বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ/আরব অঞ্চলের দেশ—সিরিয়া
১৬৬
আরব অঞ্চলের দেশ—সিরিয়া
প্রত্যেক দেশেই মানুষের কতকগুলো সম্প্রদায় আছে, যাদের ভাষা এক রীতি-নীতি এক। এদের একত্র বেঁধে শক্তিশালী করে তুলবার কতখানি শক্তি জাতীয়তাবাদের আছে, তার অনেক প্রমাণ আমরা দেখেছি। এই জাতীয়তাবাদ এইরকম একটা সম্প্রদায়ের সমস্ত লোককে একত্র মিলিত করে দেয়; আবার অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে একে আরও বেশি করে আলাদা করে ফেলে। জাতীয়তাবাদের উৎসাহে ফ্রান্স একটা শক্তিশালী এবং সংহত জাতিতে পরিণত হয়েছে; তার লোকদের মধ্যে পরস্পরের বন্ধন অতি দৃঢ়, পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত দেশকে তারা তাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রকমের বলেই জানে। জর্মন-অঞ্চলের সমস্ত দেশগুলোও আবার এই জাতীয়তাবাদের বন্ধনেই একত্র বাঁধা পড়ে একটি প্রবল জর্মন জাতিতে পরিণত হয়েছে। ওদিকে আবার ফ্রান্স এবং জর্মন দুজনে আলাদা আলাদা ভাবে সংহত হয়ে উঠেছে, তারই ফলে দু’য়ের মধ্যেকার তফাত আরও বেশি বেড়ে গেছে।
দেশের মধ্যে যদি একাধিক আলাদা জাতিগত সম্প্রদায় থাকে, সেখানে জাতীয়তাবাদের ফলে অনেক সময়েই আসে পরস্পর-বিরোধ; দেশটাকে একত্র বেঁধে সবল করে তুলবার পরিবর্তে সে জাতীয়তাবাদ বরং তাকে দুর্বলই করে ফেলে, ভেঙে টুক্রো টুক্রো করে দেয়। বিশ্বযুদ্ধের আগে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের ঠিক সেই দশা ছিল। বহু জাতির বাস ছিল সেখানে, তাদের মধ্যে জর্মন-অস্ট্রিয়ান আর হাঙ্গেরিয়ান, এই দুটি জাতি প্রধান; বাকিগুলো ছিল এদের অধীন। অতএব জাতীয়তাবাদের প্রসারের ফলে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ল; জাতীয়তাবাদের প্রভাবে এদের প্রত্যেকটি জাতিই নূতন করে প্রাণ পেয়ে তাজা হয়ে উঠল, এবং তারই সঙ্গে সঙ্গে এরা প্রত্যেকে আলাদাভাবে স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। যুদ্ধের দরুন অবস্থাটা আরও খারাপ হয়ে উঠল, যুদ্ধে হার হওয়া মাত্রই দেশটা ভেঙে বহু ছোটো ছোটো টুক্রোতে পরিণত হল, প্রতাকটি জাতিই নিজের নিজের এলাকা নিয়ে একটা করে স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করে বসল। দেশটাকে যেভাবে ভাগ করা হয়েছিল সেটা ঠিক যুক্তিযুক্তভাবে হয় নি, তার ফলও ভালো হয় নি—কিন্তু সে আলোচনায় আপাতত আমাদের দরকার নেই। ওদিকে জর্মনিরও নিদারুণ পরাজয় হয়েছিল, কিন্তু সে ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেল না। শত দুর্দশা-দৈন্যের মধ্যেও সে এক অখণ্ড দেশ হয়েই বেঁচে রইল, কারণ তাকে বেঁধে রাখবার জন্য ছিল জাতীয়তাবাদের সুদৃঢ় বন্ধন।
