বঙ্গবিজেতা/দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ – ব্রতাবলম্বিনী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


SHE stole along, she nothing spoke,
The sighs she heaved were soft and low.
And naught was green upon the oak,
But moss and rarest mistletoe:
She kneels beneath the huge oak tree,
And in silence prayeth she.               —Coleridge.

রজনী প্রায় এক প্রহর হইয়াছে। আজি শুক্লপক্ষের চতুর্দ্দশী; কিন্তু মেঘে আকাশ আচ্ছন্ন; ক্ষেত্র, গ্রাম, অটবী অন্ধকারে আচ্ছন্ন রহিয়াছে। খদ্যোৎমালা বৃক্ষলতাদির নিবিড় অন্ধকার রঞ্জিত করিতেছে। ইচ্ছামতী নদী বিপুলকায়া হইয়া তরঙ্গমালায় প্রবাহিত হইতেছে ও সেই তরঙ্গমালা নিশাবায়ুযোগে অধিকতর উচ্ছ্বাসিত হইতেছে। নিবিড় নিকুঞ্জবনের ভিতর দিয়া স্বন্ স্বন্ শব্দে বায়ু প্রধাবিত হইতেছে, বায়ুর শব্দ ও তরঙ্গের শব্দ ভিন্ন আর কিছুই কর্ণগোচর হইতেছে না। সমগ্র জগৎ সুপ্ত।

এই প্রকার গভীর অন্ধকারে, এই শীতবায়ুতে একাকিনী কোন্ শুভ্রবসনা নদীজলে অবগাহন করিতেছেন? ইনি ব্রতাবলম্বিনী! অন্ধকারে ইঁহার শুভ্র বসন ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাইতেছে না। স্নানান্তর বনপুষ্প চয়ন করিতে লাগিলেন, পরে নিকটবর্ত্তী এক পুরাতন বটবৃক্ষতলে এক শিবমন্দিরে প্রবেশ করিয়া কবাট রুদ্ধ করিলেন।

মন্দিরের ভিতর একটী অল্পায়ত শ্বেতপ্রস্তরনির্ম্মিত শিব-প্রতিমা ও একটী প্রদীপ ভিন্ন আর কিছুই ছিল না; সেই প্রদীপের জ্যোতিঃ রমণীর অবয়বে ও শুভ্র বসনে পতিত হইতে লাগিল। রমণী অনেককাল যৌবনাবস্থা অতিক্রম করিয়াছেন; বয়ঃক্রম চত্বারিংশৎ বর্ষের অধিক হইবে, শীর্ণ কলেবর ও দুই একটী শুভ্র কেশ দেখিলে হঠাৎ পঞ্চাশৎ বর্ষেরও অধিক বোধ হয়। শরীর শীর্ণ, দীর্ঘায়ত, অথচ কোমলতাশূন্য নহে। ললাট উচ্চ ও প্রশস্ত, কিন্তু চিন্তারেখায় গভীরাঙ্কিত। গুচ্ছ গুচ্ছ শ্বেত-কৃষ্ণ কেশরাশি কপোলে, হৃদয়ে ও গণ্ডে লম্বিত রহিয়াছে। নয়নে যে সমুজ্জ্বলতা, তাহা প্রায় নবীনার নয়নেও দেখা যায় না, কিন্তু সে যৌবনের সমুজ্জ্বলতা নহে, হৃদয়ের চিন্তাগ্নি যেন নয়ন দিয়া বিস্ফুলিঙ্গরূপে বহির্গত হইতেছে। ওষ্ঠ অতি সুচিক্কণ অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞা-প্রকাশক। সমস্ত শরীর গম্ভীর, উন্নত ও বিধবার শ্বেতবস্ত্রে আবৃত হইয়া অধিকতর গাম্ভীর্য্য ধারণ করিয়াছে। রমণী পুষ্প সকল প্রতিমার সম্মুখে রাখিয়া দণ্ডবৎ হইয়া প্রণাম করিলেন।

অনেকক্ষণ উপাসনা করিতে লাগিলেন। বায়ু ক্রমশঃ প্রবল হইতে লাগিল। মধ্যে মধ্যে কবাট ঝন্ ঝন্ করিয়া উঠিতে লাগিল, প্রদীপ নির্ব্বাপিতপ্রায়, কিন্তু রমণীর মুখমণ্ডলে স্থিরভাবের কিছুমাত্র বৈলক্ষণ্য হইল না। স্থিরভাবে, মুদিত নয়নে, নিস্পন্দশরীরে, প্রায় এক প্রহর কাল আরাধনা করিতে লাগিলেন। তাঁহার মনে কি কামনা, কি বিষয়ে আরাধনা করিলেন, অনুভব করিতে সাহস করি না।

