বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ/আয়ার্ল্যাণ্ডের হোম-রুল এবং সিন্ ফিন্ আন্দোলন

উইকিসংকলন থেকে

১৪০

আয়ার্ল্যাণ্ডের হোম-রুল এবং সিন্‌ফিন্ আন্দোলন

৯ই মার্চ, ১৯৩৩

 এত বারবার সশস্ত্র বিদ্রোহ করে, এবং দুর্ভিক্ষ ও অন্যান্য দুর্বিপাকে বিপন্ন হয়ে, আয়ার্ল্যাণ্ড ক্রমে স্বাধীনতা অর্জনের এই পন্থাটির সম্বন্ধে একটু বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ল। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে সভ্য-নির্বাচনের অধিকার ক্রমে বেশি লোকের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হল; অনেক জাতীয়তাবাদী আইরিশম্যান হাউজ অব কমন্‌সের সভ্য নির্বাচিত হয়ে গেলেন। লোকের মনে আশা জাগল, এঁরা হয়তো আয়ার্ল্যাণ্ডের স্বাধীনতা আনবার দিকে কিছুটা কাজ করে উঠতে পারবেন; আগের দিনের মতো সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিবর্তে এখন পার্লামেণ্টের মধ্যে থেকে বৈধ উপায়ে কাজ হাসিল হবে বলেই তারা ভরসা করে রইল।

 উত্তর-অঞ্চলের আল্‌স্টার এবং আয়ার্ল্যাণ্ডের অন্যান্য অংশের মধ্যে বিরোধ আবার বেড়ে গিয়েছিল। জাতি এবং ধর্মের যে তফাত ছিল সেটা টিঁকেই রয়েছে, তার উপরে আবার অর্থনৈতিক তফাতটা আরও প্রবল হয়ে উঠল। আল্‌স্টার ইংলণ্ড এবং স্কটল্যাণ্ডের মতো শিল্পপ্রধান হয়ে উঠেছে, সেখানে বড়ো বড়ো কারখানায় পণ্য উৎপাদন চলছে। দেশের বাকি অংশটা তখনও কৃষিজীবী, তার জীবনযাত্রা মধ্যযুগের মতো, তার জন-সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যারা আছে তারাও দরিদ্র। আয়ার্ল্যাণ্ডকে দুই অংশে বিভক্ত করে ফেলবার জন্যে ইংলণ্ড যে চাল দিয়েছিল সেটা অতিমাত্রায় সফল হয়েছে; এতখানি, যে পরবর্তী কালে ইংলণ্ড নিজেই যখন আবার এদের একত্র করতে চাইল, তখন সেও পেরে উঠল না। আয়ার্ল্যাণ্ডের স্বাধীনতার পথে আল্‌স্টারই হয়ে দাঁড়াল সবচেয়ে বড়ো বাধা। আল্‌স্টারের লোকেরা প্রোটেস্ট্যাণ্ট এবং ধনী; তাদের ভয় ছিল, আয়ার্ল্যাণ্ড স্বাধীন হয়ে গেলে তখন দরিদ্র ক্যাথলিক আয়ার্ল্যাণ্ডের মধ্যে তাদের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যাবে।

 ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে এবং আয়ার্ল্যাণ্ডে দুটি নূতন কথার আমদানি হল—হোম-রুল। আয়ার্ল্যাণ্ড যা চাইছিল তারই নাম দেওয়া হয়েছিল হোম-রুল। সাতশো বছর ধরে যে স্বাধীনতার জন্যে আয়ার্ল্যাণ্ড লড়াই করে এসেছে, তাতে আর এতে অনেক তফাত, তার চেয়ে এর গণ্ডিও অনেক ছোটো। এর মানে ছিল, ব্রিটেনের অধীনে আয়ার্ল্যাণ্ডের একটা পার্লামেণ্ট থাকবে, আয়ার্ল্যাণ্ডের স্থানীয় সব ব্যাপার সে নিয়ন্ত্রণ করবে; আর বিশেষ কতকগুলো জরুরি ব্যাপারের কর্তৃত্ব ব্রিটিশ পার্লামেণ্টের হাতেই থেকে যাবে। স্বাধীনতার যে পুরোনো দাবি তাদের ছিল তাকে এরকম ছাঁট-কাট করে নিতে আইরিশম্যানদের অনেকে রাজি হলেন না। কিন্তু বিদ্রোহ আর বিরোধ করে করে দেশের লোক শ্রান্ত হয়ে পড়েছিল; এঁরা কয়েকবার বিদ্রোহের ব্যর্থ চেষ্টা করলেন, সে চেষ্টার তারা যোগ দিতে রাজি হল না।

 আয়ার্ল্যাণ্ডের যে সভ্যরা ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে ছিলেন তাঁদের একজনের নাম চার্ল্‌স্ স্টুয়ার্ট্ পার্নেল। তিনি দেখলেন, কনজারভেটিভ (রক্ষণপন্থী) বা লিবারেল (উদারপন্থী), পার্লামেণ্টের কোনো দলই আয়ার্ল্যাণ্ডের সমস্যার দিকে বিন্দুমাত্র মনোযোগ দিচ্ছে না। দেখে তিনি সংকল্প করলেন, এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করবেন যেন এদের এই মুখ-মিষ্টি পার্লামেণ্টী চালিয়াতির খেলা আর এরা চালাতে না পারে। আরও কয়েকজন আইরিশ সভ্যকে দলে টেনে নিয়ে তিনি পার্লামেণ্টের সমস্ত কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে লাগলেন; এঁরা প্রত্যেক ব্যাপারে প্রকাণ্ড লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিতে লাগলেন, আরও নানারকম ফিকির ফন্দি খাটাতে লাগলেন, যেন পার্লামেণ্টের সমস্ত কাজেই খালি দারুণ দেরি হয়ে যায়। এইসমস্ত ফিকিরফন্দির জ্বালায় ইংলণ্ডের লোক তিক্তবিরক্ত হয়ে উঠল; বলল, এগুলো পার্লামেণ্টের রীতিসংগত নয়, ভদ্রোচিত নয়। কিন্তু এসব সমালোচনায় পার্নেল কর্ণপাত করলেন না। ইংরেজদেরই গড়া রীতি-নীতি অনুসারে ইংরেজদের অতিভদ্র পার্লামেণ্টী চাতুরীর খেলা খেলতে তো তিনি পার্লামেণ্টে আসেন নি; তিনি এসেছেন আয়ার্ল্যাণ্ডের কাজ উদ্ধার করতে। সাধারণ রীতির পথে চলে যদি সেটা করতে না পারেন, তবে যে-কোনো রকমের অসাধারণ পন্থা তিনি অবলম্বন করবেন, এতে তাঁর কোনো অন্যায় আছে বলে তিনি মনে করতেন না। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত পার্লামেণ্টের মনোযোগ আয়ার্ল্যাণ্ডের প্রয়োজনের দিকে আকৃষ্ট করে তবে তিনি ছাড়লেন।

 ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে আইরিশ হোম-রুল দলের পার্নেলই হলেন অধিনায়ক। এই দলটির উৎপাতে ব্রিটেনের প্রাচীন দল দুটি বাতিব্যস্ত হয়ে উঠল। দুটি দলের জোর যখন প্রায় সমান সমান হয়ে উঠত তখনই এই আইরিশ হোম-রুলওয়ালাদের খাতির বেড়ে যেত, কেননা তারা যে পক্ষে যোগ দেবে তাদেরই জয় হবে। এমনি করে আয়ার্ল্যাণ্ডের প্রশ্নটিকে সারাক্ষণই লোকের চোখের সামনে এরা ধরে রাখল। শেষ পর্যন্ত গ্ল্যাড্‌স্টোন আয়ার্ল্যাণ্ডকে হোম-রুল দিতে রাজি হলেন; ১৮৮৬ সনে তিনি হাউজ অব কমন্‌সে একটি হোম-রুল বিলের প্রস্তাব উপস্থিত করলেন। এতে আয়ার্ল্যাণ্ডকে অতি মৃদুরকমের খানিকটা স্বায়ত্তশাসনই দেবার কথা বলা হয়েছিল; তবুও একে নিয়ে প্রতিবাদের একেবারে ঝড়বন্যা শুরু হয়ে গেল। রক্ষণপন্থী দল স্বভাবতই এর সম্পূর্ণ বিরোধী হয়ে দাঁড়াল। এমনকি গ্ল্যাড্‌স্টোনের নিজের দল মানে উদারপন্থী দলও এটাকে ভালো চোখে দেখল না। দলের মধ্যে দুটো ভাগ হয়ে গেল, এবং একটা ভাগ সত্যসত্যই আলাদা হয়ে গিয়ে রক্ষণপন্থীদের সঙ্গে যোগ দিল। এদের নাম দেওয়া হল ‘ইউনিয়নিস্ট’ বা মিলনপন্থী, কারণ এরা ব্রিটেন এবং আয়ার্ল্যাণ্ডের একত্র মিলনেরই পক্ষপাতী। হোম-রুল বিল ভোটে হেরে গেল, তারই সঙ্গে সঙ্গে গ্ল্যাড্‌স্টোনেরও পতন হল।

