বৌ-ঠাকুরাণীর হাট/ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ।

 মান অপমানের প্রতি রাজা রামচন্দ্র রায়ের অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃষ্টি। রাজা এক দিন চতুর্দ্দোলায় করিয়া রাস্তায় বাহির হইয়াছিলেন, দুই জন অনভিজ্ঞ তাঁতী তাহাদের কুটীরের সম্মুখে বসিয়া তাঁত বুনিতেছিল, চতুর্দ্দোল দেখিয়া উঠিয়া দাঁড়ায় নাই, রাজা তাহা লইয়া হুলস্থূল করিয়া তুলিয়াছিলেন। একবার যশােহরে তাঁহার শ্বশুরবাড়ির এক চাকরকে তিনি একটা কি কাজের জন্য আদেশ করিয়াছিলেন, সে বেচারা এক শুনিতে আর শুনিয়াছিল, কাজে ভুল করিয়াছিল, মহামানী রামচন্দ্র রায় তাহা হইতে সিদ্ধান্ত করিয়াছিলেন যে, শ্বশুরবাড়ির ভৃত্যরা তাঁহাকে মানে না, তাহারা অবশ্য তাহাদের মনিবদের কাছেই এইরূপ শিখিয়াছে, নহিলে তাহারা সাহস করিত না। বিশেষত সেই দিন প্রাতঃকালেই তিনি দেখিয়াছিলেন যুবরাজ উদয়াদিত্য সেই চাকরকে চুপি চুপি কি একটা কথা বলিতেছিলেন—অবশ্য তাঁহাকে অপমান করিবার পরামর্শই চলিতেছিল, নহিলে আর কি হইতে পারে! এক দিন কয়েক জন বালক মাটির ঢিপির সিংহাসন গড়িয়া, রাজা, মন্ত্রী ও সভাসদ সাজিয়া রাজসভার অনুকরণে খেলা করিতেছিল, রাজার কানে যায়, তিনি তাহাদের পিতাদের ডাকিয়া বিলক্ষণ শাসন করিয়া দেন।

 আজ মহারাজা গদির উপরে তাকিয়া ঠেসান দিয়া গুড়গুড়ি টানিতেছেন। সম্মুখে এক ভীরু দরিদ্র অপরাধী খাড়া রহিয়াছে, তাহার বিচার চলিতেছে। সে ব্যক্তি কোনাে সূত্রে প্রতাপাদিত্য ও রামচন্দ্র রায় সংক্রান্ত ঘটনা শুনিতে পায়, ও তাহা লইয়া আপনাআপনির মধ্যে আলােচনা করে, তাহাই শুনিয়া তাহার শত্রুপক্ষের এক জন সে কথাটা রাজার কানে উত্থাপন করে। রাজা মহা খাপা হইয়া তাহাকে তলব করেন। তাহাকে ফাঁসিই দেন, কি নির্ব্বাসনই দেন, এমনি একটা কাণ্ড বাধিয়া গেছে।

 রাজা বলিতেছেন, “বেটা, তোর এত বড় যােগ্যতা!”

 সে কাঁদিয়া কহিতেছে, “দোহাই মহারাজ, আমি এমন কাজ করি নাই!”

 মন্ত্রী কহিতেছেন, “বেটা, প্রতাপাদিত্যের সঙ্গে আর আমাদের মহারাজের তুলনা।”

 দেওয়ান কহিতেছেন, “বেটা, জানিস্ না, যখন প্রতাপাদিত্যের বাপ প্রথম রাজা হয়, তখন তাহাকে রাজটীকা পাইবার জন্য সে আমাদের মহারাজার স্বর্গীয় পিতামহের কাছে আবেদন করে। অনেক কাঁদাকাটা করাতে তিনি তাঁহার বাঁ পায়ের ক’ড়ে আঙুল দিয়া তাঁহাকে টীকা পরাইয়া দেন।”

