ভারতকোষ (তৃতীয় খণ্ড)/চলচ্চিত্র
(পৃ. ৩০২-৩০৪)
চলচ্চিত্র বিখ্যাত ইংরেজী শব্দকোষ থেসরাস্-এর সংকলক পিটার মার্ক রজেট ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে এক অভিনব সূত্র আবিষ্কার করেন: মানুষ যে কোনও দৃশ্যই দেখুক, তাহা অপসৃত হইবামাত্র চক্ষু হইতে বিলীন হয় না। এই মূলসূত্রের উপর ভিত্তি করিয়া চলচ্চিত্রের আবিষ্কার ও নির্মাণ সম্ভবপর হইয়াছে।
পৃথক পৃথক আলোকচিত্র পরপর অল্প দূরত্বে সাজাইয়া দ্রুতগতিতে চক্ষুর সম্মুখে উপস্থিত করিলে রজেট-এর উক্ত সূত্র অনুযায়ী দৃশ্যটি চলমান বলিয়া ভ্রম হয়। স্বচ্ছ সেলুলয়েডের ফিতার উপর ছাপা আলোকচিত্র প্রজেক্টর বা প্রক্ষেপণ যন্ত্রের দ্বারা বৃহদাকারে পর্দার উপর ক্ষেপণ করিলে আরও নিখুঁতভাবে ঐ গতিশীলতার বোধ সৃষ্টি করা সম্ভবপর।
চলচ্চিত্র-গ্রহণ ও প্রদর্শনের কৌশল যে কে উদ্ভাবন করেন তাহা লইয়া মতভেদ আছে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি মোটামুটি একই সময়ে এই বিষয়ে গবেষণার রত ছিলেন। ইহাদের মধ্যে ফরাসী দেশের এতিয়েন্-ঝুল্ মারে, ইংল্যাণ্ডের এড্ওয়ার্ড মাইব্রিজ এবং আমেরিকার টমাস্ এডিসন-এর গবেষণাগারে নিযুক্ত ইংরেজ গবেষক ডিক্সন-এর নাম উল্লেখযোগ্য। ইহা বলা যাইতে পারে যে চলচ্চিত্র বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন আবিষ্কারের সমষ্টি―কোনও একজন আবিষ্কর্তার একক উদ্ভাবন নহে। সম্ভবতঃ ইংল্যাণ্ডে ফ্রীজগ্রীন ও ফরাসী দেশে রেনো (Raynaud) একই সময়ে ছবির ফিতার দুই পার্শ্বে ছিদ্রস্থাপনের দ্বারা দুই চিত্রের মধ্যবর্তী ব্যবধানকে স্থিরীকৃত করিতে সক্ষম হন। ইহার ফলে দর্শকের চোখে গতির ছন্দ দ্রুত বা মন্থর না হইয়া স্বাভাবিকভাবে প্রতিভাত হয়। এডিসন-এর পরীক্ষাগারে ডিক্সন সেলুলয়েডের উপরে চলচ্চিত্রের ছবিগুলিকে ছাপার ও উপর হইতে নীচের দিকে চালিত করিবার কৌশল আবিষ্কার করেন।
বিভিন্ন আবিষ্কারকের শ্রেষ্ঠ বিশেষত্বগুলিকে একত্রিত করিয়া পর্দার উপরে চিত্রপ্রক্ষেপণের কৌশল সর্বপ্রথম আয়ত্ত করেন ফরাসী দেশের লুমিয়ের ভ্রাতৃবৃন্দ। ইহাদেরই চেষ্টায় বোম্বাই নগরীতে অবস্থিত তৎকালীন ওয়াট্সন্স হোটেলে ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে ভারতে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। পৃথিবীর নানা দেশে ঐ সময় হইতে চলচ্চিত্রপ্রদর্শন প্রবর্তিত হয়। সেকালের চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য ছিল অতি অল্প এবং বিষয় ছিল সহজ। ট্রেন চলিতেছে, তীরের উপর ঢেউ আছড়াইয়া পড়িতেছে, এজাতীয় দৃশ্যই চলচ্চিত্রের প্রথম দর্শকবৃন্দকে মুগ্ধ করিয়াছিল। নিউজ রীল বা সংবাদচিত্র এই যুগেই প্রথম নির্মিত হয়।
