বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওলাইচণ্ডী

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. ১১৪-১১৫)

ওলাইচণ্ডী ওলাউঠা বা বিসূচিকা রোগের অধিষ্ঠাত্রী লৌকিক দেবী।

 ওলাইচণ্ডীর মূর্তি সুশ্রী, পৌরাণিক দেবীদিগের অনুরূপ। উন্নত জনপদে বা শহরে বর্ণ-ব্রাহ্মণেরা শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মঙ্গলচণ্ডী বা জয়চণ্ডীর ধ্যানমন্ত্রে এই দেবীর পূজা করেন, কিন্তু বহু পল্লীতে ব্রাহ্মণেতর ব্যক্তিও পুজায় পৌরোহিত্য করেন। শনি ও মঙ্গল বার ওলাইচণ্ডীর পূজার প্রশস্ত দিন। এই দিনের পূজাকে বারের পূজা বলা হয়। পল্লীতে বিসূচিকা রোগ মহামারী রূপে প্রাদুর্ভূত হইলে ইহার সাড়ম্বর বিশেষ পূজা হয়। গ্রামের মোড়ল বা প্রধান ব্যক্তির নায়কত্বে ও সাধারণের সাহায্যে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার ব্যয় নির্বাহের জন্য ‘মাঙন’ বা ‘মাঙ্গন’ (অর্থাৎ সকল পল্লীবাসীর নিকট হইতে পূজার্থে অর্থ, চাউল, ফল-মূল ইত্যাদি ভিক্ষার দ্বারা সংগ্রহ) করা হয়। এই সময় ভক্তদিগের কেহ কেহ দেবীর ক্ষুদ্রাকৃতি মূর্তি গঠন করিয়া উহা থানে বা মন্দিরে স্থাপন করেন, ঐ ক্ষুদ্রমূর্তিকে ‘ছলন’ বা ‘সলন’ বলা হয়। বিশেষ পূজার আরম্ভ হইতে শেষ পর্যন্ত মোড়ল বা দলপতি থানে বা দেবীর পূজামণ্ডপে ‘হত্যা’ দিয়া পড়িয়া থাকেন। এই পুজায় ছাগবলি দিবার প্রথা আছে।  কোনও কোনও পল্লীতে ওলাইচণ্ডী ‘ওলাবিবি’ বা ‘বিবিমা’ নামে পরিচিত। এইরূপ স্থলে মুসলমান ফকিররাই থানে বা আস্তানায় পূজা-অর্চনার ব্যবস্থাদি করেন।

গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু