বিষয়বস্তুতে চলুন

বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ/ইতালির ঐক্য ও স্বাধীনতা অর্জন

উইকিসংকলন থেকে

১২৭

ইতালির ঐক্য ও স্বাধীনতা অর্জন

৩০শে জানুয়ারি, ১৯৩৩
বসন্ত পঞ্চমী

 ১৮৪৮ সনের কাহিনী বলতে গিয়ে আমি ইতালির কথাটি শেষের জন্যে রেখেছি। ১৮৪৮ সনে যত উত্তেজনাপূর্ণ ব্যাপার ঘটল তার মধ্যে রোমের বীর সংগ্রামের কাহিনীটাই সবচেয়ে মুগ্ধকর।

 নেপোলিয়নের আবির্ভাবের আগে ইতালি ছিল একটা জোড়াতালি দেওয়া দেশ; তার মধ্যে অনেক ছোটোছোটো রাজ্য, অনেক ছোটোছোটো রাজা। নেপোলিয়ন এদের একত্র করেছিলেন, অল্পদিনের মতো। তার পর ইতালি আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে আগের মতো বা তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় ফিরে যায়। ১৮১৫ সনের ভিয়েনা-কংগ্রেসে বিজয়ী মিত্রশক্তি বেশ বিবেচকের কাজ করলেন, ইতালি দেশটিকে ভাগ-ভাগ করে নিজেদের মধ্যে বেঁটে নিলেন। অস্ট্রিয়া নিল ভেনিস আর তার আশপাশের অনেকখানি অঞ্চল; অস্ট্রিয়ার কয়েকজন সামন্ত রাজাকে ইতালি থেকে বাছাবাছা এক-এক টুকরো করে জায়গা দিয়ে দেওয়া হল; রোম আর তার চার পাশের খানিক জায়গা আবার পোপের অধিকারভুক্ত হল, এর নাম হল ‘পোপের রাজ্য’; নেপল্‌স্ আর দক্ষিণ ইতালিকে নিয়ে তৈরি হল সিসিলির রাজ্যদুটি, এর মালিক হলেন একজন বুর্বোঁ-বংশীয় রাজা; উত্তর-পশ্চিমে ফরাসি-সীমান্তের কাছে তৈরি হল পীড্‌মণ্ট্ ও সার্ডিনিয়ার অধীশ্বর একজন রাজার রাজ্য। একমাত্র পীড্‌মণ্ট্‌ ছাড়া এই ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর রাজারা সকলেই অত্যন্তরকম স্বৈরতন্ত্রী নীতিতে শাসন করতে লাগলেন, প্রজাদের উপর এত পীড়ন চালালেন যে নেপোলিয়নের আগেও তাঁরা বা আর-কেউ কোথাও তত পীড়ন করেন নি। কিন্তু নেপোলিয়নের অভিযানের ধাক্কায় ইতালিতে বড়ো একটা নাড়াচাড়া লেগেছিল, তার যুবকরা স্বাধীন এবং ঐক্যবদ্ধ ইতালির স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল। রাজাদের পীড়ন সত্ত্বেও, কিংবা হয়তো সেই পীড়নের ফলেই অনেক জায়গাতে ছোটোখাটো বিদ্রোহ দেখা দিল, ইতালির সর্বত্র বহুসংখ্যক গুপ্তসমিতিও গড়ে উঠল।

