ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ওল্ডহ্যাম, রিচার্ড ডিক্সন
(পৃ. ১১৬-১১৭)
ওল্ডহ্যাম, রিচার্ড ডিক্সন (১৮৫৮-১৯৩৬ খ্রী) কৃতী ভূতত্ত্ববিদ। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁহার পিতা টমাস ওল্ডহ্যাম ছিলেন উক্ত সর্বেক্ষণের প্রথম অধিকর্তা। ভারতের বহু অঞ্চলে তিনি দক্ষতার সহিত ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানকার্য চালান। ১৮৯৭ খ্রীষ্টাদের আসাম-বিধ্বংসী ভূমিকম্প সম্পর্কে তাঁহার মৌলিক ও চিন্তা-সমৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ‘গ্রেট আর্থকোয়েক অফ টুয়েল্ফ্থ জুন এইটিন নাইটি সেভেন’ (১৯০০ খ্রী) একটি প্রামাণিক কাজ। তিনি ভূকম্পনতত্ত্বের কয়েকটি মৌলিক তথ্যের আবিষ্কর্তা। তিনিই প্রথম (১৯০০ খ্রী) প্রমাণ করেন যে তিন ধরনের ভূকম্পন তরঙ্গ বিভিন্ন বেগে ও বিভিন্ন পথে সঞ্চারিত হয় এবং পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের ভৌত গুণ বহিরংশের ভৌত গুণ হইতে পৃথক। তাঁহার হিসাবমত কেন্দ্রস্থ ঐ অঞ্চলের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ। রিচার্ড ওল্ডহ্যাম প্রণীত ভারতীয় ভূবিদ্যাবিষয়ক গ্রন্থ ‘ম্যানুয়াল অফ দি জিওলজি অফ ইণ্ডিয়া’ (২য় সংস্করণ, ১৮৯৩ খ্রী) বহুদিন পর্যন্ত একটি প্রামাণিক রচনা হিসাবে সমাদৃত হইয়াছিল।
তাঁহার অন্যান্য রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘বিবলিওগ্রাফি অফ ইণ্ডিয়ান জিওলজি’ (১৮৮৮ খ্রী)। জিওলজি সোসাইটি (লণ্ডন) তাঁহাকে ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে লায়াল মেডেলে ভূষিত করেন। ১৯২০-১ খ্রীষ্টাব্দে তিনি এই সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। ইহা ভিন্ন তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (১৯১১ খ্রী), রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির ফেলো, ইম্পিরিয়াল কলেজ অফ সায়ান্স-এর অনারারি ফেলো এবং ইন্স্টিটিউট অফ মাইনিং অ্যাণ্ড মেটালার্জির সদস্য ছিলেন। মৃত্যু ১৫ জুলাই ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দ।
দ্র A. M. Heron, ‘Richard Dixon Oldham’, Records of the Geological Survey of India, vol. LXI, part 4, 1937.
অজিতকুমার সাহা