বিদায়-অভিশাপ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বিদায়-অভিশাপ

বিদণজ্জ-আভিশাপ

ப்து _ SJYAeiMSYYYAJJeSAAAAAAAS [ দেবগণ কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া বৃহস্পতিপুত্র কচ দৈত্যগুরু শুক্রচার্য্যের নিকট হইতে সঞ্জীবনী বিদ্যা শিখিবার নিমিত্ত তৎসমীপে গমন করেন। সেখানে সহস্ৰ বৎসর অতিবাহন করিয়া এবং নৃত্যগীতবাদ্য দ্বারা শুক্রদুহিতা দেবযানীর মনোরঞ্জনপূর্বক সিদ্ধকাম হইয়া কচ দেবলোকে প্রত্যাগমন করেন। দেবযানীর নিকট হইতে বিদায়কালীন ব্যাপার পরে বিবৃত হইল । ] কচ ও দেবযানী কচ দেহ আজ্ঞা, দেবযানী, দেবলোকে দাস করিবে প্রয়াণ। আজি গুরুগৃহবাস সমাপ্ত আমার । অশীর্ববাদ কর মোরে যে বিদ্যা শিখিনু তাহা চিরদিন ধরে’ অন্তরে জাজ্জ্বল্য থাকে উজ্জ্বল রতন, সুমেরুশিখরশিরে সূর্য্যের মতন, অক্ষয় কিরণ । `ඵA বিদায়-অভিশাপ মনোরথ পূরিয়াছে, পেয়েছ দুর্লভ বিদ্যা আচার্য্যের কাছে, সহস্রবর্ষের তব দুঃসাধ্য সাধনা সিদ্ধ আজি ; আর কিছু নাহি কি কামনা ভেবে দেখ মনে মনে । কচ আর কিছু নাহি । দেবযানী কিছু নাই ? তবু আরবার দেখ চাহি অবগাহি হৃদয়ের সীমান্ত অবধি করহ সন্ধান ; অন্তরের প্রান্তে যদি কোনো বাঞ্ছা থাকে, কুশের অক্ষুরসম ক্ষুদ্র দৃষ্টি-অগোচর, তবু তীক্ষতম । কচ আজি পূর্ণ কৃতাৰ্থ জীবন । , কোনাে ঠাই মোর মাঝে কোনো দৈন্য কোনো শূন্ত নাই সুলক্ষণে ! দেবযানী তুমি সুখী ত্রিজগৎ মাঝে । যাও তবে ইন্দ্রলোকে আপনার কাজে >ー)や বিদায় উচ্চশিরে গৌরব বহিয়া । স্বৰ্গপুরে উঠিবে আনন্দধবনি, মনোহর স্বরে বাজিবে মঙ্গল-শঙ্খ, সুরাঙ্গনাগণ করিবে তোমার শিরে পুষ্প বরিষণ সদ্যছিন্ন নন্দনের মন্দার-মঞ্জরী । স্বৰ্গপথে কলকণ্ঠে অপসরা কিন্নরী দিবে হুলুধ্বনি। আহা, বিপ্ৰ, বহুক্লেশে কেটেছে তোমার দিন বিজনে বিদেশে স্বকঠোর অধ্যয়নে। নাহি ছিল কেহ স্মরণ করায়ে দিতে স্থখময় গেহ, নিবারিতে প্রবাস-বেদন । অতিথিরে যথাসাধ্য পূজিয়াছি দরিদ্রকুটীরে যাহা ছিল দিয়ে । তাই বলে’ স্বগস্ট্রখ কোথা পাব, কোথা হেথা অনিন্দিত মুখ স্থরললনার। বড় আশা করি মনে আতিথ্যের অপরাধ র”বে না স্মরণে ফিরে গিয়ে স্থখলোকে । কচ স্থকল্যাণ হাসে প্রসন্ন বিদায় আজি দিতে হবে দাসে । >○? ', # o بعN শাপ বিদায়-অভিশাপ দেবযানী হাসি ? হায় সখা, এ ত স্বৰ্গপুরী নয় । পুষ্পে কীটসম হেথা তৃষ্ণা জেগে রয় মৰ্ম্মমাঝে, বাঞ্ছা ঘুরে বাঞ্ছিতেরে ঘিরে, লাঞ্ছিত ভ্রমর যথা বারস্বার ফিরে মুদিত পদ্মের কাছে। হেথা সুখ গেলে স্মৃতি একাকিনী বসি দীর্ঘশ্বাস ফেলে শূন্তগুহে ; হেথায় সুলভ নহে হাসি । যাও বন্ধু, কি হইবে মিথ্যা কাল নাশি,” উৎকষ্ঠিত দেবগণ ।