলেন দেখিয়া, আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম, “সত্য করিয়া বলুন দেখি, আপনারা কোন প্রকার অসুখ বোধ করিতেছেন কি না?”

 সকলেই গম্ভীর ভাবে উত্তর করিলেন, “আজ্ঞে না মহাশয়! যদি তাহা হইত, তাহা হইলে কি আজ আবার আহার করিতে আসিতে পারিতাম?”

 কথাটা যুক্তিসিদ্ধ। শারীরিক ব্যাধি থাকিলে, শরীর অসুস্থ হইলে রাজভোগও ভাল লাগে না। আবার ক্ষুধা থাকিলে শাকান্নও সুধাসম জ্ঞান হইয়া থাকে। কি করিব কিছুই স্থির করিতে না পারিয়া আমি সেই স্থানে বসিয়া চিত্ত করিতে লাগিলাম। কিছুক্ষণ পরে মুনসী আবদুল সাদেককে জিজ্ঞাসা করিলাম, “মহাশয়! কাল যে সকল পরার্থ আপনার নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ আহার করিয়াছিলেন, ​তাহার মধ্যে যেগুলি এ বাড়ীতে প্রস্তুত হইয়াছিল, তাহার কিছু কিছু অবশিষ্ট আছে কি?”

 আব। কেন? থাকিতে পারে বোধ হয়।

 আ। সেগুলি পরীক্ষা করিব।

 আব। এতগুলি নিমন্ত্রিত লোকের কথায়ও বিশ্বাস হইল না?

 আমি কোন উত্তর করিলাম না। আবদুল আন্তরিক বিরক্ত হইলেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, “খাবারগুলি পরীক্ষা না করিলে আর আপনার সন্দেহ ঘুচিবে না?”

 আমি গম্ভীর অথচ কর্কশভাবে বলিলাম, “আমার কার্য্য আমি বুঝি। যদি আমার কথার উত্তর দিতে আপনাদের কষ্ট হয়, পরি স্কার বলুন, আমি অন্য উপায়ে ঐ সকল সংবাদ সংগ্রহ করিব।”

 আমার কথায় উপস্থিত ব্যক্তিগণের অত্যন্ত ভয় হইল। তাঁহারা তখন সকলেই আমার তোষামোদ করিতে আরম্ভ করিলেন। কিন্তু আমি সহজে ভুলিবার পাত্র নয়। কার্য্যসিদ্ধ হইয়াছে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কাল যে যে থাবার আপনার বাড়ীতে প্রস্তুত হইয়াছিল, এবং যাহা নিমন্ত্রিত লোকমাত্রেই আহার করিয়াছিলেন, তাহার কিছু কিছু অবশিষ্ট আছে কি?”

 আবদুল সাদেক শশব্যস্তে আমার নিকট আসিয়া বলিলেন, “ঠিক বলিতে পারিলাম না—যদি অনুমতি করেন, তাহা হইলে একবার জিজ্ঞাসা করিয়া আসি।”

 আমি সানন্দে তাঁহার অনুরোধ রক্ষা করিলাম। তিনিও তখনই বাড়ীর ভিতর গমন করিলেন, এবং সত্বর ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন, “আজ্ঞে হাঁ- কিছু কিছু সকলেরই অবশিষ্ট আছে। কিন্তু একথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন কেন?”

​ আ। কেন? খাবারগুলি সরকারি ডাক্তারের দ্বারা পরীক্ষা করাইতে হইবে।

 আব। তাহাতে কি হইবে?

 আ। উহাতে কোন প্রকার দূষিত পদার্থ মিশ্রিত আছে কি না জানিতে পারা যাইবে। যদি কিছু থাকে, তাহা হইলে বোঝা যাইবে যে, মহম্মদ সেই বিষমিশ্রিত দ্রব্য ভক্ষণ করিয়াই ইহধাম ত্যাগ করিয়াছে।

 আমার শেষ কথাগুলি আবদুলের বড় ভাল লাগিল না। তিনি আন্তরিক বিরক্ত হইলেন। কিন্তু তখন সাহস করিয়। কোন কথা বলিতে পারিলেন না। কিছুক্ষণ পরে আত্মসংবরণ করিয়া অতি বিনীতভাবে বলিলেন, “তাহাই বা কিরূপে সম্ভব হইতে পারে? যদি মহম্মদ আহার করিবার পর কোন দ্রব্যে সর্প বা কেনি বিষাক্ত জীব মুখ দিয়া থাকে, তাহা হইলে আপনারা কেমন করিয়া জানিবেন, কোন্ বিষে মহম্মদের মৃত্যু হইয়াছে।

 আমি ঈষৎ হাসিয়া বলিলাম, আপনার কথা সম্পূর্ণ সত্য। কিন্তু ইহাও বেশ জানি যে, বক্রী খাদ্য নিশ্চয়ই উত্তমরূপে আবৃত রাখা হইয়াছিল। বিশেষতঃ আপনি যখন মুসলমান, তখন তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।

 মুনসী আবদুল সাদেক আমার কথায় আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন। পরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেন? হিন্দু হইলে সন্দেহ হইত কেন?

 আমি হাসিয়া উত্তর করিলাম, কথায় বলে, আপনারা নবাবের জাতি; অতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আপনাদের সকল কার্য্যই অতি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদিত হইয়া থাকে।”

 আমার কথায় তিনি বিশেষ প্রীত হইলেন, পরে ঈষৎ হাসিতে ​হাসিতে বলিলেন, “আপনার অনুমান সম্পূর্ণ সত্য। খাবারগুলি নিশ্চয়ই আবৃত ছিল। পরীক্ষা করিয়া যে কোন প্রকার অস্বাস্থ্যকর পদার্থ বাহির করিতে পারিবেন, এমত বোধ হয় না।”

 আমিও হাসিয়া বলিলাম, না পারিলেই ভাল। আমার এমন ইচ্ছা নহে যে ঐ সকল খাবারের ভিতরেই বিষ আছে ইহা প্রমাণিত হয়। যে কার্য্যের সন্ধানের ভার আমাদের হস্তে পতিত হয়— আমরা সেই কার্য্যের জন্যই দায়ী। সেই জন্যই সকল দিক দেখিয়া আমাদিগকে কার্য্য করিতে হয়। আপনার শ্যালক মহম্মদ যে ভাবে কাল এখান হইতে বাড়ী ফিরিয়া গিয়াছিল এবং অর্দ্ধ ঘণ্টার মধ্যেই যেরূপ গোঁ গোঁ শব্দ করিতেছিল,—মুখ দিয় ফেনা নির্গত হইতেছিল, তাহাতে সে যে বিষপানে মারা পড়িয়াছে, তাহা স্পষ্টই বুঝিতে পারা যায়। আর যখন সে এখানে নিমন্ত্রণ রক্ষা করিয়া গিয়াই ঐরূপ করিতে করিতে মারা পড়িয়াছে, তখন আপনার বাড়ীর খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণ করিয়াই যে তাহার ঐ দশা ঘটিয়াছে, একথা কে না বলিবে? আপনার মনে যাহাই কেন হউক না, মামাদের কর্ত্তব্য আমরা করিবই।”

 আবদুল জিজ্ঞাসা করিলেন, “কিছু খাদ্য আনিয়া দিব কি?”

 আমি হৃষ্টচিত্তে সম্মতিসূচক উত্তর প্রদান করিলাম। তিনি পুনরায় ভিতরে প্রস্থান করিলেন, এবং কিছুক্ষণ পরে একজন ভৃত্যের সহিত আমার নিকট আগমন করিলেন। ভৃত্য একখানি বড় থালে করিয়া কতকগুলি উপাদেয় খাদ্য-সামগ্রী লইয়া আসিল।

 ভৃত্য খাদ্যদ্রব্যপূর্ণ সেই থালখানি আমার সন্মুখে রাখিয়া প্রস্থান করিলে পর, আবদুল সাদেক অভি বিনীতভাবে বলিলেন, “একটী অনুরোধ করিব কি?”

​ আ। কি বলুন?

 আব। যদি খাবারের ভিতর বিষ না থাকে, তাহা হইলে ঐগুলি আপনাদের সাহেবকে ভোজন করিতে দিবেন কি? আপনি হিন্দু—অবশ্য এ সকল খাদ্য-সামগ্রী আপনার অখাদ্য, হয়ত অস্পৃশ্য।

 আমি হাসিয়া বলিলাম, “আজ্ঞে না, অখাদ্য বলিবেন না। এ সকল অতি উপাদেয় খাদ্য—কথায় বলে, নবাবীখানা। তবে আমরা হিন্দু—সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জাতি, সেই কারণেই আপনাদের সৃষ্ট খাবার আমরা ভক্ষণ করি না। বোধ হয়, আপনারাও আমাদের স্পষ্টদ্রব্য ভোজন করেন না।”

 এইরূপ আরও দুই চারিটা কথাবার্ত্তার পর আমি সেখান হইতে বিদায় লইলাম। কিন্তু যতক্ষণ না আমি সেই খাদ্যদ্রব্যগুলি আমাদের সাহেবকে দিতে স্বীকৃত হইলাম, ততক্ষণ তিনি আমাকে ছাড়িয়া দিলেন না।

 আবদুল সাদেক অতি ভদ্রলোক। পাছে আমার কষ্ট হয়, এইজন্য তিনি একখানি গাড়ী যোগাড় করিয়া দিলেন। আমি অগ্রে খাদ্য-সামগ্রীগুলি তাহাতে রাখাইয়া নিজে শকটারোহণ করিলাম এবং যথাসময়ে সরকারি ডাক্তারখানায় উপস্থিত হইয়া গাড়ী ছাড়িয়া দিলাম।