১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসী দেশের ঝ়র্ঝ় মেলি (Georges Melies) নামে জাদুকর চলচ্চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া আকস্মিকভাবে চলচ্চিত্রের জাদুকরী সম্ভাবনা আবিষ্কার করেন। তাঁহার উদ্ভাবিত নানাবিধ কৌশল এখনও চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়; যেমন, একব্যক্তিকে দুই বেশে একই চিত্রের মধ্যে উপস্থিত করা প্রভৃতি; কিন্তু মেলি চলচ্চিত্রের জাদুবিদ্যার মধ্যেই আবদ্ধ রহিলেন না, অল্পদিনের মধ্যেই তিনি চিত্রনাট্যের রীতিতে পরিকল্পিত চলচ্চিত্রগ্রহণে ব্রতী হন। এই রীতির ফলে তাঁহার সৃষ্ট সিন্ডরেলা ও অন্যান্য ছবি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। উহার দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়া ১৯০২ খ্রীষ্টাব্দে ‘দি লাইফ অফ অ্যান অ্যামেরিকান ফায়ার-ম্যান’ নামক চলচ্চিত্রে আমেরিকাবাসী এড্উইন পোর্টার মেলি-র রীতিকে আরও প্রসারিত করিয়া বর্তমান কালের ঘটনাবর্ণনারীতির ভিত্তি স্থাপনা করেন। পোর্টারের প্রধান অবদান হইল সম্পাদনা বা এডিটিং। ইহা বর্তমান চলচ্চিত্ররীতির অন্যতম আবশ্যিক উপাদান। তিনি পূর্বোল্লিখিত চিত্রে ক্লোজ-আপ বা নিকটদৃষ্টিরও অবতারণা করেন। সম্পাদনা এবং প্রয়োজন অনুসারে ক্যামেরার দূরত্ব পরিবর্তনের সাহায্যে আধুনিক চলচ্চিত্রের মূলভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হইল।
১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে ডেভিড্ ওয়ার্ক গ্রিফিথ-এর আবির্ভাবের ফলে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নবযুগের সূচনা হয়। সিনেমাকে মঞ্চরীতি হইতে মুক্ত করিয়া এবং ক্যামেরার দৃষ্টিকোণের বিভিন্নতা—নিকটদৃষ্টি ও দূরদৃষ্টির (লং শট) উপযুক্ত ব্যবহার—দৃশ্য বস্তুর সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ, আলোকসম্পাতের নাটকীয় বৈচিত্র্য ইত্যাদি কলাকৌশলের সুনিপুণ প্রয়োগের দ্বারা তিনি চলচ্চিত্রকে এক নূতন ‘ভাষা’ ও ‘শিল্পের’ মহিমায় প্রতিষ্ঠিত করিলেন। ‘বার্থ অফ এ নেশন’, ‘ইন্টলারেন্স' প্রভৃতি ছবি তাঁহার শিল্পনৈপুণ্যের দৃষ্টান্ত। চলচ্চিত্রের এই ভাষা চার্লি চ্যাপ্লিন-এর হাস্যরসোচ্ছল অথচ অর্থময় চলচ্চিত্রে নব রূপ পরিগ্রহ করিল। চ্যাপ্লিনের ‘দি গোল্ড রাশ্’ (১৯২৫ খ্রী) এক অনবদ্য সৃষ্টি। ঐ বৎসরেই রুশ দেশের যশস্বী আইজ়ন্স্টাইন ‘ব্যাটেল্শিপ, পোটেম্কিন’-এ চলচ্চিত্রের সম্পাদনরীতিকে বিমূর্ত ভাব ও অর্থদ্যোতনার উদ্দেশ্যে অপূর্বরূপে নিয়োগ করিলেন। ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দে ডেন্মার্কবাসী কার্ল ড্রাইয়র ‘দি প্যাশন অফ জোয়ান অফ আর্ক’ ছবিতে নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রশিল্পের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করিলেন।