 রমাই ভাঁড় কহিতেছে, “বিক্রমাদিত্যের ছেলে প্রতাপাদিত্য, উহারা ত দুই পুরুষে রাজা! প্রতাপাদিত্যের পিতামহ ছিল কেঁচো, কেঁচোর পুত্র হইল জোঁক, বেটা প্রজার রক্ত খাইয়া খাইয়া বিষম ফুলিয়া উঠিল, সেই জোঁকের পুত্র আজ মাথা খুঁড়িয়া খুঁড়িয়া মাথাটা কুলােপানা করিয়া তুলিয়াছে ও সাপের মত চক্র ধরিতে শিখিয়াছে। আমরা পুরুষানুক্রমে রাজসভায় ভাঁড়বৃত্তি করিয়া আসিতেছি, আমরা বেদে, আমরা জাত সাপ চিনি না?” রাজা রামচন্দ্র রায় আজ বিষম সন্তুষ্ট হইয়া সহাস্য বদনে গুড়গুড়ি টানিতে লাগিলেন। আজকাল প্রত্যই সভায় প্রতাপাদিত্যের উপর একবার করিয়া আক্রমণ হয়। প্রতাপাদিত্যের পৃষ্ঠ লক্ষ্যপূর্ব্বক শব্দভেদী বচন-বাণ বর্ষণ করিয়া সেনানীদের তুণ নিঃশর হইলে সভা ভঙ্গ হয়। যাহা হউক, আজিকার বিচারে অপরাধী অনেক কাঁদাকাটি করাতে দোর্দ্দণ্ডপ্রতাপ রামচন্দ্র রায় কহিলেন—“আচ্ছা যা —এ যাত্রা বাঁচিয়া গেলি, ভবিষ্যতে সাবধান থাকিস্!”

 অন্যান্য সভাসদ চলিয়া গেল, কেবল মন্ত্রী ও রমাই ভাঁড় রাজার কাছে রহিল। প্রতাপাদিত্যের কথাই চলিতে লাগিল।

 রমাই কহিল, “আপনি ত চলিয়া এলেন, এদিকে যুবরাজ বাবাজি বিষম গােলে পড়িলেন। রাজার অভিপ্রায় ছিল, কন্যাটি বিধবা হইলে হাতের লােহ ও বালা দুগাছি বিক্রয় করিয়া রাজকোষে কিঞ্চিৎ অর্থাগম হয়। যুবরাজ তাহাতে ব্যাঘাত করিলেন। তাহা লইয়া তম্বী কত?”

 রাজা হাসিতে লাগিলেন, কহিলেন “বটে!”

 মন্ত্রী কহিলেন, “মহারাজ, শুনিতে পাই, প্রতাপাদিত্য আজকাল আপ্‌শােষে সারা হইতেছেন। এখন কি উপায়ে মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাইবেন, তাহাই ভাবিয়া তাঁহার আহার নিদ্রা নাই।”

 রাজা কহিলেন “সত্য নাকি!” বলিয়া হাসিতে লাগিলেন, তামাক টানিতে লাগিলেন, বড়ই আনন্দ বােধ হইল!

 মন্ত্রী কহিল “আমি বলিলাম, আর মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাইয়া কাজ নাই! তােমাদের ঘরে মহারাজ বিবাহ করিয়াছেন, ইহাতেই তোমাদের সাত পুরুষ উদ্ধার হইয়া গেছে। তাহার পরে আবার তােমাদের মেয়েকে ঘরে আনিয়া ঘর নীচু করা, এত পুণ্য এখনও তােমরা কর নাই! কেমন হে ঠাকুর!”

 রমাই কহিল, “তাহার সন্দেহ আছে। মহারাজ, আপনি যে, পাঁকে পা দিয়াছেন, সে ত পাঁকের বাবার ভাগ্য, কিন্তু তাই বলিয়া ঘরে ঢুকিবার সময় পা ধুইয়া আসিবেন না ত কি!”

