বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ (১৯৪০)/পালান্ত পরিচ্ছেদ
পালান্ত পরিচ্ছেদ
কী হবে
যে সব পাশ্চাত্ত্য পর্যটক আজকাল রুশে অবস্থা দেখতে যান, তাঁরা USSR-এর অধীনে শ্রমিকবর্গের সুখস্বচ্ছন্দে থাকার চেহারা অস্বীকার করতে পারেন না; অথচ তাঁরা যাকে সভ্যতা বলেন তার বিধিনিষেধ রীতিনীতি সব উলটপালট করেও যে, মানুষের ভালো চলতে পারে, সে কথা তাদের মন একদম নিতে চায় না; তাই ভীমরুলের যেমন লেজে হুল, তাঁদের মন্তব্যের শেষে একটা খোঁচা থেকে যায়—“এ ভালো কি টিঁকবে।”
নগরকীর্তনে মেতে উঠে নাগরিকেরা কোলাকুলি করে, পরে উচ্ছ্বাস জুড়িয়ে গেলে, যে-দলাদলি সেই দলাদলি। এ স্থলেও, সেই পাশ্চাত্ত্য সমালোচকেরা বলেন, বিপ্লবের ঝাঁজ নরম পড়লে, আবার হবে ভাইভাই ঠাঁই-ঠাঁই। সেটা যাতে তাড়াতাড়ি হয়, আশপাশের হিতৈষী (!)-রা পথ চেয়ে বসে আছেন, সে কথা অবশ্য থাকে উহ্য।
আমরা এ পথেরও কিছু জানি, ওপথেরও কিছু জানি; তাছাড়া মরে আছি বলে মরণদশারও লক্ষণ জানি। সে অবস্থায় USSR-এর ভবিষ্যতের বিষয়ে অন্তত আমাদের ধারণাটুক্ না বললে শ্রোতারা গোলমাল করতে পারে, ভাববে, কথক ফাঁকি দিয়ে উঠে পড়ল। তাই এই উপসংহার।
যিশুখ্রীস্ট বলেছেন, তলোয়ার যার জীবিকা, তলোয়ারেই তার বিনাশ। USSR সম্বন্ধে এ কথা খাটে কি না সন্দেহ। কারণ রিপুর বশে তাঁরা তো অস্ত্র ধরেননি। দেশের প্রজাবৃন্দের উপর অনেক দিনের অমানুষিক অত্যচার এড়াবার ভাবনা করতে করতে শ্রমিকদের সমবেত সমিতির যে পরিকল্পনা উদয় হয়েছিল, সেটাই হল আসল জিনিস—তাকে বাস্তব রূপ দিতে শেষে অস্ত্রের সাহায্য লেগেছিল বটে, তা সত্ত্বেও জীবিকার উপায় করা হল তলোয়ার গলানো লাঙল-ফলায়, তাও চালাবার ভার সমবায়তন্ত্রের, যার ধর্মই হল মিলেমিশে কাজ করা। কাজেই, USSR এমন কোনো রক্তবীজ বুনেছেন যার ঝাড় তাঁদেরই কাল হবে, সে কথা বলা যায় না।
ঘরে বাইরের শত্রুর সঙ্গে অহিংসারীতি অনুসারে যুদ্ধব্যাপার না চলায়, আমাদের মহাত্মার মতে হিংসার জড় ভিতরে থেকে গিয়ে শেষে মারমুর্তিতে দেখা দেবার আশংকা আছে। কিন্তু এ যুদ্ধের আগে পর্যন্ত USSR-এর হিংস্র ভাব কিছু তো প্রকাশ পায়নি। ইরান দেশকে রুশসম্রাট প্রায় গিলে ফেলেছিল, USSR তাকে ভালো মনে, প্রতিদানের দাবি না করে, মুক্তি দিয়ে স্বায়ত্তশাসনের পথে