বিলাত ভ্রমণ (প্রথম ভাগ)/ফরাসী দেশের চিত্রশালা
ফরাসী দেশের চিত্রশালা।
যে চিত্রশালাটির কথা আজ লিখিতে যাইতেছি সেটি “মার্সেলের”,প্যারী নগরের নহে। খুব বড় না হইলেও ইহাতে বিস্তর ফরাসী, ইতালীয় ও অন্যান্য চিত্র, এবং প্রস্তর ও অন্যান্য নানা উপকরণে গঠিত বহুরূপ সুন্দর মূর্ত্তিও আছে।
যেদিন মার্সেলে নামি সেই দিনই “হোটেল কণ্টিন্যাণ্টলে”র নিকট অবস্থিত এই স্থানটি দেখিতে যাই। একজন সুইস জাতীয় প্রদর্শক আমাদের সঙ্গে ছিল। সে অনেক প্রকার ভাষা জানে। আর সে দেশের প্রদর্শকেরা ভাল করিয়া দেখাইবার ও বুঝাইবার জন্য শিক্ষা এবং চাপরাস্ পায়; একথাগুলি পুর্ব্বেই বলা হইয়াছে।
সমৃদ্ধিশালী ও জনতাপূর্ণ সেই সহরের ভিতর দিয়া খানিকদূর যাইলেই একটি উচ্চ জমীর উপর “প্যালেডি লঙ চ্যাম্প” দেখা যায়। প্রকাণ্ড প্রাসাদটি অতি পরিপাটিরূপে গঠিত। ফরাসী দেশের সকল বাড়িগুলিরই এই গুণ। এই মিউজিয়মটির সম্মুখে একটি ছোট হ্রদ।—বাটীটির উপর হইতে স্তূপাকার জলরাশি জলপ্রপাতের মত অনবরত তাহাতে আসিয়া পড়িতেছে। হ্রদটির ধারে ধারে ফুল গাছ। আর তার চারিদিকের মাট সবুজ ঘাস, ডেসি ও লিলি ফুলে ভরা। ঘাসের ভিতর ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকিতেছিল, ফুলের মধ্য হইতে গন্ধ ছুটিতেছিল, আর এদিক ওদিকে সুন্দর ছোট প্রজাপতি উড়িতেছিল। ঠিক আমাদের এদেশের দৃশ্যেরই মত দৃশ্য।
উপরকার যে স্থানটি হইতে জল পড়িতেছিল সেই উচ্চ স্থানটির দিকে চাহিয়া দেখি সেখানে অনেকগুলি সুন্দর সুন্দর প্রস্তরমূর্ত্তি প্রতিষ্ঠিত। মধ্যে অবস্থিতা একটি রমণীমূর্ত্তির দুই পাশে আর দুইটি রমণী সখীরূপে দণ্ডায়মানা। এই রমণীটিই ফরাসী দেশের সাধারণ তন্ত্রের দেবতা। আর তাঁহার পার্শ্বস্থিত রমণীদ্বয়ের মধ্যে একটি “ন্যায়ের” ও অপরটি “দয়ার” প্রতিমূর্ত্তি স্ত্রীমূর্ত্তি দিয়াই সেই ভাবগুলি বড়ই উপযুক্ত হইরাছে। সম্মুখে দুইটি মাংসপেশীবহুল নগ্নদেহ বীরপুরুষ অবস্থিত। একটির হাতে যুদ্ধের অস্ত্র শস্ত্র; অপরটির হাতে একখণ্ড কাগজ। অর্থাৎ ন্যায়, সাম্য, দয়া দাক্ষিণ্য, শৌর্য্য বীর্য্য ও সুনিয়ম সুশাসনের দ্বারা পরিবৃত হইয়া ফরাসী দেশের সাধারণ তন্ত্রের রাজ্যলক্ষ্মী সেই মন্দিরে বিরাজ করিতেছেন। তাঁহারই পদতল হইতে সেই বারিধারা সেই স্রোতের উৎস ছুটিয়াছে। ফরাসী জাতি সাধারণ তন্ত্রের বড়ই পক্ষপাতী। সাধারণ তন্ত্রের সমগ্র, সুব্যবস্থা একত্রে এইরূপে দেখাইয়া তাঁহারা সেই মূর্ত্তিকে দেবীর মত পূজা করেন।
