বিবিধ/আদি ব্রাহ্ম সমাজ ও “নব হিন্দু সম্প্রদায়”

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জাহি বুলি বা শনিয়াছেন। ভিতরে সর্বত্রই মন%ষ্য-প্রকৃতি এক আমরা কি৪িৎ জ্ঞানলাভ করিলে, অজ্ঞানীকে যতটা ঘশা করি, বোধ হয়ততটার কোন উপযক্ত কারণ নাই। অজ্ঞ এবং জ্ঞানী উভয়ে কান পাতিয়া শনিতে পারেন আজকার দিনে এ বাঙ্গালা দেশে এমন অনেক বলিবার কথা আছে। এ শিক্ষা শিখাইবে কে? এ পত্রের শিবোভা:ে ত সম্পাদকের নাম নাই। থাকিবারও কোন প্রয়োজন দেখি না। সম্পাদক কে, পাঠকের জানিবারও কোন প্রয়োজন নাই: কেন না পাঠকেরা প্রবন্ধ পড়িবেন, সম্পাদককে পড়িবেন না। সম্পাদকের এমন কোন দাবি দাওয়া নাই যে, তিনি আত্মপরিচয় দিয়া পাঠকদিগের সম্মুখীন হইতে পারেন। তাঁহার কাজ, যাঁহারা বিদ্বান, ভাবক, বসজ্ঞ, লোকহিতৈষী এবং সলেখক, তাঁহাদের লিখিত প্রবন্ধ সকল সংগ্রহ করিয়া পাঠকদিগকে উপহার প্রদান করেন। এ কাজ তিনি পারিবেন, এমন ভরসা করেন। আমরা মনষ্যের নিকট সাহায্যের ভরসা পাইয়াছি। এক্ষণে যিনি মননষ্যের জ্ঞানাতীত, যাঁহার নিকট মনষ্যেশ্রেষ্ঠও কীটাণমাত্র. তাঁহার সাহায্যের প্রার্থনা করি। সকল সিদ্ধিই তাঁহার প্রসাদমাত্র এবং সকল অসিদ্ধি তাঁহার কৃত নিয়মলঙঘনেরই ফল। ‘প্রচাব', শ্রাবণ ১২৯১. পকৃ. ১-৬

অাদি ব্রাহ্ম সমাজ ও ‘নব হিন্দ, সম্প্রদায়'


বাব; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রতি একটি বক্ততা করেন। তাহা অগ্রহায়ণের "ভারতীতে প্রকাশিত হইয়াছে। প্রস্তাবটির শিরোনাম, "একটি পরোতন কথা" বর্তৃতাটি শনি নাই, মদ্রিত প্রবন্ধটি দেখিয়াছি। নিবাক্ষরকারী লেখক তাহার লক্ষ্য ইহা আমার পক্ষে কিছই নতন নহে। রবীন্দ্ৰ বাব যখন ক, খ, শিখেন নাই, তাহার পর্ব হইতে এরাপ সখে দঃখ আমার কপালে অনেক ঘটিয়াছে। আমার বিরদ্ধে কেহ কখন কোন কথা লিখিলে বা বস্তৃতায় বলিলে এ পর্যন্ত কোন উত্তর করি নাই। কখন উত্তর করিবার প্রয়োজন হয় নাই। এবার উত্তর করিবার একট প্রয়োজন পড়িয়াছে। না করিলে যাহারা আমার কথায় বিশ্বাস করে, (এমন কেহ থাকিলে থাকিতে পারে) তাহাদের অনিষ্ট ঘটিবে। কিন্তু সে প্রয়োজনীয় উত্তর দই ছলে দেওয়া যাইতে পারে। রবীন্দু বাবর কথার উত্তরে ইহার বেশী প্রয়োজন নাই । রবীন্দ্ৰ বাব প্ৰতিভাশালী, সবুশিক্ষিতসলেখক, মহৎ স্বভাব, এবং আমার বিশেষ প্রীতি, যন্ত্র এবং প্রশংসার পাত্র। বিশেষতঃ তিনি তরণেবয়ক। যদি তিনি দনই একটা কথা বেশী বলিয়া থাকেন, তাহা নীরবে শনাই আমার কৰ্ত্তব্য তবে যে এ কয় পাতা লিখিলাম তাহার কারণ, এই রবির পিছনে একটা বড় ছায়া দেখিতেছি রবীন্দ্র বাব, আদি ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক। সম্পাদক না হইলেও আদি ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে তাঁহার সবন্ধ যে বিশেষ ঘনিষ্ঠ, তাহা বলা বাহ-ল্য। বস্তৃতাটি পড়িয়া আমার আদি ব্রাহ্ম সমাজের সবন্ধে কতকগনুলি কথা মনে পড়িল। আদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকদিগের নিকট আমার কিছ নিবেদন আছে। সেই জন্যই লিখিতেছি। কিন্তু নিবেদন জানাইবার পর্কে পাঠককে একটা রহস্য বঝাইতে হইবে। গত শ্রাবণ মাসে, "নবজীবন” প্রথম প্রকাশিত হয়, তাহাতে সম্পাদক একটি সচনা লিখিয়া ছিলেন। সচনায়, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রশংসা ছিল, বঙ্গদর্শনেরও প্রশংসা ছিল। আমাদের দর্ভাগ্যক্রমে তত্ত্ববোধিনীর অপেক্ষা বঙ্গদর্শনের প্রশংসাটা একটু বেশী ঘোরাল হইয়া উঠিয়াছিল তার পর সঞ্জীবনীতে একখানি প্রেরিত পত্র প্রকাশিত হইল। পরখানির উদ্দেশ্য নবজীবন এবং নবজীবনের সচেনাকে গালি দেওয়া। এই পত্রে লেখকের বাক্ষর ছিল না, কিন্তু অনেকেই জানে যে, আদি ব্রাহ্ম সমাজের