 এর সাত বছর পরে, ১৮৯৩ সনে, গ্ল্যাড্‌স্টোন আবার প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন তাঁর চুরাশি বছর বয়স। আবার তিনি তাঁর দ্বিতীয় হোম-রুল বিলের প্রস্তাব আনলেন; হাউজ অব কমন্‌সে অতি সামান্য একটুখানি সংখ্যাধিক্যের জোরে এটা কেনোক্রমে গৃহীত হয়ে গেল। কিন্তু আইনে পরিণত হবার আগে সমস্ত বিলকেই আবার হাউজ অব লর্ডসেও গৃহীত হতে হবে; সে হাউজ অব লর্ড্‌স্‌টা ছিল রক্ষণপন্থী আর প্রতিক্রিয়াপন্থীতেই ভরা। হাউজ অব লর্ড্‌স-এর সভ্যরা প্রজাদের দ্বারা নির্বাচিত নয়, এটা হচ্ছে বড়ো বড়ো ভূস্বামীদের একটা পুরুষানুক্রমিক সভা তার সঙ্গে থাকেন কয়েকজন বিশপ। হাউজ অব কমন্‌স, হোম-রুল বিলটিকে অনুমোদন করেছিল, হাউজ অব লর্ড্‌স তাকে বাতিল করে দিল।

 দেখা গেল, পার্লামেণ্টী পন্থায় চেষ্টা করেও আয়ার্ল্যাণ্ডের কাম্য ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও হয়তো একদিন চেষ্টা সফল হবে এই আশা নিয়ে আইরিশ জাতীয়তাবাদী দল (বা হোম-রুল দল) পার্লামেণ্টে থেকেই কাজ করে চললেন; মোটের উপর আয়ার্ল্যাণ্ডের লোকেরাও এদের নীতিকে সমর্থন করছিল। কিন্তু এমন লোকও অনেক ছিল যারা এই নীতি এবং ব্রিটিশ পার্লামেণ্টের উপর সকল আস্থাই হারিয়ে ফেলল। সংকীর্ণ অর্থে রাজনীতি বলতে যা বোঝায়, বহু আইরিশম্যান তার উপরেই কিছুটা বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠল; সংস্কৃতিমূলক এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের দিকে মনোযোগ নিবিষ্ট করল। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আয়ার্ল্যাণ্ডে জাতীয় সংস্কৃতির একটি পুনরুজ্জীবন ঘটল; বিশেষ করে চেষ্টা হল, দেশের প্রাচীন ভাষা গেলিকভাষাকে আবার জাগিয়ে তুলতে—পশ্চিম-আয়ার্ল্যাণ্ডের গ্রাম-অঞ্চলগুলিতে সে ভাষা তখনও চল্‌তি ছিল। এই প্রাচীন কেল্‌টিক ভাষার সাহিত্য বেশ সমৃদ্ধ; কিন্তু বহুশত বৎসর ধরে ইংরেজ-শাসন চলার ফলে এটা শহর অঞ্চল থেকে অন্তর্হিত হয়ে গিয়েছিল, ধীরে ধীরে সমস্ত ভাষাটাই লোপ পেয়ে যাচ্ছিল। আইরিশ জাতীয়তাবাদীরা বুঝলেন, আয়ার্ল্যাণ্ড যদি তার নিজস্ব প্রাণধারা এবং তার প্রাচীন সংস্কৃতিকে টিঁকিয়ে রাখতে চায় তবে তা করতে হবে তার নিজস্ব ভাষার মধ্য দিয়েই। কাজেই তারা পশ্চিম অঞ্চলের গ্রামগুলো খুঁজে খুঁজে এই ভাষাকে বার করে আনবার এবং আবার তাকে একটি জীবন্ত ভাষায় পরিণত করবার জন্যে প্রাণপাত পরিশ্রম করতে লাগল। এই উদ্দেশ্যে একটি গেলিক সমিতিও স্থাপিত হল। সমস্ত দেশেই, এবং বিশেষ করে সমস্ত পরাধীন দেশে জাতীয় আন্দোলন নিজের ভিত্তি রচনা করে দেশের প্রাচীন ভাষাকে অবলম্বন করে। বিদেশী ভাষার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও প্রচারিত আন্দোলন দেশের জনসাধারণের মনে সাড়া জাগায় না, দেশের মাটিতে শিকড় বসাতে পারে না। আয়ার্ল্যাণ্ডের পক্ষে ইংরেজি ভাষাটা ঠিক বিদেশী ভাষা ছিল না। দেশের প্রায় প্রত্যেক লোকই সে ভাষা জানত, সে ভাষায় কথা বলত; গেলিকের চেয়ে ইংরেজি ভাষার সঙ্গেই লোকের বেশি পরিচয় ছিল তাতে সন্দেহ নেই। তবুও আইরিশ জাতীয়তাবাদীরা গেলিক ভাষাকেই পুনর্জীবিত করে তোলাটাকে অবশ্যপ্রয়োজন বলে মনে করলেন, যেন দেশের প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র অক্ষুণ্ণ থাকে।

