বাঙ্গলার পরিচিত পাখী

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

 

বাঙ্গলার পরিচিত পাখী

 

শ্রীসুধীন্দ্রলাল রায়, এম্‌-এ (কলিকাতা)
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, ভূতপূৰ্ব্ব জাতীয় শিক্ষামন্দির
(কংগ্রেস ও খেলাফত কমিটির অধীন ১৯২০-২৪)

 
٭  স্টাডি  ٭
 
কলিকাতা—৩৮
 

গঙ্গা পাবলিশারস লিমিটেড
৫২-৯ বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা ১২


 

প্রথম সংস্করণ: আশ্বিন, ১৩৫৫
মূল্য তিন টাকা

 

রয়েজ ফ্রেণ্ডস্‌ সার্কল-এর পক্ষে শ্রীসুশান্ত ঘোষ কর্ত্তৃক ৫২-৯, বহুবাজার ষ্ট্রীট, কলিকাতা ১২ হইতে প্রকাশিত নূতন প্রেস ১৬৷এ, ডাফ ষ্ট্রীট হইতে শ্রীনির্ম্মল বসু দ্বারা মুদ্রিত


 


 

উৎসর্গ

 

পিতৃদেব
৺রসিকলাল ৱায়
তৃপ্যতাম্।

 

“পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সৰ্ব্বদেবতা”

 

ভূমিকা

 বাংলা দেশে আমি একজনকেই পক্ষিতত্ত্ববিদ বলিয়া জানি। তাঁহার নাম ডক্টর শ্রীযুক্ত সত্যচরণ লাহা এম-এ, পি-এইচ-ডি। প্রায় পঁচিশ বৎসর পূর্ব্বে তাঁহার অধীনে নিযুক্ত থাকা কালে, তাঁহার পক্ষী পর্য্যবেক্ষণ অভিযানে সহচর হইতাম ও পুস্তকাদি হইতে পক্ষী সম্বন্ধে কিছু জ্ঞানাহরণ করিতে চেষ্টা করিতাম। এ সম্বন্ধে আমার উৎসাহ ও অভিনিবেশের জন্য আমি তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞ।

 সত্যবাবুর সাক্‌রেদী করিবার সময়, ১৯২১ সালে “সোনার বাংলা” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা কয়েকজন উৎসাহী যুবক মিলিয়া বাহির করেন। উহার নামমাত্র সম্পাদক ছিলেন দেশভক্ত ৺পণ্ডিত শ্যামসুন্দর চক্রবর্ত্তী। এই পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন “শনিবারের চিঠির” প্রথম সম্পাদক বন্ধুবর শ্রীযুক্ত যোগানন্দ দাস। তিনি আমাকে বাংলা দেশের সুপরিচিত পাখীদের বর্ণনা লিখিতে অনুরোধ করেন। ইংরাজিতে যেমন “ইহা”, “ফ্র্যাঙ্ক ফিন” প্রভৃতি লেখক অবৈজ্ঞানিক সাধারণ পাঠকের বোধগম্য করিয়া পাখীর বর্ণনা লিখিয়াছেন, সেইরূপ রচনার জন্য যোগানন্দ বাবু অনুযোগ দেন। শ্রীযুক্ত সত্যচরণ লাহা মহাশয়কে সে কথা বলায় তিনিও উৎসাহ দেন। তখন আমি কয়েকটি পাখীর বর্ণনা লিখি। পরে “সোনার বাংলা” পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হয় এবং তৎসঙ্গে আমার লেখাও বন্ধ হয়। তাহার সাত আট বৎসর পর সুকবি শ্রীযুক্ত সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের “উপাসনা” পত্রিকায় দুইটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তৎপরে “উপাসনা” যখন “বঙ্গশ্রী”তে রূপান্তরিত হইয়া শ্রীযুক্ত সজনীকান্ত দাসের সম্পাদনায় বাহির হইতেছিল তখনও ঐ পত্রিকার সহ-সম্পাদক শ্রীযুক্ত কিরণকুমার রায়ের অনুরোধে ২৷৩ টী পাখীর বর্ণনা আমি লিখি। সজনীবাবু “বঙ্গশ্রী” পরিত্যাগ করার পর আমি আর লিখি নাই।