 এইরূপে হাস্যপরিহাস চলিতে লাগিল। প্রতাপাদিত্য ও উদয়াদিত্যের কাল্পনিক মুর্ত্তি সম্মুখে রাখিয়া তাহাদিগকে ক্ষতবিক্ষত করা হইতে লাগিল। উদয়াদিত্যের যে কি অপরাধ তাহা বুঝিতে পারি না। তিনি যে নিজে বিপদকে অগ্রাহ্য করিয়া রামচন্দ্র রায়ের প্রাণরক্ষা করিলেন, সে সকল কথা চুলায় গেল, আর, তিনি প্রতাপাদিত্যের সন্তান হইয়াছেন, এই অপরাধে রামচন্দ্র রায় তাঁহার কথা তুলিয়া অকাতরে হাস্যপরিহাস করিতে লাগিলেন। রামচন্দ্র রায় যে নিষ্ঠুর তাহা নহে, তিনি একজন লঘুহৃদয়, সঙ্কীর্ণপ্রাণ লােক। উদয়াদিত্য যে তাঁহার প্রাণ রক্ষা করিয়াছেন, তজ্জন্য তিনি কৃতজ্ঞ নহেন। তিনি মনে করেন, ইহা ত হইবেই, ইহা না হওয়াই অন্যায়। রামচন্দ্র রায় বিপদে পড়িলে তাঁহাকে সকলে মিলিয়া বাঁচাইবে না ত কি! তাঁহার মনে হয়, রামচন্দ্র রায়ের পায়ে কাঁটা ফুটিলে সমস্ত জগৎসংসারের প্রাণে বেদনা লাগে। তিনি মনে করিতে পারেন না যে, পৃথিবীর একজন অতি ক্ষুদ্রতম লােকেরও নিজের বিপদের কাছে মহারাজাধিরাজ রামচন্দ্র রায় কিছুই নহে। দিবারাত্রি শত শত স্তুতি বাদকের দাঁড়িপাল্লায় একদিকে জগৎকে ও আর একদিকে নিজেকে চড়াইয়া তিনি নিজকেই ওজনে ভারি বলিয়া স্থির করিয়া রাখিয়াছেন, এইজন্য সহজে আর কাহারো উপরে তাঁর কৃতজ্ঞতার উদয় হয় না। তাহা ছাড়া উদয়াদিত্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা উদয় না হইবার আর এক কারণ এই যে, তিনি মনে করেন উদয়াদিত্য নিজের ভগিনীর জন্যই তাঁহাকে বাঁচাইয়াছেন, তাঁহার প্রাণরক্ষাই উদয়াদিত্যের উদ্দেশ্য ছিল না। তাহা ছাড়া যদি বা রামচন্দ্রের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতার সঞ্চার হইত, তবুও তিনি উদয়াদিত্যকে লইয়া হাস্যপরিহাসের ত্রুটি করিতেন না। কারণ যেখানে দশজনে মিলিয়া একজনকে লইয়া হাসিতামাসা করিতেছে, বিশেষত রমাই ভাঁড় যাহাকে লইয়া বিদ্রূপ করিতেছে, সেখানে তিনি তাহাদের মুখ বন্ধ করেন বা তাহাদের সহিত যোগ না দেন, এমন তাঁহার মনের জোর নাই। তাঁহার মনে হয়, তাহা হইলে সকলে কি মনে করিবে।