 আয়ার্ল্যাণ্ডের লোকেরা তখন একটা কথা বিশ্বাস করত—শক্তি আসে ভিতর থেকে, বাইরে থেকে নয়। পার্লামেণ্টে গিয়ে খাঁটি রাজনৈতিক কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে কাজ উদ্ধার হবে ভ্রম তখন ঘুচেছে; তাই আরও দৃঢ়তর একটা ভিত্তি নিয়ে জাতিটাকে গড়ে তোলবার চেষ্টা চলল। বিংশ শতাব্দীর গোড়াতে যে নবীন আয়ার্ল্যাণ্ড জন্মগ্রহণ করল তার রূপ পুরোনো আয়ার্ল্যাণ্ডের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পুনরুজ্জীবনের প্রভাব নানান দিক দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠল; সাহিত্যে সংস্কৃতিতে নূতনত্ব এল সে কথা আগেই বলেছি; অর্থনৈতিক জীবনেও এর প্রভাব দেখা গেল, সেখানে কৃষকদের একত্র করে সমবায় সমিতি গঠন করে তাদের সংঘবদ্ধ করে তোলবার চেষ্টা হল; সে চেষ্টা সফলও হল।

 কিন্তু এর সমস্ত ব্যাপারেরই পিছনে ছিল স্বাধীনতার কামনা; ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে যে আইরিশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে, বাইরে থেকে মনে হত তাঁরা আয়ার্ল্যাণ্ডের লোকের আস্থাভাজন, কিন্তু আসলে তাঁদের উপরে সে আস্থাও ক্রমশ কমে আসছিল। লোকেরা ক্রমে তাঁদের মনে করতে লাগল শুধু রাজনীতিক নেতা বলে, যারা খালি মস্ত মস্ত বক্তৃতা দিতেই ভালোবাসেন, তার বেশি আর কিছু করবার শক্তি রাখেন না। প্রাচীন কালের ফেনিয়ানরা এবং স্বাধীনতাকামী অন্যান্য দলরা অবশ্য কোনোদিনই এই পার্লামেণ্টপন্থীদের আর তাদের হোম-রুল আন্দোলনের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা পোষণ করত না। কিন্তু এখন এই নবীন এবং তরুণ আয়ার্ল্যাণ্ডও আর পার্লামেটের মুখাপেক্ষী হতে রাজি হল না। সমস্ত ব্যাপারেই তো স্বাবলম্বনের কথা শোনা যাচ্ছে; রাজনীতিতেও সেই নীতিরই প্রয়োগ করলে ক্ষতি কী? আবার সশস্ত্র বিদ্রোহের কল্পনা লোকের মনে জেগে উঠল। কিন্তু কাজে নামবার এই কল্পনাকে একটা নূতন রকমের রূপ দেওয়া হল। আর্থার গ্রিফিথ ব’লে একজন তরুণ আইরিশম্যান একটি নূতন নীতির কথা প্রচার করতে লাগলেন, পরে এর নাম হয়েছিল সিন্‌ফিন্ (Sinn Fein) অর্থাৎ ‘আমরা নিজেরা’।