বিশ্বযুদ্ধের আগে তুর্কি সাম্রাজ্যও ছিল ঠিক অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিরই মতো বহু জাতির একটা বিচিত্র সমন্বয়। বল্কান অঞ্চলের জাতিগুলো ছিল তার মধ্যে, তা ছাড়া ছিল আরব, আর্মানি এবং আরও অনেক জাতি। অতএব জাতীয়তাবাদের চেতনা এই সাম্রাজ্যটিকেও ভেঙে টুক্রো টুক্রো করে ফেলল। এই জাতীয়তাবাদের প্রথম আবির্ভাব হল বল্কান অঞ্চলে; ঊনবিংশ শতাব্দীর আগাগোড়া সময়টাই তুরস্ককে একের পর এক করে বল্কান অঞ্চলের প্রত্যেকটা জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে—গ্রীসকে দিয়ে সে যুদ্ধের আরম্ভ। ইউরোপের বড়ো জাতিগুলো, বিশেষ করে জারশাসিত রাশিয়া, এদের এই নবজাগ্রত জাতীয়তাবাদকে নিজের কাজে লাগিয়ে নিতে চেষ্টা করল। এর সঙ্গে নানারকম ষড়যন্ত্র চালাতে লাগল। আর্মানিদের ক্ষেপিয়ে তুলে, তাদের আঘাতে অটোম্যান সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে ফেলতে চাইল তারা; এই জন্যই তুর্কি সরকারের সঙ্গে আর্মানিদের বরাবর যুদ্ধ হয়েছে, সে যুদ্ধে নিদারুণ রক্তপাত আর নরহত্যাও হয়েছে। বড়ো জাতিগুলো এই আর্মানিদের নিজের কাজে লাগিয়ে নিয়েছে, তাদের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের প্রচারকার্য চালিয়েছে; তার পর বিশ্বযুদ্ধ অবসানের পর যখন দেখেছে এদের দিয়ে আর তাদের প্রয়োজন নেই, তখন অম্লানবদনে তাদের সঙ্গে সমস্ত সংশ্রব পরিত্যাগ করেছে। আর্মানি দেশটি তুরস্কের পূর্বদিকে অবস্থিত এবং কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। পরবর্তীকালে এই দেশটিতে সোভিয়েট প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়েছে; এখন এটি রুশ সোভিয়েট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।
আরবদের সঙ্গে তুর্কিদের কোনোদিনই সদ্ভাব ছিল না; তবু কিন্তু তুর্কি সাম্রাজ্যের আরব-জাতিবহুল অংশগুলোর জেগে উঠতে অনেক বেশি সময় লেগেছে। প্রথমে এল একটা সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন; আরবি ভাষা এবং সাহিত্যকে নূতন করে উজ্জীবিত করে তুলল তারা। এই কাজ প্রথম আরম্ভ হয় সিরিয়াতে, ১৮৬০ সনের পরবর্তী কালে। সেখান থেকে এর হাওয়া মিশরে এবং অন্যান্য আরবি ভাষাভাষী দেশে ছড়িয়ে পড়ল। ১৯০৮ সনে তুরস্কে ‘তরুণ তুর্কি বিপ্লব’ হল, সুলতান আবদুল হামিদের পতন ঘটল—এই দেশগুলোতে রাজনৈতিক আন্দোলন বেড়ে উঠল তার পরে। মুসলমান এবং খৃষ্টান নির্বিশেষে সমস্ত আরববাসীদের মধ্যেই জাতীয়তাবাদের মন্ত্র ছড়িয়ে পড়ল। আরব অঞ্চলের দেশগুলোকে তুর্কির অধীনতা থেকে মুক্ত করে এনে তাদের নিয়ে একটি অখণ্ড রাষ্ট্র তৈরি করা হবে, এই স্বপ্নও এসে দানা বেঁধে উঠল। মিশরও আরবি ভাষাভাষীর দেশ; কিন্তু রাষ্ট্র হিসাবে সে ছিল এদের থেকে খানিকটা আলাদা। তাই এইযে আরব-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা হচ্ছে এর মধ্যে সেও এসে যোগ দেবে এমন প্রত্যাশা কেউই করে নি। কথা ছিল, এই আরব রাষ্ট্র তৈরি হবে আরব, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন এবং ইরাক দেশ নিয়ে। আরবরা এককালে ইসলাম ধর্মাবলীদের নেতৃস্থানীয় ছিল, সেই মর্যাদা তারা আবার ফিরে পেতে চাইল; বলল, খলিফার পদ অটোম্যান সুলতানের হাত থেকে এনে আরবের কোনো বংশের হাতে দেওয়া হোক। আরবজাতির গৌরব এবং মর্যাদা এতে অনেক বেড়ে যাবে, অতএব এটাকেও সবাই ধর্মগত আন্দোলন না ভেবে বরং একটা জাতীয় আন্দোলন বলেই মেনে নিল; সিরিয়াতে আরব খৃষ্টান যারা ছিল তারাও এই আন্দোলনের সমর্থন করল।
