বিদ্যাসাগর চরিত (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর)

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
 

বিদ্যাসাগর চরিত

স্বরচিত

 

শ্রীনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্কলিত

 

কলিকাতা

সংস্কৃত যন্ত্র।

সংবৎ ১৯৪৮।

PUBLISHED BY THE CALCUTTA LIBRARY,

No. 25, Sukeas Street, Calcutta.

1891.

 

 

PRINTED BY UPENDRA NATHA CHAKRAVARTI,
AT THE SANSKRIT PRESS,
No. 62, Amherst Street, Calcutta.
1891



বিজ্ঞাপন

 

পিতৃদেব, পূজ্যপাদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বীয় “আত্মজীবনচরিত” লিখিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। কিন্তু নিতান্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, সম্পূর্ণ করা দূরে থাকুক, দুই পরিচ্ছেদের অধিক তিনি লিখিয়া যাইতে পারেন নাই। শারীরিক অসুস্থতা ও নানাকার্য্যে ব্যস্ততা নিবন্ধন তাঁহার অনেক আরব্ধ গ্রন্থ অসমাপ্ত পড়িয়া আছে। তাঁহার আত্মজীবনচরিতও তাহদের অন্যতম।

 “আত্মজীবনচরিতের” অতি অল্প ভাগই তিনি লিখিয়া গিয়াছেন। তাঁহার পূৰ্ব্বপুরুষগণের সঙ্ক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত, ও স্বীয় শৈশবের সামান্য বিবরণ মাত্র, এই দুই পরিচ্ছেদে লিপিবদ্ধ আছে। যদি তিনি, বিধবাবিবাহের আন্দোলনের সময় পর্য্যন্ত, অন্ততঃ তাঁহার কৰ্ম্ম-জীবনের প্রারম্ভ পৰ্য্যন্ত, লিখিয়া যাইতে পারিতেন, তাহা হইলেও আমরা পর্য্যাপ্ত মনে করিতাম। কারণ, তাহার পর হইতে তিনি সমাজে বিলক্ষণ প্রতিপন্ন হইয়াছিলেন, এবং পরবর্ত্তী জীবনে, তিনি অনেকের ঘনিষ্ট সংস্রবে আসিয়াছিলেন। সুতরাং, সে সময়ের ঘটনা-পরম্পরা, তিনি নিজে না লিখিয়া গেলেও, জানিবার সম্ভাবনা ছিল। যদি তিনি তাঁহার ছাত্রজীবনের ইতিহাস নিজে লিখিয়া যাইতে পারিতেন, তাহা হইলেও তাঁহার জীবনচরিত সম্পূর্ণ করা সহজ হইত।

 তিনি, প্রায়ই, আত্মীয় ও বান্ধবগণের নিকটে, স্বীয় জীবনের অনেক ঘটনার গল্প করিতেন; আমরাও নানাসূত্রে কিছু কিছু অবগত আছি। তদ্ভিন্ন, স্বৰ্গীয় পিতৃদেব, অনেক কাগজ পত্র রাখিয়া গিয়াছেন। সেই সমুদয় অবলম্বন করিয়া ভবিষ্যতে তাঁহার জীবনচরিত লিখিত হইতে পারিবেক। কিন্তু তিনি নিজে লিখিলে যেরূপ হইত, আর কিছুতেই সেরূপ হইবার সম্ভাবনা নাই, ইহা অল্প আক্ষেপের বিষয় নহে।

 আমাদের ইচ্ছা ছিল, ভবিষ্যতে যখন আমরা তাঁহার জীবনচরিত ও চিঠিপত্র প্রকাশিত করিব, তখন, তাহার প্রারম্ভ ভাগে, তাঁহার আত্মজীবনচরিতের এই দুইটি পরিচ্ছেদ গ্রথিত করিয়া দিব। কিন্তু, স্বগীয় পিতৃদেবের আত্মীয় স্বজনগণ, ইতিপূৰ্ব্বে শুনিয়াছিলেন যে, তিনি আত্মজীবনচরিত লিখিতেছেন। তাঁহাদের ইচ্ছা ও অনুরোধ এই যে, তিনি যতটুকু লিখিয়া রাখিয়া গিয়াছেন, আপাততঃ তাহাই প্রকাশিত হউক। তদনুরোধে, তদীয় আত্মজীবনচরিতের এই দুই পরিচ্ছেদ এত শীঘ্র প্রকাশিত হইল।

 এই দুই পরিচ্ছেদ “বিদ্যাসাগর চরিত” নামে অভিহিত হইল। আপাততঃ এই স্বল্পপরিমিত আত্মজীবনচরিত তদীয় জীবনচরিতের প্রথম অংশ স্বরূপ পরিগণিত হইবে। ভবিষ্যতে, তাঁহার জীবনের অবশিষ্ট ভাগের বিবরণ, স্বতন্ত্র প্রকাশিত হইবে।


কলিকাতা
৯ই আশ্বিন, সংবৎ ১৯৪৮।

শ্রীনারায়ণ শর্ম্মা।

 

 


পরিচ্ছেদসমূহ (মূল গ্রন্থে নেই)

এই লেখাটি ১ জানুয়ারি ১৯২৩ সালের পূর্বে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত, কারণ উক্ত লেখকের মৃত্যুর পর কমপক্ষে ১০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে অথবা লেখাটি ১০০ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছে ।