ভারতকোষ (দ্বিতীয় খণ্ড)/ককুৎস্থ
(পৃ. ১৩৮)
ককুৎস্থ সূর্যবংশীয় স্বনামখ্যাত নৃপতি। তাঁহার নামানুসারে তাঁহার বংশধরেরা (যথা, রামচন্দ্র) কাকুৎস্থ নামে পরিচিত।
ইনি মনুর প্রপৌত্র, ইক্ষ্বাকুর পৌত্র, বিকুক্ষির পুত্র (হরিবংশ, ১১; বিষ্ণুপুরাণ, ৪.২; কুর্মপুরাণ ২৫)। মতান্তরে, ইক্ষ্বাকুর পুত্র শশাদ, শশাদের তনয় ককুৎস্থ। শিবপুরাণেও তিনি শশাদাত্মজ রূপে উল্লিখিত হইয়াছেন (শিবপুরাণ, ধর্মসংহিতা ৬০)। রামায়ণের মতে ইক্ষ্বাকুবংশীয় ভগীরথের পুত্র ককুৎস্থ; তাঁহার তনয় রঘু, তৎপুত্র অজ, তৎপুত্র দশরথ (অগ্নিপুরাণ ৫৫)। ভাগবত (৯. ৬. ১১) এবং দেবীভাগবতেও (৭.৯) ককুৎস্থের কাহিনী বর্তমান। সেখানে তিনি শশাদতনয় নামে পরিচিত। দৈত্যপুর জয় করিয়াছিলেন বলিয়া তিনি পুরঞ্জয় নামেও খ্যাত ছিলেন।
কথিত আছে, ত্রেতা যুগে পুরঞ্জয়ের রাজত্বকালে স্বর্গের দেবতাগণ দৈত্যকুল কর্তৃক নিপীড়িত হইলে বিষ্ণু তাঁহাদিগকে পুরঞ্জয়ের সাহায্য লইতে উপদেশ দেন। পুরঞ্জয় বলেন, দেবরাজ ইন্দ্র তাঁহার বাহন হইলে তিনি দৈত্যকুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন। দেবরাজও বিষ্ণুর অনুরোধে মহাবৃষভ রূপ ধারণ করেন। পুরঞ্জয় তাঁহার ককুদে অর্থাৎ স্কন্ধে আরোহণপূর্বক যুদ্ধযাত্রা করিয়া দৈত্যকুলকে পরাজিত করেন। ককুদে স্থিত হইয়া যুদ্ধ করিয়াছিলেন বলিয়া তিনি তদবধি ককুৎস্থ নামে পরিচিত। বৃষরূপী ইন্দ্রের স্কন্ধে আরোহণ করিয়াছিলেন বলিয়া তাঁহার অপর নাম ইন্দ্রবাহ।
নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য