নির্বাক যুগে উপরি-উক্ত বিকাশের পরে ১৯২৯-৩০ খ্রীষ্টাব্দে সবাক চলচ্চিত্রের আবির্ভাব হইল। তাহার অল্পকাল পরেই বহুবর্ণ চলচ্চিত্র আত্মপ্রকাশ করে এবং একবর্ণ ও বহুবর্ণ উভয়বিধ চলচ্চিত্রেই আঙ্গিকগত উন্নতির ফলে উহার বাস্তব রূপায়ণক্ষমতা বিশেষভাবে পরিপুষ্ট হইল। দ্বিতীয় যুদ্ধোত্তর কালে পাশ্চাত্ত্য দেশসমূহে গৃহে গৃহে টেলিভিজ়ন যন্ত্রের প্রচলনের পরে চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে বৃহদায়তন প্রেক্ষাপটের ব্যবহার বাড়িয়াছে। থ্রি ডাইমেনশন্যাল অথবা স্টেরিওস্কোপিক চলচ্চিত্রও দেখা দেয়, যদিও আজ পর্যন্ত ইহার বিশেষ প্রসার ঘটে নাই। বৃহদায়তন প্রেক্ষাগৃহে ব্যবহারের জন্য চলচ্চিত্র সাধারণতঃ ৩৫ মিলিমিটার চওড়া ফিতায় ছাপা হয়, কিন্তু অল্পসংখ্যক দর্শকের মধ্যে দেখানোর জন্য ১৬ মিলিমিটারে ছাপা চলচ্চিত্র আজকাল সর্বত্র নির্মিত হইতেছে। ঘরোয়াভাবে ব্যবহারের জন্য ৮ মিলিমিটারের চলচ্চিত্র অনেকেই ব্যবহার করিয়া থাকেন, তবে ইহাতে এখনও পর্যন্ত ধ্বনিসংযোগ করিবার উৎকৃষ্ট উপায় উদ্ভাবিত হয় নাই। নূতন নূতন টেকনিক-এর আবিষ্কার ও প্রয়োগের ফলে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্র অধুনা বহু বিস্তৃত হইয়া পড়িয়াছে এবং ইহা একটি সম্পূর্ণ নূতন ভাষার স্থান গ্রহণ করিয়াছে। এ ভাষাতে গদ্য, কাব্য, সংবাদ-সাহিত্য, বিজ্ঞান-সাহিত্য, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি নানাজাতীয় রচনা সম্ভব। আধুনিক কালের প্রামাণ্য-চিত্র বা দলিল-চিত্র (ডক্যুমেণ্টরি ফিল্ম), সংবাদ-চিত্র (নিউজ রীল), কাহিনী-চিত্র (ফিচর ফিল্ম), শিক্ষামূলক চিত্র (এডুকেশনাল ফিল্ম), বিজ্ঞাপন-চিত্র, সঞ্চালিত-চিত্র (অ্যানিমেটেড ফিল্ম, যাহাতে সম্পূর্ণরূপে অঙ্কিত চিত্রের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র প্রস্তুত হয়), পুতুল-চিত্র (পাপেট ফিল্ম) ইত্যাদির প্রসার দেখিলে তাহা হৃদয়ংগম করা যায়। কাহিনী-চিত্রের মধ্যেও বহু প্রকারভেদ আছে।
চলচ্চিত্র-নির্মাণ অন্যান্য শিল্পকলার অনুপাতে অতিশয় ব্যয়সাপেক্ষ এবং তাহাতে বহুজনের সংঘবদ্ধ শ্রমের প্রয়োজন ঘটে। এই কারণে এবং রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের সাহায্যে নির্মিত জটিল যন্ত্রপাতিকে আশ্রয় করার ফলে চলচ্চিত্র শ্রমশিল্প ও শিল্পকলার দ্বৈত চরিত্র পরিগ্রহণ করিয়াছে। তদুপরি, চলচ্চিত্রের প্রমোদবিতরণ ক্ষমতা অতি ব্যাপক; বিশাল দর্শক-সম্প্রদায়ের নিকট হইতে প্রভূত পরিমাণে অর্থ সংগৃহীত হইতে পারে। আমেরিকান চলচ্চিত্র ‘গন উইথ দ্য উইণ্ড’ হইতে সাড়ে চার কোটি টাকা আয় হইয়াছিল।