এক জন প্রধান লেখক, ঐ পত্রের প্রণেতা। তিনি আমার বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র এবং শনিয়াছি, তিনি নিজে ঐ পত্রখানির জন্য পরে অন্যতাপ করিয়াছিলেন, অতএব নাম প্রকাশ করিলাম না। যদি কেহ এই সকল কথা অস্বীকার করেন, তবে নাম প্রকাশ করিতে বাধ্য হইব। ব ২২৫৮ ১৯১৩ ৰফিস রচনাবলী নবজীবনসম্পাদক অক্ষয় বাব, এ পত্রের কোন উত্তর দিলেন না। কিন্তু নবজীবনের আর এক জন লেখক এখানে চুপ করিয়া থাকা উচিত বোধ করিলেন না। আমার প্রিয় বন্ধ বাব চন্দ্ৰনাথ বস, ঐ পত্রের উত্তর দিয়াছিলেন। এবং গালাগালির রকমটা দেখিয়া "ইতর" শব্দটা লইয়া একট, নাড়াচাড়া করিয়াছিলেন তদত্তরে সঞ্জীবনীতে আর একখানি বেনামী পত্র প্রকাশিত হইল। নাম নাই বটে, কিন্তু নামের আদ্য অক্ষর ছিল--“র' লোকে কাজেই বলিল পত্ৰখানি রবীন্দ্র বাবার লেখা। রবীন্দ্র বাব ইত্তর শব্দটা চন্দ্র বাবাকে পালটাইয়া বলিলেন । নবজীবনের পনর দিন পরে, প্রচারের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হইল। প্রচার, আমার সাহায্যে ও আমার উৎসাহে প্রকাশিত হয়। নবজীবনে আমি হিন্দ, ধৰ্ম-যে হিন্দধৰ্ম‘ আমি গ্রহণ করি—তাহার পক্ষ সমর্থন করিয়া নিয়মক্রমে লিখিতেছিলাম। প্রচারেও ঐ বিষয়ে নিয়মক্রমে লিখিতে লাগিলাম। সেই ধৰ্ম্ম অদি ব্রাহ্ম সমাজের অভিমত নহে। যে কারণেই হউক, প্রচার প্রকাশিত হইবার পর আমি আদি ব্রাহ্ম সমাজ-ভুক্ত লেখকদিগের দ্বারা চারি বার আক্রান্ত হইয়াছি। রবীন্দ্র বাবর এই আক্রমণ চতুর্থ আক্রমণ। গড় পড়তায় মাসে একটি। এই সকল আক্রমণের তীব্রতা একট: পরদা পরদা উঠিতেছে। তাহার একট. পরিচয় আবশ্যক প্রথম। তত্ত্ববোধিনীতে "নব্য হিন্দু সম্প্রদায়" এই শিরোনামে একটি প্রবন্ধে আমার লিখিত ধৰ্ম্মজিজ্ঞাসা" সমালোচিত হয়। সমালোচনা আক্রমণ নহে। এই লেখক বিজ্ঞ, গম্ভীর, এবং ভাবক আমার মাহা বলিবার আছেতাহা সব শনিয়া. যদি প্রথম সংখ্যার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করিয়া, তিনি সমালোচনায় প্রবত্ত হইতেন, তবে তাঁহ৷র কোন দোষই দিতে পারিতাম না। তিনি যদি অকারণে আমার উপর নিরীশ্বরবাদ প্রভৃতি দোষ আরোপিত না করিতেন, তবে আজ তাঁহার প্রবন্ধ এই গণনার ভিতর ধরিতে পারিতাম না। তিনি ষে দয়ার সহিত সমালোচনা করিয়াছিলেন. তাহাতে তিনি আমার ধন্যবাদের পাত্র। বোধ হয় বলায় দোষ নাই যে, এই লেখক বয়ং তত্ত্ববোধিনী-সম্পাদক বাব দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বিতীয়। তত্ত্ববোধিনীর ঐ সংখ্যায় "নতন ধৰ্মমত" ইতিশীৰ্ষক দ্বিতীয় এক প্ৰবন্ধে অন্য লেখকের দ্বারা প্রচার ও নবজীবনের প্রথম সংখ্যায় ধর্ম সবন্ধে আমার যে সকল মত প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহা সমালোচিত নহে—তিরকৃত হয়। লেখকের নাম প্রবন্ধে ছিল না। লেখক কে তাহা জানি না, কিন্তু লোকে বলে, উহা বিজ্ঞবর শ্রীক্ত বাব, রাজনারায়ণ বসরে লেখা। তিনি আদি ব্রাহ্ম সমাজের সভাপতি। উহাতে "নাস্তিক" "জঘন্য কোমত মতাবলম্বী" ইত্যাদি ভাষায় অভিহিত হইয়াছিলাম। এই লেখক যিনিই হউন, বড় উদার-প্রকৃতি। তিনি উদারতা প্রয:ক্ত, ইংরেজেরা যাহাকে বলির ভিতর হইতে বিড়াল বাহির করা বলে, তাহাই করিয়া বসিয়াছেন। একট, উদ্ধত করিতেছি। "ধর্মজিজ্ঞাসা"-প্রবন্ধলেখক তাঁহার প্রস্তাবের শেষে বলিয়াছেন "যে ধর্মের তত্ত্বজ্ঞানে অধিক সত্যউপাসনা যে ধর্মের সর্বাপেক্ষা চিত্তশদ্ধিকর এবং মনোব্যক্তি সকলের দৃত্তিদায়ক, যে ধন্মের নীতি সর্বাপেক্ষা ব্যক্তিগত এবং জাতিগত উন্নতির উপযোগী. সেই ধৰ্মই অবলম্বন করিবে। সেই ধৰ্ম্ম সন্ধ শ্রেষ্ঠ। হিন্দধেরে সার ব্রাহ্মধর্মই এই সকল লক্ষণাক্রান্ত আমাদিগের ব্রাহ্মধর্ম গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে তত্ত্বজ্ঞান বিষয়ক ষে সকল শ্লোক আছে, সকলই সত্য ব্রহ্মোপাসনা যেমন চিত্তশ:দ্ধিকর ও মনোব,ত্তি সকলের গত্তি দায় এক, এমন অন্য কোন ধর্মের উপাসনা নহে। ঐ ধর্মের নীতি যেমন ব্যক্তিগত এবং জাতিগত উন্নতির উপযোগী, এমন অন্য কোন ধর্মের নীতি নহে। ব্রাহ্মধর্মই বঙ্গদেশের শিক্ষিত লোক মাত্রেরই গ্রহণযোগ্য। তাহাতে জাতীয় ভাব ও সত্য উভয়ই রক্ষিত হইয়াছে। উহা দেশের উন্নতির সঙ্গে সমসঙ্গত। উহা সমস্ত বঙ্গ দেশের লোক গ্রহণ করিলে বঙ্গ দেশের অশেষ কল্যাণ সাধিত হইবে।” (তত্ত্ববোধিনী-ভাদ্র, ৯১ পাঠা। ইহার পরে আবার নতন হিন্দুধর্ম সংকারের উদ্যম, নবজীবন ও প্রচারের ধন্টতার পরিচয় বটে তৃতীয়। তৃতীয় আক্রমণ, তত্ত্ববোধিনীতে নহে, এবং ধর্ম সম্বন্ধে কোন বিচারেও নহে প্রচারের প্রথম সংখ্যায় “বাঙ্গালার কলক বলিয়া একটি প্রবন্ধ লিখিত হয়। নব্যভারতে বাব কৈলাসচন্দ্র সিংহ নামে একজন লেখক উহার প্রতিবাদ করেন। তত্ত্ববোধিনীতে দেখিয়াছি যে, ইনি আদি ব্রাহ্মসমাজের সহকারী সম্পাদক। শনিয়াছি ইনি ঘোড়াসাঁকোর ঠাকুর মহাশরদিগের ৯১৪ অদি ভ্ৰাম সমাজ এক জন ভৃত্য-নাএব কি কি আমি ঠিক জানি না। যদি আমার ভুল হইয়া থাকে, . ভরসা করি, ইনি আমাকে মার্জ না করিবেন। ইনি সকল মাসিক পত্রে লিখিয়া থাকেন, এবং ই‘হার কোন কোন প্রবন্ধ পড়িয়াছি। আমার কথার দই এক স্থানে কখন কখন প্রতিবাদ করিয়াছেন। দেখিয়াছি। সে সকল স্থলে কথন অসৌজন্য বা অসভ্যতা দেখি নাই। কিন্তু এবারকার এই প্রবন্ধে ভাষাটা সহসা বড় না এবি রকম হইয়া উঠিয়াছে। পাঠককে একট, উপহার দিতেছি ‘হে বঙ্গীয় লেখক! যদি ইতিহাস লিখিতে চাও, তবে রাশি রাশি গ্রন্থ অধ্যয়ন কর আবিকৃত শাসনপত্রগলির মল শ্লোক বিশেষরপে আলোচনা করকাহারও অন্যবাদের প্রতি অন্ধভাবে নির্ভর করিও না। উইলসনবেবার, মেকমলার কনিংহাম প্রভৃতি পণ্ডিতগণের পদলেহন করিলে কিছই হইবে না। কিবা মিওর, ভাউদাজি, মেইন, মির, হাল্টার প্রভৃতির কুসন-কাননে প্রবেশ করিরা তকরবত্তি অবলম্বন করিও না। স্বাধীন ভাবে গবেষণা কর না পার গরে গিরি করিও না নবাভারত--ভাদ্র. ২২৫ পষ্ঠা এখন এই লেখকের কথা উখাপন করার আমার এমন উদ্দেশ্য নাই যে, কেহ বঝেন, প্রভু দিগের আদেশানসোরে ভূতের ভাষার এই বিকৃতি ঘটিয়াছে। তিনি আদি ব্রাহ্ম সমাজের সহবার সম্পাদক বলিয়াই. তাঁহার উল্লেখ করিলাম চতুথ আক্রনগ, আদি ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদকের দ্বারা হইয়াছে গালিগালাজের বড় ছড়াছড়ি বড় বাড়াবাড়ি আছে। আমরা প্রায়ই দেখিয়াছি, গালিগালাজে প্রভুর অপেক্ষা ভূতা মজব এখানে বন্সিতে হইবে, প্রভূই মজবদ্ধত তবে প্রভু, ভূতোর মত মেছোহাটা হইতে গালি আমদানি করে নাই: প্ৰাথ ন মন্দির হইতে আনিয়াছেন। উদাহরণ-."অসাধারণ প্রতিভা ইচ্ছা করিলে দেশের উন্নতির মুল শিথিল করিতে পারেন, কিন্তু সত্যের মল শিথিল করিতে পারেন না। আরও বাড়াবাড়ি আছে। মেছোহাটার ভাষা এত দর পৌছে না। পাঠক মনে করিবেন, রবীন্দ্র বাব, তরণেষয়ক বলিয়াই এত বাড়াবাড়ি হইয়াছে। তাহা নহে। সরে কেমন পদা পরদা উঠিতেছে, 'তাহ। দেখাইয়া আসিয়ছি। সমাজের সহকারী সম্পাদকের কড়ি মধ্যমের পর, সম্পাদক হয়: (৪ মে না উঠিলে | সরে লাগাইতে পারিবার সম্ভাবনা ছিল না। রবীন্দ্ৰ বাব বলেন যে, আমার এই মত যে, সত্য ত্যাগ করিয়া প্রয়োজন মতে মিথ্যা কথা বলিবে। বরং আরও বেশী বলেন: পাঠক বিশ্বাস না করেন, তাঁহার লিপি উদ্ধতে করিতেছি, পড়ন। আমাদের দেশের প্রধান লেখক প্রকাশ্য ভাবে. অসকোচে, নির্ভয়ে, অসত্যকে সত্যের সহিত একাসনে বসাইয়াছেন, সত্যের পর্ণ সত্যতা অস্বীকার করিযাছেন, এবং দেশের সমস্ত পাঠক নীরবে নিস্তব্ধভাবে শ্রবণ করিয়া গিয়াছেন। সাকার