বাহ্যবস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাহ্য বস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির
সম্বন্ধ বিচার।

 

প্রথম ভাগ।

 

শ্রীঅক্ষয়কুমার দত্ত কর্ত্তৃক প্রণীত।

 


অষ্টম বার মুদ্রিত।

 

কলিকাতা।

 

মেট্রপলিটন যন্ত্র।

শকাব্দ। ১৮..।

 

PRINTED BY . H. M. MOOKERJEA & CO.

AT THE "METROPOLITAN PRESS".

42 Zig-Zag lane Culcutta.

Published by the Sanskrit Press Depository.

 

 

PRINTED BY . H. M. MOOKERJEA & CO.

AT THE "METROPOLITAN PRESS".

42 Zig-Zag lane Culcutta.

Published by the Sanskrit Press Depository.

 

 

বিজ্ঞাপন


দুঃখ নিবৃত্তি হইয়া সুখ বৃদ্ধি হয় ইহা সকলেরই বাঞ্ছা, কিন্তু কি উপায়ে এই মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হইতে পারে তাহা সম্যকরূপে অবগত না থাকাতে, মনুষ্য অশেষ প্রকার দুঃখ ভোগ করিয়া আসিতেছেন। অতি পূর্ব্বাবধি নানাদেশীয় নীতি-প্রদর্শক ও ধর্ম-প্রয়োজক পণ্ডিতেরা এ বিষয়ে বিস্তর উপদেশ প্রদান করিয়াছেন, কিন্তু কেহই কৃতকার্য্য হইতে পারেন নাই। অদ্যাপি ভূমণ্ডল রোগ, শোক, জরা, দারিদ্র্য প্রভৃতি নানা প্রকার দুঃখে আকীর্ণ হইয়া রহিয়াছে। অতএব, এ বিষয়ের যাহা কিছু জ্ঞাত হইতে পারা যায়, তাহা একান্ত যত্নপূর্ব্বক প্রচার করা সর্বতোভাবে কর্ত্তব্য। শ্রীযুক্ত জর্জ কুম্ব সাহেব-প্রণীত ‘কন্সট্রিটিউশন্ আব ম্যান্' নামক গ্রন্থে এ বিষয় সুন্দররূপ লিখিত হইয়াছে। তিনি নিঃসংশয়ে নিরূপণ করিয়াছেন, যে পরমেশ্বরের নিয়ম প্রতিপালন করিলেই সুখের উৎপত্তি হয়, এবং লঙ্ঘন করিলেই দুঃখ ঘটিয়া থাকে। জগদীশ্বর কি প্রকার নিয়ম প্রণালী সংস্থাপন করিয়া বিশ্ব-রাজ্য পালন করিতেছেন, এবং কোন নিয়মানুসারে চলিলে কিরূপ উপকার হয়, ও কোন নিয়ম অতিক্রম করিলে কি প্রকার প্রতিফল প্রাপ্ত হওয়া যায়, ঐ গ্রন্থে তাহা স্পষ্ট রূপে প্রদর্শিত হইয়াছে। ঐ গ্রন্থের অভিপ্রায় সমুদায় স্বদেশীর লোকের গোচর করা উচিত ও অত্যাবশ্যক বোধ হওয়াতে, বাঙ্গলা ভাষায় তাহার সার সঙ্কলনপূর্বক "বাহ্য বস্তুর সহিত মানব প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার” নামক এক এক প্রস্তর “তত্ত্ববোধিনী" পত্রিকাতে প্রকাশিত হইয়া আসিতেছে। ঐ সমস্ত প্রস্তাব পাঠ করিয়া অনেকেই অনুরাগ প্রকাশ করিয়াছেন, এবং স্বতন্ত্র পুস্তকে প্রকটিত করিতে পরামর্শ দিয়াছেন। তদনুসারে পুনর্ব্বার মুদ্রিত ও প্রচারিত হইতেছে। ইহা ইংরেজী পুস্তকের অবিকল অনুবাদ নহে। যে সকল উদাহরণ ইউরোপীয় লোকের পক্ষে সুসঙ্গত ও উপকারজনক, কিন্তু এ দেশীয় লোকের পক্ষে সেরূপ নহে, তাহা পরিত্যাগ করিয়া তৎপরিবর্ত্তে যে সকল উদাহরণ এ দেশীয় লোকের পক্ষে সঙ্গত ও হিতজনক হইতে পারে, তাহাই লিখিত হইয়াছে। এ দেশের পরম্পরাগত কুপ্রথা সমুদায় মধ্যে মধ্যে উদাহরণ স্বরূপে উপস্থিত করিয়া তাহার দোষ প্রদর্শন করা গিয়াছে। ফলতঃ এতদ্দেশীয় লোকে সবিশেব মনোযোগপূর্ব্বক পাঠ করিয়া তদনুযায়ী ব্যবহার করিতে প্রবৃত্ত হন, এই অভিপ্রায়ে অামি এই মানব প্রকৃতি বিষয়ক পুস্তকখানি প্রস্তুত করিয়া প্রকাশ করিতেছি। তাঁহারা অনুগ্রহ প্রকাশপূর্ব্বক এই মনস্কামনা সিদ্ধ করিলে চরিতার্থ হইব।

