বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ/আংকোর-নগরী ও শ্রীবিজয়া

উইকিসংকলন থেকে

৪৬

আংকোর-নগরী ও শ্রীবিজয়া

১৭ই মে, ১৯৩২

 চলো, এই ফাঁকে একবার বৃহত্তর ভারত থেকে ঘুরে আসা যাক। বৃহত্তর ভারত বলতে আমি মালয়, ইন্দোচীন প্রভৃতি ভারতীয় উপনিবেশগুলির কথা বলছি। কী অবস্থায় এইসকল বসতি আর উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল সে কথা আগে বলা হয়েছে। এগুলো কিন্তু বিনা চেষ্টায় খামোকাই গড়ে ওঠে নি। সমুদ্রে ভারতীয়দের আধিপত্য ছিল এবং হামেশাই তারা সমুদ্র পারাপার করত বলেই তো একই সময়ে নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল। খৃষ্টীয় প্রথম এবং দ্বিতীয় শতকে এইসমস্ত উপনিবেশ স্থাপন শুরু হয়। প্রথমে এগুলো ছিল হিন্দু উপনিবেশ; কয়েক শতাব্দী বাদে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের ফলে সমগ্র মালয়েশিয়া বৌদ্ধ উপনিবেশে পরিণত হয়।

 ইন্দোচীনের কথা আলোচনা করা যাক। সর্বপ্রথমে যে উপনিবেশ স্থাপন করা হয় তার নাম ছিল চম্পা, জায়গাটার নাম ছিল আনাম। খৃষ্টীয় তৃতীয় শতকে এই উপনিবেশে পাণ্ডুরঙ্গম ছিল প্রধান শহর; আবার দুশো বছর পরে দেখা যায়, কম্বোজ নগর সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠেছে। এই নগরের বাড়িঘর, মন্দির ইত্যাদি ছিল পাথরে তৈরি। সমস্ত ভারতীয় উপনিবেশেই বিরাট সব বাড়ি ভারতীয় কৃষ্টির অপূর্ব নিদর্শন। স্থপতিবিশারদ, রাজমিস্ত্রি প্রভৃতি ভারতবর্ষ থেকেই সেখানে গিয়েছিল। বাড়িঘর নির্মাণ ব্যাপারে বিভিন্ন রাষ্ট্র আর দ্বীপগুলোর মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলত; তার ফলে অতি উঁচুদরের স্থপতিবিদ্যার বিকাশ হয়েছিল।

 এইসকল উপনিবেশের চার দিকে সমুদ্র। অধিবাসীরা কিংবা তাদের পূর্বপুরুষগণ সমুদ্র পার হয়েই এখানে এসেছিল। স্বভাবতই এরা সমুদ্রগামী লোক। বণিক আর ব্যবসায়ী লোক এরা; নানাপ্রকার মালপত্র নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করত এ-দ্বীপে ও-দ্বীপে, পশ্চিমে ভারতবর্ষ আর পূর্বে চীন পর্যন্ত। মালয়ের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বণিকশ্রেণীর আধিপত্য ছিল। হামেশাই বিরোধ বাধত ঐসব রাষ্ট্রের মধ্যে, ফলে হত যুদ্ধ আর হত্যাকাণ্ড। কখনও-বা হিন্দু আর বৌদ্ধ রাষ্ট্রের মধ্যেই শুরু হত লড়াই। ঐসকল যুদ্ধবিগ্রহের আসল কারণ ছিল, ব্যবসাবাণিজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তেমনি দেখো, এ যুগেও শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বাধছে ব্যবসাবাণিজ্যে একচেটিয়া প্রাধান্যলাভের উদ্দেশ্যে।

 অষ্টম শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় তিন শো বছর কাল ইন্দোচীনে তিনটি হিন্দুরাষ্ট্র ছিল। নবম শতাব্দীতে জয়বর্মণ নামে এক বড়ো রাজা ঐ তিনটি রাষ্ট্রকে একত্র মিলিত করে বিরাট এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। উনি সম্ভবত বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ছিলেন। আংকোর নামক স্থানে তিনি তাঁর রাজধানী নির্মাণ শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেন নি; পরে তাঁর বংশধর যশোবর্মণের আমলে সে কাজ শেষ হয়। কম্বোডিয়া সাম্রাজ্যও টিঁকে ছিল শ’চারেক বছর এবং বেশ সমৃদ্ধিশালী ছিল। আংকোর নগরের তখন খুব খ্যাতি, অধিবাসীর সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি; আকারে সিজারদের আমলের রোম নগরের চেয়েও বড়ো। কাছেই আংকোর-বটের মন্দির। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কম্বোডিয়া সাম্রাজ্যের বড়ো দুর্দিন গেছে, নানা দিক থেকে আক্রমণ শুরু হয়েছিল; পূর্বদিকে আনামিদের আক্রমণ, পশ্চিমে আদিম জাতি আর উত্তরে শান জাতির আক্রমণে সাম্রাজ্য একেবারে বাতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তথাপি আংকোর নগরের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয় নি। ১২৯৭ খৃষ্টাব্দে জনৈক চীনা দূত কম্বোডিয়া রাজ্যে এসেছিল; সে আংকোর নগরের খুব প্রশংসা করে গেছে।

 কিন্তু ১৩০০ খৃষ্টাব্দে হঠাৎ ভীষণ এক উৎপাত সৃষ্টি হল। পলি পড়ে মিকঙ নদীর মোহানা গেল বন্ধ হয়ে, জলস্রোত আর বয় না; স্রোতে ভাঁটা পড়াতে নগরের চতুষ্পার্শ্বস্থ অঞ্চলে দেখা দিল বন্যা, জমির উর্বরতা গেল নষ্ট হয়ে, পরিণত হল জলাভূমিতে। শীঘ্রই খাদ্যাভাব দেখা দিল; অধিবাসীদের দুর্দশার একশেষ। অবশেষে দলে দলে লোক শহর ছেড়ে চলে যেতে লাগল। সমৃদ্ধিশালী আংকোর নগর পরিণত হল জঙ্গলে; বিরাট অট্টালিকাগুলিতে বাসা করল যত বন্যজন্তু। তার পর কালক্রমে ঐসমস্ত অট্টালিকাও ধ্বংস হল, মিশে গেল মাটিতে, রইল কেবল জঙ্গল আর জঙ্গল।

 কম্বোডিয়া সাম্রাজ্য এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারল না, শুরু হল সাম্রাজ্যের পতন। শেষ পর্যন্ত একটা প্রদেশের আকারে তার অস্তিত্ব বজায় রইল, কখনও শ্যামদেশের শাসনাধীনে, কখনও বা আনামিদের অধিকারে। প্রসিদ্ধ আংকোর-বট-মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ অদ্যাপি এক সমৃদ্ধিশালী নগরের কথা মনে করিয়ে দেয়।

 ইন্দোচীনের অদূরে সুমাত্রা দ্বীপ। খৃষ্টীয় প্রথম কিংবা দ্বিতীয় শতাব্দীতে দক্ষিণ-ভারতের পহ্লবীবংশ ওখানে উপনিবেশ স্থাপন করে। মালয় উপদ্বীপ প্রথমে সুমাত্রা-রাষ্ট্রের অঙ্গীভূত ছিল এবং পরে বহুকাল যাবৎ এদের মধ্যে একটা ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল। সুমাত্রা পর্বতমালায় অবস্থিত শ্রীবিজয়া নগরী ছিল রাষ্ট্রের রাজধানী। পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ শতাব্দীতে সুমাত্রায় বৌদ্ধধর্মের প্রাধান্য স্থাপিত হয় এবং ক্রমে মালয়ের অধিকাংশ হিন্দু অধিবাসীই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে। এই কারণেই সুমাত্রা-রাষ্ট্রকে বলা হয় শ্রীবিজয়ার বৌদ্ধসাম্রাজ্য। শ্রীবিজয়ার খ্যাতিপ্রতিপত্তি খুব বেড়ে চলল এবং ক্রমে বোর্ণিও, ফিলিপাইন, সেলিবিস, জাভা আর ফরমোসা দ্বীপের অর্ধাংশ, সিলোন এবং এমনকি ক্যাণ্টনের নিকটবর্তী দক্ষিণ-চীনের একটি বন্দরও তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। সম্ভবত ভারতের দক্ষিণ-সীমার একটি বন্দরও তার দখলে ছিল। দেখা যাচ্ছে, এখানে একটা বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। এইসকল ভারতীয় উপনিবেশে প্রধান উপজীবিকা ছিল ব্যবসাবাণিজ্য আর জাহাজনির্মাণ-শিল্প। সে কালের চীনা এবং আরবীয় লেখকদের বৃত্তান্তে সুমাত্রা-রাষ্ট্রের বহু বন্দর আর উপনিবেশের তালিকা পাওয়া যায়।