বিশ্ব-যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই ব্রিটেন আরবদের এই জাতীয় আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছিল। বিশাল একটি আরব-সাম্রাজ্য স্থাপিত করে দেওয়া হবে ইত্যাদি রকমের বহু লম্বাচওড়া প্রতিশ্রুতি যুদ্ধের সময়ে ব্রিটেন দিতে লাগল। মক্কার শরীফ হাসেন-এর মনে আশা জাগল, বিশাল একটি রাজ্যের আধিপত্য এবং খলিফার পদ দু’টিই এবার তাঁর হাতে এসে পড়ল বুঝি। আশায় আশায় তিনি ব্রিটেনের পক্ষে যোগ দিলেন; আরবদের
উস্কানি দিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রকাণ্ড একটি বিদ্রোহ সৃষ্টি করলেন। সিরিয়াবাসী আরবরা মুসলমান-খৃষ্টান-নির্বিশেষে হুসেনের এই বিদ্রোহে যোগ দিল; তাদের নেতারা অনেকে সে অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করলেন প্রাণ দিয়ে—তুর্কিরা তাদের ধরে ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দিল। ৬ই মে তারিখে দামাস্কাস এবং বেইরুত শহরে এদের ফাঁসি হয়; সিরিয়াতে আজও এই দিনটিতে এই জাতীয় শহীদদের স্মৃতিরক্ষা দিবস পালন করা হচ্ছে।
আরবদের বিদ্রোহ সফল হল—বিদ্রোহীদের গোপনে টাকা যোগাচ্ছিল ব্রিটেন; আর বিশেষ করে একে সাহায্য করছিলেন একজন অত্যন্ত প্রতিভাশালী ব্যক্তি; ব্রিটেনের রহস্যময় লোক এবং বিটিশ গুপ্তচর বিভাগের প্রসিদ্ধ কর্মী বলে এর নাম বিখ্যাত হয়ে আছে। নামটি হচ্ছে কর্নেল লরেন্স। যুদ্ধ যখন শেষ হল, তখন দেখা গেল আরব-অঞ্চলের যত দেশ তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল তার প্রায় সকলেই তুরস্কের হাত ছাড়িয়ে ব্রিটেনের হাতে এসে পড়েছে। তুর্কি সাম্রাজ্য ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। আমি তোমাকে বলেছি, মুস্তাফা কামাল তুরস্কের স্বাধীনতা চেয়েই যুদ্ধ করেছিলেন; কোনো অ-তুর্কি দেশকে জয় করে নেবার কোনো অভিপ্রায়ই তাঁর ছিল না (একমাত্র কুর্দিস্তানের খানিকটা অংশ ছাড়া)। খাস তুরস্ককে নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট রইলেন; তাঁর পক্ষে সেটা একটা অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো কাজ হয়েছিল।
অতএব যুদ্ধের পরে প্রশ্ন উঠল, আরব অঞ্চলের এই যে দেশগুলো, এদের এখন কী গতি হবে। বিজরী মিত্রপক্ষ, তার মানে ব্রিটিশ এবং ফরাসি সরকার, খুব সদিচ্ছার সহিত এই দেশগুলো সম্বন্ধে তাঁদের উদ্দেশ্য ঘোষণা করলেন: “এতদিন এর প্রজারা তুর্কিদের হাতে নির্যাতন সয়ে এসেছে, এবার তাদের তাঁরা সম্পূর্ণ এবং সম্যক্ স্বাধীনতার অধিকারী করে দেবেন, এই-সব দেশে এমনতরো জাতীয় সরকার এবং শাসন-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যার পিছনে থাকবে দেশেরই প্রজাদের স্বাধীন অভিমত এবং নিজম্ব প্রেরণা।” এই মহৎ উদ্দেশ্যটি কার্যে পরিণত করবার আয়োজন এঁরা করলেন, আরব অঞ্চলের এই দেশগুলির অধিকাংশ স্থান নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়ে। জমি দখল করবার যতরকম ফিকির সাম্রাজ্যবাদীদের আছে তার মধ্যে নূতন একটা প্রকার হচ্ছে ম্যান্ডেট প্রথা; এক্ষেত্রেও ফ্রান্স এবং ইংলণ্ডকে ম্যান্ডেট্ দিয়ে দেওয়া হল, তার পিছনে রইল লীগ অব নেশন্সের