ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/এঞ্জিন
(পৃ. ৩২-৩৩)
এঞ্জিন যে যন্ত্রের সাহায্যে তাপ অথবা শক্তিকে যান্ত্রিক গতিতে রূপান্তরিত করা যায় তাহাকে এঞ্জিন বলে। এঞ্জিন বাষ্প, তৈল, গ্যাস প্রভৃতি দ্বারা চালিত হইয়া থাকে। ইহার ব্যবহারও নানা প্রকারের হয় আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে হীরো নামক এক ব্যক্তি বাষ্পচালিত যে যন্ত্র নির্মাণ করেন তাহাকেই আধুনিক এঞ্জিনের আদি রূপ বলা চলে।
বর্তমান কালে মোটরগাড়িতে, জাহাজে, রেলে বা কারখানায় যে সকল এঞ্জিন ব্যবহৃত হয় তাহাদিগকে মোটামুটি দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: ১. অন্তর্দহন এঞ্জিন ২. বহির্দহন এঞ্জিন।
অন্তর্দহন এঞ্জিন: গ্যাস অথবা তেলের সঙ্গে বাতাসের মিশ্রণে উৎপন্ন দাহ্য পদার্থ এঞ্জিনের সিলিণ্ডারের মধ্যেই জ্বালাইয়া যখন শক্তি উৎপন্ন করা হয় তখন সেই এঞ্জিনকে অন্তর্দহন এঞ্জিন বলে। ডিজেল, পেট্রল ইত্যাদি জ্বালাইয়া এইরূপ এঞ্জিন পরিচালিত হয়।
বহির্দহন এঞ্জিন: এরূপ এঞ্জিনে দহনক্রিয়া সিলিণ্ডারের বাহিরে হইয়া থাকে। উদাহরণ—স্টীম এঞ্জিন, স্টীম টার্বাইন ইত্যাদি। চুল্লির উত্তাপের সাহায্যে বয়লারের জল বাষ্পে পরিণত করিয়া সিলিণ্ডারে তাহা প্রবেশ করাইয়া এঞ্জিন চালিত করা হয়।
জেম্স ওয়াট ১৭৬৯ খ্রীষ্টাব্দে স্টীম এঞ্জিনের পেটেণ্ট গ্রহণ করেন (‘ওয়াট, জেম্স’ দ্র)। বয়লার, ভ্যাল্ব চেস্ট, ডি-ভ্যাল্ব, সিলিণ্ডার, সেফটি ভ্যাল্ব, ফ্লাই হুইল— এগুলি স্টীম এঞ্জিনের অপরিহার্য অংশ।
পেট্রল এঞ্জিনের অতি প্রয়োজনীয় অংশগুলি একটু পৃথক ধরনের। পেট্রল ট্যাঙ্ক, কার্বিউরেটর, সিলিণ্ডার, থ্রট্ল ভ্যাল্ব, চেম্বার, প্লাগ, ম্যাগনেট ইত্যাদি ইহার বিশিষ্ট অঙ্গ। এই এঞ্জিনে কার্বিউরেটরের মধ্যে পেট্রল বাষ্পীভূত হয় এবং বাতাসের সঙ্গে মিশ্রিত হয়। এই মিশ্রণ এঞ্জিনের পুরু দেয়াল -বিশিষ্ট সিলিণ্ডারের মধ্যে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের সাহায্যে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে উদ্ভুত তাপশক্তি গ্যাসীয় বস্তুসমূহকে প্রসারিত করে এবং পিস্টনকে ধাক্কা দেয়। ফলে চাকা ঘোরে।
ডিজেল এঞ্জিনও এক ধরনের অন্তর্দহন এঞ্জিন। ইহার উদ্ভাবক রুডল্ফ ডিজেল (পেটেণ্ট, ১৮৯৩ খ্রী)। এই এঞ্জিনের সঙ্গে পেট্রল এঞ্জিনের প্রধান পার্থক্য এই যে পেট্রল এঞ্জিনে ইন্ধন জ্বালানোর জন্য স্ফুলিঙ্গের প্রয়োজন, কিন্তু এখানে তাহার প্রয়োজন নাই। সিলিণ্ডারের মধ্যে আনীত বাতাস গতিশীল পিস্টনের সাহায্যে প্রবল চাপে সংকুচিত হওয়াতে এত বেশি তাপ উৎপন্ন হয় যে তরল জ্বালানি সেখানে সবেগে স্প্রে আকারে পতিত হইলে তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরিত হয়।
এঞ্জিন পরিচালনার জন্য দাহ্য পদার্থ হইতে যে পরিমাণ শক্তি উৎপাদিত হয় তাহার সবটুকু কাজে পরিণত করা সম্ভব নয়। যে এঞ্জিন অধিক পরিমাণে এইরূপ শক্তিকে কাজে পরিণত করিতে পারে তাহার কার্যক্ষমতা (এফিশিয়েন্সি) অধিক বলিয়া বিবেচিত হয়।
কার্যক্ষমতা ব্যতিরেকেও বিশেষ বিশেষ প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন প্রকারের এঞ্জিন নির্মিত হইয়া থাকে; যথা, এরোপ্লেনের এঞ্জিন, রেল বা জাহাজের এঞ্জিন এবং কলকারখানা ইত্যাদি চালনার জন্য স্থানু এঞ্জিন ইত্যাদি।