 এই কথা কটি থেকেই এর পিছনকার নীতিটির স্বরূপ আন্দাজ করা যায়। সিন্‌ফিন্‌দের কথা ছিল, আয়ার্ল্যাণ্ডকে তার নিজের জোরেই উঠে দাঁড়াতে হবে, রক্ষা বা করুণার জন্যে ইংলণ্ডের দিকে তাকিয়ে থাকা চলবে না। এরা ভিতর থেকেই জাতিটার শক্তি গড়ে তুলতে চাইল। গেলিক আন্দোলন এবং সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন যেটা চলছিল, তাকে এরা সমর্থন করল। রাজনীতির ব্যাপারে যে অর্থহীন পার্লামেণ্টী কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল তাকে সমর্থন করল না। বলল, এর কাছে প্রত্যাশা করবার আমাদের কিছুই নেই। অন্য দিকে আবার সশস্ত্র বিদ্রোহও এরা সম্ভবপর ব’লে মনে করল না। পার্লামেণ্টী কার্যনীতির পরিবর্তে এরা প্রচার করতে লাগল একটি ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রামের’ নীতি; ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে এক প্রকারের অসহযোগ চালিয়ে সে নীতিকে কার্যকরী করে তুলতে হবে। আর্থার গ্রিফিথ হাঙ্গেরির দৃষ্টান্ত দেখালেন; সেখানে এরই ঠিক এক পুরুষ আগে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ চালিয়ে প্রজারা জয়লাভ করেছিল। তিনি বললেন, আয়ার্ল্যাণ্ডেও তারই অনুরূপ একটি কর্মনীতি গ্রহণ করে, তার চাপে ইংলণ্ডকে কথা শুনতে বাধ্য করানো হোক।

 ভারতবর্ষে গত তেরো বছরে অসহযোগের নানান প্রকার নিয়ে আমরা অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেছি; আমাদের পূর্বগামী আয়ার্ল্যাণ্ডের এই নীতিটির সঙ্গে আমাদের নিজেদের নীতিটিকে একটু তুলনা করে দেখা যাক। পৃথিবীসুদ্ধ সবাই জানে, আমাদের এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি হচ্ছে অহিংসা। আয়ার্ল্যাণ্ডের কর্মনীতির এরকম কোনো ভিত্তি বা পশ্চাৎপট ছিল না; তবু সেখানেও যে অসহযোগের প্রস্তাব করা হল তার শক্তির উৎস ছিল একটি শান্তিপূর্ণ নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের নীতি। এই সংগ্রাম শান্তিপূর্ণ পথে চালাতে হবে, এইটেই ছিল এদের বড়ো কথা।

 ধীরে ধীরে আয়ার্ল্যাণ্ডের যুবকদের মনে সিন্‌ফিন্‌দের এই মতামত প্রতিষ্ঠা লাভ করল। সে মতামত অকস্মাৎ একদিন সমস্ত আয়ার্ল্যাণ্ডে আগুনে জ্বেলে দেয় নি। তখনও এমন লোক বহু ছিল যারা পার্লামেণ্ট কিছু তাদের দেবে বলে প্রত্যাশা করত; বিশেষ করে তার কারণ, ১৯০৬ সনে উদারপন্থী দল বিপুল ভোটাধিক্য পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। কিন্তু, হাউজ অব কমন্‌সে উদারপন্থীরা সংখ্যায় বেশি হ’লেও, হাউজ অব লর্ড্‌সে রক্ষণপন্থী আর ইউনিয়নিস্টরাই স্থায়ীভাবে সংখ্যাবহুল হয়ে বসে রয়েছে; অল্পদিনের মধ্যেই এই দুটি হাউজের মধ্যে সংঘাত বাধল। সংঘাতের ফলে লর্ডদের ক্ষমতা অনেকটা ছেঁটে দেওয়া হল। টাকাকড়ি মঞ্জুর করার ব্যাপারে স্থির হল, হাউজ অব লর্ড্‌স্ আপত্তি করলেও হাউজ অব কমন্‌স্ সে আপত্তি ঠেলে যেতে পারবে; হাউজ অব লর্ড্‌স্‌ যে প্রস্তাবটি বাতিল করল হাউজ অব কমন্‌স সেটিকে পর পর তিনটি অধিবেশনে তিনবার মঞ্জুর করিয়ে নিতে পারলেই হল। এমনি করে ১৯১১ সনের পার্লামেণ্ট অ্যাক্টের দ্বারা উদারপন্থীরা হাউজ অব লর্ড্‌সের বিষদাঁত টেনে তুলে দিল। তখনও কিন্তু কাজে বাধা দেবার এবং হস্তক্ষেপ করবার অনেকখানিই ক্ষমতা হাউজ অব লর্ড্‌সের হাতে থেকে গেল।