 তাঁহাদের নিকট কৃতাঞ্জলি হইয়া বিনীতভাবে নিবেদন করিতেছি, যদি ইহাতে কোন স্বমতবিপরীত ও দেশাচার বিরুদ্ধ অভিপ্রায় সৃষ্টি করেন, তবে একেবারে অশ্রদ্ধা না করিরা বিচার করিয়া দেখিবেন। জগদীশ্বর যেমন অন্ধকার নিরাকরণার্থ জ্যোতিঃ পদার্থ সৃজন করিয়াছেন, সেইরূপ, মনুষ্যের ভ্রম বিমোচনার্থ বুদ্ধিবৃত্তি প্রদান করিয়াছেন। অতএব, বুদ্ধি পরিচালন পূর্ব্বক কর্ত্তব্যাকর্ত্তব্য নিরূপণ না করিয়া বহু দোষাকর দেশাচারের দাস হইয়া চলা বুদ্ধিমান জীবের কর্ত্তব্য নহে। নানা দেশে নানা প্রকার পরম্পরবিরুদ্ধ ব্যবহার প্রচলিত আছে, তৎসমুদায় সুব্যবহার বলিয়া স্বীকার করিলে ধর্ম্মাধর্ম্মের অার কিছু মাত্র প্রভেদ থাকে না। এক দেশে এই প্রকার প্রথা অাছে যে ব্যক্তি নরহত্যা করিয়া যত নর কপাল সংগ্রহ করিতে পারে, তাহার তত সম্রম হয়। অন্য এক দেশে এইরূপ রীতি আছে, যে বিদেশীয় লোকের অর্থ হরণ ও প্রাণ নাশ করিলে গৌরব বৃদ্ধি হয়। কত কত সভ্য জাতির মধ্যে এই প্রকার ব্যবহার আছে, যে যদি কেহ কাহারও অপমান করে, তবে অপমানিত ব্যক্তির ইচ্ছানুসারে, উভয়ে পরস্পর গুলি করিয়া পরস্পরের প্রাণ সংহার করিতে প্রবৃত্ত হয়; অপমানকারী ব্যক্তি তাহাতে স্বীকৃত না হইলে মানভ্রষ্ট ও লজ্জাম্পদ হয়। কত দেশের লোকে নর-মাংস ভক্ষণ করিয়া উদর পূর্ণ করে। কোন দেশে এইরূপ রীতি প্রচলিত আছে, যে পিতামাতা বা পরিবারস্থ অন্য কোন ব্যক্তি অত্যন্ত পীড়িত বা জরাগ্রস্ত হইলে তাহাকে নষ্ট করিয়া তাহার মাংসে কুটম্বাদি ভোজন করায়। তত্তদ্দেশীয় লোকেরা ঐ সমুদায় দেশাচারকে সদাচার জ্ঞান করে বলিয়া বাস্তবিক সদাচার বলা যায় না। এক ধর্ম্মাক্রান্ত লোকের মধ্যেও আচার ব্যবহারের বিস্তর বিভিন্নতা দেখা যায়। হিন্দুস্থানীরা পাক-করা তণ্ডুলাদিকে অশুদ্ধ ও অশূণ্য জ্ঞান করে না, এবং তাহ গাত্রে ও বস্ত্রে স্পৃষ্ট হইলে গাত্র ও বস্ত্র ধৌতও করে না। উড়িস্যা অঞ্চলে এক প্রকার বিধবা-বিবাহ প্রচলিত আছে। মহারাষ্ট্রীয় লোকে স্ত্রী পুরুষে পঙ্‌ক্তি ভোজনে বসিয়া একত্র আহার করে। কিন্তু বাঙ্গলা দেশীয় লোকের আচার ব্যবহার ইহার সম্পূর্ণ বিপরীত। বাঙ্গলাদেশীয় লোক ও হিন্দুস্থানী প্রভৃতি অন্যান্য দেশীয় লোক উভয়েরই পরস্পরবিরুদ্ধ ব্যবহার কোন ক্রমেই হিন্দু শাস্ত্রসন্মত হইতে পারে না। অতএব, দেশাচার মাত্রই যে বিহিত, এ কথা নিতান্ত যুক্তিবিরুদ্ধ। যে রীতি-বর্ত্ম পরমেশ্বরের নিয়মানুযায়ী তাহাই যথার্থ বিহিত। বিশ্বনিয়ন্তা বিশ্ব-রাজ্য পালনার্থে নানা প্রকার শুভদায়ক নিয়ম সংস্থাপন করিয়াছেন, এবং তন্নিরূপণার্থে আমাদিগকে বুদ্ধি বৃত্তি প্রদান করিয়াছেন। পরম্পরাগত দোষাকর দেশাচারের অনুরোধে পরমেশ্বর প্রদত্ত বুদ্ধিরতি পরিচালনে ও তৎপ্রতিপন্ন তত্ত্ব সমুদায়ের অনুষ্ঠানে অবহেলা করিলে অপরাধী হইতে হয়। অতএব, ব্যগ্রতা প্রকাশ পূর্ব্বক নিবেদন করিতেছি, যদি কেহ এই গ্রন্থ মধ্যে কোন স্বমতবিরুদ্ধ অভিপ্রায় দৃষ্টি করেন, তবে তাহাতে একেবারে অশ্রদ্ধা না করিয়া বিচার করিয়া দেখিবেন। মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতদিগেরও কোন না কোন বিষয়ে ভ্রান্তি থাকিতে পারে; অতএব, আপনাকে অভ্রান্ত জ্ঞান ও আপন মতকে ভ্রম-শুন্য বিবেচনা করিয়া তদ্বিরুদ্ধ সমুদায় অভিপ্রায়ে অবিশ্বাস করা কাহারও কর্ত্তব্য নহে। যে সমস্ত যথার্থ তত্ত্ব সদ্বিচার-দ্বারা প্রতিপন্ন হয়, তাহাই স্বীকার করা ও তদনুযায়ী অনুষ্ঠান করা কর্ত্তব্য। এই মানব প্রকৃতি বিষয়ক পুস্তকে যে সমুদায় অভিপ্রায় প্রকাশিত হইয়াছে, তাহা প্রত্যক্ষমূলক ও যুক্তিনিষ্পন্ন। বিশেষতঃ তাহা যথার্থ কি না, অনায়াসে পরীক্ষা করিয়া দেখা যাইতে পারে। বিশ্বনিয়ন্তার একটি নিয়মও বিফল হইবার নহে, তাহা প্রতিপালন করিলেই তৎক্ষণাৎ সুখ রূপ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়া যায়।