উপাসনা সাঙ্গ হইলে রমণী প্রদীপ লইয়া বহির্গত হইবার জন্য কবাট খুলিলেন। খুলিবামাত্র বাতাসে প্রদীপ নির্ব্বাপিত হইল। সেই অন্ধকার নিশীথসময়ে ক্ষীণাঙ্গী প্রবল বায়ুবেগে কিঞ্চিন্মাত্র কাতর না হইয়া ধীরে ধীরে রুদ্রপুরের গ্রাম্য পথ দিয়া কুটীরাভিমুখে গমন করিতে লাগিলেন। পথ অতি সঙ্কীর্ণ; উভয় পার্শ্বে কেবল জঙ্গল; তাহার পার্শ্বে বৃহৎ বৃক্ষসমূহের পত্ররাশি দ্বারা অন্ধকার দ্বিগুণ নিবিড় বোধ হইতেছ। সেই বৃক্ষতলে স্থানে স্থানে একটা কুটীর দেখা যাইতেছে; কুটীরবাসিগণ সকলেই সুপ্ত; জীবজন্তুর শব্দমাত্র নাই। এই প্রকারে মহাশ্বেতা কতক পথ অতিবাহিত করিয়া অবশেষে এক কুটীরে উপস্থিত হইয়া কবাটে আঘাত করিলেন। দ্বার ভিতর হইতে উদ্‌ঘাটিত হইল; মহাশ্বেতা প্রবেশ করিলে ভিতরে প্রদীপহস্তে এক অল্পবয়স্কা স্ত্রীলোক পুনরায় দ্বার রুদ্ধ করিল।

মহাশ্বেতা কি চিন্তা করিতে করিতে আসিয়াছিলেন; অল্পবয়স্কার মুখ দেখিবামাত্র সহসা সকল চিন্তা দূর হইল ও পবিত্র স্নেহভার বদনমণ্ডলে বিকাশ পাইতে লাগিল। বলিলেন,—সরলা, এত রাত্রি হইয়াছে, তুমি এখনও জাগিয়া আছ; যাও মা, শোও গে যাও। এই বলিয়া সস্নেহে সরলাকে আলিঙ্গন করিলেন। সরলা উত্তর করিল,—রাত্রি অধিক হইয়াছে, তা মা আমি জানিতাম না; ব্রহ্মচারী ঠাকুর মহাভারতের কথা বলিতেছিলেন, তাহাই শুনিতেছিলাম। আমার বোধ হয়, মহাভারতের কথা শুনিলে আমি সমস্ত রাত্রি জাগিতে পারি।

সরলা প্রদীপ লইয়া যখন শয়নগৃহে যাইতেছিল, তাহার মাতা অনিমেষলোচনে অনেকক্ষণ তাহার দিকে নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন ও অর্দ্ধস্ফুটবচনে বলিলেন,—তুমি আমার সর্ব্বস্ব, বিধাতা কি বনশোভার নিমিত্ত এই অমূল্য রত্ন, এই অতুল্য পুষ্প সৃজন করিয়াছিলেন? বলিতে বলিতে যে ঘরে ব্রহ্মচারী ছিলেন, তথায় গমন করিলেন।

সরলা শয়নগৃহে যাইয়া প্রদীপ রাখিল। মাতা শয়ন করিতে আসিবেন বলিয়া দ্বার রুদ্ধ করিল না, প্রদীপও নিবাইল না। তাহার বয়ঃক্রম ত্রয়োদশ বর্ষ হইবে, এখনও যৌবন সম্যকরূপে আবির্ভূত হয় নাই, মুখ দেখিলে এখনও বালিকা বলিয়া বোধ হয়। অবয়ব বা মুখে বিশেষ রূপের ছটা বা লাবণ্য ছিল না; কবিগণ যেরূপ তন্বঙ্গী রূপসীদিগের বর্ণনা করিতে ভালবাসেন, আমাদের সরলার সে অপরূপ সৌন্দর্য্যের কিছুই ছিল না। তবে শরীর কোমলতাপূর্ণ ও মুখমণ্ডলে এক স্বর্গীয় মধুরিমা ও সরলতা বিরাজমান রহিয়াছে, দেখিলেই বোধ হয়, যেন বালিকাহৃদয়ে কেবল সুশীলতা, সরলতা ও মানব-সাধারণের প্রতি পবিত্র প্রেম এবং স্নেহরাশি বিরাজ করিতেছে। বিশেষ সৌন্দর্য্যের মধ্যে তাহার মাতার মত নয়ন দুটি সমুজ্জ্বল;—সমুজ্জ্বল, কিন্তু শান্ত, সরল ও কোমলতাপূর্ণ। ওষ্ঠদ্বয় বিশেষ সুচিক্কণ নহে, কিন্তু দেখিলে বোধ হয়, মিষ্টতার আধার, আর সদা সুহাসিতে বিকশিত। গুচ্ছ গুচ্ছ নিবিড় কৃষ্ণ কেশ বদনমণ্ডলের সরল কিশোর ভাব অধিকতর বর্দ্ধন করিতেছে। সর্ব্বাঙ্গ কোমল ও সুস্নিগ্ধ। সমস্ত দিন পরিশ্রমের পর শয্যায় শয়ন করিতে না করিতে নিদ্রার আবির্ভাব হইল, প্রস্ফুটিত পদ্ম যেন পুনরায় মুকুলিত হইয়া কোরকভাব ধারণ করিল।

