বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/এলোরা

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. ৪৯-৫১)

এলোরা পার্শ্ববর্তী এলোরা (এলূরা এবং ওয়েরুল নামেও অভিহিত) গ্রামের নামে পরিচিত এই অনুচ্চ পাহাড়টি মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম জেলা-সদর ঔরঙ্গাবাদের উত্তরউত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় নয় ক্রোশ দূরে অবস্থিত (২০° উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৫° পূর্ব)। রাষ্ট্রকূট নৃপতি দ্বিতীয় কর্কের বরোদা তাম্রলিপিতে (৮১২-১৩ খ্রী) এই পাহাড়সংলগ্ন এলাকাকে এলাপুর বলা হইয়াছে। এলাপুর নামের বিকৃত রূপ বর্তমানে এলোরা। পাহাড়টির বিভিন্ন অংশে ৫০টির বেশি কৃত্রিম গুহা আছে। পাদদেশের মোটামুটি পশ্চিমমুখী গুহাগুলিকে কালক্রমনির্বিশেষে ১ হইতে ৩৪ সংখ্যায় চিহ্নিত করা হইয়াছে। দক্ষিণ প্রাস্ত হইতে আরম্ভ করিলে এই ৩৪টির প্রথম ১২টি বৌদ্ধদের, পরবর্তী ১৭টি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের এবং উত্তর প্রান্তের বাকি ৫টি জৈনদের।

 প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ফলে সম্প্রতি এই অঞ্চলটিতে ছোট পাথরের অস্ত্রশস্ত্র এবং তাম্রপ্রস্তর যুগের প্রত্নবস্তু প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গিয়াছে; সুতরাং প্রাগৈতিহাসিক যুগেও স্থানটিতে যে মানুষের বাস ছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। ২১ নম্বর গুহার সম্মুখে পরিষ্কার করিবার সময় খ্রীষ্টীয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতকের মৃৎপাত্র, অন্যান্য প্রত্নবস্তু ও গুপ্তরাজগণের মুদ্রা পাওয়া গিয়াছে। গুহাখননের সূত্রপাত হয় খ্রীষ্টীয় ৬ষ্ঠ-৭ম শতাব্দীতে—যখন বাদামির চালুক্যরা এই অঞ্চলের অধিরাজ ছিলেন। অধিকাংশ বৌদ্ধ গুহা এবং কয়েকটি ব্রাহ্মণ্য গুহার খননকাল এই আমলের। ধর্মীয় সহনশীলতা ও শাস্তিপূর্ণ সহযোগিতার যে পরিবেশ চালুক্যদের শাসনকালে এ স্থলে প্রবর্তিত হয় তাহা পরবর্তী কালে বিজয়ী রাষ্ট্রকূটরাও অব্যাহত রাখেন; ফলে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য, জৈন—তিন সম্প্রদায়ই দেবায়তনের আকার, অলংকরণ, বিষয়বস্তু, রূপকল্প ও রীতিপ্রকরণে একে অপরকে প্রভাবিত করে। রাষ্ট্রকূটদের রাজত্বপূর্বে ন্যূনপক্ষে দুইটি বৌদ্ধ গুহা (১১ ও ১২ সংখ্যক) এবং ব্রাহ্মণ্য ও জৈন গুহাবলীর বেশ কয়েকটি খনন করা হয়। এই রাজবংশের দুই জন নৃপতি আবার দুইটি ব্রাহ্মণ্য গুহাখননের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৫ সংখ্যক গুহাটি নির্মিত হয় সম্ভবতঃ দস্তিদুর্গের আমলে (৭৫৩-৫৭ খ্রী); কারণ ইহার প্রাঙ্গণস্থ মণ্ডপের গায়ে এই রাজার একটি শিলালিপি রহিয়াছে। ভারতীয় শৈলখাত (রক্-কাট) স্থাপত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, ‘কৈলাস’ নামে পরিচিত: ১৬ সংখ্যক) গুহাটি নৃপতি প্রথম কৃষ্ণের (৭৫৮-৭৩ খ্রী) অবিস্মরণীয় কীর্তি। প্রকৃতপক্ষে ইহা শৈলখাত মন্দির। ক্ষুদ্রতর ‘ছোট কৈলাস’ নামক অসমাপ্ত গুহাটি (১৩ সংখ্যক) ইহারই অনুকরণ। কল্যাণীর চালুক্যরাজ দ্বিতীয় তৈল (৯৭৩-৯৭ থ্রী) কর্তৃক রাষ্ট্রকূটদের উচ্ছেদের পরও বহুদিন যে জৈনরা তাঁহাদের শিল্পকর্ম অব্যাহত রাখেন, তাহার প্রমাণ যাদব রাজবংশের সময়ে পার্শ্বনাথের একটি প্রস্তরমূর্তি। মূর্তিটির আসন-সংলগ্ন শিলালিপিতে (১২৩৫ খ্রী) পাহাড়টির নাম চারণাদ্রি বলা হইয়াছে।