 হাউজ অব লর্ড্‌স্‌ বাধা দেবে জানা কথাই; সে বাধাকে অতিক্রম করবার ব্যবস্থা এইভাবে করে নিয়ে এবার উদারপন্থীরা এই তৃতীয়বার হোম-রুল বিল উপস্থিত করল; ১৯৯৩ সনে হাউজ অব কমন্‌স্ এই বিলে সম্মতি জ্ঞাপন করল। হাউজ অব লর্ড্‌স্ সে বিলকে বাতিল করবে, সে তো জানা কথাই ছিল। হাউজ অব কমন্‌স্‌ তাতে দমল না, ধৈর্য ধরে বসে পর পর তিনটি অধিবেশনে তিনবার তারা বিলটিকে বহাল রাখল। ১৯১৪ সনে এই বিলটি আইনে পরিণত হল; সমগ্র আয়ার্ল্যাণ্ডের প্রতিই এটি প্রযোজ্য হল, আল্‌স্টারও বাদ গেল না।

 অবশেষে এতদিনে মনে হল, আয়ার্ল্যাণ্ড হোম-রুল পেয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে তখনও অনেকগুলো কিন্তু ছিল! ১৯১২-১৩ সনে পার্লামেণ্ট যখন হোম-রুল নিয়ে তর্কবিতর্কে ব্যস্ত ঠিক সেই সময়টিতেই উত্তর-আয়ার্ল্যাণ্ডে অনেক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছিল। আল্‌স্টারের নেতারা ঘোষণা করলেন, হোম-রুলকে তাঁরা মেনে নেবেন না; এটা যদি আইনেও পরিণত হয় তবু তখনও একে প্রতিরোধ করবেন। তাঁরা বিদ্রোহের আভাসও দিলেন, এবং বিদ্রোহ করবার জন্যে প্রস্তুত হলেন। এ কথা পর্যন্ত শোনা গেল, হোম-রুলের বিরুদ্ধে লড়বার জন্যে তাঁরা দরকার হলে বিদেশী শক্তির মানে জর্মনির সাহায্য প্রার্থনা করতেও কুণ্ঠিত হবেন না। এটা একেবারেই প্রকাশ্য এবং নির্ভেজাল রাজদ্রোহ। তার চেয়েও মজার ব্যাপার, ইংলণ্ডের রক্ষণপন্থী দল এদের এই বিদ্রোহাত্মক আন্দোলনের জয়কামনা করতে লাগলেন, অনেকে একে সাহায্য পর্যন্ত করতে লাগলেন। ধনী রক্ষণপন্থী শ্রেণীরা প্রচুর টাকা আল্‌স্টারে পাঠিয়ে দিলেন। স্পষ্টই দেখা গেল, তথাকথিত ‘উচ্চতর শ্রেণী’ অর্থাৎ শাসকশ্রেণীগুলো মোটের উপর আল্‌স্টারেরই পক্ষে রয়েছে, সেনাবাহিনীর অনেক উচ্চপদস্থ কর্মচারীও এই দিকে ছিলেন, তাঁরাও সেই শাসকশ্রেণীর লোক। বহু অস্ত্রশস্ত্র গোপনে আমদানি করা হল; স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী প্রকাশ্যভাবেই কুচকাওয়াজ করতে লাগল। সময় এলে পরে তখন শাসনভার গ্রহণ করবে ব’লে আল্‌স্টারে একটি অস্থায়ী সরকার পর্যন্ত গঠন করা হল। এটা লক্ষ করবার বিষয়, আল্‌স্টারের এই ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের অন্যতম ছিলেন পার্লামেণ্টের একজন নামজাদা রক্ষণপন্থী সদস্য, তাঁর নাম এফ. ই. স্মিথ। পরবর্তী কালে ইনিই লর্ড বার্কেনহেড নামে পরিচিত হন, এবং ভারতসচিবের পদ ও আরও অনেক উচ্চ উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন।