— যেতেছ চলিয়া ? সকলি সমাপ্ত হ’ল দু’কথা বলিয়া ! দশশত বর্ষ পরে এই কি বিদায় ? কচ দেবযানী, কি আমার অপরাধ ? বিদায়-অভিশাপ শুনায়েছে বিহঙ্গকৃজন—তারে আজি এতই সহজে ছেড়ে যাবে ? তরুরাজি স্নান হ’য়ে আছে যেন, হের আজিকার বনচ্ছায়া গাঢ়তর শোকে অন্ধকার, কেঁদে ওঠে বায়ু, শুস্ক পত্র ঝরে পড়ে, তুমি শুধু চলে যাবে সহস্তে অধরে নিশান্তের স্থখস্বপ্নসম ? কচ দেবযানী, এ বনভূমিরে আমি মাতৃভূমি মানি, হেথা মোর নবজন্মলাভ । এর পরে নাহি মোর অনাদর,—চির প্রীতিভরে চিরদিন করিব স্মরণ । দেবযানী এই সেই বটতল, যেথা তুমি প্রতি দিবসেই গোধন চরাতে এসে পড়িতে ঘুমায়ে মধ্যাহ্নের খরতাপে ; ক্লান্ত তব কায়ে অতিথিবৎসল তরু দীর্ঘ ছায়াখানি দিত বিছাইয়া, স্থখস্থপ্তি দিত আনি \లిసి বিদায়-অভিশাপ ঝবর পল্লবদলে করিয়া বীজন মৃত্যুস্বরে ;–যেয়ে সখা, তবু কিছুক্ষণ পরিচিত তরুতলে বস’ শেষবার নিয়ে যাও সম্ভাষণ এ স্নেহছায়ার ;– দুই দণ্ড থেকে যাও, সে বিলম্বে তব স্বগের হবে না কোনো ক্ষতি । কচ অভিনব বলে’ যেন মনে হয় বিদায়ের ক্ষণে এই সব চিরপরিচিত বন্ধুগণে ; পলাতক প্রিয়জনে বাধিবার তরে করিছে বিস্তার সবে ব্যগ্র স্নেহভরে নূতন বন্ধনজাল, অন্তিম মিনতি, অপূর্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি । ওগো বনস্পতি, আশ্রিতজনের বন্ধু, করি নমস্কার । কত পান্থ বসিবেক ছায়ায় তোমার, কত ছাত্র কত দিন আমার মতন প্রচ্ছন্ন প্রচ্ছায়তলে নীরব নির্জন তৃণাসনে, পতঙ্গের মৃত্যুগুঞ্জস্বরে, করিবেক অধ্যয়ন ; প্রাতঃস্বান পরে У 8 o বিদায়-অভিশাপ ঋষিবালকেরা আসি সজল বল্কল শুকাবে তোমার শাখে ; রাখালের দল মধ্যাহ্নে করিবে খেলা, ওগো তারি মাঝে এ পুরানো বন্ধু যেন স্মরণে বিরাজে । দেবযানী মনে রেখে আমাদের হোমধেনুটিরে ; স্বৰ্গস্থধা পান করে সে পুণ্য গাভীরে ভুলো না গরবে । কচ স্থধা হ’তে স্থধাময় দুগ্ধ তা’র ; দেখে তা’রে পাপক্ষয় হয়, মাতৃরূপা, শান্তিস্বরূপিণী, শুভ্রকান্তি পয়স্বিনী । না মানিয়া ক্ষুধাতৃষ্ণ শ্রান্তি তা’রে করিয়াছি সেবা ; গহন কাননে শ্যামশম্প স্রোতস্বিনী তীরে, তারি সনে ফিরিয়াছি দীর্ঘ দিন ; পরিতৃপ্তিভরে স্বেচচ্ছামতে ভোগ করি’ নিম্নতট পরে অপৰ্য্যাপ্ত তৃণরাশি স্থস্নিগ্ধ কোমল— আলস্য-মন্থর তনু লভি’ তরুতল রোমস্থ করেছে ধীরে শুয়ে তৃণাসনে সারাবেলা ; মাঝে মাঝে বিশাল নয়নে Y 8 × সকৃতজ্ঞ শান্তদৃষ্টি মেলি’, গাঢ়স্নেহ চক্ষু দিয়া লেহন করেছে মোর দেহ । মনে রবে সেই দৃষ্টি স্নিগ্ধ আচঞ্চল, পরিপুষ্ট শুভ্ৰ তনু চিকণ পিচছল । দেবযানী আর মনে রেখো, আমাদের কলস্বনা স্রোতস্বিনী বেণুমতী । কচ তা’রে ভুলিব না । বেণুমতী, কত কুস্থমিত কুঞ্জ দিয়ে মধুকণ্ঠে আনন্দিত কলগান নিয়ে আসিছে শুশ্ৰষা বহি গ্রামবধূসম সদা ক্ষিপ্রগতি, প্রবাসসঙ্গিনী মম নিত্য শুভব্ৰতা । দেবযানী হায় বন্ধু, এ প্রবাসে আরো কোনো সহচরী ছিল তব পাশে, পরগৃহবাসদুঃখ ভুলাবার তরে যত্ন তা’র ছিল মনে রাত্রি দিন ধরে ;– হায় রে তুরাশা ৷ ১৪২ বিদায়-অভিশাপ কচ চিরজীবনের সনে তা’র নাম গাথা হ’য়ে গেছে । দেবযানী আছে মনে যেদিন প্রথম তুমি আসিলে হেথায় কিশোর ব্রাহ্মণ, তরুণ অরুণপ্রায় গৌরবর্ণ তনুখানি স্নিগ্ধ দীপ্তিটালা, চন্দনে চৰ্চিচত ভাল, কণ্ঠে পুষ্পমালা, পরিহিত পট্টবাস, অধরে নয়নে প্রসন্ন সরল হাসি, হোথা পুষ্পবনে দাড়ালে আসিয়া কচ তুমি সদ্য স্বান করি দীর্ঘ আর্দ্র কেশজালে, নব শুক্লাস্বরী জ্যোতিস্নাত মূৰ্ত্তিমতী উষা, হাতে সাজি একাকী তুলিতেছিলে নব পুষ্পরাজি পূজার লাগিয়া । কহিনু করি বিনতি “তোমারে সাজে না শ্রম, দেহ অনুমতি ফুল তুলে দিব দেবী ।” >8○ দেবযানী আমি সবিস্ময় সেই ক্ষণে শুধামু তোমার পরিচয় । বিনয়ে কহিলে,—আসিয়াছি তব দ্বারে তোমার পিতার কাছে শিষ্য হইবারে আমি বৃহস্পতিস্থত। কচ শঙ্কা ছিল মনে পাছে দানবের গুরু স্বগের ব্রাহ্মণে দেন ফিরাইয়া । দেবযানী আমি গেনু তার কাছে । হাসিয়া কহিনু—পিতা, ভিক্ষা এক আছে চরণে তোমার।—স্নেহে বসাইয়া পাশে শিরে মোর দিয়ে হাত শান্ত মৃদু ভাষে কহিলেন–কিছু নাহি আদেয় তোমারে । কহিলাম—বৃহস্পতিপুত্র তব দ্বারে এসেছেন, শিষ্য করি লহ তুমি তারে এ মিনতি। সে আজিকে হ’ল কত কাল তবু মনে হয় যেন সেদিন সকাল । S88 বিদায়-অভিশাপ কচ ঈর্ষ্যাভরে তিনবার দৈত্যগণ মোরে করিয়াছে বধ, তুমি দেবী দয়া করে’ ফিরায়ে দিয়েছ মোর প্রাণ, সেই কথা হৃদয়ে জাগায়ে র”বে চির-কৃতজ্ঞতা । দেবযানী কৃতজ্ঞতা ! ভুলে যেয়ো, কোনো দুঃখ নাই। উপকার যা করেছি হ’য়ে যাক ছাই— নাহি চাই দান প্রতিদান । স্থখস্মৃতি নাহি কিছু মনে ? যদি