 বৌদ্ধ শৈলখাত স্থাপত্যের শেষ উজ্জ্বল নিদর্শন এলোরার বৌদ্ধ গুহাবলীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে, যাহা অন্যত্র বিরল; ইহাদের আকারও বিশাল। নূতনত্ব সৃষ্টির উন্মাদনায় ক্ল্যাসিক্যাল রীতিসম্মত সংযম বিসর্জন দিয়া শিল্পীগণ জমকালো গুহামালা রচনা করিলেন বটে, তবে অজণ্টার খনক-ভাস্করগণের সামঞ্জস্যময় বিন্যাস ও পরিমিতিবোধ, চিত্রকলা ও স্থাপত্যের সার্থক সমন্বয়মণ্ডিত সূক্ষ্ম সৌন্দর্যবোধের অভাব এখানে পরিলক্ষিত হয়। অধিকাংশ গুহা পূর্বে চিত্রিত ছিল; এখন চিত্র যৎসামান্য বিদ্যমান। শিল্পোৎকর্ষে এইসব চিত্রের মান অজণ্টার অপেক্ষা নিম্ন স্তরের। অজণ্টার তুলনায় এখানে মূর্তিসংখ্যা বহু গুণে বেশি। ঔরঙ্গাবাদের গুহায় মূর্তিপ্রাচুর্যের সূত্রপাত। এখানে সেই প্রাচুর্য দেখা দিল বাধাবন্ধহীনভাবে। মহামায়ূরী প্রমুখ বজ্রযান গোষ্ঠীর দেব-দেবীর সংখ্যাও নিতান্ত কম নয় এখানে। বুদ্ধমন্দিরের দ্বারোপান্তে মহাযানীয় বোধিসত্ত্বের বিরাটকায় মূর্তির পার্শ্বে বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি রহিয়াছে। মহাযানীয়-বজ্রযানীয় বোধিসত্ত্ব আবার সর্ব ক্ষেত্রে বুদ্ধমূর্তিসাপেক্ষ নয়; অনেক ক্ষেত্রে ইহারা স্ব স্ব মহিমায় ভাস্বর। শৈলখাত গুহায় বজ্রযানীয় দেব-দেবীর একান্ত অভাববশতঃ বৌদ্ধ মূর্তি-বিবর্তনের ইতিহাসে এলোরার মূর্তিসমূহের বিলক্ষণ মূল্য রহিয়াছে। মূর্তিগুলি পূর্বে প্রলেপিত ও চিত্রিত ছিল, এখনও কোনও কোনও স্থানে তাহার চিহ্ন পাওয়া যায়।

 বৌদ্ধ গুহাগুলির মধ্যে ৫ম, ১০ম, ১১শ ও ১২শ সংখ্যকগুলি বিশেষ দর্শনীয়। পঞ্চম সংখ্যকটিতে একটি বিশাল আয়তনের মণ্ডপ ও ইহার পশ্চাৎ দিকে বুদ্ধায়তন আছে। মণ্ডপের দুই পার্শ্বে কয়েকটি আবাসিক কক্ষ এবং একটি করিয়া স্তম্ভযুক্ত উপশালা; উপশালার পার্শ্বে আবার কয়েকটি ক্ষুদ্র কক্ষ। মণ্ডপটিতে দুইটি সমান্তরাল নিচু শৈলখাত আসন লক্ষণীয়; সম্ভবতঃ এই আসনগুলি অধ্যয়নকার্যে ব্যবহৃত হইত। একমাত্র কান্‌হেরির দরবারগুহা ব্যতীত কোথাও এইরূপ ব্যবস্থা দেখা যায় না। দশম সংখ্যক চৈত্যগৃহের নাম বিশ্বকর্মা। উহা শৈলখাত চৈত্যগৃহনির্মাণের শেষ প্রচেষ্টা। ইহার পরিকল্পনা যেমন বিশদ, রূপকল্পও তেমনি বহু বিষয়ে অনন্য। চৈত্যগৃহের বহির্ভাগ এমনভাবে রূপান্তরিত হইয়াছে যে বর্তমান রূপ দেখিয়া চৈত্যগৃহের মূল আকার সম্পর্কে ধারণা করা প্রায় দুঃসাধ্য। আভ্যন্তরীণ বিন্যাস মোটামুটিভাবে অজণ্টার শেষ পর্যায়ের চৈত্যগৃহের অনুরূপ। উদ্দেশিক স্তূপটি এখানে বুদ্ধবিগ্রহের প্রেক্ষাপটে পরিণত হইয়াছে। ১১ ও ১২ সংখ্যক গুহাদ্বয়ের পরিকল্পনা অনন্য। উভয়ই প্রশস্ত প্রাঙ্গণযুক্ত ত্রিতল সৌধ। পাথর কাটিয়া এই প্রাঙ্গণ নির্মিত। প্রাঙ্গণের সম্মুখ ভাগে শৈলখাত প্রাচীর এবং প্রাচীরের মধ্য ভাগে প্রবেশদ্বার। বিশাল বহির্ভাগের মিত অনাড়ম্বর ও শোভন সংগতি এই গুহা দুইটির স্বাতন্ত্র্য ব্যক্ত করে। প্রতি তলার সম্মুখ ভাগে স্তম্ভযুক্ত বারান্দা। আভ্যন্তরীণ বিন্যাসে উভয়ের মধ্যে অবশ্য যথেষ্ট পার্থক্য আছে। আবার কোনও দুইটি তলই এক রকম নয়। ইহাদের কয়েকটি বিশেষভাবে বোধিসত্ত্বদের ভাস্কর্যপ্রতিরূপে সমৃদ্ধ।