 ইতিহাসে বিদ্রোহ বস্তুটা প্রায় একটা দৈনন্দিন ঘটনা; বিশেষ করে আয়ার্ল্যাণ্ডেও প্রচুরসংখ্যক বিদ্রোহ ঘটছে। তবুও আল্‌স্টারে এই-যে বিদ্রোহের আয়োজন হল, আমাদের কাছে এটি বেশ মন দিয়ে দেখবার বস্তু, কারণ এর পিছনে ছিল সেই দলটি, যে চিরকাল নিজেকে নিয়মানুগ এবং রক্ষণপন্থী বলেই অহংকারে মত্ত হত। এই হচ্ছে সেই দল যারা সারাক্ষণই ‘আইন এবং শৃঙ্খলার’ ধূলি ঝাড়ত; সে আইন এবং শৃঙ্খলাকে যে পাপিষ্ঠরা তিলমাত্র ক্ষুণ্ণ করল তাদের অতি কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত বলে চীৎকার করত। অথচ তখন এই দলেরই খ্যাতনামা ব্যক্তিরা প্রকাশ্যভাবে রাজদ্রোহকর বক্তৃতা দিয়ে বেড়াতে লাগলেন, সশস্ত্র বিদ্রোহের আয়োজন করলেন; এর সাধারণ সভ্যরা তাঁদের টাকা দিয়ে সাহায্য করতে লাগল। এটাও দেখতে হবে, এদের এই বিদ্রোহ এরা করতে চাইছিল পার্লামেণ্টেরই বিরুদ্ধে, যে পার্লামেণ্ট তখন হোম-রুল বিল নিয়ে আলোচনা করছিল এবং পরে তাকে আইনেই পরিণত করল। অতএব এরা গণতন্ত্রের একেবারে মূল ভিত্তিতেই আঘাত হানতে চাইল; চিরকাল ধরে ইংলণ্ডের লোকেরা বড়াই করে এসেছে, তারা আইনের প্রভুত্ব আর নিয়মানুবর্তী কার্যকলাপে বিশ্বাসী; সে কথার কোনো মূল্যই আর রইল না।

 ইংরেজের এইসব বড়ো বড়ো ভান আর মস্ত মস্ত বাণী, ১৯১২-১৪ সনের আল্‌স্টার-‘বিদ্রোহ’ তার একেবারে মুখোশ খুলে ফেলে দিল; শাসনকর্তৃপক্ষ এবং আধুনিক গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বরূপ কী, সেটাও বেশ উদ্‌ঘাটিত করেই দেখিয়ে দিল। ‘আইন এবং শৃংঙ্খলা’ বলতে যতক্ষণ বোঝাবে যে তার দ্বারা শাসকশ্রেণীর সমস্ত অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে, ততক্ষণই সে আইন এবং শৃঙ্খলা অতি ভালো জিনিষ; গণতন্ত্র যতক্ষণ সে অধিকার এবং স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করছে ততক্ষণ গণতন্ত্রকেও স’য়ে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এইসব অধিকারে যদি কোথাও এতটুকু আঘাত লাগে তবে তৎক্ষণাৎ এই শাসকশ্রেণীটি নখদন্ত খিঁচিয়ে লড়াই করতে লেগে যাবে। অতএব ‘আইন এবং শৃঙ্খলা’ আসলে হচ্ছে বেশ একটা গাল-ভরা কথা, তাদের কাছে এর মানে শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থ। এই ব্যাপারটা থেকেই স্পষ্ট বোঝা গেল, ব্রিটিশ সরকারও কার্যত একটি শ্রেণীগত সরকার মাত্র; পার্লামেণ্টের সংখ্যাবহুল অভিমত এদের বিরুদ্ধে গেলেও এরা সহজে নিজের গদি ছাড়বে না। এই রকমের সংখ্যাবহুল দল, যদি এদের অধিকার খর্ব হয় এমন কোনো সমাজতান্ত্রিক আইন বিধিবদ্ধ করতে চেষ্টা করে, তবে এরা তার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করবে, গণতান্ত্রিক নীতি ইত্যাদিকে একেবারেই অগ্রাহ্য করে চলবে। এই কথাটাকে বেশ ভালো করে বুঝে নিয়ো; কারণ, সমস্ত দেশের সম্বন্ধেই কথাটা খাটে, অথচ লম্বা লম্বা বচন আর সুমধর বাণীর আবর্তে প’ড়ে আমরা অনেক সময়েই এই পরম সত্য কথাটিকে ভুলে যাই। দক্ষিণ-আমেরিকার প্রজাতন্ত্রগুলোতে খুব ঘন ঘন বিপ্লব ঘটে, আর ইংলণ্ডে একটি স্থায়ী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত; তবু এই ব্যাপারটির বেলায় এদের মধ্যে বিশেষ কোনোই তফাত নেই। ইংলণ্ডের শাসনব্যবস্থা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ, তার মানে হচ্ছে, শাসকশ্রেণী যেটি আছে সেটি দেশে বেশ গভীর করে শিকড় গেড়ে বসেছে, তাকে হঠাৎ উপ্‌ড়ে ফেলে দেবে এমন শক্তি অন্য কোনো শ্রেণীর আপাতত নেই। আত্মরক্ষার জন্যে যেসব ব্যবস্থা তারা খাড়া কর রেখেছিল তাদের একটি হচ্ছে হাউজ অব লর্ড্‌স্‌। ১৯৯১ সনে একে দূর্বল করে ফেলা হয়েছিল। অতএব শাসকশ্রেণীটা ভয় পেয়ে গেল; আল্‌স্টারের ব্যাপারটা শুধু তাদের বিদ্রোহ ঘোষণা করবার একটা উপলক্ষ্য মাত্র।