 অল্পদিনের মধ্যেই এঁদের ভিতর থেকে দেখা দিলেন একজন উৎসাহী যুবক, তাঁকে স্বাধীনতা-আন্দোলনের নেতা বলে সকলেই স্বীকার করে নিল। ইনিই হচ্ছেন গিসেপ ম্যাট্‌সিনি, ইতালির জাতীয়তাবাদের ঋষি। ১৮৩১ সনে তিনি একটি সমিতি স্থাপন করলেন, তার নাম ছিল ‘গিওতানে ইতালিয়া’ বা ‘তরুণ ইতালি’; এর উদ্দেশ্য ছিল ইতালিতে একটি প্রজাতন্ত্র স্থাপন করা। বহু বৎসর ধরে তিনি এই লক্ষ্য নিয়ে ইতালির মধ্যে কাজ চালালেন, নির্বাসনে গেলেন, বারবার নিজের জীবনকেও বিপন্ন করলেন। এঁর অনেক লেখা জাতীয়তাবাদের সাহিত্যের প্রামাণ্য রচনা বলে স্বীকৃত হয়ে রয়েছে। ১৮৪৮ সনে উত্তর-ইতালির সর্বত্রই বিদ্রোহ শুরু হল। ম্যাট্‌সিনি দেখলেন, এই তাঁর সুযোগ; তিনি রোমে চলে এলেন। পোপকে তাঁরা তাড়িয়ে দিলেন, দিয়ে একটি প্রজাতন্ত্র স্থাপিত করলেন; এর কর্তাব্যক্তি হলেন তিনজন—এঁদের নাম দেওয়া হল ট্রায়াম্‌ভির্‌স, কথাটি রোমের প্রাচীন ইতিহাস থেকে নেওয়া। এই তিনজন ট্রায়াম্‌ভিরের একজন ছিলেন মাট্‌সিনি। এই নবজাত প্রজাতন্ত্রটির উপর একেবারে চতুর্দিক থেকে আক্রমণ শুরু হল; এল অস্ট্রিয়ানরা, এল নিয়াপোলিটান্‌রা; এমনকি ফরাসিরাও এসে একে আক্রমণ করল, পোপকে তারা আবার স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবে। রোমের প্রজাতন্ত্রের পক্ষে প্রধান যোদ্ধা ছিলেন গ্যারিবল্ডি। অস্ট্রিয়ানদের তিনি ঠেকিয়ে রাখলেন, নিয়াপোলিটান সেনাকে হারিয়ে দিলেন, এমনকি ফরাসিরাও তাঁকে ঠেলে অগ্রসর হতে পারল না। এইসমস্ত কাণ্ড তিনি করেছিলেন তাঁর স্বেচ্ছাসৈনিক-বাহিনীর সাহায্যে; রোমের এই সবচেয়ে সাহসী আর গুণবান যুবকরা প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করবার জন্যে অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করল। শেষ পর্যন্ত খুবই বীরের মতো যুদ্ধের পরে রোমান প্রজাতন্ত্র ফ্রান্সের কাছে হেরে গেল; তারা পোপকে আবার রোমে এনে বসিয়ে দিল।