 সুদীর্ঘ ২৫ বৎসর পর হঠাৎ এক দুঃসাহসী প্রকাশকের সঙ্গে “প্রভাতী” সম্পাদক শ্রীমান মনীন্দ্রচন্দ্র সমাদ্দারের সৌজন্যে আমার পরিচয় হইল। তিনি পাখীর বই ছাপিবেনই। তাঁহাকে শ্রীকিরণ কুমার রায় আমার কথা নাকি বহুদিন পূর্ব্বেই বলিয়াছিলেন। সেই জন্যই এই প্রয়াস। বাংলার সব পাখীর খবর আজকালকার কাগজের দুষ্প্রাপ্যতার দিনে দেওয়া চলে না। মাত্র কয়েকটি পাখীর বর্ণনা এই বইতে আছে। অনেক সুপরিচিত পাখী বাদ গেল। যদি পাঠকদের ভাল লাগে তবে ক্রমশঃ অন্যান্য পাখীর কথাও লিপিবদ্ধ করিতে চেষ্টা করিব।

 বলিয়া রাখি, আমি পক্ষি-বিজ্ঞানবিৎ নহি। পক্ষিতত্ত্ব-জিজ্ঞাসু মাত্র। অরসিক সাধারণ পাঠকের জন্য ইহা লেখা। বোধগম্য হইয়াছে কিনা তাহা পাঠকগণ বিচার করিবেন। প্রাঞ্জল ও সরস হইয়াছে কিনা সমালোচকগণ বলিবেন। বৈজ্ঞানিক ভুল ত্রুটি থাকিলে আশাকরি সহৃদয় বৈজ্ঞানিক তাহা দেখাইয়া দিবেন, অসহিষ্ণু হইবেন না।

 ভারতীয় পাখী সম্বন্ধে কৌতুহলী পাঠকের সুবিধার্থে পুস্তকের অন্তে কয়েকটি খ্যাতনামা বইয়ের নাম উল্লেখ করিলাম।।

 পুস্তকের শেষে একটি পরিশিষ্টে এই পুস্তকে বণিত পাখীদের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হইল। এ বিষয়ে ফনা অফ বৃটিশ ইণ্ডিয়া গ্রন্থমালাই প্রামাণ্য পুস্তক। ইহার প্রথম সংস্করণে জাতি হিসাবে শ্রেণী বিভাগ করিয়া নামকরণ করা হয়। দ্বিতীয় সংস্করণে আবার অন্তর্জাতি বিভাগ আছে। দ্বিতীয় সংস্করণে অন্তর্জাতির নাম ঢুকাইয়া নামটাকে দীর্ঘ করা হইয়াছে। আমি প্রথম সংস্করণের নামগুলিই দিলাম। যদি কেহ বৈজ্ঞানিক আলোচনা করিতে চান, উহাতেই তাহার কাজ চলিবে, খুঁজিয়া লইতে অসুবিধা হইবে না।

 শ্রীযোগরঞ্জন দাসগুপ্ত মহাশয় বহু পরিশ্রমে পাখীর ছবি আঁকিয়া দিয়া পুস্তকের সৌষ্ঠব বৃদ্ধি করিয়াছেন, সেজন্য তাহার নিকট আমি কৃতজ্ঞ।

১১৬, বিবেকানন্দ রোড,
কলিকাতা।
পিতৃপক্ষ, ১৩৫৫ সাল
শ্রীসুধীন্দ্রলাল রায়

পরিশিষ্ট-১

গ্রন্থ-নির্ঘণ্ট

 ১। “Fauna of British India,” পাখী সম্বন্ধে খণ্ডাদি, প্রথম সংস্করণ, Blanford এবং Oates সম্পাদিত। দ্বিতীয় সংস্করণ—Stuart Baker কর্ত্তৃক সম্পাদিত।

 ২। “Common Birds of Bombay” By E. H. A.

(E. H. A. র অন্যান্য পুস্তকও পঠিতব্য)

 ৩। Douglas Dewar এর নিম্নলিখিত পুস্তকগুলি:—

 “Indian Birds: A key;” “Calender of Indian Birds”; “Birds of the Plains”; “Birds of the Hills”; “Birds of an Indian village”.

 ৪। “Some lndian Friends & Acquaintances”—D. D. Cunningham.

 ৫। Frank Finn এর নিম্নলিখিত পুস্তকগুলি:—

 “Birds of Calcutta”; “Garden & Aviary Birds of lndia”; “Game Birds of India”.

 ৬। M. R. N. Holmer এর নিম্নলিখিত দুইখানি:—

 “Indian Bird Life”; “Birth study in lndia”.