 এতদ্দেশীয় লোকে সংস্কৃত বচন শুনিলেই তাহাতে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করেন, এবং তদ্বিরুদ্ধ বাক্য প্রত্যক্ষসিদ্ধ হইলেও অবিশ্বাস করিয়া থাকেন। তামাদিগের এই বিষম কুসংস্কার মহানর্থের মূল হইয়াছে। তাহা পরিত্যাগ না করিলে কোন ক্রমেই আমাদের মঙ্গল নাই। পূর্বে যেমন ভারতবর্ষীয় পণ্ডিতের স্ব স্ব বুদ্ধি পরিচালনপূর্বক জ্যোতিষাদি করেকটি বিদ্যার সৃষ্টি করিয়া সংস্কৃত ভাষায় লিপিবদ্ধ করিয়াছিলেন, সেইরূপ যবনাদি অন্যান্য জাতীয় পণ্ডিতেরাও স্ব স্ব ভাষায় বিবিধ বিদ্যা প্রকাশ করিয়াছিলেন। কিন্তু এক্ষণকার ইউরোপীয় পণ্ডিতেরা আপনাদিগের অসাধারণ বুদ্ধি-বলে ঐ সকল বিদ্যার যেরূপ উন্নতি করিয়াছেন, তাহার সহিত তুলনা করিয়া দেখিলে, সংস্কৃত জ্যোতিষাদিকে অতি সামান্য বোধ হয়। এইরূপ, এক্ষণে যে সকল অভিনব তত্ত্ব নিরূপিত ও যে সমুদায় অন্তত ব্যাপার সম্পন্ন হইয়াছে এবং হইতেছে, তাহা ভারতবর্ষীয় প্রাচীন পণ্ডিতদিগের স্বপ্নেরও অগোচর ছিল। তৎসমুদায় সংস্কৃত গ্রন্থে লিখিত নাই বলিয়া কদাপি অগ্রাহ্য হইতে পারে না। অতএব, সংস্কৃত শাস্ত্রোক্ত প্রমাণ ভিন্ন অন্য কোন প্রমাণ গ্রাহ্য নহে, এবং সংস্কৃত শাস্ত্রকারেরা যে বিষয় যত দূর নিরূপণ করিয়াছেন, তাহার অধিক আর জানা যায় না, এই মহানর্থকর কুসংস্কার নিতান্ত ভ্রান্তিমূলক এবং অত্যন্ত হেয় ও অশ্রদ্ধেয়। এক্ষণে, এতদ্দেশীয় জন সাধারণের প্রতি সবিনয় নিবেদন, এই বিষম কুসংস্কার পরিত্যাগ পূর্ব্বক এই গ্রন্থোক্ত অভিপ্রায় সমুদায় সম্পূর্ণ যুক্তিসিদ্ধ ও শুভদায়ক কিনা বিবেচনা করিয়া দেখিবেন।

