বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ঔৎসুক্য

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. ১২৩)

ঔৎসুক্য শব্দটি মনোবিদ্যায় কার্যক্রম (ফাংশন) এবং গঠন (স্ট্রাক্‌চার) অনুসারে দুইটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূল্যবান মনে করি এমন কোনও বস্তু বা কর্মের প্রতি আমরা যে মনোযোগ দিই তাহার অনুভূতিকে কার্যক্রমের দিক হইতে ঔৎসুক্য বলা হয়। চারিত্রিক গঠনের সহজাত কিংবা অভিজ্ঞতালব্ধ যে উপাদানের জন্য আমরা কোনও বস্তু বা কর্মকে মূল্যবান মনে করি এবং উহার প্রতি মনোযোগ দিই, ঔৎসুক্য বলিতে তাহাও বুঝানো হয়।

 ঔৎসুক্য অনুসারে মানুষের মূল্যায়নমূলক মনোভাবকে ছয় শ্রেণীতে বিভক্ত করা হইয়াছে: তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক, সৌন্দর্যতাত্ত্বিক, সামাজিক, রাষ্ট্রনৈতিক এবং ধর্মীয়।

 ঔৎসুক্যের গুরুত্ব গভীর। সামর্থ্য ও লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা যে কোনও কোনও কর্মে অসফল হই তাহার অন্যতম মনস্তাত্ত্বিক কারণ ঔৎসুক্যের অভাব। শৈশবে ও প্রথম যৌবনে পেশাগত ঔৎসুক্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থির থাকে। সাধারণতঃ দেখা যায় পঁচিশ বৎসরের পরে পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়ের প্রতি মানুষের উৎসুক্য ও ঔদাসীন্যের তীব্রতা ক্রমাগত কমিতে থাকে। ঔৎসুক্য দুই রকম—সাধারণ ও বিশেষ। আধুনিক শিক্ষা-মনোবিদ্যা অনুসারে শিশুর শিক্ষাক্রম নির্ধারিত হওয়া উচিত শিশুর সহজাত ঔৎসুক্য অনুযায়ী।

 আজকাল শিক্ষা, প্রচার প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রে ঔৎসুক্য সম্বন্ধে সমাজ-মনস্তত্ত্ববিদ্‌রা নানা গবেষণা করিতেছেন।

দ্র E. G. Boring, H. S. Langfels, H. P. Weld etc., Psychology, New York, 1949.