বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ/বাগদাদ ও হারুন-অল-রশিদ
৫০
বাগদাদ ও হারুন-অল-রশিদ
অন্য দেশে ফিরে যাবার আগে চলো আরবজাতির ইতিহাসই আরও আলোচনা করা যাক।
প্রায় এক শো বছর কাল হজরত মহম্মদের বংশের ওমায়েদ-শাখার লোকেরাই খলিফা হয়েছিলেন, এ কথা আগের চিঠিতে তোমাকে বলেছি। দামাস্কাস ছিল তাঁদের রাজধানী এবং সেখান থেকেই তাঁরা শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। এই খলিফাদের আমলে আরবগণ বিপুল উদ্যমে দিকে দিকে ইসলামধর্ম প্রচার করে বেড়াতে লাগল, নূতন নূতন দেশ জয় করল। এদিকে আবার দেশে বিরোধ, গৃহরুদ্ধ লেগেই ছিল। এর ফলে শেষপর্যন্ত ওমায়েদগণকে পরাস্ত করে মহম্মদেরই আর-এক শাখাবংশ ক্ষমতা লাভ করে; এরা মহম্মদের খুড়ো আব্বাসের বংশধর, আব্বাসি নামে অভিহিত। আব্বাসিরা খলিফাপন অধিকার করে ওমায়েদগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে শুরু করল। অনেকদিন ধরে হত্যাকাণ্ড চলল; ওমায়েদগণকে যেখানে পেল নিতান্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল।
৭৫০ খৃষ্টাব্দে আব্বাসি খলিফাদের শাসন শুরু হয়। আরম্ভটা শুভ না হলেও আব্বাসিদের আমলে আরবজাতি খুব উন্নতি লাভ করেছিল। নানা বিষয়ে পরিবর্তনও হয়েছিল অনেক। আরবে গৃহযুদ্ধের দরুন সমগ্র আরব সাম্রাজ্যের ভিত্তি নড়ে উঠেছিল। স্বদেশে আব্বাসিরাই জিতেছিল; কিন্তু সুদূর স্পেনে শাসনকর্তা ছিল একজন ওমায়েদ, সে আব্বাসি খলিফাকে মানতে অস্বীকার করল। ওদিকে শীঘ্রই উত্তর-আফ্রিকাও অল্পবিস্তর স্বাধীন হয়ে উঠল, আর মিশর তো আব্বাসিদের উপেক্ষা করে একেবারে নূতন একজন খলিফাই মনোনীত করল। মিশর নেহাত কাছাকাছি ছিল কিনা, তাই আব্বাসিরা প্রায়ই মিশরকে ভয় দেখাত, হুমকি দিত, কিন্তু আফ্রিকা ও স্পেন সম্বন্ধে চুপচাপ থাকত। তবেই দেখো, আব্বাসি আমলের শুরুতেই আরব-সাম্রাজ্য বিভক্ত হয়ে যায়। খলিফা আর মুসলিম জগতের একচ্ছত্র অধিপতি এবং ধর্মগুরু ছিলেন না; ইসলামধর্মের একতা নষ্ট হল। আব্বাসি আর স্পেনের আরবগণ পরস্পরকে দস্তুরমতো ঘৃণা করত, একে অন্যের দুর্ভাগ্য কামনা করত।
যে ধর্মবিশ্বাস আর শক্তি আরবজাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল তা লোপ পেয়ে গেল। কোথায় গেল তাদের সরলতা, আর কোথায়ই-বা গণতন্ত্রের আদর্শ! পারশ্য কিংবা কন্স্টাণ্টিনোপ্লের সম্রাটের সঙ্গে ধর্মগুরুর কোনো পার্থক্য রইল না। হজরত মহম্মদের সময়কার আরবদের মধ্যে অদ্ভুত জীবনীশক্তির পরিচয় পাওয়া যেত; সে যুগের পৃথিবীতে ওদের সমকক্ষ কেউ ছিল না, সকল রাজাই তাদের কাছে মাথা নত করেছে, কেউ তাদের অগ্রগতিতে বাধা দিতে পারে নি। জনসাধারণ রাজারাজড়াদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল; সুতরাং আরবগণ যেন তাদের নিকট আশার বাণী বহন করে এনেছিল।
কিন্তু এখন সেই অবস্থা একেবারে বদলে গেছে। এখন লোকেরা থাকে ভালো, খায় ভালো। আগে ডেরা বেঁধে থাকত মরুভূমিতে, এখন বাস করে অট্রালিকায়; খেত খেজুর, আর এখন যায় বহুমূল্য সামগ্রী। বেশ আরামে আছে, সুতরাং পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্যে তারা মাথা ঘামাবে কেন? সমাজদ্রোহিতার কথাও কখনও তারা ভাবে নি। তারা কেবল প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জাঁকজমক বাড়িয়েছে, গ্রহণ করেছে ওদের যত-কিছু খারাপ রীতিনীতি—যেমন, নারীর অবরোধ প্রথা।
এই সময়ে রাজধানীও স্থানান্তরিত হয়েছিল দামাস্কাস থেকে ইরাকের বাগদাদ নগরে। বাগদাদ ছিল পারশ্যের সম্রাটদের গ্রীষ্মাবাস। এখন থেকে আব্বাসিদের দৃষ্টি পড়ল এশিয়ার ওপরে, কারণ ইউরোপ থেকে বাগদাদ অনেকটা দূরে অবস্থিত। অতঃপর ইউরোপীয় জাতিসমূহের সঙ্গে যেসকল যুদ্ধ হল তা সবই আত্মরক্ষামূলক। আব্বাসি খলিফাগণ এখন নিজেদের সাম্রাজ্যকে সংহত করবার চেষ্টায় মন দিলেন। স্পেন আর আফ্রিকা ছাড়াও এই সাম্রাজ্য যথেষ্ট বড়ো ছিল।
বাগদাদ! আরব্যোপন্যাসের কত অদ্ভুত কাহিনী এই নামের সঙ্গে জড়িত! মনে পড়ে তোমার হারুন-আল-রশিদ আর শাহারাজাদীর কাহিনী? আরব্যোপন্যাসের সেই নগরই নূতন করে গড়ে উঠল আব্বাসি খলিফাদের আমলে। বিরাট শহর; কত প্রাসাদোপম অট্টালিকা স্কুল কলেজ অফিস আদালত আর দোকানপাট, কত প্রমোদোদ্যান আর খেলার মাঠ। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য খুব ফেঁপে উঠল। সরকারি কর্মচারীদিগকে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হ’ত। ক্রমশ শাসনকর্ম বেশিরকম জটিল হয়ে পড়ল, সৃষ্টি করা হল নানান বিভাগ; সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ আর রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ রাখত ডাকবিভাগ। হাসপাতাল ছিল অসংখ্য। দেশবিদেশ থেকে লোকজনের আনাগোনা, বিশেষ করে ছাত্র আর শিল্পীর। খলিফারা বিদ্বান আর শিল্পীদের গুণের আদর করতে জানতেন।
খলিফারা বেজায় বিলাসী ছিলেন। অসংখ্য দাস তাঁদের পরিচর্যায় নিযুক্ত থাকত। স্ত্রীলোকেরা বাস করত হারেমে। ৭৮৬ থেকে ৮০৯ খৃষ্টাব্দের মধ্যবর্তী কালকে আব্বাস সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ বলা চলে; এই সময়টাই ছিল হারুন-অল-রশিদের শাসনকাল। এই সময়ে সাম্রাজ্য বিশেষ সমৃদ্ধিলাভ করে। চীনের সম্রাট এবং পাশ্চাত্যের সম্রাট শার্লামেন রাজদূত পাঠিয়েছিলেন হারুন অল-রশিদের দরবারে। আরবি-স্পেন ব্যতীত তৎকালীন ইউরোপের তুলনায় বাগদাদ ও আব্বাসি সাম্রাজ্য অনেক বেশি উন্নতি লাভ করেছিল শিক্ষা, ব্যবসাবাণিজ্য, শাসনপদ্ধতি ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে। এই সময়ে আরবদেশে বিজ্ঞানের চর্চাও শুরু হয়। আধুনিক জগতে বিজ্ঞান মস্তবড়ো স্থান অধিকার করে আছে, বিজ্ঞানের কাছে আমরা অশেষ ঋণী। বিজ্ঞান শুধু এক জায়গায় বসে ঘটনা ঘটিয়ে দেবার জন্য প্রার্থনা করে না; কেন কোন ঘটনা ঘটে বিজ্ঞান তার হদিশ জানতেও চেষ্টা করে। বিজ্ঞান পরখ করেই চলছে, বিরাম নেই, কখনও সফল হয় কখনওবা হয় না; কিন্তু এভাবেই মানুষের জ্ঞান বাড়ছে। প্রাচীন কিংবা মধ্যযুগের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের কালের এই পৃথিবীর প্রভেদ বিস্তর। এই প্রভেদের মূলে প্রধানত বিজ্ঞান, কেননা, আধুনিক জগৎ বিজ্ঞানের সৃষ্টি।