নিরাকারের উপাসনা ভেদ লইয়াই সকলে কোলাহল করিতেছেন, কিন্তু অলক্ষ্যে ধর্মের ভিত্তিমলে যে আঘাত পড়িতেছে, সেই আঘাত হইতে ধৰ্ম্ম কে ও সমাজকে রক্ষা করিবার জন্য কেহ দণ্ডায়মান হইতেছেন না এ কথা কেহ ভাবিতেছেন না যে, যে সমাজে প্রকাশ্য ভাবে কেহ ধর্মের মলে কুঠারাঘাত করিতে সাহস করে সেখানে ধর্মের মল না জানি কতখানি শিথিল হইয়া গিয়াছে। আমাদের শিরার মধ্যে মিথ্যাচরণ ও কাপরে-যতা যদি রক্তের সহিত সঞ্চালিত না হইত, তাহা হইলে, কি আমাদের দেশের মখ্য লেখক পথের মধ্যে দাঁড়াইয়া গদ্ধা সহকারে সত্যের বিরদ্ধে একটি কথা কহিতে সাহস করেন ? ইত্যাদি ইত্যাদি। ( ভারতী--অগ্রহায়ণ, ৩৪৭ পঃ) সর্বনাশের কথা বটে. আদি ব্রাহ্ম সমাজ না থাকিলে আমার হাত হইতে দেশ রক্ষা পাইত। কি না সন্দেহ। হয়ত পাঠক জানিতে ইচ্ছা করিতেছেন, কবে এই ভয়ংকর ব্যাপার ঘটিল! কবে আমি পথের মধ্যে দাঁড়াইয়া গদ্ধা সহকারে, লোক ডাকিয়া বলিয়াছি, “তোমরা ছাই ভস্ম সত্য ভাসাইয়া দাও-মিথ্যার আরাধনা কর।” কথাটার উত্তর দিতে পারিলাম না। ভরসা ছিল,

কৈলাস বাবর প্রবন্ধেই প্রকাশ আছে যে, তিনি জানিয়াছেন যে প্ৰবন্ধ আমার লিখিত এবং আমিই তাঁহার লক্ষ্য। ২২৫ পষ্ঠা প্রথম স্তম্ভের নোট এবং অন্যান্য স্থান পড়িয়া দেখার ইহা যে আমার লেখা তাহা অনেকেই জানে, এবং কোন কোন সবাদপত্রেও সে কথা প্রকাশিত হইয়াছিল। কচ্ছতার সমরে শ্রোতারা এই শব্দটা কিপে 'মিয়াছিলেন ৯১৫ I রবীন্দ্র বাবড় এ বিষয়ে সহায়তা করিবেন, কিন্তু বড় করেন নাই। তাঁহার কড়ি স্তম্ভ বস্তৃতার মধ্যে মোটে ছয় ছয় প্রমাণ প্রয়োগ খপূজিয়া পাইলাম। তাহা উদ্ধতে করিতেছি লেখক মহাশয় একটি হিন্দর আদশ কল্পনা করিয়া বলিয়াছেন, "তিনি যদি মিথ্যা কহেন, তবে মহাভারতীয় কৃফোক্তি অরণ পর্বক যেখানে লোকহিতার্থে মিথ্যা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ যেখানে মিথ্যাই সত্য হয়, সেইখানেই মিথ্যা কথা কহিয়া থাকেন প্রমাণ প্রয়োগ এই পর্যত্তি; তার পর আদি ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক বলিতেছেন, "কোনখানেই মিথ্যা সত্য হয় না; শ্রদ্ধাস্পদ বকিম বাব বলিলেও হয় না, বয়ং শ্ৰীকৃষ্ণ বলিলেও হয় না। আমি বলিলেও মিথ্যা সত্য না হইতে পারে, গ্রীকৃষ্ণ বলিলেও না হইতে পারে, কপনা" সম্পাদক মহাশয়ের মৰুখ-নিঃসত এই চারিটি শব্দ পাঠককে উপহার দিতেছি প্রথম “কল্পনা” শব্দটি সত্য নহে। আমি আদশ হিন্দ, "কল্পনা" করিয়াছি, এ কথা আমার লেখার ভিতর কোথাও নাই। আমার লেখার ভিতর এমন কিছই নাই যে, তাহা হইতে এমন অন্যমান করা যায়। প্রচারের প্রথম সংখ্যায় হিন্দু ধর্ম" শীৰ্ষক প্ৰবন্ধ হইতে কথাটা রবীন্দ্র বাব, তুলিয়াছেন। পাঠক ঐ প্রবন্ধ পড়িয়া দেখিবেন যে, “কপনা" নহে। আমার নিকট অনিতে পারি। পট্টই বলিয়াছি যে, আমি ঐ ব্যক্তিকে দেখিয়াছি। ঐ ব্যক্তির পবিচয় দিয়া বলিয়াছি, “আর একটি হিন্দরে কথা বলি।” ইহাতে কলপনা বঝায় না, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় বঝোয়। তার পর "আদৰ্শ” কথাটি সত্য নহে। “আদৰ্শ” শব্দটা আমার উক্তিতে নাই। ভাবেও বাঝায় না। যে ব্যক্তি কখন কখন সরো পান করে, সে ব্যক্তি আদর্শ হিন্দ, বলিয়া গহীত হইল। কি প্রকারে ? এই দনুইটি কথা “অসত্য" বলিতে হয়। অথচ সত্যের মহিমা কীৰ্ত্তনে লাগিয়াছে। অতএব। কৃষ্ণের আজ্ঞায় মিথ্যা সত্য হউক না হউক, অদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকের বাক্যবলে হইতে পারে। প্রয়োজন হইলে এরপ উদাহরণ আরও দেওয়া যাইতে পারে। কিন্তু রবীন্দ্র বাবর সঙ্গে এরপ বিচারে আমার প্রবত্তি নাই। আমার যদি মনে থাকিত যে, আমি রবীন্দ্র বাবর প্রতিবাদ করিতেছি, তাহা হইলে এতটকুও বলিতাম না। এই