এসব দেশে সচরাচর বাড়ীর সামনের দরজা বন্ধ থাকে। দরজার ঘণ্টা টিপিবামাত্রই একটি রমণী আসিরা দ্বার খুলিয়া দিল। আমরা মিউজিয়মটির ভিতর ঢুকিয়া মিউসিয়মটির নিম্নতলায় পৌঁছিলাম।
নিম্নতলাটি কেবল প্রস্তর ও ধাতুনির্ম্মিত সুন্দর সুন্দর প্রতিমূর্ত্তিতে পূর্ণ। তেমন সুন্দর ছবি তার পূর্ব্বে আর কোথাও কখনও দেখি নাই। সবগুলিই এত সুন্দর যে কোনটি ছাড়িয়া কোনটি দেখিব তা স্থির করা যায় না। অধিকাংশই নগ্ন স্ত্রীমূর্ত্তি। ইতালীয় ও ফরাসী দেশের ভাস্কর বিদ্যার ইহা প্রধান অঙ্গ।
দ্বারদেশের প্রথম মূর্ত্তিটি রাণী “ক্লিওপেট্রা”র। সর্পাঘাতে জর্জ্জরিত হইয়া তাঁহার কোমল শ্যামতনু শিথিল হইয়া ভূতলে পড়িয়াছে। তাঁহার হাতে স্বর্ণবলয় গাছটিও ঠিক সাপের মত জড়ান। আর ভাবমাখা চোখ দুটিও বিষে অলস হইয়া পড়িয়াছে। আত্মঘাতিনী রাণীর চারিদিকে সখীরা শোকমগ্না।
তার ঠিক পাশেই কাঁটাগাছের মুকুট পরা এক মহাপুরুষের জ্যোতির্ম্ময় মস্তক। শক্তিহীন হইয়া নত হইয়া পড়িয়াছে। একটি স্ত্রীরূপী স্বর্গীয় দূত আসিয়া স্ত্রীসুলভ একান্ত সহানুভূতিতে নতজানু হইয়া তাঁহার শিথিল মাথাটি তুলিয়া ধরিতেছিলেন। তলায় লেখা—
“Jeasus from the cross”
অর্থাৎ ক্রুশবিদ্ধ হইবার পর যিশু খ্রীষ্টের অবস্থা।
ইহার পাশে এক বিষম মহামারীর ছবি। ৭৩৫ সালে মার্সেল সহরে যে প্লেগ হয় এ তাহারই হৃদয় বিদারক দৃশ্য। অসংখ্য লোক চারিদিকে নানাপ্রকার দারুণ রোগযন্ত্রণায় ধূলায় লুণ্ঠিত ও মুখভঙ্গী-অবস্থায় মৃত, আর তাহাদের আত্মীয়গণ চতুর্দ্দিকে আর্ত্তনাদ-পরায়ণ।
পাশের ছবিখানি আবার নগ্ন রমণীমূর্ত্তি। পরে পরে আরও অনেকগুলি ঐরূপ মূর্ত্তি আছে। একখানি “ডেফনীর” ছবি। আপেলের সঙ্গে বনমধ্যে তাঁর জীবনে যে সকল রহস্য ঘটিয়াছিল এখানে তাহারই একটি ঘটনার ছবি অঙ্কিত।
ইহার পরে বাইবেলে উক্ত কুমারীগণের প্রতিকৃতি। বরের সঙ্গে আলো ধরিয়া যাইবেন মনস্থ করিয়াও যাঁহারা প্রদীপে তেল ভরিয়া রাখেন নাই বলিয়া যাইতে পারেন নাই- -বর চলিয়া গেলে তাঁহারা রোদন করিতেছেন। ভিন্ন ভিন্ন দিক হইতে দেখিলে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে স্ত্রীসুলভ মধুর ভাব ও একান্ত মনোকষ্টের স্পষ্ট রেখা অতি মনোহররূপে অঙ্কিত হইয়াছে।