আনন্দের গীতি কোনো দিন বেজে থাকে অন্তরে বাহিরে, যদি কোনো সন্ধ্যাবেলা বেণুমতী-তীরে অধ্যয়ন-অবসরে বসি পুষ্পবনে অপূর্ব পুলকরাশি জেগে থাকে মনে ; ফুলের সৌরভসম হৃদয়-উচ্ছাস ব্যাপ্ত করে দিয়ে থাকে সায়াহ্ন আকাশ, ফুটন্ত নিকুঞ্জতল, সেই স্থখকথা মনে রেখো—দূর হয়ে যাক কৃতজ্ঞতা । যদি সখা হেথা কেহ গেয়ে থাকে গান চিত্তে যাহা দিয়েছিল সুখ ; পরিধান S 8 (? 5–10 বিদায়-অভিশাপ করে থাকে কোনো দিন হেন বস্ত্রখানি যাহা দেখে মনে তব প্রশংসার বাণী জেগেছিল, ভেবেছিলে প্রসন্ন অন্তর তৃপ্ত চোখে, আজি এরে দেখায় সুন্দর ; সেই কথা মনে কোরো অবসরক্ষণে স্থখস্বৰ্গধামে । কতদিন এই বনে দিক দিগন্তরে, আষাঢ়ের নীল জটা, শ্যামস্নিগ্ধ বরষার নবঘনঘটা নেবেছিল, অবিরল বৃষ্টিজলধারে কৰ্ম্মহীন দিনে সঘন কল্পনাভারে পীড়িত হৃদয় ; এসেছিল কতদিন অকস্মাৎ বসন্তের বাধাবন্ধহীন উল্লাস-হিল্লোলাকুল যৌবন-উৎসাহ, সঙ্গীত-মুখর সেই আবেগ প্রবাহ লতায় পাতায় পুষ্পে বনে বনান্তরে ব্যাপ্ত করি’ দিয়াছিল লহরে লহরে আনন্দপ্লাবন ; ভেবে দেখ একবার কত উষা, কত জ্যোৎস্না, কত অন্ধকার পুষ্পগন্ধঘন অমানিশা, এই বনে গেছে মিশে সুখে দুঃখে তোমার জীবনে,— তারি মাঝে হেন প্রাতঃ, হেন সন্ধ্যাবেলা, হেন মুগ্ধরাত্রি, হেন হৃদয়ের খেলা, >3Wう বিদায়-অভিশাপ হেন সুখ, হেন মুখ দেয় নাই দেখা যাহা মনে আঁকা র”বে চির চিত্ররেখা চিররাত্রি চিরদিন ? শুধু উপকার ! শোভা নহে, প্রীতি নহে, কিছু নহে আর ? কচ আর যাহা অাছে তাহা প্রকাশের নয় সখি ! বহে যাহা মৰ্ম্মমাঝে রক্তময় বাহিরে তা কেমনে দেখাব ? দেবযানী জানি সখে, তোমার হৃদয় মোর হৃদয়-আলোকে চকিতে দেখেছি কতবার, শুধু যেন চক্ষের পলকপাতে ; তাই আজি হেন স্পৰ্দ্ধা রমণীর । থাকো তবে, থাকো তবে, যেওনাকে । স্থখ নাই যশের গৌরবে । হেথা বেণুমতী-তীরে মোরা দুই জন অভিনব স্বগলোক করিব স্বজন এ নির্জন বনচছায়া সাথে মিশাইয়া নিভূত বিশ্রদ্ধ মুগ্ধ দুইখানি হিয়া নিখিল-বিস্মৃত । ওগো বন্ধু, আমি জানি রহস্য তোমার । 》8어 বিদায়-অভিশাপ কচ নহে, নহে, দেবযানী । দেবযানী নহে ? মিথ্যা প্রবঞ্চন ! দেখি নাই আমি মন তব ? জান না কি প্রেম অন্তর্যামী ? বিকশিত পুষ্প থাকে পল্লবে বিলীন, গন্ধ তা’র লুকাবে কোথায় ? কতদিন যেমনি তুলেছ মুখ, চেয়েছ যেমনি, যেমনি শুনেছ তুমি মোর কণ্ঠধ্বনি অমনি সর্ববাঙ্গে তব কম্পিয়াছে হিয়া,— নড়িলে হীরক যথা পড়ে