এগিয়ে দিলেন। সম্রাট আমলের খ্রীস্টানধর্ম প্রবল থাকতে ইহুদীদের উপর যে অকথ্য নিষ্ঠুরতা করা হত, ধর্ম-বুলি-বিহীন USSR তাঁদের প্রতি কী রকম মমতা দেখিয়ে সেটা মুছে ফেলার চেষ্টা করলেন। শুধু তাই বা কেন। USSR-এর অন্তর্গত কত আলাদা জাত, আলাদা সম্প্রদায় নির্বিবাদে এক সঙ্গে আছে, নিজের নিজের আচারব্যবহার রুচিকৃষ্টি অনুসারে জীবন চালাবার বাধা পায় বলে শোনা যায় না।
এখনকার যুদ্ধের ভাবটা যে ঠিক কী, সেটা যুদ্ধ শেষ হবার অনেক দিন পর ছাড়া জানতেই পারা যাবে না। হালের বাজে খবরের উপর নির্ভর করে আন্দাজী মন্তব্য প্রকাশ করতে যাওয়ায় কোনো লাভ নেই।
অহিংসার সব অন্ধিসন্ধি ঠিকমতো বুঝে-ওঠাই দায়। অন্যায়ের প্রতীকার নানা রকমে চেষ্টা করা যায়,—গায়ের জোরে, বাক্যের জোরে, ব্যবহারের জোরে—অনেক সময় সোজাসুজি মারের চেয়ে বাক্যযন্ত্রণার পীড়া বেশি, আরো কষ্ট দেওয়া হয় সম্পর্ক ছেঁটে ফেললে। তাই একা মারাকে হিংসা বলে ধরা চলে না। আবার ছোটো মার দিয়ে বড়ো মার থেকে রক্ষে করতে পারলে হিংসার হিসেবে সেটা উলটো দিকে চলে আসে। তা ছাড়া, মারাটা যেন হিংসা হল, বিনা প্রতীকারে অসহায়কে মার খেতে দেওয়া, সেটা কি অহিংসা। প্রাণ রাখতে সদাই প্রাণান্ত—এ সমস্যার জবাবদিহি প্রকৃতির।
প্রকৃতির হাত ছাড়িয়ে উঠে, মানুষের কোনো দল কোনো দেশে নিজেকে উঁচু পদে তুলতে চেষ্টা করছে, সেটা সারা দুনিয়ার পক্ষে সুখবর। হিংসার ওষুধ যে প্রেম, এ আবিষ্কার ভারতের; কিন্তু ভারতীয় সমাজকে জাতিভেদ মেনে ব্যক্তিগত স্বার্থের অধীনে চলতে দেওয়ায় সে উপলব্ধি সংসারের কাছে আগেও লাগেনি, আজও লাগতে চাচ্ছে না, রয়ে গেল বচনেই, সে কথা পালার মধ্যেই বলা হয়েছে। সে উপলব্ধির উপযুক্ত নির্লোভ কর্মক্ষেত্র USSR গড়ে তুলছেন বলেই তাদের সঙ্গে লেগেছে লোভপন্থী রাক্ষসের দল। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বামিত্রের মতো ক্ষত্রিয় তেজকে লাগিয়ে দেওয়া ছাড়া আর উপায় কী।
ক্ষত্রপদ্ধতি হচ্ছে—“হয় ক্ষান্ত দাও, নয় অন্ত হও।” অত্যাচার সহ্য না করে অক্রোধে প্রাণ দেওয়ার উপদেশ অহিংসা পন্থীদের অনুমোদিত। তেমনি কি ধর্মরক্ষার্থে অক্রোধে প্রাণনাশও চর্চা করা যায় ন।, অসহায়ের গায়ে যে ছুরি তুলেছে উভয়ের প্রতি দয়া করে তার হাতে লাঠি মেরে নিরস্ত করার মতো?
