বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওড়িশী

উইকিসংকলন থেকে

ওড়িশী ওড়িশার দেবমন্দিরসমূহে প্রাচীনকাল হইতে দেবার্চনার অঙ্গ হিসাবে প্রচলিত মাহারী (দেবদাসী) এবং গোটিপু (নট-বালক)-দের নৃত্যরীতির পুনরুজ্জীবিত ও পরিমার্জিত রূপ। ওড়িশী একক নৃত্য। ইহাতে ভারতনাট্যম-এর মত পারম্পর্যক্রমে বিভিন্ন নৃত্যরূপের সমবায়ে গঠিত নৃত্যের একটি পূর্ণ পর্যায় পরিবেশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানে এক ঘণ্টার বেশি সময় প্রয়োজন হয় না। এই নৃত্যপর্যায়ের মধ্যে কয়েকটি প্রধান অংশ—নমস্কার, বটুনৃত্য, নর্তন, সাভিনয় নৃত্য, পল্লবী, পরিজা এবং নটঙ্গী। মাঙ্গলিক নৃত্য নমস্কারের পর ষোলটি বোল আশ্রিত প্রথম অংশ দেবমহিমা জ্ঞাপক ‘বটু’ অনুষ্ঠিত হয়। ‘নর্তন’ অংশে দেখা যায় স্থাপত্যের অনুরূপ দেহভঙ্গি। ‘সাভিনয় নৃত্য’ অংশে ভাবাভিনয়ের সাহায্যে মূল সংগীতের ভাব ও রাগরূপ পরিস্ফুট করা হয়। ‘পল্লবী’ অংশে নৃত্য অর্থাৎ তাল-লয়-আশ্রিত শুদ্ধ দেহভঙ্গির প্রাধান্ত। ভাবাভিনয় ও নৃত্য-সহযোগে মূল সংগীতটিকে রূপায়িত করা হয় ‘পরিজা’ অংশে। নটঙ্গী উল্লাসময় সমাপ্তি নৃত্য। এই নৃত্যরূপ মূলতঃ নাট্যশাস্ত্রের সূত্রের ভিত্তিতে গঠিত এবং অত্যন্ত পরিস্টলিত। ভাবাভিনয় এবং নৃত্যাংশে ওড়িশীর সহিত ভরতনাটামের বহু সাদৃপ্ত থাকিলেও ইহার প্রকাশভঙ্গি অধিকতর গীতিমূর্ছনাময় এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ইহাতে এমন বহু দেহভঙ্গি প্রযুক্ত হয় যাহার ব্যবহার ভারতের অন্যায়া ধ্রুপদি নৃত্যে দেখা যায় না। অবশ্য ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমাই ওড়িশীর প্রধান দেহভঙ্গি। গোটিপুঅদের নাচে কঠিন ব্যায়ামের অনুরূপ এমন বহু দেহভঙ্গি প্রযুক্ত হয় যাহা দক্ষিণ ভারতের চিদম্বরম্ মন্দিরের নুতাপর মূর্তিতে রূপবন্ধ-করণ ও অঙ্গহার-এর দৃষ্টান্তগুলির কথা মনে করাইয়া দেয়। ‘ওড়িশী নৃত্যের কোনও কোনও অংশে শুধুমাত্র বোল উচ্চারিত হয়, অন্ত্যত্র পদ আবৃত্তি বা গান করা হয়। নৃত্যের সহিত যে গান গাওয়া হয় তাহারও নাম ‘ওড়িশী’। সংস্কৃত বা ওড়িয়া ভাষায় লিখিত গানগুলির অধিকাংশই প্রাচীন কবিদের রচনা এবং রাধা-কৃষ্ণপ্রেম ইহার প্রধান বিষয়। জয়দেবের গীতগোবিন্দও প্রাচীন কাল হইতে ওড়িশী নৃত্যের সংগীতাংশে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে। অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে প্রধান মারদল (পাখোয়াজ), গিনি (মন্দিরা) এবং বাঁশি।

দ্র Indrani Rahaman, ‘Orissi, the Ancient Classical Dance of Orissa’, Quest, Oct.-Dec., 1958.