রবির পিছনে যে ছায়া আছেআমি তাহারই প্রতিবাদ করিতেছি, বলিয়া এত কথা বলিলাম। এখন এ সকল বাজে কথা ছাড়িয়া দেওয়া যাক। স্থল কথার মীমাংসায় প্রবত্ত হওয়া যেখানে মিথ্যাই সত্য হয়”—এ কথার কোন অর্থ আছে কি ? যদি বলা যায়, "একটা চতুকোণ গোলক”—তবে অনেকেই বলিবেন, এমন কথার অর্থ নাই। যদি রবীন্দ্র বাব; আমার উক্তি তাই মনে করিতেন, তবে গোল মিটিত। তাঁহার বন্ধুতাও হইত না-আমাকেও এ পাপ প্ৰবন্ধ লিখিতে হইত না। তাহা নহে। ইহা অর্থ র্যক্ত বাক্য বটে, এবং তিনিও ইহাকে অর্থ র্যক্ত বাক্য মনে করিয়াইহার উপর বস্তৃতাটি খাড়া করিয়াছেন। যদি তাই, অবে জিৰ্জাসা করিতে হয়তিনি এমন কোন চেষ্টা করিয়াছেন কি, যাহাতে। লেখক যে অর্থে এই কথা ব্যবহার করিয়াছিল, সেই অর্থটি তাঁহার হদয়ঙ্গম হয় ? যদি তাহা না করিয়া থাকেন, তবে গালিই তাঁহার উদ্দেশ্যসত্য তাঁহার উদ্দেশ্য নহে। তিনি বলিবেন, "এমন কোন চেষ্টার প্রয়োজনই হয় নাই। লেখকের যে ভাব, লেখক নিজেই স্পষ্ট করিয়া বঝাইয়া দিয়াছেন-বলিয়াছেন, যেখানে লোকহিতার্থে মিথ্যা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। ঠিক কথা কিন্তু এই কথা বলিয়াই আমি শেষ করি নাই। মহাভারতীয় একটি কৃফোক্তির উপর বরাত দিয়াছি। এই কৃফোক্তিটি কি, রবীন্দ্র বাব, তাহা পড়িয়া দেখিয়াছেন কি? যদি না দেখিয়া থাকেন, তবে কি প্রকারে জানিলেন যে, আমার কথার ভাবার্থ তিনি বাঝিয়াছেন। প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্ৰ বাব বলিতে পারেন, “অষ্টাদশপ মহাভারত সমন্দ্রবিশেষ, আমি কোথায় সে বৃকোক্তি ইন্দ্ৰজিয়া পাইব ? তুমি ত কোন নিদর্শন লিখিয়া দাও নাই।” কাজটা রবীন্দ বাবর পক্ষে বড় কঠিন ছিল না। ১৫ই প্রাক আমার ঐ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তার পর, অনেক বার রবীন্দু বাবরে সঙ্গে সাক্ষাৎ হইয়াছে। প্রতিবার অনেকস ধরিয়া কথাবার্তা হইয়াছে। জাদি স্থা সমাজ কথাবার্তা প্রায় সাহিত্য বিষয়েই হইয়াছে। এত দিন কথাটা জিজ্ঞাসা করিলে আমি দেখাইয়া দিতে পারিতাম, কোথায় সে কৃফোক্তি। রবীন্দ্ৰ বাবর অনসেন্ধানের ইচ্ছা থাকিলে, অবশ্য জিজ্ঞাসা করিতেন ঐ কূফোক্তির মৰ্ম পাঠককে এখন সংক্ষেপে বঝাই। কর্গের ঘদ্ধে পরাজিত হইয়া যধিষ্ঠির শিবিরে পলায়ন করিয়া শইষা আছেন। তাঁহার জন্য চিন্তিত হইয়া কৃষ্ণাঙ্গ নে সেখানে উপস্থিত হইলেন। যখুধিষ্ঠির কণের পরাক্রমে কাতর ছিলেন. ভাবিতেছিলেন, অজু নৈ এতক্ষণ কৰ্ণ কে বধ করিয়া আসিতেছে। অর্জ মন আসিলে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কৰ্ণ বধ হইয়াছে কি না। অজ্ঞ নে বলিলেন, না, হয় নাই। তখন যধিষ্ঠির রাগাদ্ধ হইয়া, অঞ্জনের অনেক নিন্দা করিলেন, এবং অজর্জ কুনের গাড়ীবের অনেক নিন্দা করিলেন। অর্জনের একটি প্রতিজ্ঞা ছিল-যে গাণ্ডীবের নিন্দা করিবে, তাহাকে তিনি বধ করিবেন। কাজেই এক্ষণে “সত্য” রক্ষার -মনে করিলেন, তার পর প্রাযশ্চিত্তস্বরপ, আত্মহত্যা করিবেন। এই সকল জানিয়া, শ্রীকৃষ্ণ তাঁহাকে বঝাইলেন যে, এবপ সত্য রক্ষণীয নহে। এ সত্যলাম্বনই ধর্ম এখানে সত্যচুতিই ধর্ম। এখানে মিথ্যাই সত্য হয়। এটা যে উপন্যাস মান, তাহা আদি ব্রাহ্ম সমাজের শিক্ষিত লেখকদিগকে বঝাইতে হইবে না রবীন্দ্র বাবব বহৃষ্ঠার ভাবে বঝায় যে যেখানে কৃষ্ণ নাম আছে, সেখানে আর আমি মনে করি। না যে, এখানে উপন্যাস আছে সকলই প্রতিবাদের অতীত সত্য বলিয়া ধবে জ্ঞান করি। আমি যে এমন মনে করিতে পারি যে, এ কথাগলি সত্য সত্য কৃষ্ণ স্বয়ং যাধিষ্ঠিরের পার্থে দাঁড়াইয়া বলেন নাই, ইহা কৃষ্ণ-প্রচারিত ধর্মের কবিকৃত উপন্যাসক্ত ব্যাখ্যা মাত্র, ইহা বোধ হয়, তাহারা ব্যুঝিবেন না। তাহাতে এখন ক্ষতি নাই। আমার এখন এই