তাহার পাশে রোমরাজ নীরোর প্রতিমূর্ত্তি। তিনি সভামধ্যেই একান্ত বশম্বদের মত রাণীর আঁচল ধরিয়া বসিয়া আছেন। এক কৃষ্ণকায় ভৃত্য রাণীর পায়ে জরীর জুতা পরাইতেছে। রাজা নিজে বিহ্বলভাবে রাণীর কণ্ঠলগ্ন।
পাশে একটি ভাঙ্গা মন্দির খণ্ড। গ্রীক দেশস্থ কোনও মন্দিরের অংশবিশেষ হইবে। তারপর একটি না-পাখী না-মানুষ—কতকটা আমাদের দেশের গরুড়াবতার। সেটি যে কি তা বুঝা গেল না। আর একটি সুন্দর ছবি দেখিলাম — তাহাতে মানুষ ও নিম্নশ্রেণীর জীবের সহিত একান্ত সখ্যভাব সন্নিবিষ্ট। এক রমণীর স্কন্ধে বসিয়া একটি ছোট পাখী তাহার হাত হইতে অতি বিশ্বস্তভাবে খাদ্য ভক্ষণ করিতেছে। এরূপ একটি দৃশ্য আমি পূর্ব্বেই এক জাপানী চিত্রকরের চিত্রশালায় দেখিয়াছিলাম। পরস্পরের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস এই চিত্রে অতি সুন্দররূপে কল্পিত হইয়াছে।
পরবর্ত্তী প্রণয়চিত্রটিও অতি সুন্দর। একটি পুরুষ একটি রমণীকে অতি যত্নে তাঁর বাঁশিটি বাজাইতে শিখাইতেছেন। দুই দিকে দুইটি হাতে তাঁহার দেহ বেষ্টন করিয়া যন্ত্রটি রমণীর অধরৌষ্ঠে তিনি নিজেই ধরিয়া আছেন। রমণী ফুৎকার দিতেছেন—তিনি পরদা টিপিয়া নানারূপ মধুর সুর বাহির করিতেছেন। যেন দুই জনের অন্তরের সঙ্গীত তাহাতে একত্রে ধ্বনিত হইয়া উঠিতেছে।
পূর্ব্বেই বলিয়াছি ফরাসী দেশে ও ইতালীয় চিত্রে নগ্ন রমণীমূর্ত্তির বড়ই আদর। কিন্তু মূর্ত্তিসম্বন্ধে একথা যেমন খাটে চিত্র সম্বন্ধে তেমন নহে। ইহার বোধহয় একটি কারণ এই যে—চিত্রে আশপাশের ছবি হইতেও আসল জিনিষটির গূঢ় ভাব প্রকটিত করা যায়—মূর্ত্তিতে সেটি তত সম্ভবপর নহে। তাই ইহাতে নগ্ন দেহের সনাতন অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য একেবারে খুলিয়া দিতে হয় । তবে মূর্ত্তিতে বা চিত্রে যে নগ্নভাব তাহা দ্বারা হৃদয়ে কোন মালিন্য স্পর্শ করে না।
একখানি চিত্রে স্বর্গ যইতে বিতাড়িত সয়তান, অতল নরকে পড়িয়া উর্দ্ধদৃষ্টিতে দূরস্থ স্বর্গের আলোকের দিকে চাহিয়া—দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিতেছেন—
"Farewell Bright region!"
হে উজ্জ্বল স্থান তোমার নিকট হইতে চিরবিদায়।
ইহার পাশে এপলো অতি কাতরভাবে চোখের জল মুছিতেছেন। সূর্য্যদেবের আবার কিসের অভাব—তিনিও যে কাঁদিতেছেন কেন কেহ কি. তাহা বুঝিতে পারেন?