নির্মাণ, পরিবেশন ও প্রদর্শন এই তিনটি প্রধান বিভাগে চলচ্চিত্রশিল্প বিভক্ত। নির্মাণ বিভাগের প্রথম সোপান অর্থবিনিয়োগের ব্যবস্থাপনা। ইহাতে প্রযোজকের ভূমিকাই প্রধান, তৎপরে পরিচালক। প্রযোজকের দ্বারা নির্ধারিত অর্থ ও উদ্দেশ্য-গত সীমানার মধ্যে রাখিয়া চলচ্চিত্রটি সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে রূপায়িত করা পরিচালকের কর্তব্য। বিশেষ খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী পরিচালকেরা প্রায়শঃ প্রযোজকের ভূমিকাও অনেকাংশে নিজেরাই গ্রহণ করেন, অথবা সাধারণতঃ যাহা প্রযোজকের সিদ্ধান্তের এলাকা বলিয়া সাব্যস্ত হয় তাহার মধ্যে নিজেদের প্রভাব কাহিনী অথবা নটনটী নির্বাচনের মত ক্ষেত্রেও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। পরিচালকের নির্দেশে ও তাঁহার উদ্দেশ্য অনুযায়ী চলচ্চিত্র-নির্মাণের বিভিন্ন বিভাগের ভার বিভিন্ন আঙ্গিক-কুশলীর উপর ন্যস্ত হয়; যেমন চিত্রনাট্য-রচনা (ক্ষেত্রবিশেষে পরিচালক নিজেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন), চিত্রগ্রহণ, শব্দগ্রহণ, শব্দপুনর্যোজন, পরিস্ফুটন, আবহসংগীত রচনা ইত্যাদি। বিভিন্ন বিভাগের কর্তার অধীনে তাঁহার সহকারীবর্গের স্থান। সুতরাং ক্ষেত্রবিশেষে একটি চলচ্চিত্রের নির্মাণকার্যে নিযুক্ত কর্মীসংখ্যা—বিশেষতঃ যেখানে অধিক-সংখ্যক পাত্রপাত্রী ও চিত্রস্থ স্থান-কালের নানা ভেদাভেদ—যন্ত্রশিল্পের কোনও কারখানার সমান হওয়া বিচিত্র নহে। ফলতঃ পরিচালকের শিল্পীভূমিকার গুরুত্ব যেরূপ, নেতৃভূমিকার গুরুত্ব তদপেক্ষা ন্যূন নহে। পরিচালক যত মহৎ শিল্পীই হউন না কেন, তাঁহার ম্যানেজার-ভূমিকা তিনি কখনই সম্পূর্ণ বর্জন করিতে পারেন না।
চলচ্চিত্র নির্মাণের অপরাংশ, অর্থাৎ পরিবেশন ও প্রদর্শন, সম্পূর্ণভাবে ব্যাবসায়িক কর্ম। প্রযোজকের নিকট হইতে নির্মিত চলচ্চিত্রটির ভার লইয়া পরিবেশক বিভিন্ন স্থানে তাহা দেখানোর ব্যবস্থা করেন। প্রদর্শক, অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহের মালিক, পরিবেশকের সহিত চুক্তিবদ্ধ হইয়া চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। অধিকাংশ দেশে প্রদর্শনের পূর্বে চলচ্চিত্র অনুমোদনের জন্য স্থাপিত বিশেষ একটি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার অনুমতি গ্রহণ আবশ্যক হয়। প্রয়োজনবোধে এই সংস্থা জনকল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া কোনও চলচ্চিত্রের প্রদর্শন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করিতে পারেন, বা তাহার পরিবর্তনসাধনে প্রযোজককে বাধ্য করিতে পারেন।
বলা বাহুল্য যে, উপরি-উক্ত পরিবেশন ও সন্দর্শন-প্রক্রিয়ার অধিকাংশই কাহিনীচিত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রামাণিক চিত্রের পরিবেশনের ভার অনেক সময় সরকার স্বহস্তে গ্রহণ করেন।
বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রের গুণবিচার, আদান-প্রদান, ভাব-বিনিময় ও ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বহু দেশে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পালিত হইয়া থাকে। ইহার মধ্যে ইটালীতে ভেনিস, ফরাসী দেশে ক্যান ও জার্মানিতে বের্লিনের চলচ্চিত্র উৎসব সমধিক প্রসিদ্ধ। বর্তমানকালের চলচ্চিত্রে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহৃত হইলেও চিত্রভাষার ব্যাপক বোধগম্যতার গুণে ইহাতে একটি আন্তর্জাতিকতার ছাপ পড়িয়াছে। তদুপরি অন্য দেশে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্রের বাক্যাংশ চিত্রের নিম্নভাগে লিখিত টীকা অর্থাৎ সাব্টাইটেল অথবা যে দেশে প্রদর্শিতব্য সেই দেশের ভাষায় ভাষান্তরিত (ডাব্ড) করা হয়।
সবাক চলচ্চিত্রের যুগে বহু কৃতী পরিচালকের ছবি পৃথিবীব্যাপী প্রশংসা অর্জন করিয়াছে। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম আমেরিকায় ও ফরাসী দেশে সবাক চলচ্চিত্রের অধিকতম পরিপুষ্টি সাধিত হয়। ফরাসী দেশে রেনোয়ার (Renoir), কার্ন্, (Carne) ও ক্লেয়ার (Clair) তাঁহাদের বহু চলচ্চিত্রের দ্বারা এই শিল্পকে উন্নত করেন, আমেরিকায় জন ফোর্ড (John Ford), লুইস মাইলস্টোন (Lewis Milestone) প্রমুখ চলচ্চিত্রকারের কীর্তি শিল্পমূল্য অর্জন করিয়াছে। যুদ্ধকালীন ইংল্যাণ্ড, যুদ্ধোত্তর ইটালী, তৎপরে সুইডেন, জাপান, পোল্যাণ্ড ও ফরাসী দেশ পুনরায় চলচ্চিত্রশিল্পে বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ব্যাবসায়িক সাফল্য অপেক্ষা শিল্প-মূল্যের স্বীকৃতিতে এই প্রতিষ্ঠা অর্জিত হয়। ভারতের সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’, ‘অপুর সংসার’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র বিশ্বখ্যাতি অর্জন করিয়াছে; সুইডেনের ইঙ্গমার ব্যের্গ্মান্ (Ingmar Bergman); জাপানের মিজ়োগুচি (Mizoguchi), কুরোসাওয়া (Kurosawa), গোশো (Gosho) ও ওজ়ু (১৯০৩-৬৩খ্রী); ইটালীর ভিত্তোরিও দে-সিকা (Vittorio de Sica), রস্সেলিনি (Rosselini), ফেলিনি (Fellini) ও আন্তোনিয়োনি (Antonioni); ফ্রান্সের আলাঁ রনে (Alan Renais), ফ্রাঁসোয়া ত্রুফাঁ (Francois Truffant) ও ঝঁ-ল্যুক গোদার (Jean-Luc Godard); পোল্যাণ্ডের আন্দ্রেই ওয়ায়্দা (Andrej Wajda) প্রমুখ চলচ্চিত্রকার আজ শিল্পী হিসাবে প্রভূত যশের অধিকারী। ইহাদের শিল্পকর্ম এবং চলচ্চিত্রের শিল্প ও সমাজগত প্রভাব বিষয়ে বহু গ্রন্থ ও পত্রিকাদি প্রকাশিত হইয়াছে ও এখনও হইতেছে। ‘চিত্রনাট্য’ দ্র।
দ্র Maurice Bardeche & Robert Brasillach, The History of Motion Pictures, New York, 1938; Roger Manvell, Film, London, 1950; Bela Balaz, Theory of the Film, London, 1952; V. I. Pudovkin. Film Technique and Film Acting, New York, 1954; S. M. Eisenstein, Film Form, Film Sense, New York, 1957.