বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওংকার

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. ৮০)

ওংকার ‘ওম্’ ধ্বনির প্রাচীন অর্থ ‘তথাস্তু’। তবে ব্রাহ্মণ গ্রন্থে ওংকারের ঔপনিষদিক অর্থেরও সূচনা হইয়াছিল। ‘প্রজাপতি সংকল্প করিলেন। তখন তিনটি বর্ণ উৎপন্ন হইল—অ-কার, উ-কার ও ম-কার। তিনি তিন বর্ণকে এক করিলেন, তাহাতে “ওম্‌” হইল’: ইহা ঐতরেয় ব্রাহ্মণের (৫.৩২) উক্তি। কালে কালে ওংকারের উৎপত্তি-কথা আরও প্রপঞ্চিত হইয়াছে। ‘প্রজাপতি তিন বেদ হইতে ওংকারের তিন অংশ—অ উ ম দোহন করিয়াছিলেন’ (মনু ২.৭৬)। এই তিন অংশে বিষ্ণু শিব ও ব্রহ্মা অধিষ্ঠিত আছেন (মহানির্বাণতন্ত্র ৩.৩২)। ‘ওম্’ এই একটি অক্ষর উচ্চারণ করিলে সমগ্র বেদপাঠের ফল লাভ হয়। অক্ষরটি পরম কল্যাণকর। সমস্ত কার্যের প্রারম্ভে ও অন্তে এই মাঙ্গলিক অক্ষর উচ্চারণ করিতে হয়। ওংকাররহিত মন্ত্রপাঠ ও ধর্মক্রিয়া নিষ্ফল হইয়া যায় (মনু ২.৪৫)।

 ওংকারের এক নাম ‘প্রণব’, তন্ত্রোক্ত সংজ্ঞা ‘তার’। স্কন্দপুরাণের প্রণবকল্পপ্রকরণে ভংকারের সহস্রনাম উল্লিখিত আছে। সেখানে ‘প্রণবঃ সর্বদেবতাঃ’। পাতঞ্জলযোগসূত্রে (১.২৩.২৪) প্রণব জপের বিধান পাওয়া যায়। প্রণব ঈশ্বরের বাচক। ছান্দোগ্য উপনিষদে (১.১.১) ওংকারোপা-সনার নির্দেশ আছে। দেবতার প্রতীকরূপে একাক্ষর বীজমন্ত্রের তান্ত্রিক সাধনপদ্ধতি প্রাচীন ওংকারোপাসনার ব্যাপক পরিণতি বলিয়া মনে হয়।

 গোপথব্রাহ্মণ, ঋক্‌প্রাতিশাখ্য ও তৈত্তিরীয় প্রাতিশাখ্যে ওংকারের বর্ণবিশ্লেষণ ও উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সবিশেষ আলোচনা পাওয়া যায়। উর্ধ্ব বিন্দুসহ অক্ষরটিকে সার্ধত্রিমাত্ররূপে উচ্চারণ করিতে হইবে—ইহাই বহুসম্মত সিদ্ধান্ত।

দুর্গামোহন ভট্টাচার্য