ঠিকরিয়া আলোক তাহার। সে কি আমি দেখি নাই ? ধরা পড়িয়াছ বন্ধু বন্দা তুমি তাই মোর কাছে । এ বন্ধন নারিবে কাটিতে । ইন্দ্র আর তব ইন্দ্র নহে । শুচিস্মিতে, সহস্ৰ বৎসর ধরি এ দৈত্যপুরীতে এরি লাগি করেছি সাধনা ? >8b" বিদায়-অভিশাপ কেন নহে ? বিদ্যারি লাগিয়া শুধু লোকে দুঃখ সহে এ জগতে ? করেনি কি রমণীর লাগি কোনো নর মহাতপ ? পত্নীবর মাগি করেন নি সম্বরণ তপতার আশে প্রখর সূর্য্যের পানে তাকায়ে আকাশে অনাহারে কঠোর সাধনা কত ? হায়, বিদ্যাই তুলভ শুধু , প্রেম কি হেথায় এতই স্থলভ ? সহস্ৰ বৎসর ধরে’ সাধনা করেছ তুমি কি ধনের তরে আপনি জান না তাহা । বিদ্যা একধারে আমি একধারে—-কৰ্ভু মোরে কতু তা’রে চেয়েছ সোৎস্তুকে ; তব অনিশ্চিত মন দোহারেই করিয়াছে যত্নে আরাধন সঙ্গোপনে । আজ মোরা দোহে একদিনে আসিয়াছি ধরা দিতে । লহ সখী চিনে যারে চাও ! বল যদি সরল সাহসে “বিদ্যায় নাহিক সুখ, নাহি সুখ যশে, দেবযানী, তুমি শুধু সিদ্ধি মূৰ্ত্তিমতী, তোমারেই করিনু বরণ”, নাহি ক্ষতি > 8 ఏ বিদায়-অভিশাপ নাহি কোনো লজ্জা তাহে । রমণীর মন সহস্রবর্ষেরই সখা সাধনার ধন । কচ দেব-সন্নিধানে শুভে করেছিনু পণ মহাসঞ্জীবনী বিদ্যা করি’ উপাজ্জন দেবলোকে ফিরে যাব ; এসেছিনু তাই, সেই পণ মনে মোর জেগেছে সদাই, পূর্ণ সেই প্রতিজ্ঞা আমার, চরিতার্থ এতকাল পরে এ জীবন ; কোনো স্বার্থ করি না কামনা আজি । দেবযানী ধিক মিথ্যাভাষী শুধু বিদ্যা চেয়েছিলে ? গুরুগৃহে আসি’ শুধু ছাত্ররূপে তুমি আছিলে নির্জনে শাস্ত্র গ্রন্থে রাখি আঁখি রত অধ্যয়নে অহরহ ? উদাসীন আর সবা পরে ? ছাড়ি অধ্যয়নশালা বনে বনান্তরে । ফিরিতে পুষ্পের তরে, গাথি মাল্যখানি সহাস্য প্রফুল্ল মুখে কেন দিতে আনি SQ o বিদায়-অভিশাপ এ বিদ্যাহীনারে ? এই কি কঠোর ব্রত ? এই তব ব্যবহার বিদ্যার্থীর মত ? প্রভাতে রহিতে অধ্যয়নে, আমি আসি শূন্ত সাজি হাতে ল’য়ে দাড়াতেম হাসি, তুমি কেন গ্রন্থ রাখি উঠিয়া আসিতে, প্রফুল্ল শিশিরসিক্ত কুহুমরাশিতে করিতে আমার পূজা ? অপরাত্নকালে জলসেক করিতাম তরু-আলবালে, অামারে হেরিয়া শ্রান্ত কেন দয়া করি? দিতে জল তুলে ? কেন পাঠ পরিহরি পালন করিতে মোর মৃগশিশুটিকে ? স্বগ হ’তে যে সঙ্গীত এসেছিলে শিখে কেন তাহা শুনাইতে, সন্ধ্যাবেলা যবে নদীতীরে অন্ধকার নামিত নীরবে প্রেমনত নয়নের স্নিগ্ধচ্ছায়াময় দীর্ঘ পল্লবের মত ? অামার হৃদয় বিদ্যা নিতে এসে কেন করিলে হরণ স্বগের চাতুরাজালে ? বুঝেছি এখন, আমারে করিয়া বশ পিতার হৃদয়ে চেয়েছিলে পশিবারে—কৃতকার্য্য হ’য়ে আজ যাবে মোরে কিছু দিয়ে কৃতজ্ঞতা ; লব্ধমনোরথ অর্থী রাজদ্বারে যথা >Q> বিদায়-অভিশাপ দ্বারহস্তে দিয়ে যায় মুদ্রা দুই চারি মনের সন্তোষে ?