সব শক্ত সমস্যা মীমাংসা করে USSR-এর ঐহিকপারত্রিক পরিণাম সম্বন্ধে রায় দেওয়া আমাদের সামর্থ্যে কুলোবে না। এখন মরণদশার কোনো লক্ষণ দেখা যায় কিনা, সেটা অনুসন্ধানের বিষয়। সে লক্ষণগুলি কী রকম।
কুলক্ষণ
সমবায়ীরা নেতাদের সদুপদেশকে জীবনযাত্রার পাথেয় না করে, যদি তাদের মূর্তি বা ছবি ফুল, বাতি, ধূপধুনো দিয়ে পুজো করতে শুরু করে, তাঁদের মধ্যে কে বড়ো তাই নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লাগায়—
পরস্পরের প্রতি আন্তরিক দরদ, পরস্পরের উন্নতির জন্যে সত্যিকার আগ্রহ—এই দিয়ে সমবায় খাড়া না রেখে, অবস্থার পরিবর্তন অনুসারে পদ্ধতির বদল না করে, যদি কোনো একজনের বা এক সময়ের তৈরি নিয়মকানুনকে যায়-প্রাণ থাকে-প্রাণ অটুট রাখাই সার ধর্ম বলে মানতে আরম্ভ করে, জপে-মোচড়ানো মনের মধ্যে স্বাধীন চিন্তার পথ রুখে দেয়—
“যা করেছি খুব করেছি আর দরকার নেই” এই বলে যদি সন্তোষ শান্তি এই রিপু-ভাইদুটির পাল্লায় পড়ে উপর থেকে প্রেরণা আসার রাস্তা খোলসা না রাখে; কিংবা “আমরা যা দেখিয়েছি, পৃথিবীর আর কেউ তা পারেনি, পারবে না” এই দম্ভের মোহ আলসে মেরে গিয়ে নতুন বিদ্যে লাভের, নতুন উদ্ভাবনের চেষ্টায় খতম দিয়ে বসে থাকে—
এ রকম কুলক্ষণের কোনো একটি প্রকাশ পেলে USSR-এর বাড় ফুরিয়েছে, সে নাবী-মুখে এসে পড়েছে, বুঝতে হবে। প্রকৃতির ঠেলাঠেলির মধ্যে উপরে উঠতে না থাকলে নিচে পড়ে যেতে হয়, নিশ্চিন্ত হয়ে মাঝামাঝি বিরাম লাভের উপায় নেই।
তবে USSR-এর যদি পতন আরম্ভ হয়েই থাকে, সেটা বোঝার জন্যে মহা অনুসন্ধানে মাতার কোনো দরকার নেই,—তাতে আমাদের লাভটা কী। আমরা তো আহ্লাদ করে USSR-এর অভ্যুদয়ের কথা বলতে বসেছিলাম, শুনতে তোমাদিকে ডেকেছিলাম,—তাঁদের ভালো দেখে কিছু শিখব বলে, তা নেহাত না পারলেও তাঁদের সুগতি দেখে আনন্দ করব বলে। মরণদশা দেখার জন্যে সাতসমুদ্র তেরো নদী পার হওয়া লাগবে কেন, দুয়োরের গোড়ায় হিন্দুজাতের গঙ্গাযাত্রা তো রোজই চলেছে।
ভয় নেই
তবে শোনো, নাতিনাতনীরা, যারা এতদূর পর্যন্ত ধৈর্য ধরে এ বইটা পড়েছ—এখন পালার কথা শেষ হয়েছে, এইবার দাদাগিরি ফলিয়ে তোমাদের উপর কিছু উপদেশ ঝেড়ে বিদায় করতে চাই। তোমরা যদি মুখ চাওয়াচাওয়ি করে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস কর—“আচ্ছা বুড়োর পাল্লায় পড়েছি, দম-দেওয়া গ্রামোফোনের মতো থামতে পারে না।” তাহলে মনে