বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ঋত্বিক্

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. )

ঋত্বিক্ ঋতুতে ঋতুতে অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ সময়ে যাঁহারা যজমানের হইয়া যাগাদি কর্ম নিষ্পন্ন করেন, তাঁহারা ঋত্বিক্‌। প্রাচীন ভারতের বেদপন্থী সমাজে বৈদিক যাগযজ্ঞের অনুষ্ঠান প্রতিটি গৃহস্থের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য তথা জীবনের অঙ্গ ছিল।

 এই সকল যজ্ঞে মন্ত্রজ্ঞ, কর্মজ্ঞ, এক কথায় বেদজ্ঞ একাধিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হইত। ঋত্বিক্‌গণ এই প্রয়োজন মিটাইতেন। ইঁহারা যজমানের আহ্বানে তাঁহার গৃহে আসিয়া নির্দিষ্ট কালে দর্শপূর্ণমাস প্রভৃতি ইষ্টি যজ্ঞ, নিরূঢ়পশুবন্ধ প্রভৃতি পশুযজ্ঞ, অগ্নিষ্টোম প্রভৃতি সোমযজ্ঞ এবং অন্যান্য শ্রুতিবিহিত কর্ম সম্পাদন করিতেন।

 বিদ্যা এবং কর্ম অনুসারে ঋত্বিক্‌দের মোটামুটি চারটি গণ বা শ্রেণী এবং ষোলটি পদ ছিল, যথা—

অধ্বর্ষু, প্রতিপ্রস্থাতা, নেষ্টা, উন্নেতা
হোতা, প্রশাস্তা বা মৈত্রাবরুণ, অচ্ছাবাক্, গ্রাবস্তুৎ
উদ্গাতা, প্রস্তোতা, প্রতিহর্তা, সুব্রহ্মণ্য
ব্রহ্মা, ব্রাহ্মণাচ্ছংসী, আগ্নীধ্র, পোতা

 অধ্বর্য্‌ এবং তাঁহার সহকারীরা যজুর্বেদে পারদর্শী। ইঁহারা যজ্ঞের কাঠামোটি হাতে-কলমে গড়িয়া তুলিতেন। সঙ্গে সঙ্গে যেখানে যেমন প্রয়োজন নিম্নস্বরে যজুর্মন্ত্র পাঠ করিতেন।

 সেই কাঠামোয় বাণীসংযোগ করিতেন হোতা এবং তাঁহার সহকারীবৃন্দ। ইহারা ঋগ্‌বেদে নিষ্ণাত। যজ্ঞে যেখানে যেমন প্রয়োজন—যথা, প্রধান আহুতিগুলির পূর্বে বা শকটে করিয়া সোমবহনের সময়—ইঁহারা উচ্চৈঃস্বরে ঋক্-মন্ত্র পাঠ ও আবৃত্তি করিতেন। আপন গোত্রের ঋষি-কবিদের দোহাই পাড়িয়া অগ্নিকে যজ্ঞস্থলে দেবতাদের লইয়া আসিতে অনুরোধ করা হোতার একটি প্রধান কর্তব্য ছিল।

 কাঠামোয় সুরসংযোগ করিতেন সামবেদ-পারংগম উদ্গাতা এবং তাঁহার সহকারীরা। সোমযজ্ঞে স্তোত্রগান ইঁহাদের বিশেষ কর্তব্য ছিল।

 সমস্ত যজ্ঞটির পরিচালনা ও অধ্যক্ষতা করিতেন সর্ববেদ-কোবিদ ব্রহ্মা। তিনি অনুমতি দিতেন, ত্রুটি হইলে দেখাইয়া দিতেন, শুধরাইবার উপায় না থাকিলে প্রায়শ্চিত্ত করিতেন।

 যজ্ঞ যদি হয় সপত্নীক যজমান কর্তৃক কায়মনোবাক্যে শব্দব্রহ্মানুভূতির আয়োজন, তাহা হইলে অধ্বর্যুগণ সেই কায়, হোতৃগণ এবং উগাতৃগণ বাক্য এবং ব্রহ্মা মন। ‘যজ্ঞ’ দ্র।

দ্র রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, যজ্ঞ-কথা, কলিকাতা, ১৯২০।

গৌরী চৌধুরী