 ভারতবর্ষেও এই আইন এবং শৃঙ্খলার মন্ত্রোচ্চারণ আমরা প্রত্যহ, এবং দিনে বহুবার করে শুনেছি। সেইজনোই এর প্রকৃত অর্থ কী সেটা মনে রাখা ভালো। এ কথাটাও মনে রাখলে ক্ষতি নেই, আমাদের প্রতি যাঁরা এইসব হিতোপদেশ বর্ষণ করছেন তাঁদের একজন (একজন ভারতসচিব) নিজেই ছিলেন আল্‌স্টার-বিদ্রোহের অন্যতম নেতা!

 এইভাবে অস্ত্রশস্ত্র আর স্বেচ্ছাসেবক-বাহিনী সংগ্রহ করে আল্‌স্টারবাসীরা বিদ্রোহের আয়োজন করল; ব্রিটিশ সরকার শান্ত দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগল। এদের এইসব আয়োজন বন্ধ করবার জন্যে কোনো অর্ডিন্যান্স সে দিন জারি করা হয় নি। কিছু দিনের মধ্যেই আয়ার্ল্যাণ্ডের বাকি সমস্ত অঞ্চলও আল্‌স্টারের অনুকরণে লেগে গেল, ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী’ গড়ে তুলল; কিন্তু এদের উদ্দেশ্য ছিল হোম-রুল আদায় করবার জন্যে যুদ্ধ করা, এবং দরকার হলে আল্‌স্টারেরই বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। আয়ার্ল্যাণ্ডে এইভাবে দুটি পরস্পরবিরোধী সেনাদলের সৃষ্টি হল। আশ্চর্যের ব্যাপার এই আল্‌স্টার যখন বিদ্রোহ করবে বলে তার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত করছিল ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তখন ইচ্ছা করেই চোখ বুজে থেকেছেন; এই ‘জাতীয় স্পেচ্ছাসেবকবাহিনীকে দমন করবার বেলায় কিন্তু তাঁরাই খুব উঠে পড়ে লাগলেন; অথচ এরা মোটেই হোম-রুল বিলের বিরোধিতা করছিল না। দেখা গেল, আয়ার্ল্যাণ্ডের এই দুটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর মধ্যে একটা সংঘাত একেবারেই আসন্ন হয়ে উঠেছে; আর তার মানেই হচ্ছে গৃহযুদ্ধ। কিন্তু ঠিক এই সময়ে আর-একটা বৃহত্তর যুদ্ধ এসে হাজির হল। ১৯১৪ সনের আগস্ট মাসে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হল; তার বিরাট প্লাবনের মধ্যে অন্য সমস্ত ছোটোখাটো কলহ-বিবাদ কোথায় ডুবে চলে গেল। হোম-রুল-অ্যাক্ট্‌টি অবশ্য আইনে পরিণত হল; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আবার বলে দেওয়া হল, যুদ্ধ থামবার আগে এই আইনটিকে কাজে খাটানো হবে না! অতএব হোম-রুল যে দূরে ছিল সেই দূরেই থেকে গেল; যুদ্ধ শেষ হবার মধ্যে আয়ার্ল্যাণ্ডেও বহু ব্যাপার ঘটে গল।

 বিভিন্ন দেশের এই কাহিনীগুলোকে আমি বিশ্বযুদ্ধের ঠিক গোড়া পর্যন্ত এনে পৌঁছে দিচ্ছি। আয়ার্ল্যাণ্ডেও আমরা এই জায়গাতে এসে ঠেকলাম; কাজেই এখনকার মতো আমাদের থামতে হবে। কিন্তু চিঠিটি শেষ করবার আগে আর-একটি কথা তোমাকে আমি না বলে পারছি না। আল্‌স্টার-বিদ্রোহের নেতা যাঁরা ছিলেন, সে কাজের জন্যে তাঁদের কোনোরকম শাস্তি তো দেওয়া হলই না; বরং অল্প দিনের মধ্যেই এঁদের নানা রকমে পুরস্কৃত করা হল—কাউকে বা করা হল ক্যাবিনেটের মন্ত্রী, কেউ-বা হলেন ব্রিটিশ সরকারের অধীনে উচ্চপদস্থ কর্মচারী।