 ইতালির সংগ্রামের প্রথম অধ্যায় এইভাবে শেষ হল। ম্যাট্‌সিনি এবং গ্যারিবল্ডি নানা উপায়ে তাঁদের কাজ চালাতে লাগলেন; আবার একটা বড়ো চেষ্টা করবার জন্যে প্রচার এবং প্রস্তুতি চলল। এঁরা দুজন ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির লোক; ম্যাট্‌সিনি ছিলেন চিন্তাবীর এবং আদর্শবাদী; আর গ্যারিবল্ডি ছিলেন বীর যোদ্ধা, গেরিলা-যুদ্ধে তাঁর আশ্চর্যরকম মাথা খেলত। দুজনেই ইতালির স্বাধীনতা আর ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্যে জীবনপণ করেছেন। এই সময়ে এই বিরাট খেলার আর-একজন খেলোয়াড় বিখ্যাত হয়ে উঠলেন। এর নাম কাভুর, পীড্‌মণ্টের রাজা ভিক্টর ইমানুয়েলের ইনি প্রধানমন্ত্রী। কাভুরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভিক্টর ইমানুয়েলকে সমগ্র ইতালির রাজা করা। সেটা করতে গেলেই ইতালির ছোটো ছোটো রাজ্যগুলির রাজাদের অনেককে দমন করা এবং সরিয়ে দেওয়া দরকার। অতএব কাভুর ম্যাট্‌সিনি এবং গ্যারিবল্ডির কার্যকলাপের সুযোগ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলেন। তখন ফ্রান্সের রাজা ছিলেন তৃতীয় নেপোলিয়ন। কাভুর ফরাসিদের সঙ্গে চক্রান্ত করলেন; করে তাঁর শত্রু অস্ট্রিয়ানদের লক্ষ্যে ফ্রান্সের যুদ্ধ বাধিয়ে দিলেন। এটা ১৮৫৯ সনের কথা। অস্ট্রিয়ানরা ফরাসিদের কাছে হেরে গেল। গ্যারিবল্ডি সেই সুযোগে তাঁর নিজস্ব একটি আশ্চর্য অভিযান চালালেন নেপ্‌ল্‌স ও সিসিলির রাজার বিরুদ্ধে। এইটেই গ্যারিবল্ডি আর তাঁর এক হাজার লালকোর্তা সৈন্যের সেই বিখ্যাত অভিযান। এই লালকোর্তারা ছিল অশিক্ষিত সেনা, তাদের ভালো অস্ত্রশস্ত্র নেই, মালপত্র নেই; তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে অসংখ্য শিক্ষিত সৈন্য। লালকোর্তাদের সংখ্যা অল্প, কিন্তু তাদের ছিল উৎসাহ, আর তাদের পিছনে ছিল সমস্ত প্রজার সহানভূতি—এরই জোরে তারা যুদ্ধের পর যুদ্ধে জয় করে চলল। গ্যারিবল্ডির নাম ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর নামের এমন জাদু ছিল যে, তিনি কাছে এসে পড়েছেন শুনলেই বড়ো বড়ো সেনাবাহিনী পালিয়ে হাওয়া হয়ে যেত। তবু তাঁর কাজ অত্যন্ত কঠিন হল; বহু বার তিনি এবং তাঁর স্বেচ্ছাসৈনিক বাহিনীর পরাজয় এবং সর্বনাশ একেবারে আসন্ন হয়ে এসেছিল। কিন্তু সর্বস্বপণ করে লাগতে পারলে যেমন হয়, বহুবার নিশ্চিত পরাজয়ের মুহূর্তেও ভাগ্যলক্ষ্মী তাঁর প্রতি প্রসন্ন স্মিত মুখে ফিরে চাইলেন; তাঁর পরাজয় অতর্কিত-জয়ে রূপান্তরিত হয়ে গেল।

 গ্যারিবল্ডি এবং তাঁর সহস্র সেনা সিসিলিতে গিয়ে অবতরণ করলেন। সেখান থেকে ধীরগতিতে অগ্রসর হয়ে এসে ইতালিতে পৌঁছলেন। দক্ষিণ-ইতালির গ্রাম-অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কুচ্ করে অগ্রসর হতে হতে গ্যারিবল্ডি সেখানকার লোকদের কাছে স্বেচ্ছাসেবক চাইতে লাগলেন; যে পুরস্কারের আশা তাদের সামনে মেলে ধরলেন সে অপূর্ব। তিনি বললেন, “এসো, এসো! আজ যে বাড়িতে বসে থাকবে সে কাপুরুষ। আমার সঙ্গে এলে পাবে ক্লান্তি, পাবে কঠোর শ্রম, পাবে যুদ্ধ। কিন্তু আমরা হয় জিতব, না হয় মরব।” সাফল্যের মতো কাজ-উদ্ধারের অস্ত্র আর দ্বিতীয় নেই। গ্যারিবল্ডির যুদ্ধজয় দেখে ইতালিয়ানদের মনেও দেশপ্রেমের আগুন জ্বলে উঠল। জলস্রোতের মতো জনস্রোত এসে তাঁর স্বেচ্ছাসৈনিক-বাহিনীকে বড়ো করে তুলল। গ্যারিবল্ডির রচিত গান গেয়ে তারা উত্তর-মুখে এগিয়ে চলল:

“সমাধির ঢাকা খুলিয়া গিয়াছে, বহু দূর হতে মৃতেরা আসে,
আমাদের মত বীরেরা আজিকে জাগিয়া উঠিছে মহোল্লাসে।
হস্তে তাদের শানিত কৃপাণ, ললাটে তাদের যশের টিকা,
মৃতের হৃদয়ে জ্বলন্ত হেরো ইতালির নাম—অগ্নিশিখা।
এসো, হও আজি সঙ্গী তাদের, দেশের যুবারা এসো হে আজি,
উড়াও গগনে বিজয়পতাকা, সৈনিকদল, দাঁড়াও সাজি।
হস্তে ঝলুক হিম তরবারি, বক্ষে জ্বলুক অনল-জ্বালা,
আজ ইতালির মনের কামনা তোমাদেরি বুকে জ্বলার পালা।
ইতালি ছাড়িয়া চলে যাও, ছেড়ে আমাদের দেশ চলে যাও—
ইতালি ছাড়িয়া চলে যাও, ওহে বিদেশীরা, যাও, চলে যাও!”

 সমস্ত দেশেরই জাতীয় সংগীতের মধ্যে কী আশ্চর্য মিল!

 গ্যারিবল্ডির যুদ্ধজয়টাকে কাভুর কাজে লাগিয়ে নিলেন, ফলে ১৮৬১ সনে পীড্‌মণ্টের রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল ইতালির রাজা হয়ে বসলেন। রোম তখনও ফরাসি সেনার দখলে রয়েছে, ভেনিস রয়েছে অস্ট্রিয়ানদের হাতে। দশ বছরের মধ্যে ভেনিস রোম দুটোই এসে বাকি ইতালির সঙ্গে মিশে গেল; রোম হল তার রাজধানী। এতদিনে ইতালি একটি অখণ্ড জাতিতে পরিণত হল। ম্যাট্‌সিনি কিন্তু এতে তৃপ্ত হলেন না। সমস্ত জীবন ধরে তিনি সংগ্রাম করেছেন প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের জন্যে; ইতালি এখন হল শুধু পীড্‌মণ্টের রাজা ভিক্টর ইমানুয়েলের রাজ্য। এ কথা অবশ্য সত্য, এই নূতন রাজ্যটির শাসনতন্ত্র নিয়মতান্ত্রিকই ছিল; ভিক্টর ইমানুয়েলের সিংহাসনে আরোহণের ঠিক পরেই তুরিনে ইতালির পার্লামেণ্টের অধিবেশন হয়েছিল।

 এইভাবে ইতালিজাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হল, বিদেশী শাসন থেকে মুক্ত হল। এই ব্যাপার ঘটিয়ে তুললেন তিনজন মানুষ—ম্যাট্‌সিনি গ্যারিবল্ডি আর কাভুর। এদের কোনো একজন যদি না থাকতেন তবেই হয়তো দেশের স্বাধীনতা আসতে আরও অনেক দেরি লাগত। বহু বছর পরে ইংরেজ কবি ও ঔপন্যাসিক জর্জ মেরিডিথ লিখেছিলেন:

“ভাগ্যচক্রে উঠিতে পড়িতে ইতালিকে মোরা দেখেছি যারা
আধেক উঠিয়া আবার তখনি মাটিতে আছাড়ি হইতে সারা
আজ হেরি তারে গৌরবময়ী; একদা যেখানে চলেছে হল
আজিকে সে ভূমি রূপের বিভায় ও সমৃদ্ধিতে সমুজ্জল।
স্মরি তাহাদের মৃত সে তনুতে জাগাল যাহারা নূতন প্রাণ
কুশলী কাভুর, ঋষি ম্যাট্‌সিনি, গ্যারিবল্ডি সে বীর্যবান—
বুদ্ধি, আত্মা, তরবারি তার একত্র এক লক্ষ্য হয়ে
আত্মধ্বংসী বিভেদ নাশিয়া স্বাধীনতা-ধন আনিল বয়ে।”