 এখনো বিভার প্রতি রামচন্দ্র রায়ের আসক্তির মত একটা ভাব আছে। বিভা সুন্দরী, বিভা সবে মাত্র যৌবনে পদার্পণ করিয়াছে, রামচন্দ্র রায়ের সহিত বিভার অতি অল্প দিনই সাক্ষাৎ হইয়াছে। প্রতাপাদিত্যের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করিয়াছেন—কিন্তু যখন সেই রাত্রে প্রথম নিদ্রা ভাঙিয়া সহসা তিনি দেখিলেন, বিভা শয্যায় বসিয়া কাঁদিতেছে, তাহার মুখে জ্যোৎস্না পড়িয়াছে, তাহার অর্দ্ধ-অনাবৃত বক্ষ কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছে, তাহার মধুর করুণ দুটি চক্ষু বহিয়া জল পড়িতেছে, তাহার ক্ষুদ্র দুটি অধর কচি কিশলয়ের মত কাঁপিতেছে, তখন তাঁহার মনে সহসা একটা-কি উচ্ছ্বাস হইল; বিভার মাথা কোলে মাথা রাখিলেন, বিভার চোখের জল মুছাইয়া দিলেন, বিভার করুণ অধর চুম্বন করিবার জন্যে হৃদয়ে একটা আবেগ উপস্থিত হইল, তখনই প্রথমত তাঁহার শরীরে মুহূর্ত্তের জন্য বিদ্যুৎ সঞ্চার হইল, তখনই প্রথম তিনি বিভার নববিকাশিত যৌবনের লাবণ্যরাশি দেখিতে পাইলেন, সেই প্রথম তাঁহার বিশ্বাস বেগে বহিল, অর্দ্ধনিমীলিত নেত্রপল্লবে জলের রেখা দেখা দিল, হৃদয় বেগে উঠিতে পড়িতে লাগিল। বিভাকে চুম্বন করিতে গেলেন। এমন সময় দ্বারে আঘাত পড়িল, এমন সময়ে বিপদের সংবাদ শুনিতে পাইলেন। সেই যে হৃদয়ের প্রথম বিকাশ, সেই যে বাসনার প্রথম উচ্ছ্বাস, সেই যে নয়নের মােহ দৃষ্টি, তাহা পরিতৃপ্ত হইল না বলিয়া তাহারা তৃষা-কাতর হইয়া রামচন্দ্র রায়ের স্মৃতি অধিকার করিয়া রহিল। ইহা স্থায়ী প্রেমের ভাব নহে, কারণ রামচন্দ্র রায়ের লঘু হৃদয়ের পক্ষে তাহা সম্ভব নহে। একটা বিলাস দ্রব্যের প্রতি সৌখীন হৃদয়ের যেমন সহসা একটা টান পড়ে সৌখীন রামচন্দ্র রায়েরও বিভার প্রতি সেইরূপ একটা ভাব জন্মিয়াছিল। যাহা হউক, যে কারণেই হউক, রামচন্দ্র রায়ের যৌবন-স্বপ্নে বিভা জাগিতেছিল। বিভাকে পাইবার জন্য তাঁহার একটা অভিলাষ উদয় হইয়াছিল। কিন্তু যদি বিভাকে আনিতে পাঠান, তাহা হইলে সকলে কি মনে করিবে। সভাসদেরা যে তাঁহাকে স্ত্রৈণ মনে করিবে, মন্ত্রী যে মনে মনে অসন্তুষ্ট হইবে, রমাই ভাঁড় যে মনে মনে হাসিবে! তাহা ছাড়া, প্রতাপাদিত্যের তাহা হইলে কি শাস্তি হইল? শ্বশুরের উপর প্রতিহিংসা তোলা হইল কৈ? এইরূপ সাত পাঁচ ভাবিয়া বিভাকে আনিতে পাঠাইতে তাঁহার ভরসা হয় না, প্রবৃত্তি হয় না। এমন কি, বিভাকে লইয়া হাস্যপরিহাস চলিতে থাকে, তাহাতে বাধা দিতেও তাঁহার সাহস হয় না, এবং প্রতাপাদিত্যের কথা মনে করিয়া, তাহাতে বাধা দিতে তাঁহার ইচ্ছাও হয় না।

 রমাই ভাঁড় ও মন্ত্রী চলিয়া গেলে রামমােহন মাল আসিয়া যােড় হাতে কহিল “মহারাজ!”

 রাজা কহিলেন, “কি রামমােহন!”

 রামমােহন “মহারাজ, আজ্ঞা দিন, আমি ঠাকুরাণীকে আনিতে যাই।”

 রাজা কহিলেন, “সে কি কথা?”

 রামমােহন কহিল, “আজ্ঞা হাঁ। অন্তঃপুর শূন্য হইয়া আছে, আমি তাহা দেখিতে পারিব না। অন্তঃপুরে যাই মহারাজের ঘরে কাহাকেও দেখিতে পাই না, আমার যেন প্রাণ-কেমন করিতে থাকে। আমার মা-লক্ষ্মী গৃহে আসিয়া গৃহ উজ্জ্বল করুন আমরা দেখিরা চক্ষু সার্থক করি।”

 রাজা কহিলেন, “রামমােহন, তুমি পাগল হইয়াছ? সে মেয়েকে আমি ঘরে আনি?”

 রামমােহন নেত্র বিস্ফারিত করিয়া কহিল, “কেন মহারাজ, আমার মাঠাকুরাণী কি অপরাধ করিয়াছেন?”

 রাজা কহিলেন, “বল কি রামমােহন? প্রতাপাদিত্যের মেয়েকে আমি ঘরে আনিব?”

 রামমােহন কহিল, “কেন আনিবেন না? প্রতাপাদিত্যের সহিত তাঁহার সম্পর্ক কিসের? যত দিন বিবাহ না হয় তত দিন মেয়ে বাপের; বিবাহ হইলে পর আর তাহাতে বাপের অধিকার থাকে না। এখন আপনার মহিষী আপনার—আপনি যদি তাঁহাকে ঘরে না আনেন আপনি যদি তাঁহাকে সমাদর না করেন, তবে আর কে করিবে?”

 রাজা কহিলেন, “প্রতাপাদিত্যের মেয়েকে যে আমি বিবাহ করিয়াছি, ইহাই যথেষ্ট হইয়াছে, আবার তাহাকে ঘরে আনিব? তাহা হইলে মান রক্ষা হইবে কি করিয়া?”

 রামমােহন কহিল, “মান রক্ষা? আপনার নিজের মহিষীকে আপনি পরের ঘরে ফেলিয়া রাখিয়াছেন, তাহার উপর আপনার কোন অধিকার নাই, তাহার উপর অন্য লোক যাহা-ইচ্ছা প্রভুত্ব করিতে পারে, ইহাতেই কি আপনার মান রক্ষা হইতেছে?”

 রাজা কহিলেন, “যদি প্রতাপাদিত্য মেয়েকে না দেয়?”

 রামমােহন বিশাল বক্ষ ফুলাইয়া কহিল, “কি বলিলেন মহারাজ? যদি না দেয়? এতবড় সাধ্য কাহার যে দিবে না? আমার মা-জননী, আমাদের ঘরের মা-লক্ষ্মী কাহার সাধ্য তাঁহাকে আমাদের কাছ হইতে রাখিতে পারে? যত বড় প্রতাপাদিত্যই হউন না কেন, তাঁহার হাত হইতে কাড়িয়া লইব। এই বলিয়া গেলাম। আমার মাকে আমি আনিব, তুমি বারণ করিবার কে?” বলিয়া রামমােহন প্রস্থানের উপক্রম করিল।

 রাজা তাড়াতাড়ি কহিলেন—“রামমােহন, যেও না, শােন শােন। আচ্ছা তুমি মহিষীকে আনিতে যাও তাহাতে কোন আপত্তি নাই, কিন্তু— দেখ—এ কথা যেন কেহ শুনিতে না পায়। রমাই কিংবা মন্ত্রীর কানে যেন এ কথা না উঠে!”

 রামমােহন কহিল, “যে আজ্ঞা মহারাজ!” বলিয়া চলিয়া গেল।

 যদিও মহিষী রাজপুরে আসিলেই সকলে জানিতে পারিবে, তথাপি সে অনেক বিলম্ব আছে, তাহার জন্য প্রস্তুত হইবার সময় আছে, আপাতত উপস্থিত লজ্জার হাত এড়াইতে পারিলেই রামচন্দ্র রায় বাঁচেন।