আশীর্বাদ। ফ্রান্স পেল সিরিয়া; ইংলণ্ড পেল প্যালেস্টাইন আর ইরাক। আরবদেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অঞ্চল হচ্ছে হেজাজ, তাকে মক্কার শরীফ হুসেন-এর অধীন করে দেওয়া হল—ব্রিটেনের তিনি পোষ্যপুত্র-বিশেষ। একটি মাত্র অখণ্ড আরব রাষ্ট্র তৈরি করে দেওয়া হবে বলে যত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে-সব প্রতিশ্রুতি কোথায় ভেসে গেল—আরব অঞ্চলের এই দেশগুলোকে এইভাবে ভেঙে টুক্রো টুক্রো করে কতকগুলো আলাদা আলাদা ম্যান্ডেটে পরিণত করা হল; তৈরী করা হল একটা রাষ্ট্র—হেজাজ, বাইরে থেকে দেখতে সে স্বাধীন, কিন্তু আসলে সে রইল ব্রিটেনের অধীনে। এই-সব ভাগাভাগি দেখে আরবরা অত্যন্ত মর্মাহত হল; এ তাদের প্রত্যাশার বাইরে। এই ভাগবাটোয়ারাকে চরম ব্যবস্থা বলে মেনে নিতে তারা অস্বীকার করল। কিন্তু এর চেয়েও অনেক নূতনতর বিস্ময় এবং বৃহত্তর আশাভঙ্গ তাদের কপালে লেখা ছিল; কারণ এই ম্যান্ডেট্গুলির প্রত্যেকটির মধ্যেই আবার সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের পুরোনো খেলা খেলতে শুর করল, প্রজাদের মধ্যে ভাগাভাগি দলাদলির সৃষ্টি করে দিল, নইলে তাদের শাসনটা সহজে চলবে কেন। এবারে আমরা এর প্রত্যেকটা দেশের কাহিনী আলাদা করে দেখব, তাহলেই ব্যাপারটা বোঝা সহজ হবে। ফ্রান্সের ম্যান্ডেট্ সিরিয়ার কথা আমি প্রথম বলব।
১৯২০ সনের গোড়াতেই ব্রিটিশদের সাহায্যে সিরিয়াতে একটি আরবি সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হল, তার রাজা হলেন আমীর ফজল (ইনি হেজাজের রাজা হুসেনের পুত্র)। সিরিয়ায় একটি জাতীয় কংগ্রেস তৈরি হল; কংগ্রেস অখণ্ড সিরিয়া রাজ্যের একটি প্রজাতন্ত্রী শাসনতন্ত্র রচনা করলেন। কিন্তু এর সমস্তটাই মাসকয়েকের ব্যাপার। ১৯২০ সনেরই গ্রীষ্মকালে ফরাসিরা এসে হাজির হল, লীগ অব নেশন্সের ম্যান্ডেট্রূপী পরোয়ানা তাদের হাতে। রাজা ফয়জলকে তারা তাড়িয়ে দিয়ে সিরিয়া রাজ্য গায়ের জোরেই দখল করে বসল। সবসুদ্ধ ধরলেও সিরিয়া অতি ছোটো দেশ, এর লোকসংখ্যা ত্রিশ লক্ষেরও কম। তবু ফরাসিদের পক্ষে দেশটা একটা রীতিমতো ভীমরুলের চাক হয়ে উঠল। সিরিয়াবাসী আরবরা মুসলমান এবং খৃষ্টান-নির্বিশেষে সকলেই তখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করেছে স্বাধীনতা অর্জন না করে তারা ছাড়বে না; অন্য কোনো দেশের শাসন এত সহজে মেনে নিতে তারা কিছুতেই রাজি হল না। দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা আর অশান্তি লেগেই রইল, আজ এখানে বিদ্রোহ হয়, কাল ওখানে বিদ্রোহ হয়—ফরাসি শাসন চালাবার জন্য বিরাট একটা ফরাসি সেনাবাহিনীকে সারাক্ষণই মোতায়েন করে রাখতে হল সিরিয়াতে। দেখে শুনে ফরাসি সরকার তখন সাম্রাজ্যবাদীদের সনাতন নীতি খাটাতে লেগে গেলেন; সিরিয়ার জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করে ফেলবার জন্য তাঁরা দেশটাকে ভেঙে আরও ছোটো ছোটো কতগুলো রাষ্ট্রে পরিণত করলেন, ধর্ম এবং সম্প্রদায়গত বিভেদকেও ফেনিয়ে বড়ো করে তুলতে চাইলেন। শাসন করবার সুবিধার জন্য দেশকে ‘বহুধা বিভক্ত করার’ এই নীতি তাঁরা জেনেশুনে অবলম্বন করলেন। নীতিটাকে প্রায় সরকারিভাবে স্পষ্ট ঘোষণাই করলেন তাঁরা।