যে কুটীরে মাতা ও কন্যা বাস করিতেন, সে কুটীর অতিশয় সামান্য। ক্ষুদ্র একটি পাকশালা ও একটি গোশালা ছিল, এতদ্ভিন্ন দুইটী বড় ঘর ছিল, তাহার মধ্যে একটিতে মাতা, কন্যা ও একমাত্র দাসী বাস শয়ন করিত, অপরটীতে দিনের বেলা কর্ম্মকার্য্য হইত এবং কোন অতিথি আসিলে তাঁহার শয্যা রচনা হইত। গোশালায় দুই তিনটি গাভী থাকিত; প্রাঙ্গনে একটী গোলা ছিল, তাহাতে কিছু ধান্য সঞ্চিত থাকিত। গৃহপার্শ্বে একটী ক্ষুদ্রায়ত বাগান ছিল, তাহাতে কতকগুলি ফলবৃক্ষ ছিল, আর সরলা কতকগুলি পুষ্পের চারা রোপণ করিয়াছিল। যদিও কুটীর সামান্য, তথাপি কোনও আগন্তুক আসিলেই অনায়াসে অনুভব করিতে পারিতেন যে, কুটীরবাসিনীগণ নিতান্ত সামান্য লোক নহেন। গৃহের মধ্যে সকল দ্রব্যই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। বসন যৎসামান্য, কিন্তু পরিচ্ছন্ন; ঘরগুলিও যৎসামান্য, কিন্তু পরিষ্কৃত; প্রাঙ্গনে তৃণমাত্র নাই। কুটীরবাসিনী কায়স্থরমণীদিগের আচারব্যবহার দেখিয়া প্রথমে গ্রামবাসিগণ নানাপ্রকার আলোচনা করিত। এক্ষণে ছয়-সাত বৎসরাবধি তাঁহাদিগকে সেই গ্রামে বাস করিতে দেখিয়া সকলেই নূতন অনুভবে বিরত হইল; সকলেই সিদ্ধান্ত করিল যে, মহাশ্বেতা কোন কায়স্থ জমীদারের বিধবা হইবেন, বিষয়সম্পত্তি হারাইয়া, ভদ্রাসন ত্যাগ করিয়া কন্যাকে লইয়া এই গ্রামে আশ্রয় লইয়াছেন।

এদিকে মহাশ্বেতা বহু সম্মান করিয়া শিখণ্ডিবাহন ব্রহ্মচারীকে আহার করাইয়া আপনিও কিছু জলযোগ করিলেন। পরে ব্রহ্মচারীকে আসনে উপবেশন করাইয়া আপনি ভূমিতে বসিয়া কথোপকথন করিতে লাগিলেন। সমস্ত রাত্রি কথোপকথন হইতে লাগিল; আমরা তাহার কিয়দংশ বিবৃত করিব।

শিখণ্ডিবাহন কহিলেন,— ভগিনি! আমি পিতা চন্দ্রশেখরের নিকট হইতে আসিতেছি, তিনি সম্প্রতি তীর্থ হইতে প্রত্যাগমন করিয়াছেন। আজি সাত বৎসর হইল, পিতা তীর্থে গিয়াছিলেন, সাত বৎসর হিমালয় হইতে কাবেরী-তীর পর্যন্ত সমস্ত তীর্থ পর্য্যটন করিয়াছেন।

মহাশ্বেতা। পিতার সার্থক জীবন।

শিখণ্ডি। অবশেষে বঙ্গদেশে প্রত্যাবর্ত্তন করিয়াই শুনিলেন যে, পাঠান রাজ্য বিলুপ্ত হইয়াছে, দিল্লীশ্বরের হিন্দুসেনাপতি টোডরমল্ল এ দেশ জয় করিয়াছেন। আরও শুনিলেন যে, বঙ্গদেশের জমীদারকুলতিলক সমরসিংহের কাল হইয়াছে। পরে আমার প্রমুখাৎ তোমার ব্রতের বিষয় শুনিয়া বিস্মিত হইলেন। তিনি ব্রতের সম্বন্ধে কোন মতামত প্রকাশ করিলেন না, কিন্তু আমার আশঙ্কা হইতেছে, এ ব্রত হইতে অনিষ্টের সম্ভাবনা। ভগিনি, এখনও ক্ষান্ত হও।

মহাশ্বেতা বলিলেন,—ভ্রাতঃ! এ অনুরোধ হইতে আমাকে মার্জ্জনা করুন। এ ব্রত আমার প্রাণের অংশ স্বরূপ ও জীবনের অবলম্বন স্বরূপ হইয়াছে। এত শোক, এত মনস্তাপ সহ্য করিয়া যে আমি জীবিত আছি, এই ভয়ানক অবস্থার পরিবর্ত্তনেও যে আমি স্বচ্ছন্দে আছি, সে কেবল এই ব্রতের নিমিত্ত। যে দিন ব্রত উদ্‌যাপিত করিব, সেদিন আমাকে জীবন পরিত্যাগ করিতে হইবে।

এই উত্তর শ্রবণ করিয়া শিখণ্ডিবাহন ব্রতত্যাগের অনুরোধ হইতে নিরস্ত হইলেন। ক্ষণেকপর বলিলেন,—বৈরনির্য্যাতনের কোন বিশেষ উপায় অবলম্বন করিতেছ?

মহাশ্বেতা বলিলেন,—আমি এক সিদ্ধ পুরুষের নিকট একটী ভীষণ মন্ত্র লইয়াছি। তিনি এই মন্ত্র-সাধনের জন্য যে অনুষ্ঠান বলিয়া দিয়াছেন তাহাও ভীষণ, কিন্তু সে অনুষ্ঠানে আমি স্থিরপ্রতিজ্ঞ হইয়াছি। প্রত্যহ সন্ধ্যার সময় স্নান করিয়া নিশা দ্বিপ্রহর পর্য্যন্ত দেবদেব মহাদেবের সেই মন্ত্রদ্বারা আরাধনা করিব;—যতদিন মহাদেব শত্রুনিপাত না করেন, ততদিন কন্যা অবিবাহিতা থাকিবে,—সপ্তমবর্ষের মধ্যে শত্রুনিপাত না হইলে কুমারীকন্যাকে মহাদেবের নিকট হত্যা দিয়া চিতারোহণ করিব।

অনেকক্ষণ উভয়েই নিস্তব্ধ হইয়া রহিলেন। ব্রহ্মচারী পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,—

তোমার ব্রত কি, তাহা আমি অবগত আছি। জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম, বৈরনির্য্যাতন সাধনের জন্য এই ব্রতধারণ ভিন্ন অন্য কোন উপায় অবলম্বন করিয়াছ?

মহাশ্বেতা গম্ভীরভাবে উত্তর করিলেন,—যিনি এই বিপুল সংসার সৃষ্টি করিয়াছেন, তাঁহার সহায়তা লাভ ভিন্ন স্ত্রীলোক আর কি উপায় অবলম্বন করিতে পারে?

সরলস্বভাব ব্রহ্মচারী মহাশ্বেতাকে ব্রত হইতে নিরস্ত করিবার জন্য আর একবার চেষ্টা করিলেন। মহাশ্বেতা বুঝিতে পারিয়া বলিলেন,—আপনি পূর্ব্বকথা সকল জানিলে এ প্রকার অনুরোধ করিতেন না, আমি নিবেদন করিতেছি, শ্রবণ করুন, আর মহাত্মা চন্দ্রশেখরকেও এই সকল কথা জানাইবেন।

পূর্ব্বকথা স্মরণ করিতে করিতে মহাশ্বেতার শরীর কম্পিত হইতে লাগিল, মুখমণ্ডল বিকৃতভাব ধারণ করিল, উজ্জ্বল চক্ষু আরও ধক্ ধক্ করিয়া জ্বলিতে লাগিল। প্রদীপ ক্ষীণ জ্যোতিঃ প্রদান করিতেছে; ঘরের চারিদিকে নিবিড় অন্ধকারে বায়ু স্বন্ স্বন্ শব্দে প্রবলবেগে প্রধাবিত হইতেছে ও মহাশ্বেতার সামান্য কুটীরে বেগে আঘাত করিতেছে; কিন্তু স্মৃতিজাল প্রবল চিন্তাবায়ু তদপেক্ষা শতগুণ বেগে মহাশ্বেতার হৃদয়কন্দরে আঘাত করিতেছিল। অনেকক্ষণ নিস্তব্ধ থাকিয়া মহাশ্বেতা বলিলেন,—আমি পাপীয়সী বটে; যে পরের অমঙ্গলের জন্য সপ্তবর্ষ পর্য্যন্ত ব্রতধারণ করিয়া থাকিতে পারে, সে পাপীয়সী নহে ত কি? কিন্তু সামান্য অত্যাচারে আমি পাপব্রত অবলম্বন করি নাই। শ্রবণ করুন।

সরলচিত্ত শিখণ্ডিবাহন অগত্যা শ্রবণ করিতে লাগিলেন।