করিয়ে দেব তোমাদেরও ছোটোবেলার প্রশ্নের স্রোত অফুরন্ত ছিল, তার ঠেলা তো বুড়োকেই সামলাতে হয়েছে। তাই এখন শোনবার ডাক পড়লে ফোঁস করা চলবে না। তাছাড়া শেষে একটু মুরুব্বিয়ানার ঢং না করলে মা-বাপে তোমাদিকে আমার কাছে আর আসতেই দেবেন না। হাজার হোক, তাঁরা সেকেলে লোক, মনে করেন ছেলেমেয়েরা মাঝে মাঝে বকুনি না খেলে বকে যাবার ভয় থাকে।
তাই যা বলি, শুনে যাও।
আমাদের দেশের, আমাদের জাতের গতিক বড়ো ভালো নয়, পাল। ভনতে ভনতে এ ভাবের কথা মাঝে মাঝে বলতে হয়েছে; সত্যি কথায় কখনো ইষ্ট বৈ অনিষ্ট হয় না তাই বলেছি; তাতে তোমাদের মন খারাপ হবার কিছু নেই। দেশের, জাতের, সমাজের উত্থান পতন লেগেই আছে, পতনের সময় বিষণ্ণ হলে আবার উত্থানের দেরি হওয়া ছাড়া, লাভ কিছু নেই। সে কথা তোমরা প্রত্যেকে মনে রেখো। প্রত্যেক “তুমি” যা করবে তাই জড়িয়ে “তোমাদের” করা হবে।
তোমার অভিধান থেকে ‘অসাধ্য’ আর ‘নৈরাশ্য’ এই দুটো কথা কেটে দিয়ো। সমস্যা আসে মেটাবার জন্যে; সংকট আসে পার হবার জন্যে; দুঃখ আসে শক্তি জাগাবার জন্যে। রাত যত ঘনিয়ে আসে ঊষা তত এগিয়ে আসে, সে কথা ভুলো না।
অন্তর্যামী ভর্ৎসনাকে যদি ভয় করে চল, তাহলে জগতে আর কিছুর ভয় থাকবে না,—মৃত্যুরও না; বিশেষত যদি ‘আমার’ জায়গায় সর্বদা ‘আমাদের’ ভাবনা করা অভ্যেস কর। আমি মরলে আমরা সকলে তো মরব না। তোমার জীবনমৃত্যু যদি এমন হয় যে, তাতে তোমাদের সকলের আরো ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ হবে, তাহলে সেই সকলের মধ্যে তুমি অমর হয়ে থাকবে।
পূর্বজন্মের কর্মফল নিয়ে বৃথা মাথা বকিয়ো না। সে বিষয়ে ঠিক জানারও উপায় নেই, তা নিয়ে তোমার করারও কিছু নেই। প্রতি মুহূর্তেই তোমার নবজন্ম, সে মুহূর্তে তুমি স্বর্গে থাকবে কি নরকে থাকবে, সেটা তোমার হাতে। পরকাল নিয়েই বা ভাবনা কেন। ইহকালটা ফুরলে তবে না পরকাল। যে কালে আছ, সেই বতর্মান কালটা ভালো করে কাটাতে পারলে, ভাবীকাল আপনিই সামলে যাবে।
ভালো করে কাল কাটানো কাকে বলে। পদে পদে “তোমার” এবং পালান্ত পরিচ্ছেদ
“তোমাদের” আনন্দ বাড়াবার ব্যবস্থা করা,— অন্য লোকে কবে কী করেছে তাই পড়েশুনে নকল করে বাসী ভাবে নয়; নিজের বুদ্ধিবৃত্তি টাটকা খাটিয়ে —বুদ্ধি দিয়ে ভেবে, হৃদয় দিয়ে অনুভব করে, কাজে আগ্রহ করে। নিজের সত্ত্বার এমন টলটলে অবস্থা করে তোলো যে যেমন মনে বোঝা, অমনি বুকে দরদ, তৎক্ষণাৎ চেষ্টায় হাত।