তার পাশের ছবিটি একটি ভিক্ষুকের। লোকটি অনাহারে দুঃখে কষ্টে অকালে বুড়া হইয়া গিয়াছে। তাহার কটিদেশ ভগ্ন, হাতের শিরা সকল স্ফীত হইয়া জাগিয়া আছে, মাংস লোল, চক্ষু নত। দারিদ্র্যপীড়নে বা রোগে শোকে শরীর মনের তেজ নষ্ট হইলে সকলেরই এইরূপ ভার হইয়া থাকে। যেন নিজের কাছেই নিজে তখন হীন, আর সকল বিষয়েই সকলের কাছে ভয়ের ভাব। যখনি আমি কোনও লোকের এরূপ অবস্থা দেখি তখনই আমার অহর্নিশি চাকাঘুরার কথা মনে আসে, —শুষ্ক ফুলের কথা মনে হয়। যখন ভাগ্যচক্রের পরিবর্ত্তনে কাহারও অবস্থা হঠাৎ নামে তখন সেজনকে যেন আর চেনা যায় না। রোগশয্যায় এই অবস্থা আমি প্রতিনিয়তই ঘরে ঘরে দেখিতে পাই।
একখানি ছবিতে একটি বিষম শোকবার্ত্তা অঙ্কিত। বোধহয় এখানি কোনও ঐতিহাসিক চিত্র হইবে। কোন দুর্ঘটনায় একত্রে রাজবাটীর অনেকেই মৃত। তন্মধ্যে রাজারাণীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন হইয়াছে । দুটি দেহ আলিঙ্গনে বাঁধা; ছোট খোকাটি তাঁহাদের দেহের উপর রক্ষিত—আর চতুর্দ্দিকে চুল ছিঁড়িয়া মাথা কুটিয়া প্রজারা পরিতাপ করিতেছে। এটি বোধ হয় আসিয়াভূমির কোনও চিত্র হইবে। নয়ত এত শোকের বাহুল্য ত শীতপ্রধান দেশে দেখা যায় না।
তার পরের ছবিখানি ইতালী দেশের চিত্র। যাকে মধ্যযুগের ইতালীয় পেণ্টিং বলে; সেগুলি অধিকাংশ ধর্ম্মসম্বন্ধীয়। তার মধ্যে খৃষ্টের জন্ম বৃত্তান্ত একটি প্রধান। Madona অর্থাৎ যিশুমাতা বা মাতৃক্রোড়ে শিশুমুর্ত্তি কতভাবেই যে তথায় অঙ্কিত তাহার ইয়ত্তা নাই। বাস্তবিক মানুষের এমন পূজা করিবার সামগ্রী আর ত কিছুই নাই। সকল দেশেই এই মাতৃকল্পনা সকলকে স্বভাবতঃ মুগ্ধ করে। তাই এ মূর্ত্তিটির নানা দেশে নানা ভাবে এত আদর। এক এক খানির দাম এক মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক।
তার পাশে আরও অনেকগুলি এই শ্রেণীর চিত্র দেখিলাম। একটি চিত্রে “সেণ্ট সিবাষ্টাইন” নামক জনৈক খৃষ্ট-ভক্তের উপর লোকের অমানুষিক অত্যাচার। এরূপভাবে দয়া উৎপাদন করা আজকালকার কলাবিদ্যার অনুমোদিত নহে। যেমন অতি চীৎকার গানে, অতিশয় অলঙ্কার সাহিত্যে নিষিদ্ধ, তেমন চিত্রেও অতিশয় অঙ্কনবিধিও নিষিদ্ধ। যথার্থ কলাবিদ্যায় মনের উপর ক্ষমতা বিস্তার সম্পূর্ণ অলক্ষিতে হওয়া চাই।
তার পরের ছবিখানি একটি সন্ন্যাসীর ছবি। নত জানু জোড়হাত হইয়া কুমারী মেরীর প্রতিমার তলায় বসিয়া তিনি উপাসনা করিতেছেন। এগুলি ঠিক আমাদের প্রতিমা পূজারই মত। ধর্ম্মের সকল হাবভাবই প্রাচ্য স্থানসমূহ হইতে প্রতীচ্য দেশে অনুকরণ করা হইয়াছে।
একখানি ছবিতে একটি বৃদ্ধা রমণী তাঁর ছোট নাতিটিকে প্রার্থনা করিতে শিখাইতেছেন। শিশু তাঁহাকে কিরূপ সুন্দর অনুকরণ করিতেছে! এই আদি শিক্ষার জোরেই ভালমন্দ সমস্ত বাল্যসংস্কার আমাদের মনে এমন প্রবলভাবে রাজত্ব করে।
পাশে অনেকগুলি ছবি ভাঙ্গা ও অঙ্গহীন। যে অংশগুলি ভাল আছে সেগুলি অতি সুন্দর, আর যেগুলি নাই সেগুলি কল্পনায় আরও সুন্দর!