জিজ্ঞাস্য যে, তিনি আমার কথার অর্থ ব্যঝিতে কি গোলযোগ করিযাছেন, তাহা এখন বঝিযাছেন কি ? না হয়, একটু বঝাই রবীন্দ্র বাব, “সত্য" এবং "মিথ্যা" এই দলইটি শব্দ ইংরেজি অর্থে ব্যবহার করিয়াছেন। সেই আথেই আমার ব্যবহৃত “সত্য” “মিথ্যাবঝিযাছেন। তাঁহাব কাছে সত্য Truth, মিথ্যা Falsehood। আমি সত্য মিথ্যা শব্দ ব্যবহার কালে ইংরেজির অন্যবাদ করি না। এই অনন্যবাদপরায়ণতাই আমার বিবেচনায়, আমাদের মৌলিকতাস্বাধীন চিন্তা ও উন্নতির এক বিঘ। হইয়া উঠিয়াছে। “সত্য" “মিথ্যা" প্রাচীনকাল হইতে যে অর্থে ভারতবর্ষে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে, আমি সেই অর্থে ব্যবহার কবিযাছি। সে দেশী অর্থে, সত্য Truth আর তাহা ছাড়া আরও কিছ। প্রতিজ্ঞা-রক্ষা, আপনাব কথা রক্ষাইহাও সত্য। এইরপ একটি প্রাচীন ইংরেজি কথা আছে '1 yoth ইহাই rth শান্দব প্রাচীন র প। এখন, 'wth শব্দ Troth হইতে ভিল্লার্থ হইয়া পড়িয়াছে। ঐ শব্দটিও এখন আর বড় ব্যবহৃত হয় না Honour. Faith, এই সকল শব্দ তাহাব স্থান গ্রহণ করিয়াছে। এ সামগ্ৰী চোর ও অন্যান্য দৰক্ৰিয়াকারীদিগের মধ্যেও আছে। তাহারা ইহার সাহায্যে পথিবীর পাপ ৰন্ধি করিয়া থাকে যাহা Trua ৰবীন্দ্ৰ বাবর | uth তাহাব দ্বারা পাপেব সাহায্য হইতে পারে না। এক্ষণে রবীন্দ্র বাবর সম্প্রদায়কে জিজ্ঞাসা করি, তাঁহাদেব মতে আপনার পাপপ্রতিভা (সত্য বক্ষার্থ নিরপরাধী জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে বধ করাই কি অজ্ঞ নেব উচিত ছিল ? যদি কেহ প্রাতে উঠিয়া সত্য করে যে, আজ দিবাবসানের মধ্যে পথিবীতে যত প্রকার পাপ আছে-হত্যাদসJতা পরদার, পরপীড়ন: সকলই সম্পন্ন করিব°তাঁহাদের মতে কি ইহার সেই সত্য পালনই উচিত? যদি তাহাদের সে মত হয়; তবে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, তাঁহাদের সত্যবাদ তাঁহাদেরই থাক. এদেশে যেন প্রচারিত না হয়। আর তাঁহাদের মত যদি সেরপ না হয়, তবে অবশ্য তাহারা স্বীকার করিবেন যে, এখানে সত্যুতিই ধর্ম। এখানে মিথ্যাই সত্য এ অর্থে “সত্য“মিথ্যা” শব্দ ব্যবহার করা আমার উচিত হইয়াছে কি না. ভরসা করি, এ বিচাব উঠিবে না। সংস্কৃত শব্দের চিরপ্রচলিত অর্থ পরিত্যাগ করিয়া, ইংরেজি কথার অর্থ তাহাতে লাগাইতে হইবে, ইহা আমি স্বীকার করি না। হিন্দরে বর্ণনার স্থানে যে গ্ৰীষ্টায়ানের বর্ণ না করিতে হইবে, তাহাও স্বীকার করি না। রবীন্দ্ৰ বাব “সত্য” শব্দের ব্যাখ্যায় যেমন গোলযোগ করিয়াছেন, লোকহিত লইয়াও তেমনি বরং আরও বেশী গোলযোগ করিয়াছেন। কিন্তু আর কচকচি বাঙ্গাইতে আমার ইচ্ছা নাই। ৰবিন রচনাবলী এখন আয় আমার সময়ও নাই। প্রচারে আার স্থানও নাই । বোধ হয়, পাঠকের আর ধৈর্য্যও থাকিবে না। সর্ঘতরাং ক্ষান্ত হইলাম এখন রবীন্দ্র বাবহ বলিতে পারেন যে, “যদি বঝিতে পারিতেছ যে, তোমার ব্যবহৃত শব্দের অর্থ বঝিতে না পারিয়া, আমি প্রমে পতিত হইয়াছি—তবে আমার ভ্ৰম সংশোধন করিয়াই তোমার ক্ষান্ত হওয়া উচিত ছিল—আদি ব্রাহ্ম সমাজকে জড়াইতেছ কেন ?” এই কথার উত্তরে যে কথা সাধারণ পাঠ্য প্রবন্ধে বলা রন্থচিবিগহি ত, যাহা *Pr-nal, তাহা বলিতে বাধ্য হইলাম । আমার সৌভাগ্যক্রমে, আমি রবীন্দ্র বাবর নিকট বিলক্ষণ পরিচিত। শ্লাঘাম্বরপ মনে। করি,–এবং ভরসা করি, ভবিষ্যতেও মনে করিতে পারিব যে, আমি তাঁহার সহজন মধ্যে গগ্য হই। চারি মাস হইল প্রচারের সেই প্রবন্ধ প্রকাশিত হইয়াছে। এই চারি মাস মধ্যে রবীন্দ্র বাব, অনাগ্রহপ ক অনেকবার আমাকে দর্শন দিয়াছেন। সাহিত্য বিষয়ে অনেক আলাপ এ প্রসঙ্গ কখনও উথাপিত করেন নাই। অথচ বোধ হয় যদি ঐ প্রবন্ধ পড়িয়া রবীন্দ্র বাবর এমন বিশ্বাসই হইরাছিল যে, দেশে তাবনতি, এবং ধর্মের উচ্ছেদ এই