ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওয়েলেসলি, রিচার্ড কলি, মার্কুইস
(পৃ. ১১১-১১২)
ওয়েলেসলি, রিচার্ড কলি, মার্কুইস (১৭৬০-১৮৪২ স্ত্রী) ১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে এপ্রিল মাসে ওয়েলেসলি, আর্ল অফ মর্নিংটন, গভর্নর জেনারেল হইয়া এদেশে আসেন। তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল দুইটি: ভারতবর্ষে ফরাসী প্রাধান্য লোপ করা এবং ভারতীয় স্বাধীন নৃপতিগণকে সামন্ত নৃপতিতে পরিণত করিয়া ব্রিটিশ আধিপত্য সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই উদ্দেশ্য কার্যে পরিণত করিবার জন্য তিনি অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি (পলিসি অফ সাবসিডিয়ারি অ্যালায়েন্স) ও সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ নীতি (ফরোয়ার্ড পলিসি) অবলম্বন করেন। বৃহত্তর রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি এবং ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ নীতি প্রয়োগ করা হয়।
হায়দরাবাদের নিজামই সর্ব প্রথম ইংরেজের সহিত অধীনতামূলক মিত্রতা স্থাপন করিতে স্বীকৃত হইয়া ইংরেজ শক্তির আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে রাজ্যের একাংশ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্যয় নির্বাহের জন্য ছাড়িয়া দেন। কিন্তু মহীশূরের টিপু সুলতান ইংরেজের সহিত অধীনতামূলক মিত্রতা বন্ধনে আবদ্ধ হইতে রাজি না হওয়ায় ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ বাধে। যুদ্ধে টিপুর মৃত্যু হইলে মহীশূর রাজ্য তিন ভাগে বিভক্ত হয়। এক অংশ ইংরেজের অধীনে আসিল, এক অংশ নিজামকে দেওয়া হইল এবং অবশিষ্টাংশে মহীশূরের প্রাচীন হিন্দু রাজবংশের এক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করা হইল। ১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে বেসিনের সন্ধি অনুসারে পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাও ইংরেজের সহিত অধীনতামূলক মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধে পরাজিত হইয়া ভোঁসলা দেওগাঁওয়ের সন্ধির শর্ত অনুযায়ী এবং সিন্ধিয়া সুরজি-অর্জুনগাওয়ের সন্ধি অনুসারে ইংরেজের সহিত অধীনতামূলক মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হইলেন।
ওয়েলেসলি তাঁহার সম্প্রসারণ নীতি প্রয়োগেও সফল হইয়াছিলেন। ১৭৯৯ খ্রীষ্টাব্দে তিনি তঞ্জাবুর (তাঞ্জোর) -এর রাজা এবং সুরাতের নবাবকে বৃত্তিদান করিয়া সিংহাসন হইতে অপসারিত করিলেন; ১৮০১ খ্রীষ্টাব্দে কর্ণাটের নবাবের রাজ্যও গ্রাস করিলেন; অযোধ্যার নবাবকে গঙ্গা-যমুনার দোয়াব, রোহিলখণ্ড এবং গোরখপুর প্রভৃতি প্রদেশ ব্রিটিশকে দিতে বাধ্য করিলেন।
নাপোলেঅঁর ভারত আক্রমণের সম্ভাবনায় তিনি ব্রহ্ম দেশ, পারস্য ও আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশগুলির সহিত কুটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
আভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায়ও ওয়েলেসলি দৃষ্টি দিয়াছিলেন। তাঁহার সময় সদর দেওয়ানি ও সদর নিজামত আদালতের সংস্কার সাধন করা হইয়াছিল। গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন দেওয়ার কুপ্রথা তিনি রহিত করেন। তাঁহার চেষ্টাতেই ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপিত হয়।