বিষয়বস্তুতে চলুন

ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/কইমাছ

উইকিসংকলন থেকে
একাধিক লেখক সম্পাদিত
(পৃ. ১২৮-১২৯)
কইমাছ আকান্থোপ্তেরিগী বর্গের (Order-Acantho pterygii) অন্তর্ভুক্ত লাবিরিম্বিসী গোত্রের (Family-Labyrinthici) মাছ। ভারতবর্ষে প্রধানতঃ দুইটি প্রজাতির কইমাছ পাওয়া যায়—আনাবাস স্কান্‌দেন্‌স (Anabas scandens) ও আনাবাস তেস্‌তুদিনিয়ম (Anabas testudineus)।

 কইমাছ মিষ্ট জলের মাছ; ইহারা সাধারণতঃ জলজ উদ্ভিদপূর্ণ, অগভীর ও বদ্ধ জলাশয়ে বাস করে। মশার বাচ্চা, কীট-পতঙ্গ, শ্যাওলা ইত্যাদি ইহাদের খাদ্য। বর্ষাকাল ইহাদের ডিম পাড়িবার সময়। প্রবল বর্ষণের পর জলধারা যখন উচ্চ স্থান হইতে নিম্নে গড়াইয়া পড়িতে থাকে, তখন সেই ধারা অনুসরণ করিয়া নূতন জলাশয়ের সন্ধানে ইহারা কখনও কখনও ডাঙায় উঠিয়া পড়ে ও কাত হইয়া কান্‌কোর সাহায্যে ডাঙার উপর দিয়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া থাকে। এমন কি, সময়ে সময়ে কান্‌কোর সাহায্যে হেলানো গাছের গুঁড়ির উপরেও উঠিয়া পড়ে। কইমাছের জীবনীশক্তি প্রচুর। কর্দমাক্ত ঘোলা জলে কোনও খাদ্য গ্রহণ না করিয়াও ইহারা বহু দিন বাঁচিয়া থাকে।

 কইমাছ সাধারণতঃ ১০-১২ সেণ্টিমিটার (৪-৫ ইঞ্চি) লম্বা হয়। ইহাদের সর্ব শরীর ছোট ছোট শক্ত আঁশে ঢাকা; পিঠের দিক সবুজাভ কাল্‌চে রঙের, পেটের দিক হরিদ্রাভ। কইমাছের লেজের পাখনা গোলাকার, রুই-কাতলার লেজের পাখনার মত দ্বিখণ্ডিত নহে। মাথার নিকট হইতে প্রায় লেজ পর্যন্ত পিঠের উপর এবং পেটের নীচে পিছনের দিকে একটানা লম্বা পাখনা আছে; এই উভয় পাখনারই শেষের দিকটা দেখিতে লেজের পাখনার মত এবং এই পাখনা দুইটির শক্ত ও সূক্ষ্মাগ্র কাঁটাগুলি ইহারা ইচ্ছামত খাড়া করিতে বা পিছনের দিকে মুড়িয়া রাখিতে পারে।

 মাথার সামনের দিকে নাকের ছিদ্র দুইটি পরিষ্কার দেখা যায়। ইহাদের মুখের সামনে ছোট ছোট কতকগুলি ধারালো দাঁত আছে। উপরের ঠোঁটের বাহিরের দিকে দুই পাশে সূক্ষ্মাগ্র বঁড়শির মত বাঁকানো দুইটি কাঁটা থাকে। উত্তেজিত হইলেই ইহারা কাটা দুইটিকে প্রসারিত করিয়া শত্রুর গায়ে ফুটাইয়া দেয়। অধিকাংশ মাছের মতই কইমাছও ডাঙায় উঠিলে দেখিতে পায় না।

 কইমাছ কান্‌কো দুইটিকে ইচ্ছামত খুলিতে বা বন্ধ করিয়া রাখিতে পারে। কান্‌কোর ধারে কতকগুলি ধারালো কাঁটা থাকে। কান্‌কোটি তুলিলেই তাহার নীচে চিরুনির মত লাল রঙের ফুল্‌কা দেখা যায়; এই ফুল্‌কার সাহায্যেই কইমাছ জলের নীচে শ্বাসকার্য চালায়। কিন্তু বাহিরের বাতাসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালাইবার জন্য ইহাদের মস্তকের উভয় পার্শ্বে ফুল্‌কার উপরের দিকে লাল রঙের ক্ষুদ্র পুষ্পগুচ্ছের মত আকৃতির অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকে; এই অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে বলিয়াই কইমাছ জলের বাহিরে বেশ কিছুক্ষণ বাঁচিয়া থাকিতে পারে।

দ্র F. Day, The Fauna of British India, including Ceylon and Burma: Fishes, vol. II, London, 1889.

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য