 অধুনা সারা পৃথিবী জুড়ে বৃটিশ সাম্রাজ্য, সবখানেই তার বন্দর—জিব্রাল্টার, সুয়েজ খাল (প্রধানত বৃটিশের অধীনে), এডেন, কলম্বো, সিঙ্গাপুর, হংকং, আরও কত কী। বৃটিশরা বণিকের জাত, গত তিন শো বছর যাবৎ বাণিজ্যই করছে; আজ যে তারা বাণিজ্য আর ক্ষমতায় এত বড়ো হয়েছে তার মূলে, সমুদ্রে তাদের আধিপত্য। শ্রীবিজয়া-সাম্রাজ্যও ছিল এমনিতর একটি সামুদ্রিক শক্তি, বাণিজ্যের জন্যে যেখানে সুযোগ পেয়েছে সেখানেই বন্দর প্রতিষ্ঠা করেছে। সমরনীতির দিক থেকেও এই বন্দরগুলির বিশেষত্ব আছে; যেসকল স্থান থেকে সমুদ্রে আধিপতা করা সম্ভব, বেছে বেছে সেইসমস্ত স্থানেই বন্দর স্থাপন করা হয়েছিল।

 সিঙ্গাপুর তো আজকাল মস্তবড়ো শহর। প্রথমে এখানে সুমাত্রার অধিবাসীরা একটা বসতি স্থাপন করেছিল। তুমি লক্ষ্য করে থাকবে, নামটা ভারতীয় ধরনের—সিংহ পুর। সিঙ্গাপুরের বিপরীত দিকে ওদের আর-একটা উপনিবেশ ছিল। কখনও কখনও এই দুটি উপনিবেশ দু দিক থেকে সমুদ্রে একটা লোহার শিকল টেনে ধরে যাতায়াতকারী জাহাজ আটক করে মোটা রকমের কর আদায় করত।

 আকারে ছোটো হলেও শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য অন্যদিক থেকে বৃটিশ সাম্রাজ্যের মতোই ছিল। আর এই সাম্রাজ্য অনেক কাল টিঁকে ছিল, বৃটিশ সাম্রাজ্য হয়তো ততদিন থাকবে না। একাদশ শতাব্দীতে এই সাম্রাজ্য খুব প্রতিপত্তি আর সমৃদ্ধি লাভ করে; দক্ষিণ ভারতে তখন চোল-সাম্রাজ্যের খুব উন্নত অবস্থা। কিন্তু শ্রীবিজয়া সাম্রাজ্য চোল-সাম্রাজ্যের পরেও অনেক কাল টিঁকে ছিল। এই দুটি সাম্রাজ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ বজায় ছিল অনেক কাল; এদের বাণিজ্যও প্রসার লাভ করেছিল খুব; দুই সাম্রাজ্যেরই নৌবিভাগ ছিল শক্তিশালী। একাদশ শতকের প্রথম ভাগে এদের মধ্যে লাগল বিরোধ, বাধল যুদ্ধ। চোল-সম্রাট প্রথম রাজেন্দ্র সমুদ্রপথে এক সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন, শ্রীবিজয়া তার নিকট পরাস্ত হয়। কিন্তু শীঘ্রই আবার শ্রীবিজয়া শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

 একাদশ শতাব্দীর প্রথম প্রথম ভাগে চীনসম্রাট ব্রোঞ্জ নির্মিত কয়েকটি ঘণ্টা উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন সুমাত্রার রাজাকে। পরিবর্তে তিনিও চীনসম্রাটকে উপহার পাঠালেন মুক্তো, হস্তীদন্ত আর কতকগুলো সংস্কৃত গ্রন্থ। কথিত আছে, সোনার থালায় ভারতীয় অক্ষরে খোদাই করা একখানি চিঠিও নাকি ঐ সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল।