ছোটো দেশ সিরিয়া—এবার সেটা ভেঙে পরিণত হল পাঁচটা আলাদা রাষ্ট্রে। পশ্চিম-সমুদ্রকূল এবং লেবানন পর্বতশ্রেণীর কাছে তৈরি হল লেবানন রাষ্ট্র। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল একটা খৃষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত, এদের নাম মেরোনাইট। সিরিয়াবাসী আরবদের থেকে আলাদা করে নিজের পক্ষে টেনে নেবার উদ্দেশ্যে ফরাসিরা এদের খানিকটা বিশেষ সুযোগসুবিধা দিয়ে দিল।
লেবাননের উত্তরে, সমুদ্রের উপকূলেই পার্বত্য অঞ্চলে আরেকটা ছোটো রাষ্ট্র তৈরি করা হল, সেখানে ‘আলাবি’ বলে একদল মুসলমানের বাস। তারও উত্তরে প্রতিষ্ঠিত হল আর একটা রাষ্ট্র, তার নাম অ্যালেক্জান্দ্রেতা এটা ঠিক তুরস্কের গায়ে অবস্থিত, এর অধিবাসীরা অধিকাংশই তুর্কি ভাষাভাষী।
অতএব খাস সিরিয়া বলতে যেটুকু অবশিষ্ট রইল, দেশের বেশির ভাগ উর্বরা জমিই তার বাইরে চলে গিয়েছে; তার চেয়েও বিপদের কথা সমুদ্রের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগই নেই। অনেক হাজার বছর ধরে সিরিয়া ছিল ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী প্রবল রাজ্যগুলোর অন্যতম; সমুদ্রের সঙ্গে তার সেই প্রাচীনকালের বন্ধন এবার ছিন্ন হল, এখন তার বাইরে যাবার পথ হল ঊষর মরুভূমির উপর দিয়ে। তার পর আবার এই সিরিয়া থেকেও একটি পাহাড়ী অঞ্চলকে কেটে নেওয়া হল, সেখানে তৈরি করা হল আরেকটি রাষ্ট্র, জবল-এদ্-দ্রুজ বলে একটি উপজাতির সেখানে বাস।
প্রথম থেকেই সিরিয়াবাসীরা ফরাসি ম্যান্ডেট্টাকে প্রীতির চোখে দেখে নি। একে নিয়ে অনেক হাঙ্গামা করেছে তারা, বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য অনেক বড়ো বড়ো মিছিল-শোভাযাত্রা ইত্যাদি বার করেছে, সে শোভাযাত্রায় আরবি মেয়েরা পর্যন্ত যোগ দিয়েছে। ফরাসিরাও সে শোভাযাত্রা কঠোর হস্তে ভেঙে দিতে কসুর করে নি। তার পর ফরাসিরা দেশটাকে ভেঙে খণ্ড খণ্ড করল, এবং সংখ্যালঘুসম্প্রদায়দের নিয়ে দলাদলি সৃষ্টি করবার চেষ্টা করল—এর ফলে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে উঠল, প্রজারা ক্রমেই আরও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠতে লাগল। ভারতবর্ষে ব্রিটিশরা যেমন করেছে, সিরিয়াতে তেমনি এই অসন্তোষ দমন করবার জন্য ফরাসিরা প্রজাদের বাক্তিগত এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা অপহরণ করল, গুপ্তচর এবং গুপ্তপুলিশের লোক দিয়ে দেশটাকে ভরে ফেলল। বেছে বেছে ‘বিশ্বস্ত’ সিরিয়াবাসীদের নিয়ে তারা সরকারি কর্মচারীর পদে নিযুক্ত করতে লাগল; প্রজাদের মধ্যে এই ‘বিশ্বস্তদের’ কোনো মর্যাদা বা প্রতিপত্তিই ছিল না, তারা এদের সাধারণত দলত্যাগী বলেই জানত। অবশ্য এর সমস্তই করা হচ্ছিল অত্যন্ত সাধু উদ্দেশ্য নিয়ে; ফরাসিরা তারস্বরে ঘোষণা করতে লাগল, “রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং স্বাধীনতা অর্জনের শিক্ষার সিরিয়াবাসীদের শিক্ষিত করে তোলাই তারা তাদের কর্তব্য বলে মেনে নিয়েছে”—আমরা যারা ভারতবর্ষে আছি, আমাদের কানে কথাটার সুর কেমন চেনা-চেনা শোনায়!