 সংক্ষেপে মোটামুটি আভাসে ইতালির স্বাধীনতা-সংগ্রামের গল্পটি তোমাকে বললাম। এই সংক্ষিপ্ত কাহিনীটি পড়ে তোমার মনে হবে, এটাও মৃত ইতিহাসের অন্য যে-কোনো একটা গল্পের মতোই রসহীন। কিন্তু কী করলে এই গল্পটিই জীবন্ত হয়ে উঠবে, এর এই সংগ্রামের সমস্তখানি আনন্দ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে তোমার মনকে ভরে তুলবে, তার সন্ধান আমি তোমাকে বলতে পারি। আমার অন্তত তাই হয়েছিল; অনেক, অনেক বছর আগের কথা, আমি তখন স্কুলের ছেলে। এই ইতিহাস আমি তখন পড়েছিলাম তিনটি বইয়ে। বই তিনটি জি এম ট্রেভেলিয়নের লেখা- তাদের নাম হচ্ছে ‘গ্যারিবল্ডি ও রোমান প্রজাতন্ত্রের জন্যে সংগ্রাম’, ‘গ্যারিবল্ডি ও তাঁর একহাজার যোদ্ধা’, এবং ‘গ্যারিবল্ডি ও ইতালির সৃষ্টি’।

 ইতালির এই যুদ্ধের সময়ে ইংলণ্ডের লোকেরা গ্যারিবল্ডি আর তাঁর লালকোর্তা সৈন্যদের সহানুভূতি দেখিয়েছে; বহু ইংরেজ কবি সে যুদ্ধ নিয়ে চমৎকার কবিতা লিখেছেন। এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার—মুক্তির জন্যে যুদ্ধে ব্যাপৃত জাতির প্রতি ইংরেজের সহানভূতির অন্ত থাকে না, অবশ্য যদি তাদের নিজেদের স্বার্থহানির ভয় না থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক গ্রীসকে সাহায্য করতে তারা পাঠাল কবি বায়্‌রনকে এবং আরও অনেককে; ইতালিতে পাঠাল সর্বরকমের শুভ কামনা আর উৎসাহবাক্য; এ দিকে বাড়ির পাশের দেশ আয়র্ল্যাণ্ডে, দূরের দেশ মিশরে ভারতবর্ষে এবং অন্যান্য স্থানে তার দূতেরা বহন করে নিয়ে গেল ম্যাক্সিম বন্দুক আর ধ্বংসের বাণী! এই সময়ে ইতালিকে নিয়ে সুইন্‌বার্ন, মেরিডিথ আর এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং বহু সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখেছেন। মেরিডিথ এই বিষয় নিয়ে উপন্যাসও লিখেছিলেন কয়েকখানা।—সুইন্‌বার্নের একটি কবিতা থেকে আমি কয়েকটি ছত্র তোমাকে শোনাচ্ছি; কবিতাটির নাম ‘দি হল্ট বিফোর রোম’ (রোমের সামনে বিরাম)। এই কবিতাটি যখন তিনি লেখেন তখন ইতালি যুদ্ধ করে চলেছে এবং তাকে নানাবিধ বাধার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে, তার বহু দেশদ্রোহী প্রজা বিদেশী প্রভুদের সেবা করছে:

“তোদের প্রভুরা দিতে পারে বহু পুরস্কার।
স্বাধীনতা—তার দেবার মতন কিছুই নেই—
নেই তার গৃহ, রাজসম্মান নেই তো তার,
নেই তার সীমা, বাধা-বিপত্তি একেবারেই।
সে কেবল বলে, ঘুমিয়ে পোড়ো না, এগিয়ে চলো,
সেনারা তাহার শীর্ণ ক্ষুধায়, রক্তপাতে
জীবনশোণিত মাটিতে ঢালিয়া তবুও বলে,
মোদের চিতায় জন্ম লভুক নবীন জাতি
মোদের আত্মা জ্বালুক নবীন তারার ভাতি।”