দইটি আমি জীবনের উদ্দেশ্য করিয়াছি, তবে যিনি ধনা প্রচারে নিয,ক্ত, আদি ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক, এবং স্বয়ং সত্যানরোগ প্রচারে যত্নশীল, তিনি এমন ঘোর-পাপিষ্ঠের উদ্ধারের জন্য ষে সে প্রসঙ্গ ঘগোক্ষরেও উথাপিত করিবেন না তার পর চারি মাস বাদে সহসা পরোক্ষে বাস্মিতার উৎস। খলিয়া দিবেন, ইহা আমার অসম্ভব বোধ হয়। তাই মনে করি, এ উৎস তিনি নিজে খালেন নাই, আর কেহ খলিয়া দিয়াছে। এক্ষণে আদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকদিগের কাজ. গোড়ায় যাহা বলিয়াছি, পাঠক তাহা স্মরণ করনে। আদি ব্রাহ্ম সমাজকে জড়ানতে, আমার কোন দোষ আছে। কি না. বিচার করন তাই, আদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকদিগের কাছে আমার একটা নিবেদন আছে। আদি ব্রাহ্ম সমাজকে আমি বিশেষ ভক্তি করি। আদি ব্রাহ্ম সমাজের দ্বারা এ দেশে ধর্ম সম্বন্ধে বিশেষ উন্নতি সিদ্ধ হইয়াছে ও হইতেছে জানি। বাব দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাব, রাজনারায়ণ বস বাব, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সমাজের নেতা, সে সমাজের কাছে অনেক শিক্ষা লাভ করিব, এমন আশা রাখি। কিন্তু বিবাদ বিসবাদে সে শিক্ষা লাভ করিতে পারিব না। বিশেষ আমার বিশ্বাস, আদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকদিগের দ্বারা বাঙ্গালা সাহিতোর অতিশয় উন্নতি হইয়াছে ও হইতেছে সেই বাঙ্গালা সাহিত্যের কাৰ্য্যে আমরা জীবন সমপৰ্শ করিয়াছি। আমি ক্ষদ্ৰআমার দ্বারা এমন কিছ কাজ হয় নাই, বা হইতে পারে না, যাহা আদি ব্রাহ্ম সমাজের লেখকেরা গণনার মধ্যে আনেন। কিন্তু কাহারও আন্তরিক যন্ত্র নিক্ষেল হয় না। ফল যতই অল্প হউক, বিবাদ বিসবাদে কমিবে বই বাড়িবে না। পরস্পরের আন বলো ক্ষমুদ্রের দ্বারাও বড কাজ হইতে পারে। তাই বলিতেছি, বিবাদ বিসবাদে, নামে বা বিনামে, স্বতঃ বা পরতঃ প্রকাশ্যে বা পরোক্ষে, বিবাদ বিসবাদে তাঁহারা মন না দেন। আমি এই পর্যন্ত ক্ষান্ত হইলাম, আর কখন এরপে প্রতিবাদ করিব এমন ইচ্ছা নাই। তাঁহাদের যাহা কৰ্ত্তব্য বোধ হয়, অবশ্য করিবেন। উপসংহারে, রবীন্দ্র বাবকেও একটা কথা বলিবার আছে। সত্যের প্রতি কাহারও অত্যুক্তি নাই, কিন্তু সত্যের ভানের উপর আমার বড় ঘণো আছে। যাহারা নেড়ী বৈরাগীর হরিনামের মত মখে সত্য সত্য বলে. কিন্তু হৃদয় অসত্যে পরিপণ তাহাদের সত্যানরাগকেই সত্যের ভান এ জিনিস এ দেশে বড় ছিল না,এখন বিলাত হইতে ইংরেজির সঙ্গে বড় বেশী পরিমাণে আমদানি হইয়াছে। সামগ্রটা বড় কদর্য। মৌখিক প্ৰILie direct” সবন্ধে তাঁহাদের যত আপত্তি--কাৰ্য্যতঃ সম»দ্রপ্রমাণ মহাপাপেও আপত্তি নাই। সে কালের হিন্দর এই দোষ ছিল বটে ষে. Lie direct সবন্ধে তত আপত্তি ছিল না, কিন্তু ততটা কপটতা ছিল না। দইেটিই মহাপাপ এখন ইংরেজি শিক্ষার গেেণ হিন্দ: পাপটা হইতে অনেক অংশে উদ্ধার পাওয়া যাইতেছে, কিন্তু ইংরেজি পাপটা বড় বাড়িয়া উঠিতেছে। মৌখিক অসত্যের অপেক্ষা অস্তরিক অসত্য যে গতের পাপ. রবীন্দ্র বাব বোধ হয় তাহা স্বীকার কবিবেন। সত্যের মাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন করিতে গিয়া কেবল মেখিক সত্যের প্রচার, আন্তরিক সত্যের প্রতি অপেক্ষাকৃত অমনোযোগ. রবীন্দু বাবরে যত্বে এমনটা না ঘটে. এইটকুৈ সাবধান করিয়া দিতেছি। ঘটিয়াছে, , । দেবী চৌধরাগীতে প্রসঙ্গক্রমে ইহা উথাপিত করিয়াছি-১৩০ পষ্ঠা দেখ । ১১৬ লড রিপশের উংসবের জমখমার্চ এমন কথা বলিতেছি না, কিন্তু পথ বড় পিচ্ছিল, এজন্য এটকু বলিলাম, মার্জনা করিবেন। তাঁহার কাছে অনেক ভরসা করি, এই জন্য বলিলাম। তিনি এত অল্প বয়সেও বাঙ্গালার উতজবল র–আশীৰ্ব্বাদ করি, দীর্ঘজীবী হইয়া আপনার প্রতিভার উপষক্ত পরিমাণে দেশের উন্নতি সাধন করন। গ্রীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়—‘প্রচার: অগ্রহায়ণ ১২৯১. প. ১৬৯-১৮৪।