অবস্থা ক্রমেই সঙিন হয়ে উঠল; বিশেষ করে ক্ষেপে গেল জবল-এদ্-দ্রুজের লোকেরা; এরা জাত-যোদ্ধা, এবং জাতি হিসাবে খানিকটা আদিমপ্রকৃতির (আমাদের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের উপজাতিদের সঙ্গে এদের অনেকখানি মিল আছে)। এই দ্রুজদের নেতাদের সঙ্গে ফরাসি গবর্ণর একটা হীন চাল চাললেন। এঁদের তিনি নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে গেলেন, তার পর এঁদের বন্দী করে রাখলেন, গোলমাল হলে এঁরা রইলেন তার জামিনস্বরূপ। এটা ১৯২৫ সনের গ্রীষ্মকালের কথা। সঙ্গে সঙ্গেই জবল-এদ্-দ্রুজে বিদ্রোহ হল। এই বিদ্রোহ ক্রমে সমস্ত দেশময় ছড়িয়ে পড়ল; স্বাধীনতা এবং ঐক্যকামী সিরিয়ার একটা সর্বব্যাপী বিদ্রোহেই পরিণত হল।
সিরিয়ার এই স্বাধীনতা-সমর ইতিহাসে একটা অপূর্ব বস্তু হয়ে রয়েছে। ছোটো একটা দেশ, ভারতবর্ষের দুটো কি তিনটে জেলাকে একত্র করলে যা হয় সেইটুকু মাত্র তার আয়তন; সে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে—তখনকার দিনে ফ্রান্সেরই সামরিক শক্তি ছিল পৃথিবীতে সকলের চেয়ে বেশি। ফ্রান্সের বিপুল সেনাবাহিনী, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত তারা, তার সঙ্গে মুখোমুখি সংগ্রাম করবার সামর্থ্য অবশ্য সিরিয়াবাসীদের ছিল না। কিন্তু গ্রাম অঞ্চলে সে বাহিনীর টিঁকে থাকাই এরা দুষ্কর করে তুলল। বড়ো বড়ো শহরগুলোই শুধু ফরাসিদের দখলে রইল, সেখানেও সিরিয়ানরা প্রায়ই গিয়ে হানা দিতে লাগল। ভয় দেখিয়ে দেশের লোককে কাবু করে ফেলতে ফরাসিরা যথাসাধ্য চেষ্টার ত্রুটি করল না—অসংখ্য লোককে তারা গুলি করে মেরে ফেলল, অসংখ্য গ্রাম জ্বালিয়ে দিল। প্রাচীন কালের বিখ্যাত শহর দামাস্কাস, তাকে পর্যন্ত তারা কামানের গোলা ছুঁড়ে অনেকখানি বিধ্বস্ত করে দিল—১৯২৫ সনের অক্টোবর মাসের ঘটনা এটা। গোটা সিরিয়া দেশটাই একটা যুদ্ধ-শিবিরে পরিণত হয়ে গেল। কিন্তু এত কাণ্ড করেও বিদ্রোহকে দমন করা গেল না, পরের দুটি বছর ধরে সে বিদ্রোহ চলতে লাগল। ফ্রান্সের বিপুল সমরায়োজনের চাপে শেষপর্ষন্ত অবশ্য বিদ্রোহ দমন হল, কিন্তু সিরিয়াবাসীরা যে বিরাট আত্মোৎসর্গ করেছিল তা বৃথা হল না। স্বাধীনতালাভে তাদের অধিকার তারা নিঃসংশয়েই প্রতিষ্ঠিত করে গেল; সমস্ত জগৎ স্তম্ভিত হয়ে দেখল এই দেশের মানুষেরা কী দুর্ধর্ষ ধাতুতে গড়া।
এর মধ্যে একটা লক্ষ্য করবার মতো বস্তু হচ্ছে এই ফরাসিরা এই বিদ্রোহটাকে একটা ধর্মগত ব্যাপার বলে প্রমাণ করতে চেষ্টা করছিল, দ্রুজদের বিরুদ্ধে খৃষ্টানদের ক্ষেপিয়ে তুলতে চেষ্টা করছিল; আর সিরিয়াবাসীরা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তারা যুদ্ধ করছে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য, ধর্মগত কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। বিদ্রোহের একেবারে গোড়াতেই দ্রুজ-দেশে একটি অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হল; সে সরকার প্রজাদের উদ্দেশ করে একটি ঘোষণা প্রচার করলেন, তাতে বললেন, সিরিয়ার সমস্ত অধিবাসী এই স্বাধীনতার যুদ্ধে এসে যোগ দিক, তাদের অভীষ্ট ফল জয় করে নিক—সে অভীষ্ট হচ্ছে, এক এবং অবিভাজ্য সিরিয়া দেশের স্বাধীনতা....... প্রজাদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুসারে একটি গণপরিষৎ নির্বাচন করা,—যে দেশের শাসনতন্ত্র রচনা করবে; যে বিদেশী সেনারা দেশটাকে দখল করে বসে রয়েছে তাদের অপসারণ; একটা জাতীয় সেনাবাহিনীর সৃষ্টি করা, যার কাজ হবে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা, এরা ফরাসিবিপ্লবের যে মূলনীতিগুলি ছিল সেগুলিকে এবং মানুষের অধিকারগুলিকে দেশে প্রয়োগ এবং প্রতিষ্ঠিত করা। অতএব দেখা যাচ্ছে, ফরাসি সরকার আর ফরাসি সেনাবাহিনী এমন একটা জাতিকে দমন করতে চেষ্টা করছিলেন, ফরাসি বিপ্লবের মূল সূত্রগুলিকে এবং সে বিপ্লবে মানুষের যেসব অধিকার থাকা চাই বলে ঘোষণা করা হয়েছিল সেইগুলোকেই প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য সংগ্রাম করছিল।
১৯২৮ সনের প্রথমদিকে সিরিয়াতে সামরিক আইন তুলে নেওয়া হল; সংবাদপত্রের উপরে যে সেন্সর বসানো হয়েছিল সেটাও তুলে দেওয়া হল। অনেক রাজনৈতিক বন্দীকে ছেড়ে দেওয়া হল। জাতীয়তাবাদীদের দাবি অনুসারে একটি গণপরিষৎ তৈরি করা হল, দেশের শাসনতন্ত্র সে রচনা করবে। কিন্তু এর মধ্যেও গোলমালের একটি বীজ ফরাসি সরকার পুরে দিল—প্রত্যেক ধর্ম-সম্প্রদারের জন্য আলাদা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দিয়ে (ভারতবর্ষে এখন যেমন আছে)। মুসলমান, গ্রীক ক্যাথলিক, গ্রীক গোঁড়া খৃষ্টান, ইহুদি প্রত্যেকের জন্যই আলাদা আলাদা খুপরি তৈরি করা হল; প্রত্যেক ভোটারকেই তার নিজস্ব ধর্মগত দলের মধ্যে থেকে ভোট দিতে হবে, তার বাইরে যাবার কারও স্বাধীনতা নেই। দামাস্কাসে একটি চমৎকার কাণ্ড ঘটল, ব্যাপারটি শিক্ষাপ্রদ। জাতীয়তাবাদীদের নেতা যিনি ছিলেন, তিনি প্রোটেস্ট্যাণ্ট্, অতএব যে কটি বিশেষ নির্বাচন-কেন্দ্র বানিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কোনোটারই মধ্যে পড়েন না; অতএব নির্বাচিত হবারও তাঁর পথ খোলা নেই—অথচ দামাস্কাসে যে কটি লোক সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি তাঁদেরই মধ্যে একজন। মুসলমানদের দশটা আসন ছিল; তাঁরা নিজে থেকেই বললেন, একটা আসন আমরা ছেড়ে দিচ্ছি, সেটা প্রোটেস্ট্যাণ্টদের জন্য ধরে দেওয়া হোক। কিন্তু ফরাসি সরকার কিছুতেই তাতে রাজি হলেন না।
তবু ফরাসিদের এত সমস্ত চেষ্টাচরিত্র সত্ত্বেও গণপরিষদে জাতীয়তাবাদীরাই প্রাধান্য লাভ করলেন; এমন একটি শাসনতন্ত্র এঁরা রচনা করলেন যেটা রীতিমতো একটা স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রেরই যোগ্য। এই শাসনতন্ত্রে বলা হল, সিরিয়া হবে একটি প্রজাতন্ত্রী দেশ, সরকার তাঁদের সমস্ত ক্ষমতা লাভ করবেন প্রজার হাত থেকে। এই শাসনতন্ত্রের খসড়ার মধ্যে ফরাসিদের বা তাদের ম্যান্ডেটের নাম পর্যন্ত কোথাও উল্লেখ করা হল না। ফরাসিরা এতে আপত্তি তুলল; কিন্তু পরিষৎ এক চুল পরিমাণও পিছন হটতে রাজি হলেন না, মাসের পর মাস ধরে দু’পক্ষে ধস্তাধস্তি চলল। অবশেষে ফরাসি হাই কমিশনার প্রস্তাব করলেন, বেশ, এই