বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওয়াই. এম. সি. এ.

উইকিসংকলন থেকে

ওয়াই. এম. সি. এ. ইয়ং মেন্‌স ক্রিস্টিয়ান অ্যাসোসিয়েশন। এই আন্তর্জাতিক যুবসংঘ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় লণ্ডন শহরে ১৮৪৪ খ্রীষ্টাব্দের জুন মাসে। জর্জ উইলিয়াম্‌স নামক একজন বাইশ বৎসর বয়স্ক যুবকের উৎসাহ ও উদ্যোগেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এই আন্দোলন ঊনআশিটি দেশে পরিব্যাপ্ত। ইহার শাখা-কেন্দ্র দশ হাজার (তাহার মধ্যে ষাটটি কেন্দ্র আছে ভারতবর্ষ, পাকিস্তান, ব্রহ্ম দেশ ও সিংহলে)। মোট চল্লিশ লক্ষের অধিক তরুণ ও তরুণী এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য।

 ভারতবর্ষে অবস্থিত অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা সাতষট্টি—তাহার মধ্যে রহিয়াছে ব্যায়াম ও শরীরচর্চার একটি কলেজ, একটি গ্রামোন্নয়ন কেন্দ্র, একটি পুস্তক-প্রকাশনা ভবন। এতব্যতীত লণ্ডনে একটি ভারতীয় ছাত্রাবাসও আছে। ভারতবর্ষে ওয়াই. এম. সি. এ.-র গোড়াপত্তন হয় কলিকাতায় (১৮৫৭ স্ত্রী)। জাতীয় প্রধান কার্যালয় নয়া দিল্লীতে। সমস্ত বিশ্বের প্রধান কেন্দ্র সুইট্‌জারল্যাণ্ডের জেনেভা নগরে অবস্থিত।

 প্রতিষ্ঠাকালে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল খ্রীষ্টের প্রতি সাধারণের শ্রদ্ধাসঞ্চার। কিন্তু পরবর্তী কালে বিবিধ গঠনমূলক কার্যের মধ্য দিয়া দেহ-মন ও আত্মার পূর্ণ বিকাশই ইহার লক্ষ্য হইয়াছে। ওয়াই. এম. সি. এ.-র প্রতীকচিহ্ন সমবাহু ত্রিভুজ—শারীরিক-মানসিক-আধ্যাত্মিক বিকাশের এইরূপ সম্মিতিই ইহার অভীষ্ট।

 কলিকাতায় অবস্থিত ওয়াই, এম. সি. এ.-র পাঁচটি শাখারই নিজস্ব বাড়ি আছে। প্রতিটি শাখাই হস্টেল-সংযুক্ত। কলিকাতা ময়দানে নিজস্ব মাঠ ও তাঁবু রহিয়াছে। গোলদিঘিতে সন্তরণশিক্ষার জন্ম বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা ওয়াই. এম. সি. এ.-র শতবার্ষিক উৎসব পালিত হয়।

হিমাদ্রিশেখর রায়চৌধুরী