 ৭। “Common Birds of India”.—Bainbrigge Fletcher

(ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত সংস্করণ)

 ৮। “Pet Birds of Bengal”. -vol. l.-Dr. Satya Churn Law, M., A., Ph. D., P. R. S. etc (একখণ্ডই মাত্র প্রকাশিত হইয়াছে)

 ৯। Dr. Satya Churn Law কৃত নিম্নলিখিত দুইখানি পুস্তকও দ্রষ্টব্য—“কালিদাসের সাহিত্যে বিহঙ্গ” এবং “পাখীর কথা”।

পরিশিষ্ট—২

এই পুস্তকে বর্ণিত পাখীদের বৈজ্ঞানিক নাম।
(ল্যাটিন নামের প্রথমাংশ গণ (genus) এবং শেষাংশ জাতি (species) বাচক)

দোয়েল—Copsychus saularis কপসিকাস্‌ সলারিস্‌
শ্যামা—Cittocincla macrura সিট্টোসিঙ্কলা ম্যাকরুরা
কালোবুলবুল—Molpastis bengalensis মোলপাসটিস্‌ বেঙ্গলেনসিস্‌
সিপাহী,,— ,, haemorrhous  ,, হীমরূস
দাঁড়কাক—Corvus macrorhyncus করভাস ম্যাক্রোহ্রিঙ্কাস্‌
পাতিকাক— ,, splendens  ,, স্প্লেণ্ডেন্স্‌,
কোয়েল—Eudynamis honorata ইউডিনামিস অনরেটা
পাপিয়া—Hierococoyx varius হিয়েরোকক্কিক্স ভেরিয়াস।
বৌ কথাকও—Cuculus micropterus কুকুলাম মাইক্রপটিরাস
শাহীবুলবুল—Coccyates jacobinus কক্কিসটিস জ্যাকোবিমাস
কানাকূয়া—Centropus sinensis সেণ্ট্রোপাস সিনেনসিস
শালিক—Acridotheres tristis অ্যাক্রিডোথিরিস ট্রিসটিস্‌
গোশালিক—Sturnopaster contra—ষ্টার্ণোপাষ্টার কনট্রা
গাঙশালিক—Acridotheres gingianus অ্যাক্রিডোথিরিস জিনজিয়ানস
ছাতারে—Crateropus canorus ক্র্যাটিরোপাস ক্যানোরাস
নীলকণ্ঠ—Coracias indica কোরেসিয়াস ইণ্ডিকা
ফুদে মাছরাঙ্গা—Alcedo insipida আলকিডো ইনসিপিডা

শ্বেতবক্ষ,,—Halcyon smyrensis হ্যালসিওন স্মার্ণেনসিস্‌
ফুটকী ,, —Ceryle varia সেরিল ভেরিয়া
হাঁড়ি-চাচা—Dendrocitta rufa—ডেণ্ড্রোসিটা রিউফা।
ফিঙ্গে—Dicrurus ater ডিকরুরাস এটার



হলদে পাখী—





Oriolus kundu ওরিওলাস কুণ্ডু

Oriols melanocephalus ওরিওলাস মেলানোকেফেলাস


হুপো—Upopus indica ইউপুপাস ইণ্ডিকা
কাঠঠোকরা—Brachypternus aurantis ব্রাকিপটরনাস অরাণ্টিস
বড় বসন্ত—Cyanops asiatica কাইয়ানোপস এসিয়াটিকা
ছোট ,, —Xantholaema haematocephala জানথোলিমা হেমাটোকেফালা
খঞ্জন—Motacilla alba মোটাসিলা অ্যালবা
 ,, melanope ,, মেলানোপ
 ,, maderaspatensis ,, ম্যাডেরাসপ্যাটেনসিস
বাঁশপাতি—Merops viridis মেরপস্‌ ভিরিডিস

পরিচ্ছেদসমূহ (মূল গ্রন্থে নেই)

এই লেখাটি বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত কারণ এটির উৎসস্থল ভারত এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুসারে এর কপিরাইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর পর (স্বনামে ও জীবদ্দশায় প্রকাশিত) বা প্রথম প্রকাশের ৬০ বছর পর (বেনামে বা ছদ্মনামে এবং মরণোত্তর প্রকাশিত) পঞ্জিকাবর্ষের সূচনা থেকে তাঁর সকল রচনার কপিরাইটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ১ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালের পূর্বে প্রকাশিত (বা পূর্বে মৃত লেখকের) সকল রচনা পাবলিক ডোমেইনের আওতাভুক্ত হবে।