— কচ হা অভিমানিনী নারী . সত্য শুনে কি হইবে সুখ ? ধৰ্ম্ম জামে, প্রতারণা করি নাই ; অকপট প্রাণে আনন্দ অন্তরে তব সাধিয়া সন্তোষ, সেবিয়া তোমারে যদি করে থাকি দোষ তা’র শাস্তি দিতেছেন বিধি । ছিল মনে কব না সে কথা ! বল কি হইবে জেনে ত্রিভুবনে কারো যাহে নাই উপকার, একমাত্র শুধু যাহা নিতান্ত আমার আপনার কথা । ভালবাসি কি না আজ সে তর্কে কি ফল ? আমার যা আছে কাজ সে আমি সাধিব | স্বগ আর স্বগ বলে’ যদি মনে নাহি লাগে, দূর বনতলে যদি ঘুরে মরে চিত্ত বিদ্ধমৃগসম, চিরতৃষ্ণা লেগে থাকে দগ্ধ প্রাণে মম সর্ববকাৰ্য্য মাঝে—তবু চলে যেতে হবে সুখশুন্য সেই স্বৰ্গধামে । দেব সবে >Qミ বিদায়-অভিশাপ এই সঞ্জীবনী বিদ্যা করিয়া প্রদান নূতন দেবত্ব দিয়া তবে মোর প্রাণ সার্থক হইবে ; তা’র পূর্বেব নাহি মানি আপনার স্থখ । ক্ষম মোরে, দেবযানী, ক্ষম অপরাধ । দেবযানী ক্ষমা কোথা মনে মোর ? করেছ এ নারীচিত্ত কুলিশ-কঠোর হে ব্রাহ্মণ ! তুমি চলে যাবে স্বগলোকে সগৌরবে, আপনার কৰ্ত্তব্য-পুলকে সৰ্ব্ব দুঃখশোক করি দূর-পরাহত ; আমার কি আছে কাজ, কি আমার ব্রত ? আমার এ প্রতিহত নিস্ফল জীবনে কি রহিল, কিসের গৌরব ? এই বনে বসে’ র’ব নতশিরে নিঃসঙ্গ একাকী লক্ষ্যহীন । যে দিকেই ফিরাইব তাঁখি সহস্ৰ স্মৃতির কাটা বিধিবে নিষ্ঠুর ; লুকায়ে বক্ষের তলে লজ্জা অতি ক্রুর বারম্বার করিবে দংশন । ধিক ধিক, কোথা হ’তে এলে তুমি, নিৰ্ম্মম পথিক, >Q○ বিদায়-অভিশাপ বসি’ মোর জীবনের বনচছায়াতলে দণ্ড দুই অবসর কাটাবার ছলে জীবনের সুখগুলি—ফুলের মতন ছিন্ন করে নিয়ে—মালা করেছ গ্রন্থন একখানি সূত্র দিয়ে ; যাবার বেলায় সে মালা নিলে না গলে, পরম হেলায় সেই সূক্ষ সূত্রখানি দুই ভাগ করে’ ছিড়ে দিয়ে গেলে । লুটাইল ধূলিপরে এ প্রাণের সমস্ত মহিমা । তোমা পরে এই মোর অভিশাপ—যে বিদ্যার তরে মোরে কর অবহেলা, সে বিদ্যা তোমার সম্পূর্ণ হ’বে না বশ ;–তুমি শুধু তা’র ভারবাহী হ’য়ে র’বে, করিবে না ভোগ, শিখাইবে, পারিবে না করিতে প্রয়োগ । কচ আমি বর দিমু, দেবী, তুমি মুখী হবে । । ভুলে যাবে সৰ্ব্বগ্লানি বিপুল গৌরবে । >(?8