খসড়া শাসনতন্ত্রকেই স্বীকার করে নেওয়া হবে, শুধু তার সঙ্গে একটি অস্থায়ী ধারা যোগ করে দেওয়া হবে—তার মর্ম হচ্ছে, ম্যান্ডেটের মেয়াদ যতদিন রয়েছে তার মধ্যে এই শাসনতন্ত্রের অন্তর্গত কোনো ধারাকে এমনভাবে প্রয়োগ করা চলবে না যাতে করে ম্যান্ডেট্ অনুসারে ফ্রান্সের উপরে যেসব কর্তব্য এবং দায়িত্ব চাপানো আছে তার কোনোরকম ব্যতিক্রম হতে পারে। কথাটার মানে একটু অস্পষ্ট; তবুও এই কথা বলতে আসা মানেই ফরাসিদের পক্ষে অনেকখানি নতি স্বীকার। গণপরিষৎ কিন্তু এটুকুও মানতে রাজি হলেন না। তাই দেখে তখন ১৯৩০ সনের মে মাসে, ফরাসি সরকার এই পরিযৎ ভেঙে দিলেন; তার সঙ্গেই ঘোষণা করলেন, পরিষৎ যে শাসনতন্ত্র রচনা করেছেন সেটি দেশে বহাল হল, সরকার তার সঙ্গে যে অস্থায়ী ধারাটি জড়ে দিতে চেয়েছেন সেটিও এর সঙ্গে যুক্ত থাকল।
খাস সিরিয়া দেশ যা যা চেয়েছিল তার অনেকখানিই পেয়ে গেল; অথচ তার জন্যে তাকে কোনোরকম আপোষ-মীমাংসার মধ্যে যেতে হয় নি, যে-সব দাবি নিয়ে সে লড়াই শুরু করেছিল তার মধ্যে একটিকেও ছেড়ে দিতে হয় নি। এখন বাকি রইল দুটি প্রশ্ন; ম্যান্ডেটের মেয়াদ শেষ হওয়া, অস্থায়ী ধারাটিরও অস্তিত্ব তার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হবে; আর সিরিয়ার ঐক্যসাধন, এটি একটি বৃহত্তর কথা। এইটুকু বাদ দিয়ে দেখলে, শাসনতন্ত্রটি খুবই প্রগতিমূলক বস্তু, সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি দেশের উপযোগী করেই তাকে রচনা করা হয়েছে। এই বিরাট বিপ্লবের সময়ে সিরিয়ার লোকেরা নিঃসংশয়ে প্রমাণ করেছে, তারা বীর এবং দৃঢ় সংকল্প যোদ্ধা। এর পরবর্তীকালে দেখা গিয়েছে, আলাপ-আলোচনা দর-কষাকষির ব্যাপারেও তাদের দৃঢ়তা এবং ধৈর্য কিছুমাত্র কম নয়; পূর্ণ স্বাধীনতার যে দাবি তারা একদা তুলেছিল তাকে কোনোমতে একতিল প্রত্যাহার করতে বা ক্ষুণ্ণ করতে তারা কিছুতেই রাজি হয় নি।
১৯৩৩ সনের নভেম্বরে ফ্রান্স সিরিয়ার প্রতিনিধিসভার নিকট (Chamber of Deputies) এক সন্ধির প্রস্তাব করল। এই সভা বাছাই করা লোকে ভর্তি ছিল এবং এদের মধ্যে ছিল অধিকাংশই নরমপন্থী ও ফরাসি সরকারের সমর্থক। ইহা সত্ত্বেও সভা ঐ সন্ধির প্রস্তাব অগ্রাহ্য করল। এর কারণ হল—ফ্রান্স সিরিয়াকে বর্তমানের মতোই পাঁচ খণ্ডে বিভক্ত করে রাখতে ও সেখানে নিজের সেনাবাহিনীর জন্য ছাউনি, ব্যারাক এবং বিমানঘাঁটি রক্ষা করতে জেদ করছিল।
মন্তব্য (অক্টোবর), ১৯০৮:
চেকোশ্লোভাকিয়াতে নাৎসির জয়লাভ এবং ইউরোপে জর্মনির ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তার ও তার উপনিবেশ দাবি—এগুলো সব মিলে বর্তমানে সারা পৃথিবীতে একটা নূতন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্স দ্বিতীয় শ্রেণীর শক্তির ধাপে নেমে গেছে এবং দীর্ঘকালের জন্য একটা বড়ো রকমের বিদেশী সাম্রাজ্য রক্ষা করতে পারবে কি না সন্দেহ। প্যালেস্টাইনের ঘোরাল পরিস্থিতিরর দরুন এরূপ প্রস্তাবনা হয়েছে যে সিরিয়া, প্যালেস্টাইন ও ট্রান্স-জর্ডনকে নিয়ে একটা আরব যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হোক।