 ১২ সংখ্যক গুহার প্রায় ৩৭ মিটার উত্তরে ব্রাহ্মণ্য গুহাবলীর আরম্ভ। প্রথম দিকে ইহাদের স্রষ্টারা বৌদ্ধদের বিন্যাসরীতি কতকাংশে অনুকরণ করেন। ক্রমশঃ সম্পূর্ণরূপে তাঁহাদের প্রভাবমুক্ত হইয়া ইহারা নিজস্ব রীতি উদ্ভাবন করেন এবং তাহার চরম সার্থক পরিণতি, শিবের যোগ্য আবাস, অনবদ্য কৈলাসে। ভারতের শৈলখাত মন্দিরের মধ্যে বৃহত্তম ও সর্বাপেক্ষা আড়ম্বরপূর্ণ এই কৈলাসের অবয়ব গুহার মত নয়; ইহা প্রস্তর-ইষ্টকাদি উপাদানে নির্মিত মন্দিরের রূপাদর্শে গঠিত।

 ব্রাহ্মণ্য গুহার মধ্যে রাবণ-কা-খাই (১৪ সংখ্যক গুহা), দশাবতার (১৫ সংখ্যক), রামেশ্বর (২১ সংখ্যক), ধূমার-লেনা (২৯ সংখ্যক) এবং সর্বোপরি কৈলাস, গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমোক্ত গুহাটির সামনের অংশ ১৬টি স্তম্ভের একটি সমাবেশশালা এবং পিছনের অংশ প্রদক্ষিণপথবেষ্টিত গর্ভগৃহ। সমাবেশশালার উত্তর ও দক্ষিণ গাত্রে শৈব, শাক্ত ও বৈষ্ণব দেব-দেবীদের খোদাই করা সুন্দর সুন্দর উদ্গত মূর্তি; আর প্রদক্ষিণপথের দক্ষিণ প্রাচীরগাত্রে বীরভদ্র ও গণেশ সহ সপ্তমাতৃকার মূর্তি। দশাবতার গুহাটি দ্বিতল। প্রাঙ্গণের সম্মুখে তোরণযুক্ত প্রাচীর। প্রাঙ্গণের মধ্য ভাগে একটি শৈলখাত স্বতন্ত্র মণ্ডপ, পার্শ্বদেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেবায়তন এবং একটি জলাধার। গুহার নিম্ন তল চতুর্দশ স্তম্ভের একটি সমাবেশশালা ও চারিটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। দ্বিতলের সমাবেশশালাটি বিশাল আয়তনের; ইহার পশ্চাদভাগে একটি উপপ্রকোষ্ঠ এবং তাহার পশ্চাতে গর্ভগৃহ। সমাবেশশালার দেওয়ালের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠে শৈব ও বৈষ্ণব গোষ্ঠীর দেবতাদের সুঠাম বলিষ্ঠ মূর্তি। বৈষ্ণব প্রতিমার মধ্যে বিষ্ণুর কয়েকটি অবতারের মূর্তিও রহিয়াছে। রামেশ্বরে একটি লম্বা বারান্দার ন্যায় মণ্ডপ; মণ্ডপের দুই পার্শ্বে একটি করিয়া আনুষঙ্গিক দেবায়তন এবং পশ্চাদ্‌ভাগে প্রদক্ষিণপথপরিবেষ্টিত গর্ভগৃহ। এই গুহাপ্রাঙ্গণের কেন্দ্রে শিবের বাহন নন্দীর জন্য একটি স্বতন্ত্র মণ্ডপ ও প্রাঙ্গণপার্শ্বে একটি ক্ষুদ্রাকার দেবায়তন। রামেশ্বরের স্তম্ভগুলি রূপকল্পের সৌষ্ঠব এবং চারুকলার কারুকার্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ধূমার-লেনা ক্রুশের আকার বিশিষ্ট স্তম্ভসংবলিত একটি বিরাট সমাবেশশালা: ইহার প্রবেশদ্বার তিনটি; প্রত্যেকটির পুরোভাগে একটি অঙ্গন। সমাবেশশালার পিছনে মন্দির; মন্দিরের চারিটি প্রবেশদ্বারের উভয় প্রান্তে দীর্ঘকায় দ্বারপাল মূর্তি।