তার পাশে প্রাচ্য দেশের একটি রাজপুত্রের প্রতিমূর্ত্তি। রাজকুমারের দেহ নানা ভূষণে ভূষিত। মাথায় জড়িবুনা ঝকমকে তাজের উপর উঠপক্ষীর পালক লাগান । গলায় গজমুক্তার মালা। যত রমণীদের জনতা সেই ছবিটির কাছে।
আর একখানি ছবিতে এক রমণী স্নানান্তে দর্পণে আপাদ মস্তক নিজের ছায়া দেখিয়া রূপে এমন মুগ্ধ হইয়া পড়িয়াছেন যে আপনারই ছায়াকে চুম্বন করিতেছেন। প্রকৃত ছবি ও ছায়ার দুটি ঠোঁটের ব্যবধান অতি সুন্দররূপে অঙ্কিত।
ইহা ছাড়া কতকগুলি অতি সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক চিত্রও দেখিলাম। একস্থানে উচ্চ নিম্ন জমীর উপর একটি বায়ুযন্ত্র (Wind mill) অঙ্কিত। সে চিত্রটি এত সুন্দর এত স্বাভাবিক যে দেখিলে ছবি বলিয়া বুঝাই যায় না।
আর একটিতে কুয়াসার মাঝে সূর্য্যোদয়। সেটির দিকে খানিকক্ষণ তাকাইয়া থাকিলে মনে হয় যেন কুয়াসার শৈত্য অবধি অনুভব করিতেছি।
আর একটি চিত্র একটি পুরাতন ফ্যাসানের রাজদুর্গ। ভগ্নচূড় ভীষণ প্রস্তরদুর্গের স্থানে স্থানে এখন গাছ উঠিয়াছে।
একটি ছবি দেখিয়া কিন্তু অবাক হইলাম। এটা ঠিক আমাদের দেশের মৃত্যুকালের অন্তর্জ্জলির দৃশ্য। তখন আমাদেরই দেশের মত সে দেশের রোগীকে অন্তিমকালে বাড়ী হইতে বাহিরে লইয়া যাওয়া হইত। সেই আসন্নকালের বিষণ্ন দেহকে টানা হেঁচড়া করিয়া গঙ্গাতীরের পরিবর্ত্তে গির্জ্জাঘরে লইয়া যাইয়া হাঁটু গাড়িয়া বসাইয়া উপাসনা করান হইত। হায়! ধর্মের নামে সংসারে কতই অপকর্ম্ম সংঘটিত হয়।
এই ঘটনাটি দেখিয়া আমার মন যেমন অপ্রসন্ন হইয়া গেল, আসিবার পথে আর এক স্থানে একটি ভাঙ্গা মূর্ত্তি দেখিয়া মন তেমনি কিন্তু প্রসন্ন হইয়া উঠিল। সেটি “Venus of milo” অর্থাৎ মাইলো নামক আসিয়া মাইনরের একস্থানে প্রাপ্ত শচীদেবীর প্রস্তরমূর্ত্তি। এমন সুন্দর স্ত্রীমূর্ত্তি রচনা কোথাও নাই। মূর্ত্তিটির খানিক অংশ ভাঙ্গা; বাকিটুকু এত সুন্দর যে, সকল দেশে সকল শিক্ষা প্রদর্শনীতে এই মূর্ত্তির ছাঁচে মূর্ত্তি গড়া আছে। কি ভাস্কর কি চিত্রকর কি কবি কি বা গায়ক এই মূর্ত্তির অনুকরণে স্ত্রীমূর্ত্তির স্বর্গীয় সৌষ্ঠব কল্পনা করেন।