লর্ড রিপণের উৎসবের জমা-খরচ


এ উৎসবে আমরা পাইলাম কি ? হারাইলাম কি ? যে সংযী লোক. সে সকল সময়ে আপনার জমা-খরচটা খতাইয়া দেখে। আমাদের জাতীয় জমা-খরচটার মধ্যে মধ্যে কৈফিয়ৎ কাটিয়া দেখা ভাল। আগে দেখা যাউক, আমাদের লাভের অঙ্কে কি ? প্রথমতঃআমরা এ উৎসবে লাভ করিয়াছি রাজভক্তি। অনেকে বলিবেন, আমাদের রাজভক্তি ছিল বলিয়াই, উৎসব করিয়াছি। সকলেই বঝেন যে, ঠিক তাহা নহে; অন্য কারণে এ উৎসব উপস্থিত হইয়াছে। উৎসবেই আমাদের রাজভক্তি বাড়িয়াছে। রাজভক্তি বড় বাঙুনীয়। রাজভক্তি জাতীয় উন্নতির একটি গবেতের কারণ। রাজভক্তির জন্য ইহা প্রয়োজনীয় মহে যে, রাজা স্বয়ং একটা ভক্তির যোগ্য মনষ্যে হইবেন। ইংলন্ডের এলিজাবেথ বা প্ৰষিযার দ্বিতীয ফ্রেড্রিক, এতদভযের কেহই ভক্তির যোগ্য ছিলেন না। এরপ নশংস-চরিত্র নরনারী পথিবীতে দলভ। কিন্তু এলিজাবেথের প্রতি জাতীয় রাজভক্তি ইংলন্ডের উন্নতির একটি কারণ। ফ্রেড্রিকের প্রতি জাতীয় রাজভক্তি প্ৰষিয়ার উন্নতির একটি কারণ । আমাদের দ্বিতীয় লাভ, জাতীয় ঐক্য। এই বোধহয়, ঐতিহাসিক কালে প্রথম সমস্ত ভারতবর্ষ এক হইয়া একটা কাজ ব রিল। আমরা এই প্রথম বঝিলাম যে আমাদের মধ্যে ঐকা ঘটিতে পারে। আমরা এই প্রথম বঝিলাম. ভারতবষীয়েরা একজাতি। তৃতীয লাভ, রাজকীয় শক্তি। রাজকীয় শক্তি কতকটা ঐক্যের ফল বটে, কিন্তু ঐক্য থাকিলেই যে শক্তি থাকে, এমত নহে। সকল সমাজেই, সমাজই রাজা। রাজা সমাজ শাসন করেন বটে, কিন্তু সে সমাজের প্রতিনিধিরপে। সমাজ রাজার উপর আবার রাজা। কেবল সমাজ রাজার দণ্ড পরেকারের কর্তা। যে সমাজ রাজাকে দণ্ডিত বা পরকৃত করিয়া থাকে . সেই সমাজেরই রাজনৈতিক শক্তি আছে। প্রকৃত রাজদণ্ড সেই সমাজেরই হাতে। আজ, লর্ড রিপণকে সংশাসনের জন্য পরেত করিয়া ভারতবষীয সমাজ সেই রাজদণ্ড বহস্তে গ্রহ করিয়াছে। ইহাই স্বাধীনতা আমাদের চতুর্থ লাভ, -এটকে কেবল বাঙ্গালার লাভ :-সমাজের কর্তৃত্ব ভূমাধিকারীদের। হাত হইতে এই প্রথম মধ্যবিত্ত লোকের হাতে গেল। অর্থাৎ কর্তৃত্বধনের হাত হইতে বদ্ধি বিদ্যার হাতে গেল। এখন হইতে বাঙ্গালাষ ধনবানেরা আর কেহই নহেন, শিক্ষিত সম্প্রদায়ই কন্তু। ইহা সমাজের পক্ষে বিশেষ মঙ্গলকর উন্নতির লক্ষণ, এবং উন্নতির সোপান। এখনকার নতন সমাজ নেতৃগণের নিকট আমাদের নিবেদন, তাঁহারা সমাজ ধীরে ধীরে সপথে চালাইলে, বিপ্লব না ঘটে এই গেল লাভেব অঙ্ক জমা। এক্ষণে খরচটা দেখা যাউক। সামাদের প্রথম ক্ষতি এই যে, এ উৎসবে দ্বেষক ইংরেজসম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈরিতা বড় বাড়িয়া উঠিল। মসুখে যিনি যাহা বলন. তাঁহারা এ উৎসব কথন মার্জনা করিবেন না। তাঁহাদের সঙ্গে আর গোল মিটিবে না। ইহাতে সময়ে সময়ে আমাদিগকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হইাবে। আমাদের দ্বিতীয় ক্ষতি এই যে, কিছ, “ীম” ছাড়া হইয়াছে. যে সঞ্চিত বলে সমাজ-ধর্ষ দ্রুতবেগে চলিবে. তাহার কিছয় ব্যয় হইয়াছে। সেটা নিতান্ত মন্দও হয় নাই। বড় বেশী স্টীম। জমিলে বিপ্লব উপস্থিত হয আমাদের তৃতীয় ক্ষতি এই যে, গলাবাজির দোরাত্ম্যটা বড় বাড়িয়া গেল। কথার ছড়াছড়ি বড় বেশী হইয়া গিয়াছে। সেটা কুশিক্ষা। একে ত বাঙ্গালী সহজেই কেবল বাক্য-বাহাদপুর, তার উপর বস্তৃতা নামে বিলাতি মালের আমদানি হইয়াছে। সোপা বলিয়া সোহাগা বিক্রয় হইতেছে। আমাদের ভর, পাছে আপনাদের বাকজালে আপনারাই জড়াইয়া পড়ি, কথার কুয়াশায় আার পথ দেখিতে না পাই; তুবড়ী বাজির মত মখে সে সো করিয়া ফাটিয়া ধাই। ৯১৯