 এলোরার শ্রেষ্ঠ শিল্পকৃতি কৈলাসের স্থানীয় নাম রঙমহল; মন্দিরগাত্রের রঙিন চিত্রাবলীর (অধুনা বহুলাংশে লুপ্ত) জন্য এই খ্যাতি। মন্দিরটি শৈলখাত প্রাঙ্গণের মধ্যে অবস্থিত। একটি দ্বিতল প্রবেশিকার মধ্য দিয়া প্রাঙ্গণে যাইতে হয়। এই প্রবেশিকা পরবর্তী কালের গোপুরমের অগ্রদূত। প্রাঙ্গণের পশ্চাতের অবশিষ্টাংশ অলিন্দবেষ্টিত। অলিন্দটির পশ্চাদভাগের দেওয়াল উপস্তম্ভদ্বারা বিভক্ত; প্রতি ভাগে ক্ষোদিত করা দেব-দেবীর অনবদ্য মূর্তি। বিমান এবং স্তম্ভ-যুক্ত মণ্ডপ লইয়া মূল মন্দিরটি একটি সু-উচ্চ মঞ্চের উপর প্রতিষ্ঠিত। মঞ্চগাত্রের তলদেশ ও উপরিভাগ ডৌলকর্মে অলংকৃত। মধ্যদেশে হস্তী ও সিংহের সারি; দেখিলে মনে হয় যেন এই সকল শক্তিশালী জন্তু মন্দিরটির গুরুভার বহন করিতেছে। মঞ্চে উঠিবার দুইটি সোপান। আরোহণের পর প্রথমে মণ্ডপ; মণ্ডপে প্রাচীন চিত্রাবলীর অবশেষ পাওয়া যায়। মণ্ডপ হইতে একটি উপপ্রকোষ্ঠের মধ্য দিয়া গর্ভগৃহে প্রবেশ করিতে হয়। বিমানের গাত্রদেশ চারিতলা এবং শিরোপরি একটি স্তুপিকা। বিমানের তিন পার্শ্বে উহার অনুকরণে পাঁচটি ক্ষুদ্রাকার দেবায়তন। মঞ্চের সম্মুখে একটি নন্দীমণ্ডপ বিদ্যমান। মণ্ডপটির দুই পার্শ্বে আবার প্রায় ১৫ মিটার উচ্চ ধ্বজস্তম্ভ।

 জৈন গুহার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্য ইন্দ্রসভা, জগন্নাথসভা এবং ছোট কৈলাস। শেষোক্তটি ব্রাহ্মণ্য কৈলাসের ক্ষুদ্রতর সংস্করণ। ভাস্কর্য প্রাচুর্যে প্রসিদ্ধ ইন্দ্রসভার প্রাঙ্গণস্থ শৈলখাত মন্দিরটি প্রাঙ্গণ-প্রবেশিকা ও কৈলাসের অনুরূপ স্থাপত্যশৈলী অনুসারে—মূলতঃ দ্রাবিড়ীয়—নির্মিত। অঙ্গনের পশ্চাতের গুহাটি দ্বিতল। মোটামুটিভাবে দুইটি তলেই একটি করিয়া স্তম্ভযুক্ত সমাবেশশালা এবং তাহার পশ্চাতে মহাবীরের বিগ্রহসহ গর্ভগৃহ; সমাবেশশালার পার্শ্বদেশে প্রকোষ্ঠ অথবা কুলুঙ্গির সারি। এতদ্ব্যতীত ক্ষুদ্রাকার দেবায়নও আছে। জগন্নাথসভাও দ্বিতল। ইহার নিম্নতলে বিন্যাসে অসমঞ্জস তিন প্রস্থ দেবায়তন। উপরতলার সমাবেশশালাটি ইন্দ্রসভার অনুরূপ।

 এলোরা গ্রামে রানী অহল্যাবাঈ নির্মিত শিবমন্দির আছে, নাম ঘৃষ্ণেশ্বর। স্বষ্ণেশ্বর দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম।

দ্র J. Fergusson & J. Burgess, The Cave Temples of India, London, 1880; J. Burgess, Report on the Elura Cave Temples and the Brahmanical and Jaina Caves in Western India, Archaeological Survey of India, vol. V, London, 1883; J. Burgess, A Guide to Elura Cave Temples, Reprinted by the Archaeological Department, H. E. H. The Nizam’s Government.

দেবলা মিত্র