 অবশেষ, সকৃতজ্ঞচিত্তে অঙ্গীকার করিতেছি শ্রীযুক্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়েরা অনুগ্রহ প্রকাশপূর্ব্বক এই গ্রন্থ সংশোধন বিষয়ে অনেক আনুকূল্য করিয়াছেন। তাঁহারা এবং তাদৃশ অন্যান্য সদ্বিদ্যাশালী বিচক্ষণ ব্যক্তি গ্রাহ্য করিয়াছেন বলিয়াই আমি ইহা প্রকাশ করিতে সাহসী হইয়াছি।

 
কলিকাতা। শ্রীঅক্ষয়কুমার দত্ত।
শকাব্দ ১৭৭০। ৫ই মাঘ।

সূচিপত্র।


বিধয় । পত্র । উপক্রমণিকা ও ¢ • •

  •  % * 0

0 • • ।। ২৩ ই ও । । . 0 ও ৪ ০০ 0 প্রাকৃতিক নিয়ম ..... মনুষোর প্রকৃতি নির্ণয় ও বাহ্য বস্তুর ৩৯ সহিত তাহার সম্বন্ধ নিরূপণ মনুষ্যের ভৌতিক প্রকৃতি .... , শারীরিক প্রকৃতি ... ... ৪১ মানসিক প্রকৃতি .... ..... ৪৯ মনুষ্যের মুখোৎপত্তির বিষয় .. ...। ৮৩ প্রাকৃতিক নিয়মানুযারী ব্যবহার-প্রণালী ।। ৯৪ প্রাকৃতিক নিয়ম লঙ্গন করিলে মনুষ্যের } . ১০৮ কি প্রকার দুঃখ হয় ডাহার বিচার তেতিক নিয়ম লঙনের ফল না .... .... ১০১ শারীরিক নিয়ম মঙ্গনের ফল + ... ১১৮ শারীরিক সুস্থতা ও বলাধাম ...... ১১১ দীৰ্ঘায়ু প্রাপ্তি প্রসব বেদনা ১২৩ বিবাহ না ... ... ১ e so ace ১• ( e» no Due * ** b ।।।। |• ] অন্নগ্ৰস্থ, জোতিঃ ও বায়ু সেবন প্রভৃতি ।।।।. ১২৭ শারীরিক শক্তি ও মানসিক বৃত্তি চালনা ...... ১২৮ শারীরিক নিয়ম লঙন করিলে যে অনিষ্ট ১৩৪ হয়তাথার উদাহরণ। অবৈধ বিবাহের ফল. ..... ... ..... ১৪০ a e = = d e পিতা মাতার ওণাগুণ যে সন্তানে .....• ১৪৪ ... ১৫৫ b : । বর্তে তাহার বিবরণ অস্পবয়স্ক, বৃদ্ধ, উৎকটরোগগ্রস্ত ও বিক লাঙ্গ ব্যকিদিগের বিবাহ করা বিহিও নহে নিকটসম্পৰ্কীয় কন্যাকে বিবাহ ১৫৬ করা উচিত নয়। ভিন্ন জাতীয় কন্যা বিবাহ করা অবিহিত নহে ... ১৫৭ ভূতামিত্ৰাদি যত লোকের সহিত সংঘব । রাধিতে হয়, সকলেরই দোষাদোষ ) মৃত্যুর বিষয় • .. * ... ..", আমিষ ভক্ষণ . ... ... . ... ১৮ ..... ১৬। e 1 0 ১৬২ ।।

এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯২৩ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।