প্রাচীন যুগের মিশর, চীন কিংবা ভারতবর্ষে বিজ্ঞানচর্চার পরিচয় পাওয়া যায় না। প্রাচীন গ্রীসে তবু খানিকটা মেলে, রোমে কিন্তু আবার বিজ্ঞানের চর্চা ছিল না। কিন্তু আরবগণের এই বৈজ্ঞানিক অনসন্ধিৎসাটকু ছিল; সুতরাং তাদের আধুনিক বিজ্ঞানের জন্মদাতা বলা যেতে পারে। চিকিৎসা, গণিতশাস্ত্র ইত্যাদি কতকগুলো বিষয় ওরা ভারতবর্ষের কাছ থেকে শিখেছে, ভারতের অঙ্কশাস্ত্রবিদ্ এবং অন্যান্য বিষয়ে বিদ্বান ব্যক্তিরা বাগদাদে যেত কিনা? তা ছাড়া অনেক আরবি ছাত্র উত্তর-ভারতের তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে আসত। চিকিৎসা এবং অন্যান্য-বিষয়ক সংস্কৃত গ্রন্থাদি আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। আরবগণ অনেক-কিছু আবার চীনের কাছ থেকেও শিখেছে, যেমন, কাগজ তৈরি করা। অপরের কাছে যে জ্ঞান তারা লাভ করেছিল সেটা ভিত্তি করে আরবরা নিজেরা গবেষণা করেছে যথেষ্ট, আবিষ্কারও করেছে অনেক-কিছু। দূরবীন আর দিগ্দর্শন-যন্ত্র ওরাই প্রথম আবিষ্কার করে। চিকিৎসাশাস্ত্রে আরবগণ বিশেষ উন্নতিলাভ করেছিল; আরবি চিকিৎসকগণ ইউরোপে বিখ্যাত ছিল।
বাগদাদ ছিল এইসব বিদ্যানুশীলনের একটা বড়ো কেন্দ্র। আর, পাশ্চাত্যে আরবি স্পেনের রাজধানী কোর্দবাও একটি কেন্দ্র ছিল। তা ছাড়া আরব সাম্রাজ্যে এই ধরনের আরও কতকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র ছিল; যেমন, কায়রো, বসরা, কুফা ইত্যাদি। কিন্তু সকলের ওপরে বাগদাদের স্থান; ইসলামধর্মের রাজধানী, সাম্রাজ্যের রাজধানী, শিল্প সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের কেন্দ্র। এই নগরের জনসংখ্যা ছিল ২০ লক্ষ। আজকালকার কলিকাতা কিংবা বোম্বাই শহরের চেয়ে ঢের বেশি।
আজকাল লোকে পায়ে মোজা পরে থাকে। কবে কোথায় এর প্রচলন শুরু হল, জানো? বাগদাদে। ওখানকার ধনী লোকেরা সেকালে মোজা বা স্টকিং পরত। হিন্দুস্থানি কথাটা ঐ আরবি ‘মোজাস’ শব্দ থেকেই এসেছে। সেরূপ ফরাসি ‘সেমিজ’ কথাটির উদ্ভব হয়েছে ‘কামিজ’ থেকে; কামিজ মানে শার্ট। কামিজ আর মোজা এই দুটি কথাই আরব থেকে কন্স্টাণ্টিনোপ্লে রপ্তানি হয়েছিল এবং সেখান থেকে ইউরোপে।
আরব ভ্রাম্যমান জাতি। সমুদ্রে লম্বা পাড়ি দিয়ে এরা আফ্রিকায়, ভারতের উপকূলে, মালয়ে এবং এমনকি চীনেও উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। আরবি পরিব্রাজকদের মধ্যে আলবেরুনির নাম বিখ্যাত; ইনি ভারতেও এসেছিলেন এবং হিউয়েন সাঙের মতো একটা ভ্রমণবৃত্তান্তও লিখে গেছেন।
আরবগণ ইতিহাসের চর্চা করত। তাদের লেখা বইপুস্তক এবং ইতিহাস থেকে আরবজাতি সম্বন্ধে আমরা অনেক কথা জানতে পারি। আর, তারা যে অদ্ভুত অদ্ভুত কাহিনী ও উপন্যাস রচনা করতে পারত সে তো জানা কথা। এমন হাজার হাজার লোক আছে যারা কখনও আব্বাসি খলিফা আর তাদের সাম্রাজ্যের কথা শোনে নি কিন্তু একাধিক সহস্র রজনীর (থাউজেণ্ড এ্যাণ্ড ওয়ান নাইট্স) শহর, রহস্যময় স্বপ্নপুরী বাগদাদের কথা তারা জানে। প্রকৃত সাম্রাজ্যের চেয়ে কল্পনার সাম্রাজ্য অনেক সময়ে অধিকতর বাস্তব আর অধিককাল স্থায়ী হয়ে থাকে।