টাটকা কাজ করাই সৃষ্টি করা। শরীরমন যদি পরিষ্কার রাখ, চিত্ত যদি শুদ্ধ রাখ, তাহলে সেগুলি তোমার নিজের তৈরি জিনিস হয়ে উঠবে। আত্মীয়বন্ধুর সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক যা আছে তা আছে, নিজের সুভাব দিয়ে যেটিকে আরো মিষ্টি করে তুলতে পারবে সেটি তোমার হাতেগড়া সম্বন্ধ হবে। যেখানে সম্পর্ক থাকার কোনো লৌকিক কারণ নেই, সেখানে সুখদু:খের ভাগী হয়ে সম্বন্ধ পাতিয়ে বসা যায়। কাজে ব্যবহারে কথায় কথায় নিত্যি নতুন সৌন্দর্য সৃষ্টি করা যায়। নিজের মনহৃদয়ের রস দিয়ে জীবনের প্রত্যেক ক্রিয়াকে উৎসব, প্রত্যেক উৎসবকে আনন্দময় করে তোলা যায়। একবার সৃষ্টি করব ব’লে বসলে দেখবে এমন ঘটনা নেই যাকে নিজের ছোঁয়া দিয়ে আপনার না করে নেওয়া যায়। এই সৃষ্টি কাজেই মানুষ মানুষের উপযুক্ত আনন্দ পেতে পারে। এ সৃষ্টি রোজই করা যায়, এবেলা, ওবেলা করা যায়, উঠতে বসতে করা যায়; এর জন্যে আলাদা সময় তুলে রাখার আবশ্যক করে না,— প্রতি মুহূর্তেই করা যায়। যে মুহূর্ত কে আনন্দময় করে তুলতে পারবে, তাতেই অনন্তের আস্বাদ পাবে।
জিজ্ঞেস করতে পার, যে প্রেমের প্রেরণ সৃষ্টি করায় সে প্রেম পাওয়া যাবে কেমন করে। যিশু বলেছেন ঘা দিলে দরজা খুলে যায়। পতঞ্জলী বলেছেন যত আবেগে চাবে তত বেগে পাবে। তার সোজা মানে, চাওয়া আর পাওয়া একই কথা। প্রেমের আলো সকলের মধ্যে ভয় নেই
কিছু না কিছু আছে,— পথ দেখাবার ভারটা সেই আলোর উপর দিলেই মিটে যায়। যেটুকু আলো আছে প্রথম পা বাড়াবার পক্ষে তাই যথেষ্ট; কোনো দলকে যদি বিরোধী মনে কর, তার একজনকে ভালোবাসতে পারলে দলের সঙ্গে বিরোধ ভঞ্জন হবে ও এক পা এগোলে পরের পা ফেলার জায়গা তখন দেখা দেবে। মিলেমিশে চললে আলো বাড়ে, তাতে চলা যায় তাড়াতাড়ি। কিন্তু যে রকম করেই চলা হোক, চলার চেয়ে এগোবার সহজ কৌশল কেউ বাতলাতে এলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখো।
যতদিনে তোমরা তোমাদের নাতিনাতনীদের সঙ্গে খোসগল্প করতে বসবে, তার মধ্যে আমাদের দেশে আশার উষা দেখা দেবার সময় এসে যাবে। অরুণোদয়ের লালে-লাল শোভা সামনে দেখলে তারি কথা নিশ্চয়ই তোমরা বলাবলি করবে। তথন আলোচনার বিষয় হাজার হাজার মাইল দূর থেকে টেনেবুনে আনতে হবে না।
সেই ভরসায় উৎফুল্ল হয়ে বুডো মানুষের কাঁপা-গলায় আমি জিজ্ঞেস করি,—“আমরা কি দমে আছি।”
তোমরা সিংহনাদে গর্জাও— না! না!! না!!!