 শ্রীবিজয়া-সাম্রাজ্য অনেক কাল একটানা অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল। একে তিনটে পর্যায়ে ভাগ করা যায়: প্রথমত, দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত; দ্বিতীয় বৌদ্ধধর্মের যুগে, একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সাম্রাজ্যের ক্রমোন্নতি; তৃতীয় ব্যবসাবাণিজ্যের যুগ—সময় মালয়ে একচেটিয়া বাণিজ্য কর্তৃত্ব। পরিশেষে ১৩৭৭ খৃষ্টাব্দে একটা পহ্লবী উপনিবেশের আক্রমণে এই সাম্রাজ্যের পতন হয়।

 শ্রীবিজয়া-সাম্রাজ্য সিংহল থেকে চীনের ক্যাণ্টন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মধ্যবর্তী প্রায় সমস্ত দ্বীপই এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু জাভার পূর্বাংশ কখনও এর বশ্যতা স্বীকার করে নি, বৌদ্ধধর্মও গ্রহণ করে নি; বরাবর স্বাধীন হিন্দু রাষ্ট্র থেকে গেছে। ওদিকে কিন্তু পশ্চিম-জাভা ছিল শ্রীবিজয়া-সাম্রাজ্যের অধীনে। পূর্ব-জাভায় হিন্দুরাষ্ট্রকে বাণিজ্যের উপরেই নির্ভর করতে হত, বাণিজ্যের দৌলতেই তার উন্নতি। সিঙ্গাপুর তখন মস্তবড়ো বাণিজ্যিক কেন্দ্র; পূর্ব-জাভা ঈর্ষার চোখে তাকে দেখে। ক্রমে শ্রীবিজয়া আর পূর্ব জাভার মধ্যে শুরু হল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং তা পরিণত হল ভীষণ শত্রুতায়। দ্বাদশ শতাব্দী থেকে পূর্ব-জাভা একটু একটু করে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে লাগল, শ্রীবিজয়া তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না; অবশেষে ১৩৭৭ খৃষ্টাব্দে পূর্বজাভা শ্রীবিজয়াকে সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করল। এই যুদ্ধে ধ্বংস হল সিঙ্গাপুরে আর শ্রীবিজয়াশহর, পতন হল মালয়ের দ্বিতীয় বড়ো সাম্রাজ্যের—শ্রীবিজয়া-সাম্রাজ্য। এর ধ্বংসাবশেষের উপরে গড়ে উঠল তৃতীয় এক সাম্রাজ্য, মাজপাহিত-সাম্রাজ্য।

 পূর্ব-জাভা ঐ যুদ্ধে খুব নিষ্ঠুর বর্বরের মতো ব্যবহার করেছিল সন্দেহ নেই; কিন্তু তৎকালীন বইপুস্তক থেকে জানা যায়, এই হিন্দুরাষ্ট্র খুব উঁচুদরের সভ্যতার অধিকারী ছিল। বিশেষ করে পাকা বাড়ি আর মন্দিরাদির নির্মাণব্যাপারে এই রাষ্ট্রের সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। মন্দির ছিল পাঁচ শোর বেশি; তার মধ্যে কতকগুলো অতি সুন্দর দেখতে, স্থাপত্যশিল্পের অপূর্ব নিদর্শন। এর অধিকাংশই তৈরি হয়েছে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যভাগের মধ্যে, অর্থাৎ ৬৫০ খৃষ্টাব্দ থেকে ৯৫০ খৃস্টাব্দের মধ্যে। বহু স্থপতিবিশারদ আর রাজমিস্ত্রি ভারতবর্ষ থেকে জাভা গিয়েছিল এবং তাদের সাহায্যেই ঐসকল বিরাট মন্দির নির্মিত হয়েছিল। পরে এক চিঠিতে জাভা আর মাজপাহিত-সাম্রাজ্যের কাহিনী বলব।

 বোর্ণিও আর ফিলিপাইনের অধিবাসীরা ভারতীয় লিখনপদ্ধতি শিখেছিল; দুর্ভাগ্যবশত ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের বহু প্রাচীন পুঁথি নষ্ট করে ফেলেছে স্পেনের লোকেরা।

 সেই প্রাচীন কাল থেকেই, এমনকি ইসলামধর্মের আবির্ভাবের আগে থেকেই, আরবরা এইসকল দ্বীপে বসবাস শুরু করেছিল। এরা বণিক; যেখানে বাণিজ্যের সুবিধা সেখানেই এরা গিয়েছে।