হারুন-অল-রশিদের মৃত্যুর অল্প পরেই আরব সাম্রাজ্যে নানা অশান্তি দেখা দিল। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে শুরু হল বিদ্রোহ; প্রাদেশিক গভর্নরের পদ হল বংশানুক্রমিক। খলিফাদের ক্ষমতা ক্রমশ কমতে কমতে শেষকালে এমন এক সময় এল, একমাত্র বাগদাদ শহর এবং আশেপাশে কয়েকটি গ্রাম ছাড়া আর কোথাও খলিফার কর্তৃত্ব রইল না। একজন খলিফাকে তো তার অধীনস্থ সৈন্যেরাই জোর করে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে এনে হত্যা করেছিল। আবার এক সময়ে বাগদাদে শাসনকার্য পরিচালনা করল জনকয়েক ক্ষমতাশালী লোক, খলিফা ছিল তাদের হাতের পুতুল।
ধর্মগত ঐক্যবোধ বহু পূর্বেই লোপ পেয়েছিল। মধ্য-এশিয়ায় মিশর থেকে খোরাশান পর্যন্ত সবখানেই পৃথক পৃথক মুসলমান রাজ্য গড়ে উঠল; সুসূর প্রাচ্য থেকে যাযাবর জাতির লোকেরা পাশ্চাত্য অভিমুখে যেতে লাগল। মধ্য-এশিয়ার প্রাচীন তুর্ক জাতি মুসলমানধর্ম অবলম্বন করে বাগদাদ দখল করে বসল। এরা সেলজুক তুর্ক নামে অভিহিত। কন্স্টাণ্টিনোপ্লের সৈনাবাহিনীকে এরা পরাস্ত করল। ইউরোপ ভেবেছিল, আরব এবং মুসলমান জাতির সে পরাক্রম আর নেই, তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কিন্তু কন্স্টাণ্টিনোপ্লের পরাজয়ে ইউরোপ অবাক হয়ে গেল। আরবজাতির ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল এটা সত্যি; কিন্তু এখন সেলজুক তুর্কিরা এসে তাদের স্থান গ্রহণ করল, তুলে ধরল ইসলামের পতাকা, যদ্ধে আহ্বান করল ইউরোপকে।
আর ইউরোপ শীঘ্রই সে আহ্বান গ্রহণ করল। ইউরোপের খৃষ্টান জাতিগুলি দলবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের হাত থেকে খৃষ্টের জন্মভূমি জেরুজালেম উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রা করল। সিরিয়া, প্যালেস্টাইন এবং এশিয়া মাইনর কার দখলে থাকবে তাই নিয়ে লাগল ভীষণ লড়াই। শতাধিক বৎসর কাল এই লড়াই চলল এবং এই তিন দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা ভিজে গেল মানুষের রক্তে। ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল শসাপূর্ণ মাঠ, লোপ পেল বাণিজ্য, সমৃদ্ধি, সবকিছু।
এই দুটি জাতের লড়াই শেষ হবার আগেই ইতিহাসে আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল। সেটা হচ্ছে, মঙ্গোলিয়ায় চেঙ্গিস খানের আবির্ভাব। ওর বিপুল পরাক্রম এশিয়া ও ইউরোপকে প্রায় কাঁপিয়ে তুলেছিল। চেঙ্গিস খান আর তার বংশধরগণ বাগদাদ ও সাম্রাজ্যকে লোপাট করে দিয়েছিল। সমৃদ্ধিশালী নগর বাগদাদ পরিণত হল ধুলা আর ভস্মে; ২০ লক্ষ্ম অধিবাসীর অধিকাংশই মৃত্যুমুখে পতিত হল। এটা ১২৫৮ খৃষ্টাব্দের কথা।
বর্তমানকালে বাগদাদ শহর আবার সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠেছে। বাগদাদ এখন ইরাকরাষ্ট্রের রাজধানী। কিন্তু তার আগেকার রূপ আর নেই, মঙ্গোলিয়ানরা যে দারুণ ক্ষতি করেছিল তা আর পূরণ হয় নি।